প্রশ্ন: ওযু শুরু করার সময় উভয় হাত কব্জি পর্যন্ত ধৌত করার বিধান কী? জনৈক আলেম দাবি করেছেন যে, ওযুর শুরুতে কব্জি পর্যন্ত হাত ধৌত করা ওযুর অংশ নয়—তাঁর এ বক্তব্যের শরঈ ভিত্তি ও সঠিকতা কতটুকু?
▬▬▬▬▬▬▬◄❖►▬▬▬▬▬▬▬▬
উত্তর: পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু মহান আল্লাহর নামে শুরু করছি। যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহর জন্য এবং অগণিত দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর প্রতি। অতঃপর উক্ত আলেমের “ওযুর অংশ নয়”—এ বক্তব্য দ্বারা তিনি ঠিক কী উদ্দেশ্য করেছেন, তা স্পষ্ট নয়। যদি তাঁর উদ্দেশ্য হয় যে, ওযুর শুরুতে উভয় হাত কব্জি পর্যন্ত ধৌত করা ওযুর ফরজ বা অপরিহার্য কোনো অঙ্গ নয়, তাহলে এ অর্থে তাঁর কথা সঠিক। কিন্তু যদি তিনি বোঝাতে চান যে, ওযুর শুরুতে উভয় হাত কব্জি পর্যন্ত ধৌত করা ওযুর কোনো ফরজ বা সুন্নত কোনোটাই নয়, তাহলে তাঁর এ বক্তব্য সঠিক নয়; কেননা ওযুর শুরুতে উভয় হাত কব্জি পর্যন্ত ধৌত করা সর্বসম্মতভাবে সুন্নাত। এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাত ও তাঁর নিয়মিত আমল; সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে উসমান, আলী ও আব্দুল্লাহ ইবনু যায়েদ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওযুর পদ্ধতি বর্ণনা করতে গিয়ে তা উল্লেখ করেছেন। তাছাড়া ওযুর অন্যান্য অঙ্গ ধৌত করার পূর্বে হাত দুটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে নেওয়ার জন্যও শুরুতেই কবজি পর্যন্ত হাত ধোয়া হয়। সুতরাং ওযুর শুরুতে দুই হাত কবজি পর্যন্ত ধৌত করা সুন্নাত ও প্রশংসনীয় আমল। এ বিষয়ে একাধিক সহিহ হাদিসে সুস্পষ্ট দলিল রয়েছে।
❖ প্রথম দলিল: আমর ইবনু আবূ হাসান (রহ.) বলেন, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু যায়েদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর অজু সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি এক পাত্র পানি আনলেন এবং তাদেরকে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর ওযুর পদ্ধতি দেখানোর জন্য অজু করলেন। তিনি পাত্র থেকে দুই হাতে পানি ঢেলে তিনবার দুই হাত ধৌত করলেন। فَأَكْفَأَ عَلَى يَدِهِ مِنَ التَّوْرِ، فَغَسَلَ يَدَيْهِ ثَلاَثًا “তিনি পাত্র থেকে তাঁর দুই হাতে পানি ঢেলে উভয় হাত তিনবার ধৌত করলেন।”(সহিহ বুখারি, হা/১৮৬)
.
❖ দ্বিতীয় দলিল: হুমরান (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত, তিনি উসমান ইবনু আফফান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে ওযুর জন্য পানি আনতে দেখেছেন। তিনি পাত্র থেকে দুই হাতের ওপর পানি ঢেলে তিনবার হাত ধৌত করেন। এরপর ডান হাত পানির পাত্রে প্রবেশ করিয়ে কুলি করেন ও নাকে পানি দেন। তারপর মুখমণ্ডল তিনবার এবং উভয় হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধৌত করেন, মাথা মাসেহ করেন এবং উভয় পা ধৌত করেন। অতঃপর তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—“যে ব্যক্তি আমার এই ওযুর মতো ওযু করবে এবং এরপর এমনভাবে দুই রাকাত সালাত আদায় করবে যে, তার অন্তরে অন্য কোনো চিন্তার উদয় হবে না, তার পূর্বের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।”(সহিহ মুসলিম, হা/৪২৭)
.
❖ তৃতীয় দলিল: আবদু খাইর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ফজরের সালাত আদায় করার পর ‘রাহবা’য় গেলেন। সেখানে তিনি পানি চাইলে একটি বালক তাঁর জন্য এক পাত্র পানি ও একটি তশতরি নিয়ে এলো। তিনি পাত্রটি ডান হাতে নিয়ে বাম হাতে পানি ঢাললেন এবং উভয় হাত কবজি পর্যন্ত তিনবার ধৌত করলেন। এরপর ডান হাত পানির পাত্রে প্রবেশ করিয়ে তিনবার কুলি ও নাকে পানি দিলেন। তারপর ওযুর অন্যান্য অঙ্গ ধৌত করেন এবং মাথা সামনে ও পেছনে একবার মাসেহ করেন।”(সুনানে আবু দাউদ, হা/১১২)
.
আল মাওযূ‘আতুল ফিক্বহিয়াহ আল-কুয়েতিয়াহ, কুয়েতি ফিক্বহ বিশ্বকোষ-তে উল্লেখ করা হয়েছে:
اتفق الفقهاء على مشروعية غسل الكفين إلى الكوعين في أول الوضوء لفعل النبي صلى الله عليه وسلم ذلك، فقد روى عثمان بن عفان رضي الله عنه وصف وضوء النبي صلى الله عليه وسلم فقال: دعا بإناء فأفرغ على كفيه ثلاث مرار فغسلهما ثم أدخل يمينه في الإناء ولكنهم اختلفوا في حكم الغسل عند القيام من النوم وذلك بعدما اتفقوا على أن غسلهما من سنن الوضوء لغير القائم من النوم. فذهب الحنفية والمالكية والشافعية وهو رواية عن أحمد إلى أن غسل الكفين سنة من سنن الوضوء سواء قام المتوضئ من نوم أو لم يقم من نوم، وسواء كان هذا النوم من نوم الليل أو من نوم النهار، لأن آية الوضوء لم تذكر غسل الكفين من بين الفروض والواجبات، ولأن الحديث يدل على الاستحباب لتعليله بما يقتضي ذلك وهو قوله صلى الله عليه وسلم: “إذا استيقظ أحدكم من نومه فلا يغمس يده في الإناء حتى يغسلها ثلاثا فإنه لا يدري أين باتت يده”، حيث إن طروء الشك على اليقين لا يؤثر فيه”
“ফকিহগণ একমত যে, ওযুর শুরুতে কবজি পর্যন্ত উভয় হাত ধৌত করা মুস্তাহাব। এর প্রমাণ হলো নবী ﷺ-এর আমল। উসমান ইবনু আফফান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) নবী ﷺ-এর অজুর পদ্ধতি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন: ‘তিনি একটি পাত্র আনতে বললেন। অতঃপর তিনি তাঁর উভয় হাতের ওপর তিনবার পানি ঢেলে সেগুলো ধৌত করলেন। এরপর তিনি তাঁর ডান হাত পাত্রের মধ্যে প্রবেশ করালেন…। তবে ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার পর হাত ধোয়ার বিধান নিয়ে ফকিহদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি ঘুম থেকে জাগ্রত হয়নি, তার ওযুর শুরুতে হাত ধোয়া মুস্তাহাব—এ বিষয়ে তারা একমত। এর ভিত্তিতে হানাফি, মালেকি ও শাফিঈ মাজহাবের ফকিহগণ এবং ইমাম আহমদ থেকে বর্ণিত একটি মতের বক্তব্য হলো: ওযুকারী ব্যক্তি ঘুম থেকে জাগ্রত হোক বা না হোক, রাতের ঘুম হোক কিংবা দিনের ঘুম—সর্বাবস্থায় ওযুর সুন্নতসমূহের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে কবজি পর্যন্ত উভয় হাত ধোয়া মুস্তাহাব।কারণ, ওযুর ফরজসমূহের বর্ণনা দিতে গিয়ে আল্লাহ তাআলা কবজি পর্যন্ত হাত ধোয়ার কথা উল্লেখ করেননি। আর হাদিসটিও হাত ধোয়ার মুস্তাহাব হওয়ার বিষয়টি নির্দেশ করে; কেননা এতে এর কারণ (ইল্লত) উল্লেখ করা হয়েছে। নবী ﷺ বলেছেন: ‘তোমাদের কেউ যখন ঘুম থেকে জাগ্রত হয়, তখন সে যেন হাত না ধুয়ে পাত্রে হাত না ঢোকায়; কারণ সে জানে না, তার হাত কোথায় রাত কাটিয়েছে।’আর মূলনীতি হলো—নিশ্চিত বিষয়কে কেবল সন্দেহের কারণে পরিত্যাগ করা যায় না।”(আল মাওযূ‘আতুল ফিক্বহিয়াহ আল-কুয়েতিয়াহ, খন্ড: ৩৫; পৃষ্ঠা: ৩০)
.
সৌদি ফতোয়া বোর্ডের বর্তমান গ্র্যান্ড মুফতি, যুগশ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ, ইমাম সালিহ বিন ফাওযান আল-ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ) [জন্ম: ১৩৫৪ হি./১৯৩৫ খ্রি.] ওযুর পরিপূর্ণ সুন্নাহসম্মত পদ্ধতি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন:
«سنن الوضوء هي: السواك، ومحله عند المضمضة؛ ليحصل به والمضمضة تنظيف الفم لاستقبال العبادة والتهيؤ لتلاوة القرآن ومناجاة الله عز وجل، وغسل الكفين ثلاثًا في أول الوضوء قبل غسل الوجه؛ لورود الأحاديث به، ولأن اليدين آلة نقل الماء إلى الأعضاء؛ ففي غسلهما احتياط لجميع الوضوء، والبداءة بالمضمضة والاستنشاق قبل غسل الوجه؛ لورود البداءة بهما في الأحاديث، ويبالغ فيها إن كان غير صائم. ومعنى المبالغة في المضمضة: إدارة الماء في جميع فمه، وفي الاستنشاق: جذب الماء إلى أقصى أنفه، وتخليل اللحية الكثيفة بالماء حتى يبلغ داخلها، وتخليل أصابع اليدين والرجلين، والتيامن، وهو البدء باليمنى من اليدين والرجلين قبل اليسرى، والزيادة على الغسلة الواحدة إلى ثلاث غسلات في غسل الوجه واليدين والرجلين»
ওযুর সুন্নতসমূহ হলো:
১) মেসওয়াক করা। এর স্থান হচ্ছে- গড়গড়ার সময়। যাতে করে মেসওয়াক ও গড়গড়ার মাধ্যমে মুখ পরিস্কার করা যায়; যার ফলে ইবাদত, তেলাওয়াত ও আল্লাহ্র সাথে গোপন আলাপের জন্য নিজেকে তৈরী করে নেয়া যায়।
২) ওযুর শুরুতে চেহারা ধৌত করার আগে হাতের কব্জিদ্বয় তিনবার ধৌত করা। এ বিষয়টি হাদিসে উদ্ধৃত হওয়ার কারণে এবং যেহেতু হস্তদ্বয় হচ্ছে- ওযুর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে পানি ব্যবহার করার মাধ্যম। তাই এ দুটোকে ধৌত করার মাঝে সমস্ত ওযুর জন্য সতর্কতা অবলম্বন পাওয়া যায়।
৩) চেহারা ধৌত করার আগে গড়গড়া কুলি ও নাকে পানি দেয়া; অনেক হাদিসে এ দুটো দিয়ে শুরু করার কথা উদ্ধৃত হওয়ার কারণে। রোযাদার না হলে প্রকৃষ্টভাবে এ দুটো আদায় করবে। গড়গড়া কুলি প্রকৃষ্টভাবে আদায় করার অর্থ হল: গোটা মুখের ভেতরে পানি ঘুরানো। প্রকৃষ্টভাবে নাকে পানি দেয়ার অর্থ হচ্ছে: পানি টেনে একেবারে নাকের উপরে তুলে নেয়া।
৪) পানি দিয়ে ঘন দাঁড়ি খিলাল করা; যাতে করে ভেতরে পানি ঢুকে। দুই হাত ও দুই পায়ের আঙ্গুলগুলো খিলাল করা।
৫) ডান হাত ও ডান পা দিয়ে শুরু করা।
৬) মুখমণ্ডল, হস্তদ্বয় ও পা-যুগল ধৌত করার ক্ষেত্রে একবারের অধিক তিনবার ধৌত করা।[আল-মুলাখ্খাস আল-ফিকহি; খন্ড: ১; পৃষ্ঠা: ৪৪-৪৫) থেকে সমাপ্ত]
.
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা জেনে রাখা ভাল আর তা হচ্ছে: ওযুর শুরুতে কবজি পর্যন্ত উভয় হাত ধৌত করা সুন্নাত। তবে এই প্রাথমিক হাত ধোয়া পরবর্তীতে কনুইসহ দুই হাত ধোয়ার ফরজ আদায়ের জন্য যথেষ্ট নয়—কারণ,অধিকাংশ মাযহাবের আলেমগণ মনে করেন ওযুর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধোয়ার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা আবশ্যক। সূরা মায়েদার ৬ নং আয়াতে বর্ণিত ধারাবাহিকতা অনুযায়ী অঙ্গসমূহ ধৌত করতে হবে: প্রথমে মুখমন্ডল ধোয়া, তারপর দুই হাত ধোয়া, তারপর মাথা মাসেহ করা এবং শেষে পা ধোয়া। সুতরাং ওযুর শুরুতে দুই হাতের কব্জিদ্বয় ধৌত করলে সেটা পরবর্তীতে হাতের সাথে কব্জিদ্বয় ধোয়ার পরিবর্তে যথেষ্ট হবে না। কারণ এতে করে বিন্যাস নষ্ট হয়ে যাবে। দুই হাত ধোয়ার মাঝখানে মুখ ধোয়াকে প্রবেশ করানোর কারণে। ওয়াজিব হল মুখ ধোয়ার পরে পুরো দুই হাত ধৌত করা। সারকথা হল: কেউ যদি ওযুতে প্রথমে হাতের কব্জিদ্বয় ধৌত করে, তারপর কুলি করে ও নাকে পানি দেয় এবং মুখমণ্ডল ধৌত করে, এরপর কব্জির জয়েন্ট থেকে কনুই পর্যন্ত হাত ধৌত করে; তাহলে অধিকাংশ মাযহাবের আলেমদের মতে তার ওযু সঠিক হয়নি।
.
সৌদি ফতোয়া বোর্ড (আল-লাজনাতুদ দাইমাহ) এবং সৌদি আরবের সর্বোচ্চ উলামা পরিষদের প্রবীণ সদস্য, যুগশ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, শাইখ আবদুল্লাহ ইবনে জিবরীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪৩০ হি./২০০৯ খ্রি.]-কে জিজ্ঞেস করা হয়: ‘ওযুর শুরুতে হাতের কব্জিদ্বয় ধোয়াকে যথেষ্ট মনে করে যে ব্যক্তি হাতের কব্জি না ধুয়ে কব্জি থেকে কনুই পর্যন্ত হাত ধৌত করে তার হুকুম কী? তাকে কি পুনরায় ওযু করতে হবে?’
তিনি উত্তর দেন:
“لا يجوز في الوضوء الاقتصار على غسل الذراع فقط دون الكف بل متى فرغ من غسل الوجه بدأ بغسل اليدين ، فيغسل كل يد من رؤوس الأصابع إلى المرافق ، ولو كان قد غسل الكفين قبل الوجه ، فإن غسلهما الأول سنة ، وبعد الوجه فرض ، فمن اقتصر في غسل اليدين من الرسغ إلى المرفق فما أكمل الفرض المطلوب ، فعليه إعادة الوضوء بعد التمام ، أو عليه غسل ما تركه إن كان قريبا ، فيغسل الكفين وما بعدهما “
“ওযুতে হাতের কব্জি না ধুয়ে শুধু বাহু ধোয়ার মাঝে সীমিত থাকা নাজায়েয। বরং মুখ ধোয়া শেষ হলে দুই হাত ধোয়া শুরু করবে। আঙুলগুলোর ডগা থেকে কনুই পর্যন্ত গোটা হাত ধৌত করবে। যদিও মুখ ধোয়ার আগে হাতের কব্জিদ্বয় ধুয়ে থাকুক না কেন। যেহেতু কব্জিদ্বয় ওযুর প্রথমে ধোয়া সুন্নত; আর মুখ ধোয়ার পরে ধোয়া ফরয। তাই কেউ যদি হাত ধোয়ার ক্ষেত্রে কব্জি থেকে কনুই পর্যন্ত ধোয়ার মধ্যে সীমিত থাকে সে আদিষ্ট ফরয পূর্ণ করল না। তাকে ওযু শেষ করার পর পুনরায় ওযু করতে হবে। আর যদি খুব কাছাকাছি সময়ে হয় তাহলে যে অংশটুকু বাদ পড়েছে সেটা ধৌত করতে হবে। অর্থাৎ তখন সে দুই হাতের কব্জিদ্বয় ধৌত করবে এবং তৎপরবর্তী অঙ্গগুলো ধৌত করবে।” (আল-লুলুউল মাকীন মিন ফাতাওয়াশ শাইখ ইবন জিবরীন’; পৃষ্ঠা: ৭৭)
.
সর্বোচ্চ ‘উলামা পরিষদের সম্মানিত সদস্য, বিগত শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও উসূলবিদ, আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ, ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২১ হি./২০০১ খ্রি.] বলেছেন:” وهنا نقف لننبه على ما يغفل عنه كثير من الناس حيث كانوا يغسلون اليد من الكف إلى المرفق ظناً منهم أن غسلها قد تم قبل غسل الوجه، وهذا غير صحيح، ولا بد أن تغسلها من أطراف الأصابع إلى المرفقين “এখানে আমরা একটু সময় নিব যাতে করে এমন একটি বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারি যেটার ব্যাপারে অনেক মানুষ গাফেল। তারা হাতের কব্জি থেকে কনুই পর্যন্ত ধৌত করে; এ ধারণা থেকে যে, মুখ ধোয়ার আগে হাতের কব্জি ধোয়া হয়েছে। এটি অসঠিক। অবশ্যই দুই হাত আঙুলের ডগা থেকে কনুই পর্যন্ত ধৌত করতে হবে।”(ইবনু উসাইমীন; আল-লিকাউশ শাহরী: ৩/৩৩০)
.
পরিশেষে বলা যায়: ওযুর শুরুতে মুখমণ্ডল ধৌত করার পূর্বে উভয় হাত কবজি পর্যন্ত তিনবার ধৌত করা নবী ﷺ-এর সুন্নাত এবং মুস্তাহাব আমল। সহিহ হাদিসে এর সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে এবং ফকিহগণও এর বৈধতা ও সুন্নাত হওয়ার বিষয়ে একমত। তবে শুরুতে কবজি পর্যন্ত যে হাত ধোয়া হয়, তা মুখমণ্ডল ধৌত করার পর কনুই পর্যন্ত হাত ধোয়ার ফরজের বিকল্প নয়। অতএব, মুখমণ্ডল ধৌত করার পর অবশ্যই উভয় হাত আঙুলের ডগা থেকে কনুইসহ পুনরায় ধৌত করতে হবে। কেউ যদি শুধু কবজি থেকে কনুই পর্যন্ত ধৌত করে এবং কবজি ও আঙুলের অংশ বাদ দেয়, তাহলে সে ওযুর ফরজ অঙ্গ পূর্ণভাবে ধৌত করেনি। পক্ষান্তরে, ওযুর শুরুতে কবজি পর্যন্ত হাত না ধুলেও ওযু সহিহ হবে; তবে সে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাতের ফযিলত থেকে বঞ্চিত হবে। সুতরাং সুন্নাত হলো—প্রথমে কবজি পর্যন্ত হাত ধোয়া, এরপর মুখমণ্ডল ধোয়ার পর আঙুলের ডগা থেকে কনুইসহ সম্পূর্ণ দুই হাত ধৌত করা। আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞানী।
▬▬▬▬▬◄❖►▬▬▬▬▬
উপস্থাপনায়: জুয়েল মাহমুদ সালাফি।
উপস্থাপনায়: জুয়েল মাহমুদ সালাফি।