কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক বার্তা প্রচার করাই এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

হাদিস থেকে বাছাইকৃত উচ্চারণ ও অর্থসহ গুরুত্বপূর্ণ ৩০ টি দুআর মধ্যে দ্বিতীয় দুআ

প্রিয় পাঠক আজকের দু’আটি অতি গুরুত্বপূর্ণ যা আমাদের সবার প্রিয় হবে ইনশাআল্লাহ। শিরনাম হচ্ছে: পরিপূর্ণ ঈমান, অশেষ অনুগ্রহ এবং রাসুল (ﷺ) সাহচর্য চাওয়ার দু’আ।
▬▬▬▬▬▬▬💠💠💠▬▬▬▬▬▬▬
ভূমিকা: দু’আটি পড়ার পূর্বে দু’আটির গুরুত্ব অনুধাবন করার চেষ্টা করি। রাসূল (ﷺ)-এর প্রখ্যাত সাহাবী ‘আব্দুল্লাহ বিন মাস‘ঊদ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) [মৃত: ৩২ হি.] বলেছেন,“আমি মসজিদে সালাত আদায় করছি। এমন সময় আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ) (মসজিদে) ঢুকেন। সঙ্গে আবু বকর ও উমর (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু)ছিলেন। আমি সূরা আন-নিসা পাঠ করি। পাঠ শেষ হলে, বসে আল্লাহ্‌ তা’আলার প্রশংসা ও নবী (ﷺ) এর উপর দরুদ পড়তে শুরু করি। এরপর নিজের জন্য দু’আ করি। তখন আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ) বলেন, (আল্লাহর কাছে) “চাও! তোমাকে দেওয়া হবে।” তিনি রাসূল (ﷺ)-এর এই কথা শুনে জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ চাওয়াটিই চেয়েছিলেন। এরপর আব্দুল্লাহ বিন মাস‘ঊদ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) ঘরে চলে আসলেন। কিছুক্ষণ পর আবু বকর (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) এসে বলেন, “তুমি যে দোয়া করেছিলে,তার কিছু কি মনে আছে?” আমি (ইবনে মাস‘ঊদ) বলি, “হ্যাঁ! (সেটি হলো) – (দোয়াটি নিচে উল্লেখিত হয়েছে) এরপর আল্লাহ্‌র (এ) বান্দাকে সুসংবাদ দেওয়ার জন্য উমর (রাঃ) আসেন। এসে দেখেন, তার আগেই আবু বকর (রাঃ) এসে বেরিয়ে যাচ্ছেন। তখন তিনি বলেন, “এ কাজ করে থাকলে, আপনি তো কল্যাণমূলক (সকল) কাজে সবার চেয়ে অগ্রগামী!” ছোট্ট একটি দু’আয় জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ চাওয়াটিই আব্দুল্লাহ বিন মাস‘ঊদ (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু) চেয়েছিলেন,আমার পাঠকগন আপনারাও চাইবেন ইনশাআল্লাহ দু’আটির মূল আরবী হচ্ছে:

اَللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ إِيْمَانًا لَا يَرْتَدُّ، وَنَعِيْمًا لَا يَنْفَدُ، وَمُرَافَقَةَ نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ (ﷺ) فِي أَعْلَى جَنَّةِ الْخُلْدِ

মোটামুটি উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকা ঈমা-নান লা ইয়ারতাদ্দ, ওয়া না‘ঈ-মান লা ইয়ানফাদ, ওয়া মুরা-ফাক্বাতা নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদিন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফী আ‘অ্লা জান্নাতিল খুলদ্ব।(আরবির সঠিক উচ্চারণ বাংলায় লেখা কোনোভাবেই শতভাগ সম্ভব নয়; তাই আরবি টেক্সট মিলিয়ে পড়ার চেষ্টা করুন, পাশাপাশি আরবির সাথে মিলিয়ে মিলিয়ে পড়ুন,না হয় ভুল শিখতে হবে,কমেন্টে একটি ভিডিও দিয়েছি সেটি শুনুন)
.
অর্থ:হে আল্লাহ্‌! আমি তোমার কাছে চাই এমন ঈমান যা গ্রহণ করার পর কেউ তা ত্যাগ করে না, এমন অনুগ্রহ যা কখনও শেষ হবে না। এবং আমাদের নবী মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর সাহচর্য (যিনি থাকবেন) স্থায়ী জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তরে।(মুসনাদে আহমেদ হা/৪৩৪০ সহীহ ইবনে হিব্বান হা /১৯৭০ সিলসিলা সহীহা হা/২৩০১ হাদীসটি হাসান সহীহ)
.
যেহেতু দু’আটি কিছুটা ছোট মাত্র ১৪ শব্দের তাই আমরা শব্দে শব্দে শিখব ইনশাআল্লাহ-
.
(১).اَللّٰهُمَّ আল্লা-হুম্মা (হে আল্লাহ) (২).إِنِّيْ ইন্নী (নিশ্চয়ই আমি) (৩).أَسْأَلُكَ আসআলুকা (আপনার নিকট/কাছে চাই) (৪).إِيْمَانًا ঈমা-নান (এমন ঈমান,যা) (৫).لَا يَرْتَدُّ লা ইয়ারতাদ্দ (কেউ ত্যাগ করে না) (৬).وَنَعِيْمًا ওয়া না‘ঈ-মান (এমন নিয়ামত যা) (৭).لَا يَنْفَدُ লা ইয়ানফাদ (শেষ হবে না) (৮).وَمُرَافَقَةَ ওয়া মুরা-ফাক্বাতা (এবং সাহচর্য) (৯).نَبِيِّنَا
নাবিয়্যিনা (আমাদের নবী) (১০).مُحَمَّدٍ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ মুহাম্মাদিন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের) (১১).فِيْ
ফী (মধ্যে/ভিতরে) (১২).أَعْلٰى আ‘অলা (উঁচু (স্তরে)
(১৩).جَنَّةِ জান্নাতি (জান্নাত) (১৪).الْخُلْدِ আল খুলদ (স্থায়ী/চিরস্থায়ী)
.
এবার এভাবে আরবী এবং বাংলা উচ্চারণসহ সহজে মুখস্থ করুন:
.
اللهمَّ
(আল্লা-হুম্মা) অর্থ: হে!আল্লাহ! / হে আমার/আমাদের প্রতিপালক।
.
إِنِّيْ أَسْأَلُكَ
(ইন্নী আসআলুকা) অর্থ: আমি আপনার নিকট চাই
.
إِيْمَانًا لَا يَرْتَدُّ،
(ঈমা-নান লা ইয়ারতাদ্দ) অর্থ: এমন ঈমান, যা কেউ (গ্রহন করার পর) ত্যাগ করে না।
.
وَنَعِيْمًا لَا يَنْفَدُ،
(ওয়া না‘ঈ-মান লা ইয়ানফাদ) অর্থ: এমন নিয়ামত, যা শেষ হবে না।
.
وَمُرَافَقَةَ نَبِيِّنَا
(ওয়া মুরা-ফাক্বাতা নাবিয়্যিনা) অর্থ: এবং আমাদের নবীজি (ﷺ)-এর সাহচর্য/সঙ্গ।
.
مُحَمَّدٍ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
(মুহাম্মাদিন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অর্থ: মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
.
فِيْ أَعْلٰى
(ফী আ‘অলা) অর্থ: উঁচুতে/উর্ধে/ উপরে।
.
جَنَّةِ الْخُلْدِ
(জান্নাতিল খুলদ) অর্থ: স্থায়ী/চিরস্থায়ী জান্নাতের।
.
প্রিয় পাঠক!বিখ্যাত সাহাবী আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস‘ঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর কতই না সৌভাগ্য যে, তিনি রাসূল ﷺ) উপস্থিতিতে এত চমৎকার একটি দু‘আ করতে পেরেছিলেন, যখন রাসূল ﷺ তাঁকে বললেন, ‘চাও, তোমাকে দেওয়া হবে!’ তাঁর এই অসাধারণ দু‘আর বাক্যগুলো জানার জন্য তাঁর কাছে এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ দুই ব্যক্তি আবু বকর এবং উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুর) মত শীর্ষ দুই সাহাবি আলাদাভাবে গিয়েছেন! আমরা যদিও ঈমান-আমলের দিক থেকে দুর্বল, তবে আশাবাদী হতে তো দোষ নেই। হাদিসে এসেছে,الْمَرْءُ مَعَ مَنْ أَحَبَّ ‏”‏‏.‏”
অর্থ: যে যাকে ভালবাসবে, সে তার সাথেই থাকবে’ সহীহ বুখারী হা/৬১৬৮) আমরা তো আমাদের রাসূল (ﷺ)-কে আমাদের জীবনের চেয়েও অধিক ভালোবাসি। তাই, আমরা আশা রাখতেই পারি! এবং উপরোক্ত দু’আটি পড়ে আল্লাহর কাছে নিজেদের সমস্যাগুলো তুলে ধরে সমাধান চাইতে পারি। দু’আটি প্রথম দেখার আমার নিজেরও ভীষণ ভাল লেগেছে।
.
পরিশেষে,আপনারা উপরোক্ত বাক্যগুলোর অর্থ খেয়াল করে, নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন অবস্থাকে অন্তরে ধারণ করে দু‘আটি পড়বেন। নামাজের সিজদায় কিংবা নামাজ শেষ করে অন্যান্য দু’আর সাথে এই বাক্যটি দিয়ে দু‘আ করতে পারেন। দু‘আর আনুষ্ঠানিকতা কিংবা নিদিষ্ট সময়ের সাথে খাস করা ব্যতীত যেকোনো সময়েও এটি পড়তে পারেন। নামাজের সিজদায় পড়ার নিয়ম হলো: প্রথমে সিজদার তাসবিহ “সুবহা-না রব্বিয়াল আ‘লা”। ৩/৫/৭ বার পড়ে নেবেন, এরপর এই দু‘আটি পড়বেন। এবং অন্তরে আল্লাহর প্রতি সুধাণা রাখবেন। আশা করি সবাই বুঝতে পেরেছেন আল্লাহ সবার ইলমে আমলে বারাকাহ দান করুন।(আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী)।
_________________________
আপনাদের দ্বীনি ভাই:
জুয়েল মাহমুদ সালাফি।