মুসলিমদের জন্য বিভিন্ন দলের খেলোয়াড়দের জার্সি ক্রয়- বিক্রয় এবং পরিধানের বিধান

প্রশ্ন: মুসলিমদের জন্য ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সহ বিভিন্ন দলের খেলোয়াড়দের জার্সি ক্রয়- বিক্রয় এবং পরিধানের বিধান কি? একটি গবেষণা ভিত্তিক পর্যালোচনা।
▬▬▬▬▬▬▬▬◖◉◗▬▬▬▬▬▬▬▬
ভূমিকা: পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ’র নামে শুরু করছি। যাবতীয় প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক মহান আল্লাহ’র জন্য। অগণিত দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রতি। অতঃপর মুসলিমদের জন্য অমুসলিমদের জার্সি পরিধান সংক্রান্ত বিষয়টি আমরা কয়েকটি পয়েন্টে উল্লেখ করার চেষ্টা করব।
.
প্রথমত: আমাদের এই যুগে ফুটবলকে কেন্দ্র করে মানুষের—এমনকি অনেক মুসলমানের মধ্যেও—যে মাত্রাতিরিক্ত আসক্তি, খেলোয়াড়দের প্রতি যে অস্বাভাবিক মোহ এবং বিভিন্ন ক্লাবের প্রতি যে অন্ধ সমর্থন ও ভক্তি গড়ে উঠেছে, তা কোনো বিবেকবান মানুষের কাছেই অজানা নয়। খেলোয়াড়দের ছবি সর্বত্র প্রদর্শন করা, তাদের নামে নামকরণ করা, তাদের জার্সি ও নম্বরসংবলিত পোশাক পরিধান করা, এমনকি তাদের চালচলন, খেলার ধরন ও ব্যক্তিগত আচরণ পর্যন্ত অনুকরণ করা—এসবই এই আসক্তি ও মোহের সুস্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ।ফুটবলের এ বাস্তবতা, এর নানামুখী কুফল এবং শরয়ি দৃষ্টিকোণ সম্পর্কে শাইখ যিয়াব আল-গামদি (হাফিজাহুল্লাহ) তাঁর
“হাকিকাতু কুরুতিল কদম” (ফুটবলের বাস্তবতা) নামক গ্রন্থে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তিনি সেখানে এই খেলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৪১টি নিষিদ্ধ ও আপত্তিকর বিষয় প্রমাণসহ উল্লেখ করেছেন। অতএব, যারা ফুটবলের প্রকৃত বাস্তবতা ও এর বহুবিধ নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সম্যক ধারণা অর্জন করতে চান, তাদের জন্য উক্ত গ্রন্থটি অধ্যয়ন করা বিশেষভাবে উপকারী হবে।
.
দ্বিতীয়ত: প্রশ্নে যা উল্লেখ করা হয়েছে, তা মূলত পূর্বে আলোচিত বাস্তবতারই একটি সুস্পষ্ট প্রতিফলন। এটি প্রমাণ করে যে, বহু মুসলিম অন্যান্য নির্বোধ ও গাফেল মানুষের অনুসরণে এ খেলাধুলার সঙ্গে কতটা গভীরভাবে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে এটি খেলোয়াড় ও তাদের ক্লাবগুলোর প্রতি অন্ধ অনুরাগ ও অতিরঞ্জিত ভক্তিরও বহিঃপ্রকাশ। অথচ তারা এ বিষয়টি উপেক্ষা করে যে, এসব খেলোয়াড়ের অনেকেই প্রকাশ্যে শরিয়তবিরোধী কাজ করে, মানুষের সামনে নিজেদের সতর (আবৃত রাখার আবশ্যক অঙ্গ) উন্মুক্ত করে এবং নানাবিধ পাপাচার ও অশ্লীলতায় লিপ্ত থাকে। তাদের ব্যক্তিগত জীবনের অনৈতিকতা ও অসচ্চরিত্রতার সংবাদ সর্বত্র প্রচারিত হলেও অনেকে সেদিকে কোনো গুরুত্ব দেয় না। এমনকি তাদের মধ্যে কেউ কেউ মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও, এ বিষয়টিকেও তারা গুরুত্বহীন মনে করে উপেক্ষা করে।
.
তৃতীয়ত: ইসলামে একজন মুমিনের পরিচয়, ভালোবাসা ও আনুগত্য কেবল আল্লাহ, তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং বিশ্বাসীদের প্রতি নিবদ্ধ থাকা আবশ্যক। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্যি, ফুটবল বিশ্বকাপ বা বিভিন্ন লিগ উপলক্ষে অনেক মুসলিমকেই অমুসলিম খেলোয়াড়, দল কিংবা ক্লাবের জার্সি পরিধান করতে দেখা যায়—যা পরোক্ষভাবে তাদের প্রতি অন্ধভক্তি, ভালোবাসা ও আনুগত্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। এসব জার্সিতে থাকা নির্দিষ্ট লোগো বা প্রিয় খেলোয়াড়ের নাম অনেক সময় ব্যক্তিপূজা ও অতি-ভক্তির রূপ নেয়, যা একজন মুসলিমের নিজস্ব ধর্মীয় মূল্যবোধ ও আদর্শকে ম্লান করে দেয়। তাই ওলামায়ে কেরামের গবেষণালব্ধ ফতোয়া অনুযায়ী, যে পোশাক কাফের বা অমুসলিম সংস্কৃতির প্রতি অনুরাগ সৃষ্টি করে এবং ইসলামী পরিচয়ের পরিপন্থী, তা পরিধান করা জায়েজ নয়; বরং একজন সচেতন মুসলিমের উচিত এমন প্রতীক ও চিহ্ন থেকে দূরে থেকে নিজের পোশাক, আচরণ ও ভালোবাসাকে ইসলামের শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা। আহালুল আলেমগন এসব বিষয়ে গবেষণা করে বেশ কয়েকটি ফাতওয়া দিয়েছেন। আমরা এখানে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ফাতওয়া পেশ করছি।
.
সৌদি আরবের ‘ইলমী গবেষণা ও ফাতাওয়া প্রদানের স্থায়ী কমিটির (আল-লাজনাতুদ দাইমাহ লিল বুহূসিল ‘ইলমিয়্যাহ ওয়াল ইফতা) ‘আলিমগণকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: অমুসলিম কাফিরদের বিশেষ প্রতীকযুক্ত খেলাধুলার পোশাক যেমন ইতালি, জার্মানি বা অ্যামেরিকার প্রতীক সংবলিত জার্সি অথবা যেগুলোতে কিছু অমুসলিম খেলোয়াড়ের নাম লেখা থাকে, তা পরিধানের হুকুম কী?
জবাবে তারা বলেছেন:
الملابس التي تحمل شعارات الكفار فيها تفصيل كما يلي :
1. إن كانت هذه الشعارات ترمز إلى ديانات الكفار كالصليب ، ونحوه : ففي هذه الحالة لا يجوز استيراد هذه الملابس ، ولا بيعها ، ولا لبسها .
2. إن كانت هذه الشعارات ترمز إلى تعظيم أحدٍ من الكفار ، بوضع صورته ، أو كتابة اسمه ، ونحو ذلك : فهي أيضاً حرام ، كما سبق .
3. إذا كانت هذه الشعارات لا ترمز إلى عبادة ، ولا تعظيم شخص ، وإنما هي علامات تجارية مباحة ، وهي ما يسمى بـ ” الماركات ” : فلا بأس بها .
الشيخ عبد العزيز بن باز ، الشيخ عبد الله بن غديان ، الشيخ صالح الفوزان ، الشيخ عبد العزيز آل الشيخ ، الشيخ بكر أبو زيد
“কাফিরদের প্রতীক বহনকারী পোশাকের ক্ষেত্রে বিস্তারিত হুকুম নিম্নরূপ:
১.যদি এসব প্রতীক অমুসলিমদের কোনো ধর্মীয় প্রতীক হয়, যেমন ক্রুশ (খ্রিষ্টানদের ধর্মীয় প্রতীক) বা এ জাতীয় কিছুর প্রতীক হয়; তাহলে এমন পোশাক আমদানি করা, বিক্রি করা এবং পরিধান করা—সবই না-জায়েজ।
.
২. যদি এসব প্রতীক কোনো অমুসলিম ব্যক্তিকে সম্মান ও মহিমান্বিত করার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়; যেমন তার ছবি, নাম বা অনুরূপ কিছু সংযুক্ত করা হয়। তাহলে এটিও হারাম,যেমনটি আগে বলা হয়েছে।
.
৩. তবে যদি এসব প্রতীক কোনো ইবাদত বা ব্যক্তি বিশেষকে ভক্তি প্রদর্শনের জন্য না হয়ে, বরং সাধারণ ব্যবসায়িক চিহ্ন অর্থাৎ ব্র্যান্ড বা ট্রেডমার্ক হয়,তাহলে তাতে কোনো অসুবিধা নেই।”(ফতোয়াটিতে স্বাক্ষর করেছেন সৌদি আরবের গবেষণা ও ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির বিশিষ্ট আলেমবৃন্দ—সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি,ইমাম আব্দুল আযীয ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ),পরবর্তী গ্র্যান্ড মুফতি,শাইখ আব্দুল আযীয আলে শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) বর্তমান গ্র্যান্ড মুফতি,শাইখ সালিহ বিন ফাওযান আল ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ) এবং শাইখ বকর আবু যায়েদ (রাহিমাহুল্লাহ)।[ফাতাওয়া লাজনাহ দায়িমাহ; খণ্ড: ২৪; পৃষ্ঠা: ২৪-২৫]
.
সৌদি আরবের ইমাম মুহাম্মাদ বিন সা‘ঊদ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অনুষদ সদস্য ও অধ্যাপক,আকিদা ও ফিকহের প্রাজ্ঞ পণ্ডিত, আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ ‘আব্দুর রহমান বিন নাসির আল-বাররাক (হাফিযাহুল্লাহ) [জন্ম: ১৩৫২ হি./১৯৩৩ খ্রি.]-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল প্রশ্ন:কোনো অমুসলিম খেলোয়াড়কে তার ধর্মের কারণে নয়, বরং তার খেলার দক্ষতার কারণে ভালোবাসার বিধান কী? এবং কাফেরদের ধর্মীয় প্রতীক বা ক্রুশবিহীন বিদেশি ক্লাবের নাম বা লোগো যুক্ত খেলাধুলার পোশাক (জার্সি) পরিধান করার বিধান কী?
এই প্রশ্নের উত্তরে শাইখ (হাফিজাহুল্লাহ) বিস্তারিত আলোচনা শেষে বলেন:
فعُلِم مما تقدم أنّه لا يجوز الإعجاب باللاعب الكافر ومحبته لمهارته في اللعب، وكذلك لا يجوز لبس الملابس الرياضية التي عليها أسماء وشعارات لأندية البلدان الكافرة، ولو كانت خالية من الصلبان وغيرها من شعاراتهم الدّينية؛ لأن لبس هذه الملابس يتضمن قدرًا مِن الولاء والإعجاب بأصحاب تلك الأندية.
والواجب على المسلم أن يرتفع بما أكرمه الله به مِن الإسلام عن التعلّق بالتافه والإعجاب بالكافرين، وعليه أن يحمد الله على نعمه، ويقول: الحمد لله الذي هدانا لهذا، وما كنا لنهتدي لولا أن هدانا الله. والله أعلم، وصلّى الله وسلم على نبينا محمّد وعلى آله وصحبه أجمعين.
“অতএব, পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে এটি জানা গেল যে, কোনো কাফির খেলোয়াড়কে তার খেলার দক্ষতার কারণে পছন্দ করা (তার প্রতি মুগ্ধ হওয়া) এবং তাকে ভালোবাসা জায়েজ (বৈধ) নয়। একইভাবে, কাফির দেশগুলোর ক্লাবগুলোর নাম ও লোগো সম্বলিত খেলাধুলার পোশাক (জার্সি) পরিধান করাও জায়েজ নয়;যদিও সেগুলো ক্রুশ বা তাদের অন্যান্য ধর্মীয় প্রতীক থেকে মুক্ত হয়।কারণ,এসব পোশাক পরিধান করার মধ্যে ওইসব ক্লাবের সদস্যদের প্রতি এক ধরনের আনুগত্য, সমর্থন ও মুগ্ধতার বহিঃপ্রকাশ ঘটে।আর একজন মুসলমানের জন্য ওয়াজিব (আবশ্যক) হলো—আল্লাহ তাআলা তাকে ইসলামের যে মর্যাদা ও গৌরব দ্বারা সম্মানিত করেছেন, তার মাধ্যমে নিজেকে এই সমস্ত তুচ্ছ বিষয়ের প্রতি আসক্তি এবং কাফিরদের প্রতি মুগ্ধতা থেকে ঊর্ধ্বে রাখা। তার উচিত আল্লাহর নিয়ামতের জন্য তাঁর প্রশংসা করা এবং বলা: ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের এই পথের দিশা দিয়েছেন; আল্লাহ আমাদের হিদায়াত না দিলে আমরা কখনোই হিদায়াত পেতাম না।’ আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।আর সালাত ও সালাম (রহমত ও শান্তি) বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ (ﷺ),তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর।”(শাইখের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে ফাতওয়া নং-২৩৯২; ফাতওয়া লিপিবদ্ধকরণের তারিখ: ১৫-৮-১৪৩৫ হিজরি)
.
চতুর্থত: দুঃখজনক হলেও সত্যি, বর্তমানে খেলোয়াড়দের নাম, ছবি কিংবা বিভিন্ন ক্লাবের লোগো সংবলিত পোশাকের ক্রয়-বিক্রয় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু কোনো বিষয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রচলিত হয়ে যাওয়াই তার বৈধতার প্রমাণ নয়। বরং এ ধরনের পোশাকের বাণিজ্য কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত ও পরিহার করা উচিত; কারণ এর মাধ্যমে মুসলিমদের আকীদা, ধর্মীয় স্বাতন্ত্র্যবোধ ও চারিত্রিক মূল্যবোধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ইসলাম মানুষের দ্বীন ও চরিত্র সংরক্ষণের জন্য এসেছে, সেগুলোকে দুর্বল করার জন্য নয়। মুসলিমকে কুফর ও তার অনুসারীদের প্রতি অন্তরগত অনুরাগ ও ভক্তি থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন, “তুমি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী এমন কোনো সম্প্রদায় পাবে না যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরোধিতা করে তাদের ভালোবাসে, যদিও তারা তাদের পিতা, পুত্র, ভাই অথবা নিকটাত্মীয়ই হোক।” (সূরা আল-মুজাদালাহ: ২২)। তদুপরি, বহু আন্তর্জাতিক কোম্পানি খেলোয়াড়দের ছবি, নাম ও ক্লাবের প্রতীক ব্যবহার করে বিপুল অর্থনৈতিক লাভ অর্জন করছে, আর মুসলমানরা নিজেদের অর্থ ব্যয় করে সেই প্রচার ও প্রভাব বিস্তারে সহায়তা করছে। তাই পাইকারি বা খুচরা—যে পর্যায়ের ব্যবসাই হোক না কেন, এ বিষয়ে শিথিলতা প্রদর্শন করা সমীচীন নয়; বরং মুসলিমের উচিত দ্বীনি সচেতনতা ও দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়ে এসব বিষয় থেকে দূরে থাকা।
.
আমাদের ইমাম সর্বোচ্চ ‘উলামা পরিষদের সম্মানিত সদস্য, বিগত শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও উসূলবিদ, আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ, ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২১ হি./২০০১ খ্রি.]-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল:আজকের মুসলিম যুবকদের কিছু খেলাধুলার পোশাক সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? যেগুলোতে কাফির দেশ, খেলোয়াড় বা কোনো কাফির দলের সমর্থনের চিহ্ন বা প্রতীক থাকে—এটি কি কাফিরদের সাথে বন্ধুত্ব (মুওয়ালাহ) করা?
তিনি উত্তরে বলেন:
قد يكون هذا ليس من موالاة الكفار ظاهراً ، لكن من فعله : فإن في قلبه من تعظيم الكفار ما ينافي الإيمان ، أو كمال الإيمان ، والواجب علينا نحن المسلمين أن نقاطع مثل هذه الألبسة وألا نشتريها ؛ وفيما أحل الله لنا من الألبسة شيء كثير ؛ لأننا إذا أخذنا بهذه الألبسة : صار فيها عزٌّ للكفار ، حيث أصبحنا نفتخر أن تكون صورهم ، أو أسماؤهم ، ملبوساً لنا ، هم يفتخرون بهذا ، ويرون أن هذا من إعزازهم وإكرامهم .
ثانياً : هم يسلبون أموالنا بهذه الألبسة ، مصانعهم حامية ، وجيوبنا منفتحة لبذل الدراهم لهم ، وهذا خطأ .
الآن لو أنك ذهبت إلى بعض البيوت : لوجدت المرأة عندها أكثر من عشرين ثوباً كلما ظهرت موضة اشترتها ، وكذلك بالنسبة للاعبين ، والذي أشير به على إخواننا هؤلاء أن يقاطعوا هذه الألبسة نهائيّاً ، وأن يكتفوا بالألبسة التي تفصَّل هنا على الطراز الإسلامي الموافق لهدي النبي صلى الله عليه وسلم . “
“বাহ্যিকভাবে এটি হয়তো কাফেরদের বন্ধুত্বের (বা আনুগত্যের) অন্তর্ভুক্ত নয়, কিন্তু যে ব্যক্তি এটি করবে: তার অন্তরে কাফেরদের প্রতি এমন এক সম্মান ও ভক্তি থাকে যা ঈমান বা ঈমানের পূর্ণতার পরিপন্থী। আর আমাদের মুসলিমদের ওপর ওয়াজিব (কর্তব্য) হলো এই ধরনের পোশাক বর্জন (বয়কট) করা এবং তা ক্রয় না করা। আল্লাহ আমাদের জন্য যেসব পোশাক হালাল করেছেন, তার মধ্যে প্রচুর বিকল্প রয়েছে। কারণ, আমরা যখন এই পোশাকগুলো গ্রহণ করি, তখন এতে কাফিরদের প্রতি একধরনের সম্মান বৃদ্ধি পায়। তারা মনে করে যে আমরা তাদের ছবি বা নামযুক্ত পোশাক পরিধান করতে পেরে গর্ব বোধ করছি। অথচ তারা নিজেরাও এটি নিয়ে গর্ব করে এবং মনে করে যে এটি তাদের প্রতি সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শন।
পঞ্চমত: তারা এই পোশাকগুলোর মাধ্যমে আমাদের সম্পদ (টাকা) কেড়ে নিচ্ছে। তাদের কলকারখানাগুলো সচল ও লাভবান হচ্ছে, আর আমাদের পকেটগুলো তাদের পেছনে দিরহাম (টাকা) খরচের জন্য উন্মুখ হয়ে আছে; আর এটি একটি মস্ত বড় ভুল।বর্তমানে আপনি যদি কিছু বাড়িতে যান, তবে দেখতে পাবেন যে একজন নারীর কাছে বিশটিরও বেশি পোশাক রয়েছে—যখনই নতুন কোনো ফ্যাশন বা ‘মডেল’ আসে, তখনই সে তা কিনে নেয়। খেলোয়াড়দের (জার্সি বা পোশাকের) ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই রকম। তাই আমি আমাদের ভাইদের পরামর্শ দিচ্ছি, তারা যেন এই পোশাকগুলোকে সম্পূর্ণরূপে বয়কট করে এবং নবী ﷺ-এর আদর্শ অনুযায়ী আমাদের দেশে তৈরি পোশাক পরিধান করে।” (ইবনু উসাইমীন; আল-লিকা আশ-শহরি; ২/প্রশ্ন ১১)
.
এছাড়াও আমাদের ইমাম, আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ, ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২১ হি./২০০১ খ্রি.]-কে আরও জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল:সম্প্রতি বাজারে খেলোয়াড়দের ছবি সংবলিত কিছু পণ্য এসেছে, এর হুকুম কী? আর যদি এই ছবিগুলো স্টিকার আকারে থাকে এবং ক্রেতা তা সরিয়ে ফেলে নিচে কোনো পুরস্কার পায়, তবে তার হুকুম কী?
.
জবাবে তিনি বলেন:
أرى أن هذه البضاعة التي عليها صور اللاعبين : تُهجر ، وتقاطع ؛ لأننا نسأل : ما فائدة الإسلام والمسلمين من بروز هذا اللاعب وظهوره على غيره ؟ أعتقد أن كل إنسان سيكون جوابه بالنفي : لا فائدة من ذلك ، فكيف نعلن عن أسماء هؤلاء ، وننشر صورهم ، وما أشبه ذلك ؟! وكان الذي ينبغي أن يعدل عن هذا إلى مناصحة اللاعبين بالتزام الآداب الإسلامية : من ستر العورة ، والمحافظة على الصلاة في الجماعة ، وعدم التنافر فيما بينهم ، وعدم التشاتم ، وألا يستولي عليهم تعظيم الكافر إذا نجح في هذه اللعبة على غيره ، هذا الذي ينفع .فأرى أن تهجر هذه البضاعة ، وتقاطع ، ثم إن الغالب أن هذه الشركة لم تضع الجوائز إلا لأنها تعرف أنها ستربح أضعافاً مضاعفة بالنسبة لما وضعت .فنسأل الله تعالى أن يجعلنا وإياكم من أهل البصيرة في دين الله عز وجل ، وأن يحمي بلادنا ، وشبابنا ، وديننا من كل مكروه وسوء ، إنه على كل شيء قدير .
“আমার অভিমত হচ্ছে, খেলোয়াড়দের ছবি সংবলিত এই পণ্যগুলোকে বর্জন ও বয়কট করা উচিত। কারণ আমরা যদি প্রশ্ন করি: এই খেলোয়াড়কে বিশিষ্ট করে তোলা এবং অন্যদের চেয়ে তাকে এভাবে জাহির করার মাধ্যমে ইসলাম ও মুসলিমদের কী ফায়দা রয়েছে? আমি বিশ্বাস করি, প্রত্যেক মানুষের উত্তর একটাই হবে—’কোনো ফায়দা নেই।’ তাহলে আমরা কেন এদের নাম এভাবে প্রচার করছি, এদের ছবি ছড়াচ্ছি এবং এই জাতীয় কাজ করছি?! বরং উচিত ছিল—এর পরিবর্তে খেলোয়াড়দেরকে ইসলামী আদব-কায়দা মেনে চলার নসীহত করা; যেমন: সতর ঢেকে রাখা, জামা‘আতের সাথে সালাত আদায়ের ব্যাপারে যত্নবান হওয়া, পরস্পরের মধ্যে বিদ্বেষ পোষণ না করা, একে অপরকে গালিগালাজ না করা এবং কোনো কাফির এই খেলায় অন্যদের চেয়ে সফল হলে তার প্রতি যেন ভক্তি-সম্মান উথলে না ওঠে। এগুলোই মূলত উপকারী হতো।অতএব, আমি মনে করি এই পণ্যগুলো বর্জন ও বয়কট করা উচিত। তাছাড়া, সাধারণত এই কোম্পানিগুলো যে পুরস্কারের ব্যবস্থা করে থাকে, তা কেবল এ কারণেই করে যে তারা ভালো করেই জানে—তারা যে পরিমাণ পুরস্কার দিচ্ছে, তার চেয়ে বহুগুণ বেশি মুনাফা তারা (এর মাধ্যমে) লুটে নেবে।আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের এবং আপনাদের সকলকে আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে প্রজ্ঞাসম্পন্ন (বসীরতওয়ালা) করেন; এবং আমাদের দেশ, আমাদের যুবসমাজ ও আমাদের দ্বীনকে প্রতিটি ক্ষতিকর ও অনিষ্টকর বিষয় থেকে হেফাজত করেন। নিশ্চয়ই তিনি সব কিছুর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।”(ইবনু উসাইমীন,মাজমূঊ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল (১২/প্রশ্ন ২৫৮; এবং ইবনু উসাইমীন, লিক্বাউল বাব আল-মাফতূহ, লিক্বা নং-৫৭/প্রশ্ন ৩৩)
.
পরিশেষে, প্রিয় পাঠক! উপরোক্ত প্রাজ্ঞ ও নির্ভরযোগ্য ওলামায়ে কেরামের দলীলভিত্তিক ফাতওয়া এবং সামগ্রিক পর্যালোচনার আলোকে চূড়ান্তভাবে বলা যায় যে, মুসলিমদের জন্য ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাসহ বিভিন্ন অমুসলিম দেশ, ক্লাব বা খেলোয়াড়দের নাম, ছবি ও লোগো সংবলিত জার্সি ক্রয়, বিক্রয় এবং পরিধান করা শরিয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে সম্পূর্ণ না-জায়েজ; কারণ এটি একদিকে যেমন কাফির ও ফাসিকদের প্রতি অন্ধ আনুগত্য, ভালোবাসা ও অপসংস্কৃতির অনুকরণের মাধ্যমে একজন মুমিনের ধর্মীয় স্বাতন্ত্র্য ও ঈমানী চেতনাকে কলুষিত করে, অন্যদিকে অনেক জার্সিতে ক্রুশের মতো কুফরি প্রতীক থাকায় কিংবা কোনো ব্যক্তিকে অতি-ভক্তি করার কারণে তা আকিদাগত ঝুঁকির সৃষ্টি করে এবং এর বাণিজ্যিক প্রসারের ফলে মুসলিমদের বিপুল অর্থ অপচয় হয়ে ইসলাম-বিরোধী কোম্পানিগুলোই লাভবান হয়। অতএব, প্রতিটি দ্বীনদার মুসলিমের আবশ্যক কর্তব্য হলো এই সমস্ত আত্মমর্যাদাহীন আসক্তি ও পোশাক সম্পূর্ণরূপে বর্জন (বয়কট) করে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ﷺ)-এর নির্দেশিত আদর্শ ও শালীন পোশাকের মাধ্যমে নিজের ইসলামি পরিচয় ফুটিয়ে তোলা। (আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী)।
▬▬▬▬▬◄❖►▬▬▬▬▬
উপস্থাপনায়: জুয়েল মাহমুদ সালাফি।
Share: