সন্তানের ব্যক্তিত্ব ও মর্যাদা রক্ষার ২১টি মূলনীতি

আপনার সন্তানকে বলুন​ প্রিয় সন্তান,পৃথিবীতে মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার ব্যক্তিত্ব এবং আত্মমর্যাদা। কিছু আচরণ মানুষের সম্মান বাড়িয়ে দেয়, আবার কিছু কাজ অজান্তেই তাকে অন্যের চোখে ছোট করে ফেলে। তুমি যেন মাথা উঁচু করে মর্যাদার সাথে বড় হতে পারো, সেজন্য এই ২১টি বিষয় সবসময় মনে রেখো:
.
(​১). হাতের ছোঁয়া বা ধাক্কাধাক্কি করে দুষ্টামি বা কৌতুক এড়িয়ে চলবে: কারন,এটি তোমার ভাবমূর্তি নষ্ট করবে।শরীয়ত সম্মত কৌতুক বা রসিকতা কেবল কথার মাধ্যমে হওয়া উচিত, যদি প্রয়োজন হয়।
.
(​২). পোশাক দামি হওয়া জরুরি নয়: তবে তা অবশ্যই পরিষ্কার হতে হবে। তোমার শরীরের ঘ্রাণ যেন ভালো হয় এবং শ্বাস যেন সতেজ থাকে, বিশেষ করে মানুষের সাথে কথা বলা বা কাছে যাওয়ার সময়।
.
(​৩). অযোগ্য ব্যক্তির সাথে তর্কে জড়াবে না: যদি জড়াও, তবে তুমি নিজেকে তার স্তরে নামিয়ে নিলে। তাকে উপেক্ষা করা এবং নিজেকে দূরে রেখে সম্মানিত রাখাই হলো প্রকৃত আভিজাত্য।
.
(​৪). দুর্বলের সাথে বিবাদ নয়: তুমি পুরুষ হলে কোনো নারীর সাথে ঝগড়া করবে না, আর তুমি নারী হলে কোনো ছোট শিশুর সাথে বিবাদে জড়াবে না। এটি ব্যক্তিত্বকে দুর্বল করে দেয়।
.
(​৫). নিজের তুলনা অন্যের সাথে করবে না: যার ভেতরটা তৃপ্ত, সে কখনো তুলনা করে বিচলিত হয় না এবং নিজের মধ্যে হীনম্মন্যতা অনুভব করে না।
.
​(৬). কারো কথায় বাধা দেবে না: একান্ত প্রয়োজন না হলে কাউকে কথা বলা অবস্থায় থামাবে না। খুব প্রয়োজনে অনুমতি নিয়ে কথা বলবে। এটি শিষ্টাচার ও গাম্ভীর্যের লক্ষণ।
.
(​৭). না চাইলে উপদেশ দেবে না: কেউ পরামর্শ না চাইলে বা সে গ্রহণ করবে এমনটি বুঝতে না পারলে তাকে উপদেশ দিতে যেও না। অনেক সময় মানুষ মুখে না বললেও চোখ দিয়ে উপদেশ প্রত্যাখ্যান করে।
.
(​৮). অযাচিত প্রশ্নের উত্তর দিও না: যে প্রশ্ন তোমাকে করা হয়নি, তার উত্তর দিতে যেও না। অসময়ে কথা বলা তোমার গাম্ভীর্য কমিয়ে দেয়।
.
(​৯). মৌনতা অবলম্বন করো: যদি তোমার কথা নীরবতার চেয়ে সুন্দর না হয়, তবে চুপ থাকো। নীরব ব্যক্তি জ্ঞানী, আর শ্রোতা হলো শিক্ষার্থী। যে বেশি নীরব থাকে, সে বেশি শিখতে পারে।
.
(​১০). অতিরিক্ত অভিযোগ করো না: নিজের অভাব বা দুশ্চিন্তা নিয়ে মানুষের কাছে বেশি অভিযোগ করবে না। মানুষ অভিযোগকারীকে এড়িয়ে চলে। তাই অন্যের ওপর বোঝা হয়ে নিজের সম্মান হারিও না।
.
(​১১). প্রতিশ্রুতি রক্ষা করো: ওয়াদা ভঙ্গ করবে না। কথা রক্ষা করা হলো মনুষ্যত্বের আয়না। যে কথা দিয়ে কথা রাখে না, মানুষের কাছে তার কোনো মূল্য নেই।
.
(​১২). প্রকাশ্য মজলিসে ঘুমানো এড়িয়ে চলো: মানুষের সামনে জনসমক্ষে ঘুমাবে না। যদি খুব ক্লান্তিতে ঘুমাতেই হয়, তবে উপুড় হয়ে শোবে না—এটি একটি অশোভন ভঙ্গি।
.
(​১৩). পরনিন্দা (গিবত) করো না: কারো অনুপস্থিতিতে তার সমালোচনা করো না। তবেই মানুষ তোমাকে বিশ্বাস করবে এবং তোমার কাছে নিরাপদ বোধ করবে।
.
(​১৪). কারো ওপর নিজেকে চাপিয়ে দিও না: যে তোমাকে পাশে চায়, তার পাশে থাকো। আর যে তোমাকে চায় না, তার থেকে নিজের সম্মান নিয়ে নীরবে সরে আসো। কারো পিছু লেগে থাকবে না।
.
(​১৫). ব্যক্তিত্বহীন অনুসারী হয়ো না: অন্ধভাবে কাউকে অনুকরণ করবে না। কেবল অন্যদের খুশি করার জন্য কারো সমালোচনা বা আক্রমণ করবে না। নিজের বিবেক ও বুদ্ধি ব্যবহার করো।
.
(​১৬). অন্যের শত্রুকে নিজের শত্রু ভেবো না: তোমার নিজস্ব সম্পর্ক বজায় রাখো। অন্য কেউ কারো সাথে শত্রুতা করছে বলেই তোমাকে তার সাথে বিবাদ করতে হবে—এমন কোনো কথা নেই।
.
(​১৭). প্রশংসার আশা না করে নিজের কাজ করো: মনে রেখো, যারা কেবল মানুষের কাছে গল্প করে তারা নিজেদের দায়িত্বের অমর্যাদা করে। যারা নিঃশব্দে ভালো কাজ করে, সৃষ্টিকর্তা তাদের কখনোই ভোলেন না।
.
(​১৮). ক্ষমা করতে শেখো: কেউ যদি আন্তরিকভাবে ক্ষমা চায়, তবে তাকে ক্ষমা করে দাও। বড় মনের মানুষরাই ক্ষমা করতে জানে।
.
(​১৯). স্থান-কাল-পাত্র বিবেচনা করো: শোকাহত বাড়িতে হাসাহাসি করবে না, আবার আনন্দের অনুষ্ঠানে বা ভ্রমণে বিষণ্ণ হয়ে থাকবে না। সময়ের মর্যাদা বোঝাই হলো ব্যক্তিত্ব।
.
(​২০). ভুল না করলে ক্ষমা চাইবে না: অকারণে ক্ষমা চাওয়া নিজের গুরুত্ব কমিয়ে দেয়। আর যদি ভুল করোই, তবে তা যেন মূর্খতাসুলভ বা অভদ্রোচিত না হয়, যাতে ক্ষমা চাওয়ার সময় নিজেকে লজ্জিত হতে না হয়।
.
(​২১). অযথা ধার বা কর্জ করা থেকে বিরত থাকো: মানুষ তাদের ওপর বিরক্ত হয় যারা বারবার টাকা বা ছোটখাটো জিনিস (যেমন: চার্জার, কাপড় ইত্যাদি) ধার চায়। কেবল খুব ঘনিষ্ঠ ও উদার মনের মানুষ ছাড়া কারো কাছে হাত পাতবে না।
.
পরিশেষে, মনে রেখো বাবা/মা, শিক্ষা তোমাকে অনেক উপরে নিয়ে যাবে ঠিকই, কিন্তু তোমার সুন্দর চরিত্র ও মার্জিত আচরণই তোমাকে মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে দেবে। (আরবি থেকে অনূদিত এবং কিছুটা পরিমার্জিত। আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী)
Share: