করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ’র নামে শুরু করছি। যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহ’র জন্য। শতসহস্র দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক প্রাণাধিক প্রিয় নাবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’র প্রতি। অতঃপর একই সফরে নিজের পক্ষ থেকে উমরাহ এবং মৃত বা শারীরিক অক্ষম ব্যক্তির পক্ষ থেকে ‘বদলি হজ্জ’ আদায় করা শরীয়তসম্মত ও সম্পূর্ণ বৈধ। কারন হজ্জে তামাত্তু সহীহ হওয়ার জন্য উমরাহ ও হজ্জ একই ব্যক্তির পক্ষ থেকে হওয়া শর্ত বা জরুরি নয়; ফলে একজন নিজের জন্য উমরাহ করে অন্যের জন্য হজ্জ করতে পারেন, অথবা এর উল্টোটাও (অর্থাৎ নিজের পক্ষ থেকে হজ্জ অন্যের পক্ষ থেকে ওমরাহ) জায়েজ, এমনকি উমরাহ ও হজ্জ দুইজন ভিন্ন ব্যক্তির পক্ষ থেকেও আদায় করা যায়। তবে শর্ত হলো, অন্যের পক্ষ থেকে বদলি হজ্জ বা উমরাহ করার আগে নিজের ফরয হজ্জ ও উমরাহ অবশ্যই সম্পন্ন থাকতে হবে। এছাড়া তামাত্তু হজ্জের কারণে যে ‘হাদি’ বা দমে-শোকর (কুরবানি) ওয়াজিব হয়, তা যার পক্ষ থেকে হজ্জ করা হচ্ছে তার পক্ষ থেকেই সম্পন্ন করতে হবে।
.
আল-মাওসুআ আল-ফিকহিয়্যা আল-কুওয়াইতিয়্যা’ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে:ولا يعتبر وقوع النسكين عن شخص واحد, فلو اعتمر لنفسه وحج عن غيره ، أو عكسه ، أو فعل ذلك عن اثنين : كان عليه دم التمتع ، لظاهر الآية, وهذا عند جمهور الفقهاء. وقال المالكية: في شرط كونهما عن شخص واحد تردد, أنكره ابن عرفة وخليل في مناسكه, وقال ابن الحاجب: الأشهر اشتراطه.”হজ্জ ও উমরাহ—উভয় ইবাদত একই ব্যক্তির পক্ষ থেকে হওয়া (তামাত্তু হজ্জ সাব্যস্ত হওয়ার জন্য) শর্ত নয়। সুতরাং, কেউ যদি নিজের পক্ষ থেকে উমরাহ করেন এবং অন্যের পক্ষ থেকে হজ্জ আদায় করেন, অথবা এর বিপরীতটি করেন (অর্থাৎ অন্যের পক্ষে উমরাহ ও নিজের পক্ষে হজ্জ), কিংবা এই দুটি কাজ (উমরাহ ও হজ্জ) পৃথক দুইজন ব্যক্তির পক্ষ থেকে আদায় করেন—তবে পবিত্র কুরআনের আয়াতের বাহ্যিক মর্ম অনুযায়ী তার ওপর ‘দমে তামাত্তু’ (তামাত্তু হজের কোরবানি) ওয়াজিব হবে। জমহুর ফকিহগণের অভিমত এটাই। তবে মালিকী মাযহাবের মতে, এই উভয়টি একই ব্যক্তির পক্ষ থেকে হওয়ার শর্তযুক্ত হওয়ার ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। ইবনে আরাফাহ এবং খলীল তাদের ‘মানাসিক’ গ্রন্থে এই শর্তটি অস্বীকার করেছেন (অর্থাৎ তাদের মতে এটি শর্ত নয়)। অন্যদিকে ইবনে হাজিব বলেছেন: এটি শর্ত হওয়াটাই অধিক প্রসিদ্ধ (মাশহুর) অভিমত…”উদ্ধৃতি সমাপ্ত;আল-মাওসূআতুল ফিকহিয়্যাহ’ ১৪/১১; আরও দেখুন: আত-তাজ ওয়াল ইকলীল ;৪/৮৩),শারহুল মুহাযযাব; ৭/১৭৬), কাশশাফুল কিনা; ২/৪১৪)।
.
সৌদি আরবের ‘ইলমী গবেষণা ও ফাতাওয়া প্রদানের স্থায়ী কমিটির (আল-লাজনাতুদ দাইমাহ লিল বুহূসিল ‘ইলমিয়্যাহ ওয়াল ইফতা) ‘আলিমগণ বলেন: تجوز النيابة في الحج عن الميت، وعن الموجود الذي لا يستطيع الحج، ولا يجوز للشخص أن يحج مرة واحدة ويجعلها لشخصين، فالحج لا يجزئ إلا عن واحد، وكذلك العمرة .لكن لو حج عن شخص واعتمر عن آخر في سنة واحدة أجزأه، إذا كان الحاج قد حج عن نفسه واعتمر عنها”মৃত ব্যক্তি অথবা এমন জীবিত ব্যক্তি যিনি হজ্জ করতে অক্ষম, তাদের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি হয়ে হজ্জ করা জায়েয।তবে কোনো ব্যক্তির জন্য এটি বৈধ নয় যে, সে একবার হজ্জ করে তা দুইজনের পক্ষ থেকে নির্ধারণ করবে।কেননা হজ্জ কেবল একজনের পক্ষ থেকেই আদায় হয়, আর উমরাহর বিধানও অনুরূপ।তবে কেউ যদি একই বছরে একজনের পক্ষ থেকে হজ্জ এবং অন্যজনের পক্ষ থেকে উমরাহ আদায় করে, তবে তা গ্রহণযোগ্য হবে, যদি উক্ত হজ্জ সম্পাদনকারী ব্যক্তি ইতিপূর্বে নিজের পক্ষ থেকে (ফরজ) হজ্জ ও উমরাহ সম্পন্ন করে থাকেন।”(ফাতাওয়া লাজনাহ দায়িমাহ; খণ্ড: ১১; পৃষ্ঠা: ৫৮)। (আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী)।
▬▬▬▬▬✿▬▬▬▬▬
উপস্থাপনায়: জুয়েল মাহমুদ সালাফি।