কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক বার্তা প্রচার করাই এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে কাদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া অবৈধ বা হারাম

মহান আল্লাহ তায়ালা মুসলিমদের জন্য বিয়েকে হালাল করেছেন। সেই সঙ্গে জেনাকে হারাম করেছেন। পাপাচার থেকে মুক্ত হয়ে সুন্দরভাবে জীবন যাপন করার জন্য আল্লাহ তায়ালা মুসলমানদের উপর এ বিধান দিয়েছেন। এটা আল্লাহ তাআলার একটা গুরুত্বপূর্ণ নীতি।পবিত্র কুরআন মুসলমানদের জন্য রয়েছে পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। যাতে লিপিবদ্ধ রয়েছে মানুষের সব করনীয় তথা হালাল-হারাম, উচিত-অনুচিতসহ সব বিধি-বিধান। বিবাহের মাধ্যমে জীবন-যাপন করে একজন মানুষ পরিপূর্ণ।কিন্তু কোন কোন পুরুষ নারীর জন্য বৈধ এবং কোন কোন নারী পুরুষের জন্য অবৈধ বা হারাম তার বিস্তারিত বিধান রয়েছে ইসলামে।অবৈধ নারীকে অথবা অবৈধ নিয়মে বিবাহ করে সংসার করলে ব্যভিচার করা হয়।শরীয়তে এমন অনেকগুলো কারণ রয়েছে যার কারণে নারী-পুরুষের আপোসে কোনো সময়ে বিবাহ বৈধ নয়। ইসলামি শরীয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে যাদের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া হারাম এর কয়েকটি শ্রেণি রয়েছে। যেমন:

▪️প্রথম কারণ: রক্তের সম্পর্ক;
_____________________________
নারী-পুরুষের মাঝে রক্তের সম্পর্ক থাকলে যেহেতু এক অপরের অংশ গণ্য হয়, তাই তাদের সাথে আপোসে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া হারাম। এরা হলো;

(১)- পুরুষের জন্য; তার মা, দাদী, নানী এবং নারীর জন্য; তার বাপ, দাদা ও নানা।

(২)- পুরুষের জন্য; তার কন্যা এবং নাতিন ও পুতিন, আর নারীর জন্য; তার পুত্র এবং নাতি ও পোতা।

(৩)- পুরুষের জন্য; তার (সহোদরা, বৈপিত্রেয়ী ও বৈমাত্রেয়ী) বোন, বোনঝি, ভাইঝি ও তাদের মেয়ে, ভাইপো ও বোনপোর মেয়ে। আর নারীর জন্য; তার (সহোদর, বৈপিত্রেয় বা বৈমাত্রেয়) ভাই, ভাইপো, বোনপো ও তাদের ছেলে এবং ভাইঝি ও বোনঝির ছেলে।

(৪)- পুরুষের জন্য; তার ফুফু (বাপের সহোদরা, বৈপিত্রেয়ী বা বৈমাত্রেয়ী বোন) এবং নারীর জন্য; তার চাচা (বাপের সহোদর, বৈপিত্রেয় বা বৈমাত্রেয় ভা­ই)।

(৫)- পুরুষের জন্য; তার খালা (মায়ের সহোদরা, বৈপিত্রেয়ী বা বৈমাত্রেয়ী বোন) এবং নারীর জন্য; তার মামা (মায়ের সহোদর, বৈপিত্রেয় বা বৈমাত্রেয় ভাই)।নোট: জেনে রাখা ভাল যে, সৎ মায়ের বোন (অর্থাৎ সৎ খালা) পুরুষের জন্য এবং সৎ মায়ের ভাই (অর্থাৎ সৎ মামা) নারীর জন্য হারাম বা মাহরাম নয়। এদের সাথে আপোসে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া বৈধ।

(৬)- পুরুষের জন্য; তার বাবা-মায়ের খালা বা ফুফু এবং নারীর জন্য তার বাবা-মায়ের চাচা বা মামা অবৈধ।(মাজাল্লাতুল বহুসিল ইসলামিয়্যাহ, ফাতওয়া নং-৯/৭৩)

নোট: জেনে রাখা ভাল যে, পুরুষের জন্য তার খালাতো, ফুফাতো, মামাতো, চাচাতো বোন ও (তাদের মেয়ে) বোনঝি বিবাহ করা জায়েজ। অনুরূপ নারীর জন্য তার খালাতো, ফুফাতো, মামাতো, চাচাতো ভাই ও ভাইপো বিবাহ করা জায়েজ। আবার পুরুষের জন্য; তার (মামার মৃত্যু বা তালাকের পর) মামী, (চাচার মৃত্যু বা তালাকের পর) চাচী এবং নারীর জন্য তার (খালার মৃত্যু বা তালাকের পর) খালু (ফুফুর মৃত্যু বা তালাকের পর) ফুফা বিবাহ করা জায়েজ। পূর্বোক্ত গম্য-গম্যার এর মাঝে বিবাহ বৈধ ও পর্দা ওয়াজিব।পাশাপাশি রক্তের সম্পর্ক যদি কৃত্রিম হয়,তবে বিবাহ হারাম নয়। সুতরাং (রোগিনীকে রক্ত দিয়ে বাঁচিয়ে তাকে বিবাহ করা রক্তদাতা পুরুষের জন্য অবৈধ নয় বরং জায়েজ। অনুরূপ স্বামী স্ত্রীকে বা স্ত্রী স্বামীকে রক্ত দান করলে বিবাহের কোন ক্ষতি হয় না। (মাজাল্লাতুল বহুসিল ইসলামিয়্যাহ ৩/৩৭০, ৪/৩৩২)

▪️দ্বিতীয় কারণঃ বৈবাহিক সম্পর্ক;
__________________________________
(১)- পুরুষের জন্য (স্ত্রী ও শবশুরের মৃত্যু বা তালাকের পরেও) শাশুড়ী, নানশাশ ও দাদশাশ। (স্ত্রীর সাথে মিলন না হলেও) চিরতরে হারাম। অনুরূপ নারীর জন্য তার শ্বশুর, দাদাশ্বশুর ও নানাশ্বশুর অবৈধ।

(২)- স্ত্রী (যার সাথে মিলন হয়েছে এমন) স্ত্রীর (অপর স্বামীর) কন্যা ও তার বংশজাত কন্যা ও পুতিন বা নাতিন। (স্ত্রীর সাথে মিলন হলে তবে। কিন্তু মিলনের পূর্বে মারা গেলে বা তালাক দিলে তার মেয়ে অবৈধ নয়।) তদনুরূপ নারীর জন্য তার স্বামীর (অপর স্ত্রীর) ছেলে ও তার বংশজাত ছেলেও অবৈধ।

(৩)- পুরুষের জন্য তার সৎ মা (বাবা তার সাথে মিলন করুক অথবা না করুক। বাবা মারা গেলে বা তালাক দিলেও) হারাম। অনুরূপ সৎ দাদী এবং নানীও হারাম।
নারীর জন্য তার সৎ বাবা (মায়ের সাথে তার মিলন হলে) হারাম। অনুরূপ সৎ দাদা এবং নানাও হারাম।

(৪)- পুরুষের জন্য তার নিজের পুত্রবধূ (আপন ঔরসজাত ছেলের স্ত্রী) অনুরূপ পুতবউ ও নাতবউ এবং নারীর জন্য তার নিজের গর্ভজাত কন্যার স্বামী (অর্থাৎ মেয়র জামাই) অনুরূপ নাতজামাই ও পুতজামাই হারাম। সুতরাং, পুরুষের জন্য তার সৎ শাশুড়ী, স্ত্রীর দুধমা, (মাসালা বিতর্কিত) এবং পালয়িত্রী মা হারাম নয়। অনুরূপ নারীর জন্য তার সৎশ্বশুর, স্বামীর দুধ পিতা (মাসালা বিতর্কিত) এবং পালয়িতা বাপ হারাম নয়। স্বামীর এক স্ত্রীর ছেলে-মেয়ের সাথে দ্বিতীয়া স্ত্রীর পূর্ব স্বামীর ঔরসজাত ছেলে-মেয়ের বিবাহ বৈধ। (মাজাল্লাতুল বহুসিল ইসলামিয়্যাহ ২/২৬২, ৯/৬৭)
.
জেনে রাখা ভাল যে, বৈবাহিক সূত্রে মিলনের ফলে যাদের সাথে বিবাহ অবৈধ, ব্যভিচার সূত্রে মিলনের ফলে তাদের সাথে বিবাহ অবৈধ কি না–তা নিয়ে বেশ বিতর্ক রয়েছে।যেমন,বিবাহের পূর্বে কোন নারীর সাথে ব্যভিচার করলে তার মা বা মেয়েকে বিবাহ করা হারাম হবে কি না এবং বিবাহের পরে ব্যভিচার করলে ঐ নারীর মা বা মেয়ে (যে এই পুরুষের স্ত্রী) তার পক্ষে হারাম হয়ে যাবে কি না, শ্বশুর-পুত্রবধু ব্যভিচার করলে ছেলের উপর তার ঐ স্ত্রী হারাম হয়ে যাবে কি না, ব্যভিচারজাত কন্যাকে বিবাহ করা যাবে কি না-এসব বিষয়ে বড্ড মতভেদ রয়েছে। অবশ্য কোন পক্ষের নিকটেই সহীহ কোন দলীল নেই। যদিও অনুমান, অভিরুচি ও বিবেক মতে হারাম সাব্যস্ত হওয়াই উচিৎ। (সিলসিলা যয়ীফাহ ১/৫৬৬,ইখতিয়ারাত ইবনে তাইমিয়্যাহ ৫৮৫-৫৮৮পৃঃ,ফাতাওয়া মুহাম্মদ বিন ইব্রাহীম ১০/১৩০)। পক্ষান্তরে বহু উলামা বলেন, কারো সাথে ব্যভিচার করলেই সে স্ত্রী এবং তার মা শাশুড়ী হয়ে যায় না। সুতরাং এতে ব্যভিচারের কোন প্রভাব নেই। (মুমঃ ৭/৪৪)। নৈতিক শৈথিল্যের এমন অশ্লীলতা, পশুত্ব ও সমস্যা থেকে আল্লাহ মুসলিম সমাজকে মুক্ত ও পবিত্র রাখুন। আমীন।
.
পক্ষান্তরে বৈধরূপে স্ত্রী মনে করে সহবাস করলে সম্পর্কে প্রভাব পড়ে। যেমন; বিবাহ-বন্ধন শুদ্ধ না হয়েই সহবাস করলে অথবা সহবাস করার পর জানা গেল যে, ঐ স্ত্রীর সাথে স্বামীও কোন দুধ-মায়ের দুধ পান করেছে। এ ক্ষেত্রে স্ত্রী হারাম সাব্যস্ত হবে এবং তার মা ও মেয়েকে বিবাহ করা ঐ পুরুষের জন্য হারাম হবে।(ফাতাওয়া মুহাম্মদ বিন ইব্রাহীম; ৭/৪৫)

▪️তৃতীয় কারণঃ দুধের সম্পর্ক:
____________________________
বংশীয় সূত্রে যে সকল মহিলাকে বিবাহ করা হারাম, দুগ্ধ পান সূত্রেও সেসকল মহিলাকে বিবাহ করা হারাম। (বুখারী হা/২৬৪৫; মুসলিম হা/১৪৪৭; মিশকাত হা/৩১৬১)। অর্থাৎ যদি কোন শিশু (ছেলে অথবা মেয়ে) যেকোন উপায়েই হৌক কোন ভিন্ন মহিলার দুধ পান করে থাকে, তবে সে তার দুধমা। অবশ্য ‘দুধমা’ সাব্যস্তের জন্য দু’টি শর্ত রয়েছে;

(১). ঐ দুধপান শিশুর দুই বছর বয়সের ভিতরে হতে হবে। দু’বছর পার হয়ে দুধপান করলে দুধ‘মা’ সাব্যস্ত হবে না। (সূরা বাক্বারাহ ২/২৩৩; দারাকুৎনী হা/৪৪১৩)

(২). বিশুদ্ধ মতে, তৃপ্তিসহকারে অন্ততঃ পাঁচ অথবা তারচেয়েও বেশি বার দুধ পান করতে হবে, এক্ষেত্রে স্তনবৃন্ত চুষে অথবা মাইপোষ, চামচ কিংবা নলের সাহায্যে দুধ পেটে গেলে তবেই ‘মা’ সাব্যস্ত হবে। (সহীহ মুসলিম হা/১৪৫২; মিশকাত হা/৩১৬৭; আল-আছারুছ সহীহাহ হা/৯৭; আশ-শারহুল মুমতি’, ১২/১১২ পৃ.) শায়খ আব্দুল্লাহ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘দুধপানের মাধ্যমে সম্পর্ক হারাম হওয়ার জন্য নির্দিষ্টভাবে পাঁচবার অথবা ততধিকবার দুধ পান করা শর্ত এবং সেটা দু’বছরের মধ্যে হতে হবে।’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনু বায, ২২/২৩৭-২৭৩ পৃ.)। এক্ষেত্রে একজন নারী অথবা একজন পুরুষের সাক্ষ্যের ভিত্তিতেই দুধের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হবে। অথবা শুধু দুধ পানকারিণীর সাক্ষ্য যথেষ্ট হবে। (সহীহ বুখারী, হা/৮৮; কাশফুল কুনা‘, ৫/৪৫৬ পৃ.; মাত্বালিবু আওলান নূহা, ৫/৬১২ পৃ.; ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ২১/৫৬; মাজমূউ ফাতাওয়া ইবনে বায, ২২/২৪০ পৃ.)
.
সুতরাং দুধ পানের কারণে ‘দুধমা’ সাব্যস্ত হলে তার সাথে এবং রক্ত-সম্পর্কীয় অন্যান্য আত্মীয়র ন্যায় ঐ মায়ের বংশের সকলের সাথে বিবাহ অবৈধ হবে। সুতরাং, রীতিমত দুধপানকারী পুরুষ তার দুধ-মা, দুধ-বোন, দুধ-খালা, দুধ-ভাইঝি, দুধ-বোনঝি প্রভৃতিকে চিরদিনের জন্য বিবাহ করতে পারবে না। তদনুরূপ দুধপানকারী মহিলার তার দুধ-বাপ, দুধ-ভাই, দুধ-চাচা, দুধ-মামা, দুধ-ভাইপো, দুধ-বোনপো প্রভৃতির সাথে বিবাহ বৈধ নয়। পাশাপাশি কোন পুরুষ যদি (শিশুবেলায়) তার দাদীর দুধ রীতিমত পান করে থাকে, তবে তার পক্ষে রক্ত-সম্পর্কীয় মহিলা ছাড়াও চাচাতো, ফুফাতো এবং নানীর দুধ পান করে থাকলে মামাতো খালাতো বোনও হারাম। কারণ, এই বোনেরা তখন দুধ-ভাইঝি ও দুধ-বোনঝিতে পরিগণিত হয়ে যায়। (মাজাল্লাতুল বহুসিল ইসলামিয়্যাহ ৬/২৬৬)
.
জেনে রাখা ভালো, যে ছেলে বা মেয়ে দুধপান করেছে তার অন্যান্য ভাই অথবা বোনের সঙ্গে ঐ দুধমাতার ছেলে বা মেয়ের বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া হালাল। কেননা স্তন্যপানের কারণে শুধু তার সঙ্গে দুধমাতার পরিবারের লোকজনের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, কিন্তু তার অন্যান্য ভাই-বোনের সঙ্গে দুধমাতার ছেলে মেয়ের কোন সম্পর্ক নেই। এ ব্যাপারে একটি উপকারী মূলনীতি হলো- যে ছেলে বা মেয়ে দুধপান করেছে তার পিতা-মাতা আছে, ভাই-বোন আছে, চাচা-ফুফু আছে, মামা-খালা আছে, এই সমস্ত সম্পর্কগুলো কিন্তু অবাধভাবে স্তন্যপানের কারণে প্রভাবিত হয় না। সুতরাং স্তন্যপানের প্রভাব শুধু তার এবং তার সন্তান-সন্ততিদের উপর প্রতিষ্ঠিত হয়। এছাড়া তার মূল সম্পর্ক, যেমন: পিতা-মাতা, দাদা-দাদী ইত্যাদির উপর এর প্রভাব পড়বে না। অনুরূপভাবে তার পার্শ্বসম্পর্ক যেমন: ভাই-বোন, চাচা-ফুফু, মামা-খালা ইত্যাদির উপরেও এর কোন প্রভাব পড়ে না। সেজন্য যদি কেউ কোন মহিলার স্তন্যপান করে, তাহলে ঐ মহিলার ছেলে-মেয়েরা শুধু তার জন্যই হারাম হবে। পক্ষান্তরে তার ভাই-বোনের জন্য হালাল। কেননা সাধারণভাবে তাদের মধ্যে আর আপনার ভাই-বোনদের মধ্যে কোন সম্পর্ক নেই। (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ১৮/৩৬১-৩৬২, ২১/৬৫, ২১/১২৭-১২৮ পৃ.; আল-লিক্বাউশ শাহরী ইবনে উসাইমীন, লিক্বা নং-১৭; মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ২২তম, খণ্ড, পৃ. ২৮৭ পৃ.)।
.
উল্লেখ্য যে, যৌনসঙ্গমের সময় স্ত্রীর দুধ যদি স্বামীর পেটে চলে যায়, তাহলে স্ত্রী স্বামীর মা হয়ে যাবে না। এবং স্বামী-স্ত্রীর বিবাহ-বন্ধনে কোন ক্ষতি হয় না। কারণ, এটা রীতিমত দুধ পান নয়। (বিন বায অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ফাতওয়া নং-৫৩৯৭)

▪️চতুর্থ কারণঃ লিআন:
___________________________
স্বামীর সংসারে থেকে যদি স্ত্রী অন্য কারো সাথে ব্যভিচার করে পরে তা অস্বীকার করে এবং এই ব্যভিচারের উপর যদি স্বামী ৪ জন সাক্ষী কাজীর সামনে উপস্থিত না করতে পারে, তবে কাজী প্রত্যেককে কসম করাবেন; প্রথমে স্বামী বলবে, ‘আমি আল্লাহর শপথ করে বলছি যে, আমি আমার স্ত্রী অমুককে যে ব্যভিচারের অপবাদ দিয়েছি তাতে সত্যবাদী।’এইরূপ চারবার বলার পর পঞ্চমবারে তাকে থামিয়ে কাজী বলবেন, ‘আল্লাহকে ভয় কর, এই (শেষ কসম) টাই আল্লাহর আযাব অনিবার্যকারী। (সত্য বল। কারণ,) আখেরাতের আযাব হতে দুনিয়ার আযাব (মিথ্যা অপবাদ দেওয়ার শাস্তি) সহজতর।’এরপরেও যদি সে বিরত না হয়, তবে পঞ্চমবারে বলবে, ‘আমি আমার স্ত্রী অমুককে যে ব্যভিচারের অপবাদ দিয়েছি, তাতে যদি আমি মিথ্যাবাদী হই তাহলে আমার উপর আল্লাহর অভিশাপ হোক!’ অতঃপর স্ত্রী অনুরূপ বলবে, ‘আমি আল্লাহর শপথ করে বলছি যে, আমাকে আমার স্বামী অমুক যে ব্যভিচারের অপবাদ দিয়েছে তাতে ও মিথ্যাবাদী।’ এইরূপ চারবার বলার পর পঞ্চমবারে থামিয়ে কাজী তাকে বলবেন, আল্লাহকে ভয় কর, এটাই আল্লাহর আযাব অনিবার্যকারী, (সত্য বল। কারণ,) আখেরাতের আযাবের চেয়ে দুনিয়ার আযাব (ব্যভিচারের শাস্তি) সহজতর।’ এরপরেও যদি বিরত না হয়, তাহলে পঞ্চমবারে সে বলবে, ‘আমাকে আমার স্বামী অমুক যে ব্যভিচারের অপবাদ দিয়েছে, তাতে যদি ও সত্যবাদী হয়, তাহলে আমার উপর আল্লাহর গযব হোক!’ এতদূর করার পর কাজী স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ করে দেবেন। আর এতে কারো শাস্তি হবে না। (সূরা সূরা আন-নূর, ২৪/৬-৯, সহীহ বুখারী হা/৪৭৪৫, ৫২৫৯ মিশকাতুল মাসাবীহ ৩৩০৭)
.
এই ধরনের লা’নত ও অভিশাপের বিচ্ছেদকে ‘লিআন’ বলে। এই বিচ্ছেদ হওয়ার পর ঐ স্ত্রী ঐ স্বামীর জন্য চিরতরে হারাম হয়ে যায়। কোন প্রকারে আর পুনর্বিবাহ বৈধ নয়। (আহকামু খিতবাতিন নিকাহি ফিল ইসলাম ১১৬পৃঃ)। জেনে রাখা ভালো যে, রক্ত, দুধ ও বৈবাহিক সম্পর্কের ফলে যাদের আপোসে চিরতরে বিবাহ হারাম কেবল তাদের সামনেই মহিলার পর্দা করতে হয়না। বাকী বন্ধুত্ব, পাতানো, বা পীর ধরার ফলে কেউ হারাম হয় না। সুতরাং বন্ধুর বোন, পাতানো বোন এবং পীর-বোনের সাথেও বিবাহ হালাল এবং পর্দা রক্ষা করা ওয়াজিব।

◾🌗পঞ্চম কারন: উপরোক্ত কারণগুলা ছাড়াও শরীয়তে আরো এমন কতকগুলি কারণ রয়েছে যাতে নারী-পুরুষের বিবাহ চিরতরে হারাম নয়; তবে সাময়িকভাবে হারাম। সেই নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হলে বিবাহ বৈধ। এমন কারণও কয়েকটিঃ-

▪️প্রথম কারণঃ কুফর ও শির্ক: কোন মুসলিম (নারী-পুরুষ) কোন কাফের বা মুশরিক (নারী-পুরুষ) কে বিবাহ করতে পারে না। অবশ্য ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হলে তার সাথে বিবাহ বৈধ। এ ব্যপারে মহান আল্লাহ বলেন, “আর অংশীবাদী রমণী যে পর্যন্ত মুসলমান না হয়, তোমরা তাকে বিবাহ করো না। মুশরিক নারী তোমাদের পছন্দ হলেও নিশ্চয়ই মুসলিম ক্রীতদাসী তার চেয়ে উত্তম। আর মুসলমান না হওয়া পর্যন্ত অংশীবাদী পুরুষের সাথে কন্যার বিবাহ দিও না। অংশীবাদী পুরুষ তোমাদের পছন্দ হলেও মুসলিম ক্রীতদাস তার চেয়ে উত্তম। কারণ, ওরা তোমাদেরকে জাহান্নামের দিকে আহবান করে এবং আল্লাহ তোমাদেরকে নিজ অনুগ্রহ ও ক্ষমার দিকে আহবান করেন।’’ (সূরা আল-বাক্বারা; ২/২২১)। আল্লাহ আরো বলেন, মু’মিন নারীগণ কাফের পুরুষদের জন্য এবং কাফের পুরুষরা মু’মিন নারীদের জন্য বৈধ নয়।’ (সূরা আল-মুমতাহিনা; ৬০/১০)
.
শিয়া, কাদেয়ানী, কবুরী, মাযারী এবং মতান্তরে বেনামাযী প্রভৃতি পাত্র-পাত্রীর সাথে কোন (তওহীদবাদী) মুসলিম পাত্র-পাত্রীর বিবাহ বৈধ নয়। (মাজাল্লাতুল বহুসিল ইসলামিয়্যাহ ১৬/১১৫, ১৭/৬১, ২৮/৯৩)। আবার মুসলিম নামধারী মুশরিকরা (যারা আল্লাহ ছাড়া পীর, কবর বা মাযারের নিকট প্রয়োজনাদি ভিক্ষা করে, তারা) আহলে কিতাবের মত নয়। তাদের সাথে বিবাহ-শাদী বৈধ নয়। (মাজাল্লাতুল বহুসিল ইসলামিয়্যাহ ২৮/৯৩)
.
পক্ষান্তরে শরী‘আতে মুসলিম পুরুষের জন্য আহলে কিতাব তথা ইহুদী ও খ্রিষ্টান নারীকে বিবাহ করার ব্যাপারে কিছু শর্ত সাপেক্ষে অনুমতি রয়েছে। কিন্তু কোন মুসলিম নারীর সাথে কোন কিতাবধারী পুরুষের বিবাহ বৈধ নয়; যতক্ষণ না সে ইসলাম গ্রহণ করে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘এবং তোমাদের পূর্বে যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে, তাদের সতী-সাধ্বী নারীরাও, যখন তোমরা তাদেরকে তাদের বিনিময় (মোহর) দিবে তাদেরকে স্ত্রী রূপে গ্রহণ করার জন্য, কাম বাসনা চরিতার্থ করা কিংবা গোপন প্রেমে লিপ্ত হওয়ার জন্য নয়।’ (সূরা আল-মায়িদাহ: ৫)। শর্তগুলো হল: ক). প্রকৃতপক্ষেই আহলে কিতাব হতে হবে। খ). নেক্কার হতে হবে। গ). আহলে কিতাব নারীকে বিবাহ করার জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হচ্ছে, সে মুসলিম রাষ্ট্রের অনুগত নাগরিক (ذمي) হতে হবে। তাই অমুসলিম বা সেক্যুলার দেশের কোন আহলে কিতাব নারীকে বিবাহ করা মাকরূহে তাহরীমী তথা নাজায়েয। (মুছান্নাফ ইবন আবী শায়বা, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ১৫৯, হা/১৬৪৩১)

▪️দ্বিতীয় কারণঃ অপরের স্বামীত্ব; অপরের বিবাহিতা স্ত্রী তার স্বামীত্বে থাকতে আর অন্য পুরুষের জন্য বৈধ নয়। সে মারা গিয়ে অথবা তালাক দিয়ে ইদ্দতের যথা সময় অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত ঐ রমণীকে বিবাহ করা হারাম। সুতরাং ঐ মহিলা আসলে গম্যা, কিন্তু অপরের স্বামীত্বে থাকার জন্য সাময়িকভাবে অন্যের পক্ষে অবৈধ। এমন বিবাহিত সধবাকে কেউ বিয়ে করলেও বিবাহ-বন্ধনই হয় না। সে প্রথম স্বামীরই অধিকারভুক্ত থাকে, আর দ্বিতীয় স্বামী ব্যভিচারী হয়। পরন্তু একটি মহিলা একাধিক স্বামী গ্রহণ করতে পারে না। কারণ, এতে বংশ ও সন্তানের অবস্থা সর্বহারা হয়। পক্ষান্তরে একজন পুরুষ একাধিক স্ত্রী (৪টি পর্যন্ত) গ্রহণ করতে পারে। (সূরা আন-নিসা; ৪/ ৩)। কারণ, এতে ঐ ভয় থাকে না।
.
তাছাড়া বলাই বাহুল্য যে, ইসলাম মানবপ্রকৃতির জন্য সামঞ্জস্যপূর্ণ ধর্ম। জীবনের সর্বপ্রকার সমস্যার সমাধান খুঁজে মিলে এই ধর্মে। মানবকূলের সকল মানুষের প্রকৃতি, যৌনক্ষুধা বা কামশক্তি সমান নয়। স্ত্রী তার বীর্যবান স্বামীর সম্পূর্ণ ক্ষুধা নাও মিটাতে পারে; বিশেষ করে যদি সে রোগা হয় অথবা তার ঋতুর সময় দীর্ঘস্থায়ী হয়। পক্ষান্তরে ব্যভিচারও মানবচরিত্রের প্রতিকূল। স্ত্রী বন্ধ্যা হলে বংশে বাতি দেবার জন্য সন্তান লাভের উদ্দেশ্যে অথবা একজন বিধবা বা পরিত্যক্তার সৌভাগ্য ফিরিয়ে আনতে এবং আরো অন্যান্য যুক্তিযুক্ত কারণে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ বিবাহ সংসারে প্রয়োজন হয়। আর এটা নৈতিকতার পরিপন্থী নয়। চরিত্র ও নৈতিকতার প্রতিকূল তো এক বা একাধিক উপপত্নী বা ‘গার্ল্স ফ্রেন্ড্’ গ্রহণ করা। (তামবীহাতুল মু’মিনাত ৬৭-৭৫পৃঃ দ্রঃ)
.
পক্ষান্তরে ইসলামে একাধিক বিবাহের শর্ত আছেঃ
১- একই সঙ্গে যেন চারের অধিক না হয়।
২- স্ত্রীদের মাঝে যেন ন্যায়পরায়ণতা থাকে। ভরণ-পোষণ, চরিত্র-ব্যবহার প্রভৃতিতে যেন সকলকে সমান চোখে দেখা হয়। সকলের নিকট যেন সমানভাবে রাত্রি-বাস বা অবস্থান করা হয়। নচেৎ একাধিক বিবাহ হারাম। (সূরা আন-নিসা, ৪/ ৩)
.
কুফরীর কারণে স্বামীর অধিকার থেকে ছিন্ন হয়ে মুসলিমদের যুদ্ধবন্দিনীরূপে কোন মুজাহিদের ভাগে এলে এক মাসিক পরীক্ষার পর অথবা গর্ভ হলে প্রসব ও নেফাসকাল পর্যন্ত অপেক্ষার পর অধিকারভুক্ত হবে; যদিও তার স্বামী বর্তমানে জীবিত আছে। (সূরা আন-নিসা; ৪/২৮) কোন মহিলার স্বামী মারা গেলে অথবা তালাক দিলে সে তার ইদ্দতকাল পর্যন্ত ঐ স্বামীর অধিকারে থাকে। অতএব কোন রমণীকে তার ইদ্দতকালে বিবাহ করা অবৈধ। (সূরা আল-বাক্বারা,২/ ২৩৫)। ইদ্দতের বিস্তারিত বিবরণ পরে আসবে ইনশাআল্লাহ।
.
কোন মহিলা গর্ভবতী থাকলে গর্ভকাল তার ইদ্দত। গর্ভাবস্থায় বিবাহ বৈধ নয়। অবৈধ গোপন প্রেমে যার ব্যভিচারে গর্ভবতী হয়েছে সেই প্রেমিক বিবাহ করলেও গর্ভাবস্থায় আক্দ সহীহ নয়। প্রসবের পরই আক্দ সম্ভব। (মাজাল্লাতুল বহুসিল ইসলামিয়্যাহ ৯/৫৪,৭২)
কোন মহিলার স্বামী নিখোঁজ হলে নিখোঁজ হওয়ার দিন থেকে পূর্ণ চার বছর অপেক্ষা করার পর আরো চার মাস দশদিন স্বামী-মৃত্যুর ইদ্দত পালন করে দ্বিতীয় স্বামী গ্রহণ করতে পারে। এই নির্ধারিত সময়ের পূর্বে তার বিবাহ হারাম। বিবাহের পর তার পূর্ব স্বামী ফিরে এলে তার এখতিয়ার হবে; স্ত্রী ফেরৎ নিতে পারে অথবা মোহর ফেরৎ নিয়ে তাকে ঐ স্বামীর জন্য ত্যাগ করতেও পারে। (মানারুস সাবীল; ২/৮৮পৃঃ)। স্ত্রী চাইলে আর নতুনভাবে বিবাহ আক্দের প্রয়োজন নেই। কারণ, স্ত্রী তারই এবং দ্বিতীয় আক্দ তার ফিরে আসার পর বাতিল। তবে তাকে ফিরে নেওয়ার পূর্বে ঐ স্ত্রী (এক মাসিক) ইদ্দত পালন করবে। (ফাতাওয়া ইবনে উসাইমীন ২/৭৬৬)। গর্ভবতী হলে প্রসবকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। আর সে সময়ে দ্বিতীয় স্বামী থেকে পর্দা ওয়াজিব হয়ে যাবে।

▪️তৃতীয় কারণঃ দুই নিকটাত্মীয়র জমায়েত: সাধারণতঃ একাধিক বিবাহে অশান্তি বেশীই হয়। সতীন তার সতীনকে সহজে সইতে পারে না। সতীনে-সতীনে বিচ্ছিন্নতা থাকে। অতএব সতীন একান্ত নিকটাত্মীয় হলে আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন হয়, যা হারাম। তাছাড়া নিকটাত্মীয় সতীনের কথায় গায়ে ঝালা ধরে বেশী, দ্বন্দ্ব বাড়ে অধিক। কথায় বলে ‘আনসতীনে নাড়ে চাড়ে, বোন সতীনে পুড়িয়ে মারে।’ তাই ইসলাম এমন একান্ত নিকটাত্মীয়দেরকে একত্রে স্ত্রীরূপে জমা করতে নিষেধ করেছে। সুতরাং স্ত্রী থাকতে তার (সহোদরা, বৈপিত্রেয়ী, বৈমাত্রেয়ী বা দুধ) বোন (অর্থাৎ, শালী) কে বিবাহ করা হারাম। তদনুরূপ স্ত্রীর বর্তমানে তার খালা বা বোনঝি, ফুফু বা ভাইঝিকে বিবাহ করা অবৈধ। স্ত্রী মারা গেলে বা তালাক দিলে ইদ্দতের পর তার ঐ নিকটাত্মীয়র কাউকে বিবাহ করতে বাধা নেই। স্ত্রীর কাঠবাপের (বা মায়ের স্বামীর) অন্য স্ত্রীর মেয়েকে বিবাহ করতে দোষ নেই। (মাজাল্লাতুল বহুসিল ইসলামিয়্যাহ ৯/৫৭)

▪️চতুর্থ কারণঃ ইহরাম: হজ্জ বা উমরায় ইহরাম বাঁধা অবস্থায় বিবাহ ও বিবাহের পয়গাম হারাম। এই অবস্থায় কারো বিবাহ হলেও তা বাতিল। (যাদুল মাআদ ৪/৬)

▪️পঞ্চম কারণঃ চারের অধিক সংখ্যা: চার স্ত্রী বর্তমান থাকতে পঞ্চম বিবাহ হারাম। (সূরা আল-বাক্বারা, ৪/৩)। চারের মধ্যে কেউ ইদ্দতে থাকলে তার ইদ্দত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অন্য বিবাহ করা যাবে না। ইমাম ইবনু কাছীর (রাহিমাহুল্লাহ) ও ইমাম কুরতুবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, আলেমদের ঐকমত্যানুসারে চারের অধিক বিবাহ করা হারাম। এক্ষেত্রে অবশ্যই পঞ্চম বিবাহ বাতিল হয়ে যাবে। কারণ এটি কুরআন, সহীহ হাদীস ও ইজমা বিরোধী কার্যকলাপ।’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনু বায, ২০/২১ পৃ.;)

▪️ষষ্ঠ কারণঃ তিন তালাক: স্ত্রীকে তিন তালাক তিন পবিত্রতায় দিলে অথবা জীবনের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে তিনবার তালাক দিলে ঐ স্ত্রীকে পুনঃ বিবাহ করা বৈধ নয়। যদি একান্তই তাকে পুনরায় ফিরে পেতে চায়, তবে ঐ স্ত্রী দ্বিতীয় স্বামী ও তার যৌনস্বাদ গ্রহণের পর সে সে্বচ্ছায় তালাক দিলে অথবা মারা গেলে তবে ইদ্দতের পর তাকে পুনর্বিবাহ করতে পারে। নচেৎ তার পূর্বে নয়। (সূরা আল-বাক্বারা, ২/২৩০)। উল্লেখ্য যে হিল্লা বিয়ে হারাম। রাসূল (ﷺ) হিল্লাকারী এবং যার জন্য হিল্লা করা হয় উভয়কে অভিসম্পাত বা লানত করেছেন।’ (তিরমিযী, হা/১১১৯, ১১২০; আবু দাঊদ, হা/২০৭৬; ইরওয়াউল গালীল, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃ. ৩০৮-৩০৯)
.
জায়বদলী বা বিনিময়-বিবাহ বিনা পৃথক মোহরে বৈধ নয়। এ ওর বোন বা মেয়েকে এবং ও এর বোন বা মেয়েকে বিনিময় করে পাত্রীর বদলে পাত্রীকে মোহর বানিয়ে বিবাহ ইসলামে হারাম। অবশ্য বহু উলামার নিকট উভয় পাত্রীর পৃথক মোহর হলেও জায়বদলী বিয়ে বৈধ নয়। (যদি তাতে কোন ধোকা-ধাপ্পা দিয়ে নামকে-ওয়াস্তে মোহর বাঁধা হয় তাহলে)।(মাজাল্লাতুল বহুসিল ইসলামিয়্যাহ ৪/৩২৮, ৯/৬৮)। মুত্আহ বা সাময়িক বিবাহও ইসলামে বৈধ নয়। কিছুর বিনিময়ে কেবল এক সপ্তাহ বা মাস বা বছর স্ত্রীসঙ্গ গ্রহণ করে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় যেহেতু ঐ স্ত্রী ও তার সন্তানের দুর্দিন আসে, তাই ইসলাম এমন বিবাহকে হারাম ঘোষণা করেছে। (সহীহ মুসলিম, মিশকাতুল মাসাবীহ ৩১৪৭)। অনুরূপ তালাকের নিয়তে বিবাহ এক প্রকার ধোঁকা। বিদেশে গিয়ে বা দেশেই বিবাহ-বন্ধনের সময় মনে মনে এই নিয়ত রাখা যে, কিছুদিন সুখ লুটে তালাক দিয়ে দেশে ফিরব বা চম্পট দেব, তবে এমন বিবাহও বৈধ নয়। (এরূপ করলে ব্যভিচার করা হয়।) কারণ, এতেও ঐ স্ত্রী ও তার সন্তানের অসহায় অবস্থা নেমে আসে।(ফাতাওয়াল মারআহ ৪৯পৃঃ)। যাতে নারীর মান ও অধিকার খর্ব হয়। কোন তরুণীর বিনা সম্মতিতে জোরপূর্বক বিবাহ দেওয়া হারাম। এমন বিবাহ-বন্ধন শুদ্ধই হয় না। (ফাতাওয়াল মারআহ ৪৮ পৃঃ)
.
কোন মুসলিম কোন ব্যভিচারিণী নারীকে বিবাহ করতে পারে না। বরং এ ব্যাপারে ঐরূপ নারী মনোমুগ্ধকর সুন্দরী রূপের ডালি বা ডানা-কাটা পরি হলেও মুসলিম পুরুষের তাতে রুচি হওয়াই উচিৎ নয়। একান্ত প্রেমের নেশায় নেশাগ্রস্ত হলেও তাকে সহধর্মিনী করা হারাম। এ ব্যাপারে আল্লাহ পাক বলেন, “ব্যভিচারী কেবল ব্যভিচারিণী অথবা অংশীবাদিনীকে এবং ব্যভিচারিণী কেবল ব্যভিচারী অথবা অংশীবাদী পুরুষকে বিবাহ করে থাকে। আর মুমিন পুরুষদের জন্য তা হারাম করা হলো।’’ (সূরা নূর; ২৪/৩)
.
সুতরাং, অসতী নারী মুশরিকের উপযুক্ত; মুসলিমের নয়। কারণ উভয়েই অংশীবাদী; এ পতির প্রেমে উপপতিকে অংশীস্থাপন করে এবং একক মা’বুদের ইবাদতে অন্য বাতিল মা’বুদকে শরীক। (অবশ্য অসতী হলেও কোন মুশরিকের সাথে কোন মুসলিম নারীর বিবাহ বৈধ নয়।) পক্ষান্তরে ব্যভিচারিণী যদি তওবা করে প্রকৃত মুসলিম নারী হয়, তাহলে এক মাসিক অপেক্ষার পর তবেই তাকে বিবাহ করা বৈধ হতে পারে। গর্ভ হলে গর্ভাবস্থায় বিবাহ-বন্ধন শুদ্ধ নয়। প্রসবের পরই বিবাহ হতে হবে। (ফাতাওয়া ইবনে উসাইমীন ২/৭৮০) (বেশ কিছু নোট আদর্শ বিবাহ ও দাম্পত্য জীবন বই থেকে নেওয়া)।(আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী)।__________________________________
উপস্থাপনায়:

জুয়েল মাহমুদ সালাফি।