হজ্জ ও উমরাহর তাওয়াফ ও সায়ীর শেষ চক্করে হাজরে আসওয়াদ ও মারওয়ায় পৌঁছে তাকবির ও দোয়া করা কি সুন্নত

ভূমিকা: হজ্জ ও উমরাহর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো তাওয়াফ ও সায়ী। এসব ইবাদতের প্রতিটি ধাপ রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সুন্নাহ অনুযায়ী সম্পাদন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাওয়াফের সময় হাজরে আসওয়াদের বরাবর পৌঁছে তাকবির বলা এবং সাফা-মারওয়ায় পৌঁছে নির্দিষ্ট যিকির, তাহলিল, তাকবির ও দোয়া করা সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত। তবে তাওয়াফের সপ্তম চক্কর শেষে হাজরে আসওয়াদের বরাবর পৌঁছলে এবং সায়ীর সপ্তম চক্কর শেষে মারওয়ায় পৌঁছলে পুনরায় তাকবির ও দোয়া করা হবে কি না—এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে দুটি মত রয়েছে।নিম্নে কুরআন-সুন্নাহর দলিল ও বিজ্ঞ আলেমদের বক্তব্যের আলোকে এ বিষয়ে সঠিক মতটি সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো।
.
◾প্রথম মত: তাওয়াফকারী তাওয়াফের শেষ চক্কর সম্পন্ন করার সময় তাকবির বলবে না। কারণ, শেষ চক্কর শেষে সে হাজরে আসওয়াদের বরাবর পূর্ণাঙ্গভাবে অবস্থান করে না। তাই এ সময় হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করা শরিয়তসম্মত নয়; অনুরূপভাবে এর দিকে ইশারা করে তাকবির বলাও সুন্নত নয়।
.
বিগত শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও উসূলবিদ, আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ, ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২১ হি./২০০১ খ্রি.] বলেছেন:وإذا انتهى إلى الحجر الأسود: انتهى طوافُه قبل أن يحاذيه تمام المحاذاة، وعليه فلا يستلم الحجر الأسود، ولا يكبر أيضا؛ لأن التكبير تابع للاستلام، ولا استلام حينئذ. ولأن التكبير في أول الشوط، وليس في آخر الشوط”যখন সে হাজরে আসওয়াদের কাছে পৌঁছবে, তখন সে পূর্ণাঙ্গভাবে হাজরে আসওয়াদের বরাবর হওয়ার আগেই তার তাওয়াফ শেষ হয়ে যাবে। সুতরাং সে তখন হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করবে না এবং তাকবিরও বলবে না। কারণ, তাকবির বলা হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করার সঙ্গে সম্পর্কিত। আর তখন হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করার সুযোগ নেই। তাছাড়া তাকবির বলা হয় চক্করের শুরুতে, চক্করের শেষে নয়।”(ইমাম ইবনু উসামীন আশ-শারহুল মুমতি‘, আলা জাদিল মুস্তাকনি খণ্ড: ৭; পৃষ্ঠা: ২৪৬)
.
◾দ্বিতীয় মত: তাওয়াফকারী তাওয়াফের শেষ চক্কর সম্পন্ন করে হাজরে আসওয়াদের বরাবর পৌঁছালে তাকবির বলবে। কারণ, শরীরের কোনো অংশ হাজরে আসওয়াদের বরাবর পৌঁছালেও তাকবির বলা যাবে। সম্ভব হলে হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করাও সুন্নত। এ মতটি বহু আলেমের; তাঁদের মধ্যে হানাফি ও শাফেয়ি মাজহাবের একদল আলেম এবং সমসাময়িক আলেম শাইখ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) অন্যতম। এ বিষয়ে বিস্তারিত দেখুন: আল-বাহরুর রায়েক (২/৩৫৫), তুহফাতুল মুহতাজ (৫/১৬৯) প্রভৃতি গ্রন্থ। এ মতের অন্যতম দলিল জাবির (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বর্ণনা: «كُنَّا نَطُوفُ، فَنَمْسَحُ الرُّكْنَ؛ الْفَاتِحَةَ، وَالْخَاتِمَةَ» — “আমরা তাওয়াফ করতাম এবং তাওয়াফের শুরুতে ও শেষে হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করতাম।”(মুসনাদ আহমাদ, হাদিস নং ১৫২৩২)। হাফেজ ইবনু হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) ফাতহুল বারী (৩/৪৮৯)-এ এ বর্ণনাটিকে হাসান বলেছেন।
.
শাইখ আব্দুল কারিম খুযাইর (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন:” كلما حاذاه كبّر، أشار إليه وكبر، وهذا يشمل بداية الطواف، وجميع الأشواط، والنهاية أيضاً إذا فرغ؛ لأنه يشملها قوله: كلما حاذاه، وفي حديث جابر عند أحمد وغيره: “كنا نطوف مع النبي عليه الصلاة والسلام، فنمسح الركن، الفاتحة والخاتمة” يعني في البداية وفي النهاية”যখনই সে হাজরে আসওয়াদের বরাবর হবে, তখন তাকবির বলবে এবং তার দিকে ইশারা করে তাকবির বলবে। এটি তাওয়াফের শুরু, সকল চক্কর এবং তাওয়াফের শেষ সবকিছুকেই অন্তর্ভুক্ত করে। কারণ, যখনই সে এর বরাবর হবে এই কথাটি সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। আর জাবির (রাঃ)-এর বর্ণনায়, যা ইমাম আহমদ ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন, এসেছে: আমরা নবী সা.-এর সঙ্গে তাওয়াফ করতাম এবং হাজরে আসওয়াদকে স্পর্শ করতাম শুরুতে এবং শেষে। অর্থাৎ তাওয়াফের শুরুতে এবং শেষে।”(শারহু কিতাবিল হাজ্জ মিন সহিহ মুসলিম; খণ্ড: ৩; পৃষ্ঠা: ১০।)
.
এমনকি এই মতের ভিত্তিতেই সৌদি আরবের স্থায়ী ফতোয়া কমিটি ফতোয়া দিয়েছে (১১/২২৪)। আরও দেখুন: ইসলাম সওয়াল-জবাব ফাতাওয়া নং ২৬২২৮-এর উত্তর। আর দুটি মতের মধ্যে এটাই (দ্বিতীয়টি) অধিক শক্তিশালী মত।অতএব, তাওয়াফকারীর জন্য তাওয়াফের শেষেও হাজরে আসওয়াদের বরাবর পৌঁছানোর সময় তাকবির বলা সুন্নত।
.
◾তৃতীয় মত: সায়ী সমাপ্ত করার সময় মারওয়ায় কি সাফার মতো তাকবির ও দোয়া করা সুন্নত?
.
উমরাহকারী ও হাজি সাফা ও মারওয়ার মাঝে সায়ী করার সময় সাফা ও মারওয়ায় পৌঁছে তাকবির, তাহলিল, আল্লাহর প্রশংসা ও দোয়া করা সুন্নত। এর দলিল হলো জাবির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত দীর্ঘ হাদিস,যেমনটি ইমাম মুসলিম জাবের (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হজের বর্ণনায় রেওয়ায়েত করেছেন। তিনি (জাবের) বলেন: “অতঃপর তিনি (নবীজি) দরজা দিয়ে সাফার দিকে বের হলেন। যখন তিনি সাফার নিকটবর্তী হলেন, তখন তিলাওয়াত করলেন: (إِنَّ الصَّفَا والْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللهِ) [নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত]। (তিনি বললেন:) আল্লাহ যা দিয়ে শুরু করেছেন, আমিও তা দিয়ে শুরু করছি। অতঃপর তিনি সাফা দিয়ে শুরু করলেন এবং তার ওপর উঠলেন, এমনকি যখন বায়তুল্লাহ দেখতে পেলেন, তখন কিবলামুখী হলেন। এরপর আল্লাহর তাওহীদ ও তাকবীর পাঠ করলেন এবং বললেন: (لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ، أَنْجَزَ وَعْدَهُ، وَنَصَرَ عَبْدَهُ، وَهَزَمَ الْأَحْزَابَ وَحْدَهُ) [আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই। রাজত্ব একমাত্র তাঁরই এবং সমস্ত প্রশংসাও তাঁরই, আর তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান। আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক; তিনি তাঁর ওয়াদা পূর্ণ করেছেন, তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং একাই সমস্ত বাহিনীকে পরাস্ত করেছেন]। অতঃপর এর মাঝে তিনি দোয়া করলেন। বর্ণনাকারী বলেন: তিনি এভাবে তিনবার করলেন। এরপর মারওয়ার দিকে নেমে গেলেন। যখন তাঁর দুই পা উপত্যকার তলদেশে পৌঁছাল, তখন তিনি দ্রুত চললেন (সাঈ করলেন)। আর যখন পা দুটি ওপরের দিকে উঠল, তখন স্বাভাবিকভাবে হাঁটলেন, অবশেষে মারওয়ায় পৌঁছালেন। অতঃপর মারওয়ার ওপরও ঠিক তা-ই করলেন, যা সাফার ওপর করেছিলেন।”(সহীহ মুসলিম হা/১২১৮)
.
এখানে প্রশ্ন হলো—সায়ীর সপ্তম চক্কর শেষে মারওয়ায় পৌঁছানোর পরও কি সাফার মতো তাকবির, তাহলিল ও দোয়া করা সুন্নত?
.
এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে দুটি মত রয়েছে।
◾প্রথম মত: সপ্তম চক্কর শেষে মারওয়ায়ও দাঁড়িয়ে যিকির ও দোয়া করা সুন্নত। এটি জমহুর (অধিকাংশ) আলেমদের মত। তাদের দলিল হলো জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর দীর্ঘ হাদিস, যার বাহ্যিক অর্থ থেকে প্রমাণিত হয় যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মারওয়া পাহাড়েও সাফার অনুরূপ যিকির ও দোয়া করেছেন।তাই সায়ীর সপ্তম চক্কর শেষে মারওয়ায় পৌঁছেও দাঁড়িয়ে তাকবির, তাহলিল ও দোয়া করা সুন্নত।
হাফেজ ইবনু হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন:قال ابن عبد السلام: المروة أفضل من الصفا؛ لأنها تقصد بالذكر والدعاء أربع مرات بخلاف الصفا، فإنما يقصد ثلاثا. قال: وأما البداءة بالصفا فليس بوارد [يعني: لا يقدح في هذا القول]؛ لأنه وسيلة.قلت: وفيه نظر؛ لأن الصفا تُقصد أربعا أيضا، أولها عند البداءة، فكل منهما مقصود بذلك، ويمتاز بالابتداء. وعند التنزّل: يتعادلان”ইবনু আব্দুস সালাম বলেন: মারওয়া, সাফার চেয়ে উত্তম কারণ মারওয়ার দিকে চারবার গিয়ে সেখানে যিকির ও দোয়া করা হয়। পক্ষান্তরে সাফার দিকে তিনবার যাওয়া হয়। তিনি আরও বলেন: সাফা দিয়ে শুরু করার বিষয়টি এই মতের বিরোধী নয় অর্থাৎ এটি এই বক্তব্যকে দুর্বল করে না কারণ সাফা দিয়ে শুরু করাটা একটি মাধ্যম।আমি ইবনু হাজার বলছি: এতে কিছুটা আপত্তি আছে। কারণ সাফার দিকেও আসলে চারবার যাওয়া হয় প্রথমবার শুরু করার সময়ও সাফার দিকে যাওয়া হয়। সুতরাং উভয়টিই এভাবে উদ্দেশ্যস্থল হয়। তবে সাফার একটি অতিরিক্ত বৈশিষ্ট্য হলো, সায়ী সেখান থেকেই শুরু করা হয়। আর যদি বিষয়টিকে সমতার দৃষ্টিতে দেখা হয়, তাহলে উভয়টিই সমান মর্যাদার।”(ফাতহুল বারী: ৩/৫০৩) অতএব, হাফেজ ইবনু হাজার এবং ইজ্জ ইবনু আব্দুস সালামের বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে, সায়ীর সপ্তম চক্কর শেষে মারওয়ায় দাঁড়িয়ে যিকির ও দোয়া করা হবে।
.
ইমাম আল বাজী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:”قوله ويصنع على المروة مثل ذلك: يريد من التكبير والتهليل والدعاء ذلك على حسب ما يفعله على الصفا، ويفعل ذلك كلما وقف على الصفا، وكلما وقف على المروة، حتى يقف على الصفا أربعا، وعلى المروة أربعا”আর তিনি মারওয়ায়ও অনুরূপ করবেন’—তাঁর এ বক্তব্যের অর্থ হলো: সাফায় তিনি যেভাবে তাকবির, তাহলিল ও দোয়া করেন, মারওয়াতেও সেভাবেই করবেন। তিনি যখনই সাফায় অবস্থান করবেন এবং যখনই মারওয়ায় অবস্থান করবেন, তখনই তা করবেন। এভাবে তিনি সাফায় চারবার এবং মারওয়ায় চারবার অবস্থান করবেন।”(আল মুনতাকা শারহুল মুআত্তা: ২/৩০০)
.
শাইখ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: সায়ীর ক্ষেত্রেও একইভাবে মারওয়ায় শেষ চক্করে দুই হাত উঠিয়ে দোয়া করবে।( ইসলাম সওয়াল-জবাব ফাতাওয়া নং-৬১৭৮৪২)
.
শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু মুহাম্মাদ মুখতার শানকিতি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন:فيبتدئ بالصفا وينتهي بالمروة، ويقف على كلٍّ أربعاً، على أصح أقوال العلماء رحمة الله عليهم.وهناك قول أنه إذا فرغ من الشوط الأخير لا يقف على المروة. والذي اختاره جمع من العلماء أنه يقف ويدعو؛ لأن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما ذكر أن النبي صلى الله عليه وسلم صنع على المروة مثل ما صنع على الصفا، حتى انتهى من سعيه، فاختار جمع من العلماء أن يكون وقوفه عليها أربعاً، ويكون ذهابه شوطاً ورجوعه شوطاً”সে সাফা থেকে শুরু করবে এবং মারওয়ায় গিয়ে শেষ করবে। অধিক বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী, সে উভয় স্থানেই চারবার করে দাঁড়াবে। আরেকটি মত হলো, শেষ চক্কর সম্পন্ন করার পর মারওয়ায় আর দাঁড়াবে না। তবে একদল আলেম যে মতটি গ্রহণ করেছেন তা হলো সে মারওয়ায় দাঁড়াবে এবং দোয়া করবে। কারণ জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণনা করেছেন যে, নবী (ﷺ) মারওয়ায়ও সাফায় যা করেছিলেন, অনুরূপ কাজ করেছিলেন এবং এভাবেই তাঁর সায়ী সম্পন্ন করেছিলেন। তাই একদল আলেম মত দিয়েছেন যে, তিনি মারওয়ায়ও চারবার দাঁড়িয়েছিলেন। আর সাফা থেকে মারওয়া যাওয়াকে এক চক্কর এবং মারওয়া থেকে সাফায় ফিরে আসাকে আরেক চক্কর হিসেবে গণ্য করা হবে।”(শারহু যাদিল মুস্তাকনি: ১২/১২২)
.
শাইখ সালেহ বিন ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ)ও এ মতের ফতোয়া দিয়েছেন। আর এটিই অধিক বিশুদ্ধ মত।
.
◾দ্বিতীয় মত: সায়ীর শেষ প্রান্তে তাকবির বলা ও দোয়া করা সুন্নত নয়। কারণ দোয়া করা হয় চক্করের শুরুতে, শেষ প্রান্তে নয়।” এ বিষয়ে জাদিল মুস্তাকনি’র ব্যাখায় বিগত শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও উসূলবিদ, আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ, ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২১ হি./২০০১ খ্রি.] বলেছেন:وبه نعرف أيضًا أن الدعاء على الصفا والمروة يكون في ابتداء الأشواط لا في انتهائها، وأن آخر شوط على المروة ليس فيه دعاء؛ لأنه انتهى السعي، وإنما يكون الدعاء في مقدمة الشوط، كما كان التكبير أيضا في الطواف في مقدمة الشوط. وعليه؛ فإذا انتهى من السعي عند المروة ينصرف، وإذا انتهى من الطواف عند الحجر ينصرف، ولا حاجة إلى التقبيل، أو الاستلام، أو الإشارة”এ থেকে আমরা আরও জানতে পারি যে, সাফা ও মারওয়ায় দোয়া করা হয় চক্করের শুরুতে,চক্কর শেষ হওয়ার সময় নয়।অতএব,মারওয়ায় শেষ চক্কর সম্পন্ন করার পর সেখানে দোয়া করার বিধান নেই; কেননা এর মাধ্যমে সায়ী সমাপ্ত হয়ে গেছে। বরং দোয়া করা হবে চক্করের সূচনায়। অনুরূপভাবে, তাওয়াফের ক্ষেত্রেও তাকবির বলা হয় চক্করের শুরুতে।সুতরাং সায়ী করতে করতে যখন মারওয়ায় পৌঁছে তার সায়ী শেষ হয়ে যাবে, তখন সে সেখান থেকে চলে যাবে। আর তাওয়াফ করতে করতে যখন হাজরে আসওয়াদের কাছে পৌঁছে তার তাওয়াফ শেষ হয়ে যাবে, তখনও সে সেখান থেকে চলে যাবে। তখন হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করা, তা স্পর্শ করা কিংবা এর দিকে ইশারা করার কোনো প্রয়োজন নেই।”(ইবনু উসামীন আশ-শারহুল মুমতি‘, আলা জাদিল মুস্তাকনি খণ্ড: ৭; পৃষ্ঠা: ৩৫২)
.
পরিশেষে, উপরোক্ত আলোচনা ও কুরআন-সুন্নাহর দলিল এবং বিজ্ঞ আলেমদের বক্তব্য পর্যালোচনা করলে প্রতীয়মান হয় যে, তাওয়াফের শেষ চক্কর শেষে হাজরে আসওয়াদের বরাবর পৌঁছলে তাকবির বলা এবং সায়ীর সপ্তম চক্কর শেষে মারওয়ায় পৌঁছে সাফার ন্যায় তাকবির, তাহলিল ও দোয়া করা—উভয় বিষয়েই আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। তবে উল্লিখিত দলিলসমূহের আলোকে অধিক শক্তিশালী মত হলো, তাওয়াফের শেষেও হাজরে আসওয়াদের বরাবর পৌঁছে তাকবির বলা যাবে এবং সায়ীর শেষ চক্কর শেষে মারওয়ায় দাঁড়িয়ে তাকবির, তাহলিল ও দোয়া করা সুন্নত। বিশেষত জাবির (রাঃ)-এর সহীহ হাদিসে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সাফা ও মারওয়ায় অনুরূপ যিকির ও দোয়ার বর্ণনা এবং “তিনি মারওয়ায়ও অনুরূপ করলেন”—এই বক্তব্যের ব্যাপকতার কারণে শেষ চক্করের পরও মারওয়ায় দাঁড়িয়ে যিকির ও দোয়া করার মতটি অধিক শক্তিশালী প্রতীয়মান হয়। তবে এটি এমন একটি ইজতিহাদি মাসআলা, যেখানে নির্ভরযোগ্য আলেমদের মতভেদ রয়েছে; তাই যে ব্যক্তি শেষ চক্করে মারওয়ায় দাঁড়িয়ে দোয়া না করে সায়ী শেষ করে চলে যাবেন, তারও কোনো নিন্দা করা উচিত নয়। মূল কথা হলো, হজ্জ ও উমরাহর আমলগুলো সুন্নাহর অনুসরণে করা এবং মতভেদপূর্ণ বিষয়ে পারস্পরিক সম্মান ও ইনসাফ বজায় রাখা। (আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী)।
▬▬▬▬●◈●▬▬▬▬▬
উপস্থাপনায়: জুয়েল মাহমুদ সালাফি।
Share: