প্রশ্ন: স্ত্রীকে স্বামীর প্রতি ধৈর্যশীল ও অনুগত হতে বলা হয়েছে—এর অর্থ কি স্বামী তার স্ত্রীর ওপর যুলুম করার অধিকার রাখে?
▬▬▬▬▬▬▬▬◖◉◗▬▬▬▬▬▬▬▬
ভূমিকা: পরম করুণাময়,অসীম দয়ালু মহান আল্লাহর নামে শুরু করছি। যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহর জন্য এবং অগণিত দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর প্রতি। অতঃপর ইসলাম দাম্পত্য জীবনকে পারস্পরিক অধিকার, দায়িত্ব, ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত করেছে। আল্লাহ তা‘আলা স্বামীকে পরিবারের দায়িত্বশীল করেছেন এবং স্ত্রীকে স্বামীর বৈধ বিষয়ে আনুগত্যশীল হতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন:ٱلرِّجَالُ قَوَّٲمُونَ عَلَى ٱلنِّسَآءِ بِمَا فَضَّلَ ٱللَّهُ بَعْضَهُمْ عَلَىٰ بَعْضٍ وَبِمَآ أَنفَقُواْ مِنْ أَمْوَٲلِهِمْۚ فَٱلصَّـٰلِحَـٰتُ قَـٰنِتَـٰتٌ حَـٰفِظَـٰتٌ لِّلْغَيْبِ بِمَا حَفِظَ ٱللَّهُۚ “পুরুষগণ নারীদের উপর কর্তৃত্বশীল এ কারণে যে, আল্লাহ তাদের এককে অন্যের উপর মর্যাদা প্রদান করেছেন, আর এজন্য যে, পুরুষেরা স্বীয় ধন-সম্পদ হতে ব্যয় করে। ফলে পুণ্যবান স্ত্রীরা (আল্লাহ ও স্বামীর প্রতি) অনুগতা থাকে এবং পুরুষের অনুপস্থিতিতে তারা তা (অর্থাৎ তাদের সতীত্ব ও স্বামীর সম্পদ) সংরক্ষণ করে যা আল্লাহ সংরক্ষণ করতে আদেশ দিয়েছেন।”(সূরা আন-নিসা: ৩৪)। অনুরূপভাবে রাসূলুল্লাহ ﷺ স্বামীর বৈধ অধিকার আদায়, তার প্রতি আনুগত্য এবং দাম্পত্য জীবনে ধৈর্যশীল থাকার প্রতি স্ত্রীদের উৎসাহিত করেছেন। আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন,الْمَرْأَةُ إِذَا صَلَّتْ خَمْسَهَا وَصَامَتْ شَهْرَهَا وَأَحْصَنَتْ فَرْجَهَا وَأَطَاعَتْ بَعْلَهَا فَلْتَدْخُلْ مِنْ أَيِّ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ شَاءَتْ”কোন মহিলা যদি পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করে, রামাযানের সিয়াম পালন করে, গুপ্তাঙ্গের হিফাযত করে, স্বামীর একান্ত অনুগত হয়। তার জন্য জান্নাতের যে কোন দরজা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশের সুযোগ থাকবে’ (হিইইয়াতুল আওলিয়া, ৬/৩০৮ পৃ.; মিশকাত, হা/৩২৫৪)। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘আল্লাহ ব্যতীত যদি অন্য কাউকে আমি সিজদা করার নির্দেশ দিতাম, তাহলে স্ত্রীকে তার স্বামীকে সিজদা করার অনুমতি দিতাম’ (তিরমিযী হা/১১৫৯)। এতে প্রতীয়মান হয় যে, স্বামীর বৈধ নির্দেশ মান্য করা এবং দাম্পত্য জীবনে ধৈর্য, সহযোগিতা ও সংসার রক্ষায় সচেষ্ট থাকা স্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কিন্তু এর অর্থ কখনোই এই নয় যে, স্বামী স্ত্রীর ওপর যুলুম, অধিকারহরণ, অপমান কিংবা দুর্ব্যবহার করার বৈধতা লাভ করবে। বরং শরী‘আত যেমন স্ত্রীকে স্বামীর বৈধ অধিকার আদায়ের নির্দেশ দিয়েছে, তেমনি স্বামীকেও স্ত্রীর সঙ্গে সদ্ভাবে বসবাস, তার অধিকার যথাযথভাবে আদায় এবং তার প্রতি কোমল ও সম্মানজনক আচরণের কঠোর নির্দেশ দিয়েছে।আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন:وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ فَإِنْ كَرِهْتُمُوهُنَّ فَعَسَى أَنْ تَكْرَهُوا شَيْئًا وَيَجْعَلَ اللَّهُ فِيهِ خَيْرًا كَثِيرًا “আর তোমরা তাদের সাথে সদ্ভাবে বসবাস করো। অতপর যদি তোমরা তাদেরকে অপছন্দ করো, তবে এমন হতে পারে যে, তোমরা কোনো জিনিস অপছন্দ করছ অথচ আল্লাহ তাতে প্রচুর কল্যাণ রেখেছেন।” (সূরা নিসা: ১৯)
.
উক্ত আয়াতের তাফসিরে হাফিজ ইবনু কাসির (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন:وقوله: ( وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ )، أي: طيِّبوا أقوالكم لهن، وحسِّنوا أفعالكم، وهيئاتكم بحسب قدرتكم، كما تحب ذلك منها، فافعل أنت بها مثله، كما قال تعالى: ( وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ )، وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ( خَيْرُكُمْ خَيْرُكُمْ لِأَهْلِهِ، وَأَنَا خَيْرُكُمْ لِأَهْلِي )، وكان من أخلاقه صلى الله عليه وسلم أنه جميل العشرة؛ دائم البشر، يداعب أهله، ويتلطف بهم، ويوسعهم نفقته، ويضاحك نساءه আল্লাহর বানী:”তোমরা তাদের (স্ত্রীদের) সঙ্গে সদ্ভাবে জীবনযাপন করো’—এর অর্থ হলো, তাদের সঙ্গে উত্তম কথা বলো, তোমাদের সাধ্য অনুযায়ী তোমাদের কাজকর্ম ও বাহ্যিক অবয়বকে সুন্দর রাখো—যেভাবে তুমি তোমার স্ত্রীর কাছ থেকে তা কামনা করো; তুমিও তার সঙ্গে অনুরূপ আচরণ করো। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন:”আর নারীদের জন্যও ন্যায়সংগত অধিকার রয়েছে, যেমন তাদের ওপর ন্যায়সংগত দায়িত্ব রয়েছে।রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:”তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি, যে তার পরিবারের কাছে সর্বোত্তম; আর আমি আমার পরিবারের কাছে তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম।” রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল—তিনি পরিবারের সঙ্গে অত্যন্ত সুন্দরভাবে জীবনযাপন করতেন, সর্বদা প্রফুল্ল থাকতেন, পরিবারের সঙ্গে রসিকতা করতেন, তাদের প্রতি কোমল ও স্নেহশীল আচরণ করতেন, তাদের জন্য উদারভাবে ব্যয় করতেন এবং তাঁর স্ত্রীদের সঙ্গে হাসি-আনন্দে সময় কাটাতেন।”—তাফসির ইবনু কাসির, খণ্ড: ২; পৃষ্ঠা: ২৪২)
.
আর স্ত্রীর ওপর যুলুম করা স্বামীকে আখিরাতে কঠিন জবাবদিহি ও শাস্তির সম্মুখীন করতে পারে। তাই কোনো স্বামী যদি স্ত্রীর প্রতি অন্যায়-অবিচার করে থাকে, তার কোনো অধিকার নষ্ট করে থাকে কিংবা তাকে কষ্ট দিয়ে থাকে, তাহলে তার উচিত দেরি না করে স্ত্রীর কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাওয়া, তার অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া এবং সম্ভব হলে বিষয়টি মীমাংসা করে নেওয়া। কেননা, দুনিয়াতে মানুষের অধিকার নষ্ট করে পার পাওয়া গেলেও আখিরাতে তা নেক আমল দিয়ে পরিশোধ করতে হবে। এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ কঠোরভাবে সতর্ক করে বলেছেন:আবু হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:مَنْ كَانَتْ عِنْدَهُ مَظْلِمَةٌ لِأَخِيهِ فَلْيَتَحَلَّلْهُ مِنْهَا، فَإِنَّهُ لَيْسَ ثَمَّ دِينَارٌ وَلاَ دِرْهَمٌ، مِنْ قَبْلِ أَنْ يُؤْخَذَ لِأَخِيهِ مِنْ حَسَنَاتِهِ، فَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ حَسَنَاتٌ أُخِذَ مِنْ سَيِّئَاتِ أَخِيهِ فَطُرِحَتْ عَلَيْهِ “কারো কাছে তার ভাইয়ের কোনো অধিকার বা যুলুম বাকি থাকলে সে যেন আজই তার কাছ থেকে তা মাফ করিয়ে নেয়, সেদিন আসার আগে যেদিন কোনো দিনার বা দিরহাম থাকবে না; বরং সেদিন তার (যুলুমকারী) নেক আমল থেকে (পাওনাদারের পাওনা পরিমাণ) কেটে নেওয়া হবে। আর যদি তার কোনো নেক আমল না থাকে, তবে মাজলুম ভাইয়ের পাপ থেকে কিছু অংশ নিয়ে তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে।”(সহিহ বুখারি: ৬৫৩৪) অতএব, স্ত্রীর ওপর যুলুমকারী স্বামীও এই কঠিন সতর্কবার্তার অন্তর্ভুক্ত। সে যদি স্ত্রীর কোনো অধিকার নষ্ট করে থাকে বা তার ওপর অন্যায়-অবিচার করে থাকে, তাহলে তার উচিত দুনিয়াতেই স্ত্রীর কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া এবং তার অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া—কারণ আখিরাতে প্রতিকার হবে নেক আমল দিয়ে, দুনিয়ার সম্পদ দিয়ে নয়।
.
বিগত শতাব্দীর সৌদি আরবের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ শাইখুল ইসলাম ইমাম ‘আব্দুল ‘আযীয বিন ‘আব্দুল্লাহ বিন বায আন-নাজদী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২০ হি./১৯৯৯ খ্রি.] বলেছেন:
فالمؤمن يعتني بزوجته ويكرمها، ويحسن عشرتها ولا يظلمها، هذا هو الواجب عليه، ألا يظلمها لا في نفسها، ولا في مالها، ولا في عرضها، فإذا ظلمها، خَصْمه الله، خصم الظالمين الرَّب عز وجل، هو الذي يجازيهم بما يستحقون، كما قال عز وجل: ( وَمَنْ يَظْلِمْ مِنْكُمْ نُذِقْهُ عَذَابًا كَبِيرًا )، قال سبحانه: ( وَالظَّالِمُونَ مَا لَهُمْ مِنْ وَلِيٍّ وَلا نَصِيرٍ )، وقال النبي صلى الله عليه وسلم: يقول الله عز وجل: ( ثلاثة أنا خصمهم يوم القيامة، رجل أعطى بي ثم غدر- يعني عاهد ثم غدر- ورجل باع حرا فأكل ثمنه، ورجل استأجر أجيرا فاستوفى منه، ولم يعطه حقه )، خرجه البخاري في الصحيح، كما قد يقع مما مضى من بعض الناس يسرق بنات الناس، أو أولاد الناس، ويبيعهم على أنهم عبيد وهو كاذب، ورجل استأجر أجيرا ولم يعطه حقه، وهكذا يكون خصما لمن ظلم امرأته بغير حق، أو ظلم عبده بغير حق، أو خادمه بغير حق، أو ولده بغير حق، أو جيرانه بغير حق، أو غيرهم من المسلمين، فالله خصمه يوم القيامة، ومن كان الله خصمه فهو مخصوم، فالواجب على كل مسلم أن يحذر ظلم زوجته، أو ظلم أهل بيته من أولاد، ذكور أو إناث، من أخوات، من خادمات ومن غير ذلك… “
“অতএব মুমিন তার স্ত্রীর প্রতি যত্নশীল হবে, তাকে সম্মান করবে, তার সঙ্গে সুন্দর ও সদাচরণপূর্ণ দাম্পত্য জীবনযাপন করবে এবং তার প্রতি কোনো জুলুম করবে না। এটাই তার ওপর আবশ্যক। সে তার স্ত্রীর নিজের ওপর, তার সম্পদের ওপর কিংবা তার সম্মানের ওপর কোনো জুলুম করবে না। সে যদি তার প্রতি জুলুম করে, তাহলে আল্লাহ তাআলা তার বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ হবেন। জালিমদের প্রতিপক্ষ হলেন মহান রব; তিনিই তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের উপযুক্ত প্রতিফল দেবেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তোমাদের মধ্যে যে জুলুম করবে, আমি তাকে মহাশাস্তির স্বাদ আস্বাদন করাব।’ (সূরা আল-ফুরকান: ১৯) তিনি আরও বলেন, ‘আর জালিমদের কোনো অভিভাবক নেই এবং কোনো সাহায্যকারীও নেই।’ (সূরা আশ-শূরা: ৮) নবী ﷺ থেকে বর্ণিত, আল্লাহ তাআলা বলেন: ‘কিয়ামতের দিন আমি তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ হব: এমন ব্যক্তি, যে আমার নামে অঙ্গীকার করে অতঃপর তা ভঙ্গ করে; এমন ব্যক্তি, যে কোনো স্বাধীন মানুষকে বিক্রি করে তার মূল্য ভক্ষণ করে; এবং এমন ব্যক্তি, যে কোনো শ্রমিককে নিয়োগ করে তার কাছ থেকে পূর্ণ কাজ আদায় করে নেয়, কিন্তু তাকে তার প্রাপ্য পারিশ্রমিক দেয় না।’—ইমাম বুখারি (রাহিমাহুল্লাহ) সহিহ বুখারিতে এটি বর্ণনা করেছেন। অতীতেও এমন কিছু লোক ছিল, যারা মানুষের ছেলে-মেয়েদের চুরি করে তাদেরকে দাস হিসেবে বিক্রি করত, অথচ তারা ছিল স্বাধীন মানুষ—এটি ছিল তাদের মিথ্যা ও প্রতারণা। অনুরূপভাবে, যে ব্যক্তি কোনো শ্রমিককে নিয়োগ করে তার কাছ থেকে পূর্ণ কাজ আদায় করে নেয়, কিন্তু তার প্রাপ্য পারিশ্রমিক দেয় না, সেও এই হুমকির অন্তর্ভুক্ত। একইভাবে, যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে তার স্ত্রী, দাস, খাদেম, সন্তান—ছেলে হোক বা মেয়ে—বোন, প্রতিবেশী কিংবা অন্য কোনো মুসলিমের ওপর জুলুম করে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তার বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ হবেন। আর যার বিরুদ্ধে আল্লাহ তাআলা প্রতিপক্ষ হন, সে অবশ্যই পরাজিত। অতএব, প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্য হলো—নিজের স্ত্রী কিংবা পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ছেলে-মেয়ে, বোন, খাদেম অথবা অন্য কারও ওপর জুলুম করা থেকে সতর্ক থাকা।” (ইবনু বায; ফাতাওয়া নূরুন আলাদ-দারব, ২১/১৯৭-১৯৯)
.
পরিশেষে, উপরোক্ত আলোচনা থেকে কথা পরিষ্কার যে,স্ত্রীকে স্বামীর বৈধ বিষয়ে আনুগত্যশীল ও দাম্পত্য জীবনে ধৈর্যশীল হতে বলা হয়েছে—এর অর্থ কখনোই স্বামীকে স্ত্রীর ওপর যুলুম, অধিকারহরণ বা দুর্ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া নয়। বরং ইসলাম স্বামী-স্ত্রী উভয়কেই পরস্পরের অধিকার আদায়, সদাচরণ ও ন্যায়বিচারের নির্দেশ দিয়েছে। স্ত্রী যেমন স্বামীর বৈধ অধিকার আদায়ে দায়িত্বশীল, তেমনি স্বামীও স্ত্রীর প্রতি সদ্ব্যবহার, সম্মান, ভরণ-পোষণ ও তার অধিকার সংরক্ষণে দায়িত্বশীল। অতএব, স্বামীর কর্তৃত্ব দায়িত্বের নাম, যুলুমের লাইসেন্স নয়; আর স্ত্রীর ধৈর্য জুলুম মেনে নেওয়ার বাধ্যবাধকতা নয়। যে স্বামী স্ত্রীর ওপর অন্যায়-অবিচার করে, তাকে দুনিয়াতেই তওবা করে ক্ষমা চাওয়া, অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া এবং সম্পর্ক সংশোধনের চেষ্টা করা উচিত; কারণ মানুষের অধিকার নষ্ট করার বিষয়টি আখিরাতে কঠিন জবাবদিহির কারণ হবে। আরও বিস্তারিত জানতে দেখুন ইসলামি সওয়াল-জবাব ফাতাওয়া নং-৫৬৪৭০১)। (আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী)।
▬▬▬▬▬◖◉◗▬▬▬▬▬
উপস্থাপনায়: জুয়েল মাহমুদ সালাফি।