কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক বার্তা প্রচার করাই এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

স্ত্রীর হায়েজ-নিফাস অবস্থায় সহবাস করার বিধান

প্রথম কথা হল, হায়েয অবস্থায় স্ত্রী সহবাস হারাম। মহান আল্লাহ বলেন, “আর তারা তোমার কাছে জিজ্ঞাসা করে হায়েজ সম্পর্কে। বলে দাও, এটা অপবিত্র। কাজেই তোমরা হায়েয অবস্থায় স্ত্রী মিলন থেকে বিরত থাক। তখন পর্যন্ত তাদের সাথে সহবাসে লিপ্ত হবে না; যতক্ষন না তারা পবিত্র হয়ে যায়। যখন উত্তমরূপে পরিশুদ্ধ হয়ে যাবে, তখন গমন কর তাদের কাছে। যেভাবে আল্লাহ্ তোমাদেরকে হুকুম দিয়েছেন। নিশ্চয় আল্লাহ্ তওবাকারী এবং অপবিত্রতা থেকে যারা বেঁচে থাকে তাদেরকে পছন্দ করেন।” (সূরা-বাক্বারা: ২২২)। নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ঋতুবতী নারীর সাথে সহবাস করে সে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উপর যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তা (কুরআন) অবিশ্বাস করে।’ (তিরমিযী, হা/১৩৫; ইবনু মাজাহ, হা/৬৩৯, সনদ সহীহ)। তবে এমতাবস্থায় শুধু সহবাস ছাড়া অন্যান্য সব কাজ করা যাবে। (সহীহ মুসলিম, হা/৩০২)।

◾এখন কোন ব্যক্তি স্ত্রীর হায়েজ-নিফাস অবস্থায় সহবাসের তিনটি অবস্থা হতে পারে যথা:
_________________________________
(১). কেউ যদি হায়েজ অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করা হালাল মনে করে অর্থাৎ শরীয়তের বিধান অস্বীকার করে তাহলে সে কাফির-মুরতাদ হয়ে যাবে। অতঃপর শরীয়ত সম্মত পন্থায় তার উপর মুরতাদের হুকুম কার্যকর করা হবে। অর্থাৎ তাকে তওবা করার আহ্বান করা হবে। কিন্তু সে যদি তওবা করতে অস্বীকার করে তাহলে তার ওপর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। (সূরা তওবাহ: ৬৫-৬৬; সহীহ বুখারী; ইবনু মাজাহ; হা/২৫৩৫; নাসাঈ হা/৪০৫৯) তবে এই ধরনের শাস্তির বিধান কার্যকর করবেন দেশের মুসলিম শাসক। সাধারণ কোনো মানুষ নয়। (ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দায়িমাহ, ২২তম খণ্ড, পৃ. ৩৫)
.
(২). কেউ যদি হায়েজ অবস্থায় সহবাস হারাম বিশ্বাস করে কিন্তু ভুলে বা স্ত্রী হায়েজ অবস্থায় রয়েছে সেটা না জেনে অজ্ঞতাবশত সহবাস করে তাহলে তার গুনাহ হবেনা এবং কাফফারা দিতে হবেনা। শুধু তওবা করলেই যথেষ্ট হবে ইনশাআল্লাহ। কারণ এই উম্মতের অনিচ্ছাকৃত ভুলত্রুটি আল্লাহ ক্ষমা করছেন। (সূরা- আহযাব: ৩৩/৫, ইবনে উসাইমীন, আশ-শারহুল মুমতি‘ ১/৫৭১)। ইসলামি সওয়াল-জবাব ফাতাওয়া নং-২২২১৫৩)
.
(৩). কেউ যদি হায়েজ অবস্থায় সহবাস হারাম এটি বিশ্বাস করে তবুও শয়তানের প্ররোচনায় পড়ে ইচ্ছাকৃতভাবে সহবাস করে, তাহলে এটি কবিরা গুনাহ। তাই অধিক বিশুদ্ধ মতে তাকে খালেস নিয়তে তওবা করতে হবে এবং কাফফারা স্বরূপ এক দীনার বা অর্ধ দীনার গরীব-মিসকীনকে দান করতে হবে। দলিল ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ যদি তার স্ত্রীর সাথে ঋতুবতী অবস্থায় যৌনসঙ্গম করে, তাহলে সে যেন অর্ধেক দীনার দান করে দেয়। (তিরমিযী, আবুদাঊদ হা/২৬৪; ইরওয়া হা/১৯৭; মিশকাত হা/৫৫৩)। যদিও কোন কোন আলেম আবু দাউদের এই হাদীসটিকে জয়ীফ বলেছেন। কিন্তু জুমহুর ওলামাদের বিশুদ্ধ মত হল, হাদীসটির বর্ণনা কারীগণ সকলেই নির্ভর যোগ্য। সুতরাং দলীল হিসেবে উহা গ্রহণযোগ্য।
.
হায়েজ-নিফাস অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করার বিধান সম্পর্কে বিংশ শতাব্দীর অন্যতম সর্বশ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, সৌদি ফাতাওয়া বোর্ডের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতী, শাইখুল ইসলাম, ইমাম আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২০ হি./১৯৯৯ খ্রি.] কে প্রশ্ন করা হলে জবাবে শাইখ বলেছেন, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের ঐক্যমতে কোন মুসলিমদের জন্য স্ত্রীর মাসিক অবস্থায় এবং সন্তান প্রসবের পর নিফাস অবস্থায় সহবাস করা জায়েজ নয়। কেউ যদি এই অবস্থায় স্ত্রীর সাথে সহবাস করে তাহলে তাকে আল্লাহর কাছে তওবা করার পাশাপাশি ১ দিনার অথবা অর্ধ দিনার সদকা করতে হবে। যেমনটি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কেউ যদি তার স্ত্রীর সাথে ঋতুবতী অবস্থায় যৌনসঙ্গম করে, তাহলে সে যেন অর্ধেক দীনার দান করে দেয়। (তিরমিযী, আবুদাঊদ হা/২৬৪; ইরওয়া হা/১৯৭; মিশকাত হা/৫৫৩, binbaz.org.sa ফাতাওয়া নং-৫৫২৩)। আর এক দীনার হলো ৪.২৫ গ্রাম স্বর্ণের সমপরিমাণ। যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২৬-২৮ হাজার টাকা। (আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী)
_____________________
উপস্থাপনায়:
জুয়েল মাহমুদ সালাফি।