ঘুষের সংজ্ঞা এবং ঘুষ আদান-প্রদানের বিধান

প্রশ্ন: ঘুষের সংজ্ঞা কি? শারঈ দৃষ্টিকোণ থেকে ঘুষ আদান-প্রদানের বিধান কি? কোনো পরিস্থিতিতে ঘুষ প্রদান করা জায়েজ?
▬▬▬▬▬▬▬●◈●▬▬▬▬▬▬▬
উত্তর: সাধারণ ভাবে ঘুষ হলো—কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে অন্যায়ভাবে নিজের কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য অর্জন, অধিকারবহির্ভূত সুবিধা লাভ, অথবা কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে নিজের অনুকূলে সিদ্ধান্ত দিতে প্রভাবিত করার জন্য অর্থ বা অন্য কোনো সুবিধা প্রদান করা।আল-মাউসূআহ আল-ফিকহিয়্যাহ’-এ ঘুষের সংজ্ঞা এভাবে এসেছে—الرشوة هي ما يدفعه الإنسان ليأخذ ما ليس من حقه، أو ليتهرب بها من حق عليه.অর্থাৎ, “কোন ব্যক্তি তার প্রাপ্য নয় এমন কিছু অর্জন করার জন্য অথবা তার ওপর অর্পিত কোনো দায়িত্ব বা বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি লাভের উদ্দেশ্যে যা কিছু প্রদান করে, তাই ঘুষ।”[আল-মাউসূআহ আল-ফিকহিয়্যাহ, ৫/৩৬২] এ সংজ্ঞা থেকে স্পষ্ট হয় যে, ঘুষ কেবল অর্থ বা সম্পদ প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং অন্যায্য সুবিধা অর্জনের উদ্দেশ্যে কোনো ব্যক্তিকে বিশেষ উপকার করা, মূল্যবান উপহার দেওয়া, বিশেষ সেবা প্রদান করা বা অন্য যেকোনো ধরনের সুবিধা দেওয়া—এসবও ঘুষের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।অর্থাৎ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে অর্থ, উপহার, বিশেষ সেবা কিংবা অন্য কোনো সুবিধা দিয়ে যদি অন্যায়ভাবে কোনো সুযোগ-সুবিধা অর্জন করা হয় অথবা তার দায়িত্ব পালনে প্রভাব বিস্তার করা হয়, তাহলে তা শরীয়তের দৃষ্টিতে ঘুষ হিসেবে গণ্য হবে।যদিও কিছু আলেম ঘুষকে “অন্যের অধিকার নষ্ট করে অন্যায়ভাবে কোনো সুবিধা বা অধিকার অর্জনের উদ্দেশ্যে অর্থ বা অন্য কোনো বিনিময় প্রদান”—এভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন, তবে ‘আল-মাউসূআহ আল-ফিকহিয়্যাহ’-এর সংজ্ঞাটি অধিক ব্যাপক ও সর্বসম্মত অর্থ প্রকাশ করে। এটি শুধু অন্যের অধিকার হরণ নয়; বরং নিজের ওপর বর্তানো দায়িত্ব বা বাধ্যবাধকতা এড়িয়ে যাওয়ার জন্য প্রদত্ত সব ধরনের অবৈধ বিনিময়কেও ঘুষের অন্তর্ভুক্ত করেছে।
.
ঘুসের সংজ্ঞায় ইমাম ইবনুল আসীর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন:الرِّشْوة والرُّشْوة: الوُصلة إلى الحاجة بالمُصانعة. وأصله من الرِشاء الذي يُتَوصَّل به إلى الماء. فالراشي مَن يُعطِي الذي يُعِينه على الباطل. والمُرْتَشِي الآخِذُ. والرائِش الذي يسْعى بينهما يَسْتزيد لهذا ويَسْتنقِص لهذا.”রিশওয়াহ অর্থাৎ ঘুস বলতে বোঝায় কোনো প্রয়োজন পূরণের জন্য তোষামোদ বা অবৈধ উপায় অবলম্বন করা। এর মূল শব্দ রিশা, যার অর্থ সেই দড়ি যার মাধ্যমে কূপ থেকে পানি তোলা হয়। রাশি হলো সেই ব্যক্তি, যে অন্যায় কাজে সহযোগিতা লাভের জন্য অর্থ দেয়। মুরতাশি হলো যে সেই অর্থ গ্রহণ করে। আর রায়িশ হলো সেই মধ্যস্থতাকারী, যে উভয়ের মধ্যে দালালি করে, এক পক্ষের কাছ থেকে বেশি আদায় করে এবং অন্য পক্ষকে কম দেওয়ার চেষ্টা করে…..(আন নিহায়াহ ফি গরীবিল হাদীস;২/২২৬)
.
◽শারঈ দৃষ্টিকোণ থেকে ঘুস আদান-প্রদানের বিধান:
.
ইসলামি শরীয়তের দৃষ্টিতে ঘুসের লেনদেন সম্পূর্ণ হারাম এবং এটি কবিরাহ গুনাহের অন্তর্ভুক্ত। কেননা ঘুস মানুষের অধিকার নষ্ট করে, যুলুম ও অবিচারের পথ সুগম করে এবং সমাজে দুর্নীতি,স্বজনপ্রীতি ও স্বার্থপরতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করে। তাই ইসলাম সর্বপ্রকার ঘুষের লেনদেন কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে। এ মর্মে মহান আল্লাহ কুরআন মাজীদে এরশাদ করেন-لَا تَاۡکُلُوۡۤا اَمۡوَالَکُمۡ بَیۡنَکُمۡ بِالۡبَاطِلِ وَ تُدۡلُوۡا بِہَاۤ اِلَی الۡحُکَّامِ لِتَاۡکُلُوۡا فَرِیۡقًا مِّنۡ اَمۡوَالِ النَّاسِ بِالۡاِثۡمِ وَ اَنۡتُمۡ تَعۡلَمُوۡنَ”আর তোমরা অন্যায়ভাবে পরস্পরের সম্পদ ভক্ষণ কর না এবং জানা সত্ত্বেও অসৎ উপায়ে মানুষের সম্পদ গ্রাস করার উদ্দেশ্যে তা বিচারকের নিকট (ঘুষ দেয়ার জন্য) নিয়ে যেও না”।(সূরা আল-বাক্বারাহ : ১৮৮)।হাদিসে এসেছে,আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন:لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الرَّاشِي وَالْمُرْتَشِي”রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতাকে অভিশাপ দিয়েছেন।[মুসনাদে আহমদ হা/৬৭৯১; ও আবু দাউদ হা/৩৫৮০; শাইখ আলবানী ইরওয়াউল গালীল বইয়ে (২৬২১) এটিকে সহিহ বলে গণ্য করেছেন] অত্র হাদীসে স্পষ্টই উল্লেখ করা হয়েছে, ঘুষ আদান-প্রদান অভিশাপের কারণ। যে ঘুষ প্রদান করবে, আর যে তা গ্রহণ করবে উভয়ের উপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) লা‘নত করেছেন। অভিশাপকৃত কর্ম বা অভিশপ্ত ব্যক্তির মধ্যে কোন কল্যাণ থাকতে পারে না। অন্য হাদিসে এসেছে, আবূ উমামাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,”যে ব্যক্তি কারো জন্য সুপারিশ করল এবং সেই সুপারিশের প্রতিদান স্বরূপ তাকে কিছু উপহার দিল। যদি সে তা গ্রহণ করে তাহলে সে সূদের দরজাসমূহের একটি বড় দরজায় উপস্থিত হল”।(আবূ দাঊদ, হা/৩৫৪১; সিলসিলা সহীহাহ হা/৩৪৬৫; মিশকাত, হা/৩৭৫৭)
.
◽কোন কোন পরিস্থিতিতে ঘুস প্রদান জায়েজ হতে পারে?
ইসলামে ঘুস (রিশওয়াহ) দেওয়া ও নেওয়া—উভয়ই মূলত হারাম এবং এটি কবীরা গুনাহ। রাসূলুল্লাহ ﷺ ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতা—উভয়ের ওপর লানত করেছেন। তবে আলেমগণ একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রমের কথা উল্লেখ করেছেন। যদি কোনো ব্যক্তি নিজের ন্যায্য ও অপরিহার্য অধিকার আদায় করতে, অথবা অন্যায়-জুলুম থেকে আত্মরক্ষা করতে বাধ্য হয় এবং ঘুষ প্রদান ছাড়া তার সামনে আর কোনো কার্যকর ও বৈধ উপায় না থাকে, তাহলে এমন চরম বাধ্যতামূলক অবস্থায় ঘুষ দেওয়ার অবকাশ (রুখসত) রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ঘুষদাতা গুনাহগার হবে না; বরং সম্পূর্ণ গুনাহ বর্তাবে সেই ব্যক্তির ওপর, যে অন্যায়ভাবে ঘুষ গ্রহণ করেছে। যেমন—কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা দায়িত্বশীল ব্যক্তি বৈধ কাগজপত্র, লাইসেন্স বা প্রাপ্য সেবা দেওয়ার জন্য বেআইনিভাবে অর্থ দাবি করলে, অন্যায় আটক, নির্যাতন বা জুলুম থেকে বাঁচতে বাধ্য হয়ে অর্থ দিতে হলে, কিংবা নিজের বৈধ সম্পদ বা ন্যায্য অধিকার ফিরে পাওয়ার অন্য কোনো বাস্তবসম্মত উপায় না থাকলে—এসব ক্ষেত্রে বাধ্য হয়ে অর্থ প্রদান করলে তা ঘুষদাতার জন্য ক্ষমাযোগ্য হবে; তবে ঘুষ গ্রহণকারীর জন্য তা সর্বাবস্থায় হারাম এবং সে-ই গুনাহগার হিসেবে বিবেচিত হবে। পক্ষান্তরে, অন্যায় সুবিধা অর্জনের উদ্দেশ্যে ঘুষ দেওয়া কোনো অবস্থাতেই জায়েজ নয়। যেমন—অন্যের অধিকার নষ্ট করে চাকরি লাভ, টেন্ডার বা চুক্তি অন্যায়ভাবে নিজের নামে নেওয়া, আদালত বা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অবৈধভাবে নিজের অনুকূলে আনা, পরীক্ষায় প্রতারণার মাধ্যমে পাস করা, অবৈধভাবে লাইসেন্স বা সনদ অর্জন করা,অথবা বৈধ বিকল্প থাকা সত্ত্বেও ঘুষের পথ বেছে নেয়,কিংবা কোনো হারাম বা বেআইনি কাজের অনুমতি নেওয়ার জন্য ঘুষ দেওয়া ও নেওয়া—উভয়ই নিঃসন্দেহে হারাম। সুতরাং ইসলামের মূলনীতি হলো, অন্যায় সুবিধা লাভের জন্য ঘুষ সর্বাবস্থায় হারাম; তবে একান্ত বাধ্য হয়ে নিজের ন্যায্য অধিকার উদ্ধার করা বা জুলুম থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ঘুষ দিতে হলে তার গুনাহ ঘুষগ্রহীতার ওপর বর্তাবে, ঘুষদাতার ওপর নয়। এ মতটি ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ, ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম, ইমাম হাসান আল-বাসরীসহ বহু প্রখ্যাত আলেম সমর্থন করেছেন। তারা এ বিষয়ে ইমাম আহমাদ কর্তৃক বর্ণিত উমার ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর হাদীস দ্বারা দলিল প্রদান করেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:”(إِنَّ أَحَدَهُمْ لَيَسْأَلُنِي الْمَسْأَلَةَ فَأُعْطِيهَا إِيَّاهُ فَيَخْرُجُ بِهَا مُتَأَبِّطُهَا ، وَمَا هِيَ لَهُمْ إِلا نَارٌ ، قَالَ عُمَرُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، فَلِمَ تُعْطِيهِمْ ؟ قَالَ : إِنَّهُمْ يَأْبَوْنَ إِلا أَنْ يَسْأَلُونِي ، وَيَأْبَى اللَّهُ لِي الْبُخْلَ) “তাদের কেউ কেউ আমার কাছে কিছু চায়। আমি তাকে তা দিয়ে দিই। অথচ সে তা বগলে নিয়ে বের হয়, কিন্তু বাস্তবে তা তার জন্য আগুন ছাড়া আর কিছু নয়।উমার (রা.) বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! তাহলে আপনি তাদের দেন কেন? তিনি বললেন, তারা চাওয়া ছাড়া মানে না, আর আল্লাহ আমার জন্য কৃপণতা পছন্দ করেন না।”(মুসনাদে আহমেদ হা/১০৭৩৯;সহিহ আত তারগীব হা/৮৪৪) অর্থাৎ,নবী (ﷺ) জানতেন যে তাদের জন্য এ সম্পদ গ্রহণ করা হারাম। তবুও তিনি তাদের দিতেন, যাতে কৃপণতার অপবাদ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারেন।এ হাদীস থেকে আলেমগণ বুঝিয়েছেন যে, কোনো ব্যক্তি যদি অন্যের জবরদস্তি বা অনৈতিক দাবির কারণে বাধ্য হয়ে কিছু দিতে বাধ্য হয়, তবে সেই দেওয়ার গুনাহ তার ওপর নয়; বরং প্রকৃত গুনাহগার সেই ব্যক্তি, যে অন্যায়ভাবে তা গ্রহণ করেছে। তাই মুসলিমের কর্তব্য হলো, সর্বাবস্থায় ঘুষ থেকে বেঁচে থাকা; তবে একান্ত নিরুপায় অবস্থায় নিজের ন্যায্য অধিকার উদ্ধার বা জুলুম থেকে আত্মরক্ষার জন্য বাধ্য হয়ে অর্থ প্রদান করলে তার জন্য শরীয়তে অবকাশ রয়েছে, যদিও ঘুষ গ্রহণকারীর জন্য তা সর্বদাই হারাম ও গুরুতর পাপ।
.
শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন:” فأما إذا أهدى له هدية ليكف ظلمه عنه أو ليعطيه حقه الواجب كانت هذه الهدية حراما على الآخذ , وجاز للدافع أن يدفعها إليه , كما كان النبي صلى الله عليه وسلم يقول : ( إني لأعطي أحدهم العطية …الحديث )”কোনো ব্যক্তি যদি কোনো কর্মকর্তাকে এই উদ্দেশ্যে উপহার দেয়, যেন সে তার ওপর থেকে জুলুম প্রতিহত করে অথবা তার প্রাপ্য অধিকার তাকে বুঝিয়ে দেয়, তাহলে এই উপহার (ঘুস) গ্রহণ করা কর্মকর্তার জন্য হারাম হবে; কিন্তু প্রদানকারীর জন্য তা প্রদান করা জায়েজ।এর প্রমাণ নবী ﷺ-এর উক্তি: ‘আমি তো কখনো কখনো কাউকে কোনো দান দিয়ে থাকি… (হাদীস)’।”(আল-ফাতাওয়াল কুবরা; খণ্ড: ৪; পৃষ্ঠা: ১৭৪)
.
তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) আরও বলেন:قَالَ الْعُلَمَاءُ : يَجُوزُ رِشْوَةُ الْعَامِلِ لِدَفْعِ الظُّلْمِ لا لِمَنْعِ الْحَقِّ ، وَإِرْشَاؤُهُ حَرَامٌ فِيهِمَا ( يعني : أخذه للرشوة حرام ) . . .وَمِنْ ذَلِكَ : لَوْ أَعْطَى الرَّجُلُ شَاعِرًا أَوْ غَيْرَ شَاعِرٍ ; لِئَلا يَكْذِبَ عَلَيْهِ بِهَجْوٍ أَوْ غَيْرِهِ ، أَوْ لِئَلا يَقُولَ فِي عِرْضِهِ مَا يَحْرُمُ عَلَيْهِ قَوْلُهُ كَانَ بَذْلُهُ لِذَلِكَ جَائِزًا وَكَانَ مَا أَخَذَهُ ذَلِكَ لِئَلا يَظْلِمَهُ حَرَامًا عَلَيْهِ ; لأَنَّهُ يَجِبُ عَلَيْهِ تَرْكُ ظُلْمِهِ . . .فَكُلُّ مَنْ أَخَذَ الْمَالَ لِئَلا يَكْذِبَ عَلَى النَّاسِ أَوْ لِئَلا يَظْلِمَهُمْ كَانَ ذَلِكَ خَبِيثًا سُحْتًا ; لأَنَّ الظُّلْمَ وَالْكَذِبَ حَرَامٌ عَلَيْهِ فَعَلَيْهِ أَنْ يَتْرُكَهُ بِلا عِوَضٍ يَأْخُذُهُ مِنْ الْمَظْلُومِ فَإِذَا لَمْ يَتْرُكْهُ إلا بِالْعِوَضِ كَانَ سُحْتًا “আলেমগণ বলেছেন: জুলুম প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে কোনো কর্মকর্তাকে অর্থ (ঘুস) প্রদান করা বৈধ,কিন্তু অন্যের হক নষ্ট করার জন্য ঘুষ দেওয়া বৈধ নয়। অবশ্য উভয় অবস্থাতেই গ্রহীতার জন্য তা গ্রহণ করা হারাম। (অর্থাৎ, তার জন্য ঘুষ নেওয়া নাজায়েজ)।এর একটি দৃষ্টান্ত হলো: কোনো ব্যক্তি যদি একজন কবি বা অন্য কাউকে এই উদ্দেশ্যে অর্থ দেয়, যাতে সে তার নামে মিথ্যা বা ব্যঙ্গাত্মক কবিতা কিংবা অন্য কোনো উপায়ে কুৎসা রটনা না করে, অথবা তার সম্মানহানি করে এমন কোনো কথা না বলে যা বলা তার জন্য হারাম—তবে দাতার জন্য এমন অর্থ (ঘুস) প্রদান করা জায়েজ। কিন্তু গ্রহীতা যে অর্থ গ্রহণ করল, তা তার জন্য হারাম।কারণ তার তো এমনিতেই জুলুম ও মিথ্যা থেকে বিরত থাকা ফরজ ছিল।অতএব, যে ব্যক্তি মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা বলা বা তাদের ওপর জুলুম না করার বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ করে, তার এ অর্থ নিকৃষ্ট ও হারাম।কারণ জুলুম ও মিথ্যা বলা তার ওপর সর্বাবস্থায় হারাম। তাই কোনো ধরনের বিনিময় বা প্রতিদান ছাড়াই তা পরিত্যাগ করা তার দায়িত্ব। কিন্তু সে যদি বিনিময় বা মূল্য ছাড়া জুলুম করা থেকে বিরত না থাকে, তবে তার গৃহিত সেই অর্থ হারাম হবে।”(ইবনু তাইমিয়্যাহ মাজমুউ ফাতাওয়া; খণ্ড: ২৯; পৃষ্ঠা: ২৫২)
.
তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) আরও বলেন:قَالَ الْعُلَمَاءُ : إنَّ مَنْ أَهْدَى هَدِيَّةً لِوَلِيِّ أَمْرٍ لِيَفْعَلَ مَعَهُ مَا لا يَجُوزُ كَانَ حَرَامًا عَلَى الْمَهْدِيِّ وَالْمُهْدَى إلَيْهِ . وَهَذِهِ مِنْ الرَّشْوَةِ الَّتِي قَالَ فِيهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : ( لَعَنَ اللَّهُ الرَّاشِي وَالْمُرْتَشِي ) .فَأَمَّا إذَا أَهْدَى لَهُ هَدِيَّةً لِيَكُفَّ ظُلْمَهُ عَنْهُ أَوْ لِيُعْطِيَهُ حَقَّهُ الْوَاجِبَ : كَانَتْ هَذِهِ الْهَدِيَّةُ حَرَامًا عَلَى الآخِذِ وَجَازَ لِلدَّافِعِ أَنْ يَدْفَعَهَا إلَيْهِ كَمَا ، كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ : ( إنِّي لأُعْطِي أَحَدَهُمْ الْعَطِيَّةَ فَيَخْرُجُ بِهَا يَتَأَبَّطُهَا نَارًا . قِيلَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ فَلِمَ تُعْطِيهِمْ ، قَالَ : يَأْبَوْنَ إلا أَنْ يَسْأَلُونِي ، وَيَأْبَى اللَّهُ لِي الْبُخْلَ ) .وَمِثْلُ ذَلِكَ : إعْطَاءُ مَنْ كَانَ ظَالِمًا لِلنَّاسِ ، فَإِعْطَاءُه جَائِزٌ لِلْمُعْطِي ، حَرَامٌ عَلَيْهِ أَخْذُهُ .وَأَمَّا الْهَدِيَّةُ فِي الشَّفَاعَةِ : مِثْلُ أَنْ يَشْفَعَ لِرَجُلِ عِنْدَ وَلِيِّ أَمْرٍ لِيَرْفَعَ عَنْهُ مَظْلِمَةً أَوْ يُوَصِّلَ إلَيْهِ حَقَّهُ أَوْ يُوَلِّيَهُ وِلَايَةً يَسْتَحِقُّهَا أَوْ يَسْتَخْدِمُهُ فِي الْجُنْدِ الْمُقَاتِلَةِ – وَهُوَ مُسْتَحِقٌّ لِذَلِكَ – أَوْ يُعْطِيَهُ مِنْ الْمَالِ الْمَوْقُوفِ عَلَى الْفُقَرَاءِ أَوْ الْفُقَهَاءِ أَوْ الْقُرَّاءِ أَوْ النُّسَّاكِ أَوْ غَيْرِهِمْ – وَهُوَ مِنْ أَهْلِ الِاسْتِحْقَاقِ . وَنَحْوَ هَذِهِ الشَّفَاعَةِ الَّتِي فِيهَا إعَانَةٌ عَلَى فِعْلٍ وَاجِبٍ أَوْ تَرْكُ مُحَرَّمٍ : فَهَذِهِ أَيْضًا لا يَجُوزُ فِيهَا قَبُولُ الْهَدِيَّةِ وَيَجُوزُ لِلْمهْدِي أَنْ يَبْذُلَ فِي ذَلِكَ مَا يَتَوَصَّلُ بِهِ إلَى أَخْذِ حَقِّهِ أَوْ دَفْعِ الظُّلْمِ عَنْهُ . هَذَا هُوَ الْمَنْقُولُ عَنْ السَّلَفِ وَالأَئِمَّةِ الأَكَابِرِ”আলেমগণ বলেছেন: যদি কেউ কোনো শাসক, কর্মকর্তা বা ক্ষমতাসীন ব্যক্তিকে এমন উদ্দেশ্যে উপহার (ঘুস) দেয় যে, তিনি তার জন্য এমন কোনো কাজ করবেন যা শরীয়তসম্মত নয়, তাহলে এই উপহার দেওয়া ও গ্রহণ উভয়ই হারাম। এটাই সেই ঘুষ, যার সম্পর্কে নবী ﷺ বলেছেন: আল্লাহ ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহণকারী উভয়ের ওপর লানত করেছেন।কিন্তু যদি কেউ তাকে উপহার দেয়, যাতে সে তার ওপর থেকে জুলুম বন্ধ করে, অথবা তার ন্যায্য অধিকার তাকে প্রদান করে, তাহলে এই উপহার গ্রহণ করা গ্রহণকারীর জন্য হারাম; তবে প্রদানকারীর জন্য তা দেওয়া বৈধ। এ প্রসঙ্গে নবী সা. বলেছেন:আমি কখনো কাউকে কিছু দান করি, অথচ সে তা বগলদাবা করে আগুন (জাহান্নামের শাস্তি) নিয়ে চলে যায়। জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! তাহলে আপনি তাদের দেন কেন? তিনি বললেন, তারা না চেয়ে থাকে না, আর আল্লাহ আমার জন্য কৃপণতা পছন্দ করেন না।অনুরূপভাবে, যে ব্যক্তি মানুষের ওপর জুলুম করে, তাকে (নিজের জুলুম থেকে বাঁচার জন্য) কিছু দেওয়া দাতার জন্য বৈধ কিন্তু তা গ্রহণ করা তার জন্য হারাম।আর সুপারিশের বিনিময়ে উপহার গ্রহণের ক্ষেত্রেও একই বিধান। যেমন, কেউ কোনো শাসক বা দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছে কারো জন্য সুপারিশ করল, যাতে তার ওপর থেকে অন্যায় দূর করা হয়, অথবা তার ন্যায্য অধিকার তাকে পৌঁছে দেওয়া হয়, অথবা সে যে পদ বা দায়িত্বের যোগ্য, তা তাকে দেওয়া হয়, কিংবা তাকে সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দেওয়া হয় যদি সে তার যোগ্য হয়—অথবা গরিব, ফকিহ, ক্বারী, ইবাদতকারী বা অন্য যাদের জন্য ওয়াকফকৃত সম্পদ নির্ধারিত, তাদের মধ্যে সে যদি প্রকৃত হকদার হয়, তবে তাকে সেই সম্পদ দেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়। এ ধরনের সুপারিশ, যা কোনো ফরজ কাজ সম্পাদন বা হারাম কাজ থেকে বিরত থাকতে সহায়তা করে এর বিনিময়ে উপহার গ্রহণ করাও বৈধ নয়। তবে যার অধিকার আদায় বা যার ওপর থেকে জুলুম দূর করার জন্য এ সুপারিশ করা হচ্ছে, তার জন্য নিজের অধিকার পাওয়া বা জুলুম থেকে মুক্তি লাভের উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় অর্থ ব্যয় করা বৈধ। এটাই সালাফে সালেহীন ও প্রখ্যাত ইমামদের থেকে বর্ণিত মত।”(ইবনু তাইমিয়্যাহ মাজমুউ ফাতাওয়া; খণ্ড: ৩১; পৃষ্ঠা: ২৭৮)
.
তাকীউদ্দীন সুবকী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন:والمراد بالرشوة التي ذكرناها ما يعطى لدفع حق أو لتحصيل باطل ، وإن أعطيت للتوصل إلى الحكم بحق فالتحريم على من يأخذها , وأما من يعطيها فإن لم يقدر على الوصول إلى حقه إلا بذلك جاز ، وإن قدر إلى الوصول إليه بدونه لم يجز “আমরা যে ঘুষের কথা বলেছি, তার উদ্দেশ্য হলো এমন অর্থ বা উপহার, যা কোনো ন্যায্য অধিকার নষ্ট করার জন্য অথবা অন্যায় সুবিধা অর্জনের জন্য দেওয়া হয়। কিন্তু যদি ন্যায্য রায় বা নিজের বৈধ অধিকার পাওয়ার উদ্দেশ্যে তা দেওয়া হয়, তাহলে হারাম হবে গ্রহণকারীর জন্য। আর দাতার ক্ষেত্রে যদি সে এ ছাড়া নিজের অধিকার আদায় করতে সক্ষম না হয়, তাহলে তার জন্য তা দেওয়া বৈধ। তবে যদি ঘুষ ছাড়াই নিজের অধিকার আদায় করতে পারে, তাহলে তার জন্য ঘুষ দেওয়া বৈধ নয়।”(ফাতাওয়াউস সুবকী; খণ্ড: ১; পৃষ্ঠা: ২০৪)। ইমাম সুয়ূতী (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর আশবাহুন নাযায়ির নামক গন্থে বলেন:القاعدة السابعة والعشرون : ( ما حرم أخذه حرم إعطاؤه ) كالربا ، ومهر البغي , وحلوان الكاهن والرشوة , وأجرة النائحة والزامر .ويستثنى صور : منها : الرشوة للحاكم , ليصل إلى حقه , وفك الأسير ، وإعطاء شيء لمن يخاف هجوه “সাতাশতম মূলনীতি: যা গ্রহণ করা হারাম, তা প্রদান করাও হারাম। যেমন সুদ, ব্যভিচারিণীর মোহর, গণকের পারিশ্রমিক, ঘুষ, বিলাপকারিণী ও বাদ্যযন্ত্র-বাদকের পারিশ্রমিক।তবে কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে। যেমন বিচারকের কাছে ঘুষ দিয়ে নিজের ন্যায্য অধিকার আদায় করা,বন্দীকে মুক্ত করার জন্য অর্থ প্রদান, অথবা এমন কাউকে কিছু দেওয়া, যার কুৎসা বা অপবাদ দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। হিলওয়ানুল কাহিন বলতে বোঝায গণক বা ভবিষ্যদ্বক্তা তার গণনার বিনিময়ে যে পারিশ্রমিক গ্রহণ করে।”(আশবাহুন নাযায়ির পৃষ্ঠা: ১৫০)
.
আল মাওসূআতুল ফিকহিয়্যাহতে এসেছে:وفي “الأشباه” لابن نجيم (حنفي) , ومثله في “المنثور” للزركشي (شافعي) : ما حرم أخذه حرم إعطاؤه , كالربا ومهر البغي وحلوان الكاهن والرشوة للحاكم إذا بذلها ليحكم له بغير الحق , إلا في مسائل : في الرشوة لخوفٍ على نفسه أو ماله أو لفك أسير أو لمن يخاف هجوه ” ইবনু নুজাইমের আল আশবাহ এবং ইমাম যারকাশীর আল মানছুর-এ বলা হয়েছে: যা গ্রহণ করা হারাম, তা প্রদান করাও হারাম। যেমন সুদ, ব্যভিচারিণীর মোহর, গণকের পারিশ্রমিক এবং বিচারককে এমন ঘুষ দেওয়া, যাতে তিনি অন্যায়ভাবে রায় দেন। তবে কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে, যেমন: নিজের প্রাণ বা সম্পদের নিরাপত্তার জন্য ঘুষ দেওয়া, বন্দীকে মুক্ত করার জন্য, অথবা এমন ব্যক্তিকে কিছু দেওয়া, যার কুৎসার ভয় রয়েছে। ড. ওহবা যুহাইলী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন:إذا تعينت الرشوة دون غيرها سبيلاً للوصول إلى الغرض جاز الدفع للضرورة‏ ،‏ ويحرم على الآخذ”যদি উদ্দেশ্য অর্জনের একমাত্র উপায় ঘুষ দেওয়াই হয়, তাহলে প্রয়োজনের কারণে ঘুষ দেওয়া বৈধ তবে তা গ্রহণ করা হারাম।
.
ইমাম ইবনুল আসীর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন:فأمَّا ما يُعْطَى تَوصُّلا إلى أخْذِ حق أو دَفْع ظُلْم فغير داخلالظلم رُوِي أنّ ابن مسعود أُخِذ بأرض الحَبشة في شيء فأعْطَى دينارين حتى خُلّى سبيله. ورُوِي عن جماعة من أئمة التابعين قالوا: لا بأس أن يُصانِع الرجل عن نفسه ومالِه إذا خاف الظلم”নিজের ন্যায্য অধিকার আদায় করতে বা নিজের ওপর থেকে জুলুম দূর করতে যে অর্থ দেওয়া হয়, তা এই নিষিদ্ধ ঘুষের অন্তর্ভুক্ত নয়।বর্ণিত আছে, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হাবশায় একটি বিষয়ে আটক হয়েছিলেন। তখন তিনি দুই দীনার প্রদান করলে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়। আরও বর্ণিত হয়েছে, তাবেয়ীদের একদল ইমাম বলেছেন: ‘যদি কেউ নিজের জান-মালকে জুলুম থেকে রক্ষা করার আশঙ্কায় কিছু অর্থ দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করে, তবে এতে কোনো অসুবিধা নেই। (আন নিহায়াহ ফি গরীবিল হাদীস: ২/২২৬)
.
ইমাম খাত্তাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:إذا أَعطى ليتوصل به إلى حقه، أو يدفع عن نفسه ظلماً، فإنه غير داخل في هذا الوعيد”যদি কেউ নিজের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য অথবা নিজের ওপর থেকে জুলুম দূর করার জন্য কিছু অর্থ প্রদান করে, তবে সে এই হাদিসে বর্ণিত কঠোর শাস্তির আওতাভুক্ত হবে না।”(মাআলিমুস সুনান: ৪/১৬১)
.
ইমাম মানাভী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন:الرشوة على تبديل أحكام الله إنما هي خصلة نشأت من اليهود المستحقين اللعنة ، فإذا سرت الخصلتان إلى أهل الإسلام استحقوا من اللعن ما استحقه اليهود … وقد جاء النهي عن الرشا حتى في التوراة ، ففي السفر الثاني منها : لا تقبلن الرشوة ؛ فإن الرشوة تعمي أبصار الحكام في القضاء”আল্লাহর বিধান পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে ঘুষ গ্রহণ করা এমন একটি নিকৃষ্ট স্বভাব, যা মূলত সেই ইহুদিদের মধ্যে জন্ম নিয়েছিল, যারা আল্লাহর লানতের উপযুক্ত হয়েছিল। যখন এই দুটি নিকৃষ্ট স্বভাব মুসলিমদের মধ্যেও প্রবেশ করবে, তখন তারাও সেই লানতের অংশীদার হবে, যার উপযুক্ত ইহুদিরা হয়েছিল। এমনকি তাওরাতেও ঘুষের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে: তুমি ঘুষ গ্রহণ করবে না কারণ ঘুষ বিচারকদের দৃষ্টিশক্তিকে অন্ধ করে দেয় এবং ন্যায়বিচারকে বিকৃত করে।”(ফাইযুল কাদীর; খণ্ড: ৫; পৃষ্ঠা: ৩৪২)
.
বিগত শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও উসূলবিদ, আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ, ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২১ হি./২০০১ খ্রি.] বলেছেন:أما الرشوة التي يتوصل بها الإنسان إلى حقه ، كأن لا يمكنه الحصول على حقه إلا بشيء من المال ، فإن هذا حرام على الآخذ ، وليس حراماً على المعطي ، لأن المعطي إنما أعطى من أجل الوصول إلى حقه ، لكن الآخذ الذي أخذ تلك الرشوة هو الآثم لأنه أخذ ما لا يستحق “যে ঘুষের মাধ্যমে একজন মানুষ তার ন্যায্য অধিকার আদায় করতে পারে অর্থাৎ অর্থ না দিলে তার অধিকার পাওয়ার কোনো উপায় নেই সে ক্ষেত্রে অর্থ গ্রহণকারীর জন্য তা হারাম, কিন্তু অর্থদাতার জন্য হারাম নয়। কারণ অর্থদাতা কেবল নিজের ন্যায্য অধিকার পাওয়ার জন্য অর্থ দিয়েছে। কিন্তু গ্রহণকারী এমন অর্থ গ্রহণ করেছে, যার সে কোনো হকদার ছিল না। তাই গুনাহ তারই।”(ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ: ৪/৩০২)
.
পরিশেষে, উপরোক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ইসলামে ঘুষ দেওয়া ও নেওয়া উভয়ই মূলত হারাম এবং কবীরা গুনাহ। তবে একটি ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে—যখন কোনো ব্যক্তি নিজের ন্যায্য ও প্রাপ্য অধিকার আদায় করতে বা নিজের ওপর সংঘটিত জুলুম ও অবিচার থেকে রক্ষা পেতে বাধ্য হয়, এবং সেই অধিকার অর্জন বা জুলুম দূর করার অন্য কোনো বৈধ ও কার্যকর উপায় অবশিষ্ট না থাকে, তখন তার জন্য ঘুষ প্রদান করার অবকাশ থাকতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে বৈধতা কেবল ঘুষ প্রদানকারীর জন্য; ঘুষ গ্রহণকারী কর্মচারীর জন্য তা সর্বাবস্থায় হারামই থেকে যায়। কিন্তু যদি কেউ এমন কোনো সুবিধা, পদ, সুযোগ বা অধিকার অর্জনের উদ্দেশ্যে ঘুষ দেয়, যার সে আদৌ হকদার নয়, অথবা বৈধ বিকল্প থাকা সত্ত্বেও ঘুষের পথ বেছে নেয়, তাহলে তা নিঃসন্দেহে হারাম এবং কবীরা গুনাহ। তাই এ ক্ষেত্রে বৈধতার দাবি কেবল তখনই প্রযোজ্য, যখন (১) উদ্দেশ্য হবে নিজের ন্যায্য অধিকার আদায় বা জুলুম থেকে মুক্তি লাভ এবং (২) এর জন্য অন্য কোনো বৈধ ও কার্যকর উপায় বিদ্যমান থাকবে না।(আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী)।
▬▬▬▬▬▬◖◉◗▬▬▬▬▬▬▬
উপস্থাপনায়: জুয়েল মাহমুদ সালাফি।
সম্পাদনায়: ইব্রাহিম বিন হাসান হাফিজাহুল্লাহ।
অধ্যয়নরত, কিং খালিদ ইউনিভার্সিটি, সৌদি আরব।
Share: