কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক বার্তা প্রচার করাই এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

ইলিয়াসী তাবলীগ জামায়াত কর্তৃক প্রকাশিত বইয়ে শিরক-বিদ‘আতের নমুনা

ভূমিকা: বর্তমানে মুসলিম সমাজ শিরক বিদ‘আতের সর্দিতে ভুগছে। সস্তা ফযীলতের ধোঁকায় পড়ে মুসলিম জাতি আজ দিশেহারা। তারা খুঁজে ফিরছে সত্যের সন্ধানে। কোথায় পাওয়া যাবে সঠিক পথের দিশা, কোথায় পাওয়া যাবে সত্যিকারের আদর্শ? কেননা পৃথিবীর সকল মানুষ কোন না কোন আদর্শের সাথে সংযুক্ত। আওয়ামী লীগের আদর্শ শেখ মুজিবুর রহমান, বি.এন.পি’র আদর্শ জিয়াউর রাহমান, কমিনিস্টদের আদর্শ মাওসেতুং-লেলিন, জামায়াত ইসলামী’র আদর্শ মওদূদী, তাবলীগ জামায়াতের আদর্শ হচ্ছেন মাওলানা ইলিয়াস! মাযার, খানকা ও তরীকা পূজারী মুরীদদের আদর্শ স্ব স্ব পীর-ফকীর। যার যার নেতা-আমীরদের আদর্শ নিয়ে তারা উৎফুল্ল! কোথায় আমাদের রাসূল মুহাম্মাদ ﷺ -এর আদর্শ? ইসলাম কারো মনগড়া ধর্ম ও জীবন ব্যবস্থা নয়। এটা বিশ্ব প্রতিপালক মহান আল্লাহ প্রদত্ত পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। আর এ দ্বীন প্রচারিত হয়েছিল নবী মুহাম্মাদ ﷺ -এর মাধ্যমে। এই দ্বীন তথা ইসলামের মূল দর্শন হল তাওহীদের প্রচার ও প্রতিষ্ঠা দান। মানব সমাজে আল্লাহর দ্বীনের বার্তা ছড়িয়ে দেয়ার জন্য কুরআন ও হাদীছে মুসলিম উম্মাহকে বহুবার দির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। এমনকি যদি একটি আয়াতও কেউ জানে, তা প্রচার করার জন্য রাসূল ﷺ নির্দেশ দিয়েছেন।অথচ আমারা আজ কুরআন সুন্নাহ বাদ দিয়ে নিজেদের বানানো মনগড়া কিচ্ছা-কাহিনী প্রতি ঝুঁকে পড়েছি,আর এর নৈপুণ্য রয়েছে কিছু কিচ্ছা কাহিনী বেশ কিছু বই। সেই বইগুলোর মধ্যে ইলিয়াসী তাবলীগ জামায়াতের ফাযাযয়লে আমাল বই একটি। এই বইটিতে অধিকংশ আলোচনাই শিরক-বিদআত,মিথ্যা কিচছা-কাহিনী,কুসংস্কার,সূত্রহীন,বানোয়াট জাল ও যঈফ হাদীসে পরিপূর্ণ। পাঠকদের উদ্দেশ্যে কয়েকটি বানোয়াট কাহিনী তুলে ধরা হল। যেমন:
.
(১) তাবলীগ জামা‘য়াতের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা ইলিয়াস (রহঃ)-এর নির্দেশে মাওলানা যাকারিয়াহ্ ফাযায়েলে তাবলীগ বইটি লেখেন। ঐ বইয়ের ভূমিকায় তিনি বলেন, ইসলামী মুজাদ্দিদের এক উজ্জ্বল রত্ন এবং উলামা ও মাশায়েখদের এক চাকচিক্যময় মুক্তার নির্দেশ যে, তাবলীগে দ্বীনের প্রয়োজন সংক্ষিপ্তভাবে কতিপয় আয়াত ও হাদীস লিখে পেশ করি। আমার মত গুনাহগারের জন্য এরূপ ব্যক্তিদের সন্তুষ্টিই নাজাতের ওয়াসিলা বইটি পেশ করলাম। (ফাযায়েলে আমাল- ভূমিকায় ১ম পৃষ্ঠা) এই কথাগুলো শরীয়তবিরোধী কারন আল্লাহ তায়ালা বলেন, আপনি বলুন! আমার সালাত,আমার কুরবাণী এবং আমার জীবন ও মরণ বিশ্ব প্রতিপালক আল্লাহরই জন্য। অর্থাৎ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য (সূরা আন‘আম, ৬/১৬২)। এবার বুঝুন আল্লাহর সন্তুষ্টি বাদ দিয়ে মাওলানা যাকারিয়াহ্ ইলিয়াস সাহেবের সন্তুষ্টির অর্জন করতে চাইছে।
.
(২) ক্ষুধার্ত এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর কবরের পার্শ্বে গিয়ে খাদ্যের আবেদন করে ঘুমিয়ে পড়লেন। সেই অবস্থায় তার নিকট রুটি আসল, ঘুমন্ত অবস্থায় অর্ধেক রুটি খাওয়ার পর জাগ্রত হয়ে অবশিষ্ট রুটি খেলেন।(ফাযায়েলে হজ্জ, পৃঃ ১৫৫-১৫৬) ব্যখ্যা নিচে ১৪ নং পয়েন্টে দেওয়া হয়েছে)
.
(৩) জনৈকা মহিলা ৩ জন খাদেম কর্তৃক মার খাওয়ার পর রাসূলের কবরের পার্শেব গিয়ে বিচার প্রার্থনা করলে, আওয়াজ আসল ধৈর্য ধর, ফল পাবে। এর পরেই অত্যাচারী খাদেমগণ মারা গেল। (ফাযায়েলে হজ্জ, পৃঃ ১৫৯)
.
(৪) অর্থাভবে বিপন্ন ব্যক্তি রাসূলের কবরের পার্শ্বে হাযির হয়ে সাহায্য প্রার্থনা করায় তা মঞ্জুর হল। লোকটি ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে দেখতে পেল যে, তার হাতে অনেকগুলো দিরহাম।(ফাযায়েলে হজ্জ, পৃঃ ১৬২-১৬৩)
.
(৫) মদীনায় মসজিদে আযান দেওয়া অবস্থায় এক খাদেম মুয়াযিযনকে প্রহার করায় রাসূলের কবরে মুয়াযিযন কর্তৃক বিচার প্রার্থনা। প্রর্থনার ৩ দিন পরেই ঐ খাদেমের মৃত্যু হয়। (ফাযায়েলে হজ্জ, পৃঃ ১৬২-১৬৩)
.
(৬) জনৈক অসুস্থ ব্যক্তি চিকিৎসায় ব্যর্থ হওয়ায় ঐ ব্যক্তির আত্মীয়, ‘করডোভার এক মন্ত্রী ‘আরোগ্যের আরয করে রাসূলের কবরে পাঠ করার জন্য অসুস্থ ব্যক্তিকে পত্রসহ মদীনায় প্রেরণ। কবরের পার্শেব পত্র পাঠ করার পরেই রোগীর আরোগ্য লাভ। (ফাযায়েলে হজ্জ, পৃঃ ১৬৭)
.
(৭) কোন ব্যক্তি রাসূল (ﷺ)-এর রওযায় আরয করায় রওযা হতে হস্ত মুবারক বের হয়ে আসলে উহা চুম্বন করে সে ধন্য হল। নববই হাযার লোক তা দেখতে পেল। মাহবুবে সোবহানী আব্দুল কাদের জিলানীও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।(ফাযায়েলে হজ্জ, পৃঃ ১৫৯)
.
(৮) হে আল্লাহর পেয়ারা নবী (ﷺ)! মেহেরবানী পূর্বক আপনি একটু দয়া ও রহমতের দৃষ্টি নিক্ষেপ করুন। (ফাযায়েলে দরুদ, পৃঃ ১৪২)
.
(৯) আপনি সারা বিশ্বের জন্য রহমত স্বরূপ, কাজেই আমাদের মত দুর্ভাগা হতে আপনি কী করে গাফেল থাকতে পারেন। (ফাযায়েলে দরুদ, পৃঃ ১৪২)
.
(১০) আপনি সৌন্দর্য ও সৌরভের সারা জাহানকে সঞ্জীবিত করিয়া তুলুন এবং ঘুমন্ত নারগিছ ফুলের মত জাগ্রত হইয়া সারা বিশ্ববসীকে উদ্ভাসিত করুন।
.
(১১ ) আমাদের চিন্তাযুক্ত রাত্রিসমূহকে আপনি দিন বানাইয়া দিন এবং আপনার বিশ্বসুন্দর চেহারার ঝলকে আমাদের দ্বীনকে কামিয়াব করিয়া দিবেন। (ফাযায়েলে দরুদ, পৃঃ ১৪৩)
.
(১২) দুর্বল ও অসহায়দের সাহায্য করুন আর খাঁটি প্রেমিকদের অন্তরে সান্তবনা দান করুন।(ফাযায়েলে দরুদ, পৃঃ ১৪৩)
.
(১৩ ) আমি আপন অহংকারী নাফছে আম্মারার ধোকায় ভীষণ দুর্বল হইয়া পড়িয়াছি। এমন অসহায় দুর্বলদের প্রতি করুণার দৃষ্টি নিক্ষেপ করুন। (ফযায়িলে দরুদ, পৃঃ ১৪৪)
.
(১৪) যদি আপনার করুণার দৃষ্টি আমার সাহায্যকারী না হয় তবে আমার অঙ্গ প্রত্যঙ্গ বেকার ও অবশ হইয়া পড়িবে।(ফযায়িলে দরুদ, পৃঃ ১৪৪) উপরোক্ত ২ নং থেকে ১৪ নং পর্যন্ত মূল বক্তব্য হল তারা মনে করে রাসূল ﷺ দুনিয়াবী জীবনের ন্যয় জীবিত তিনি কবর থেকে তাদের চাহিদা পূরণ করতে পারেন কারন তিনি ‘হায়াতুন্নবী’ অথচ এগুলো বিভ্রান্তকর আক্বীদা বরং হায়াতুন্নবী সম্পর্কিত বিশুদ্ধ আক্বীদা হ’ল, রাসূল ﷺ সহ সকল নবী মৃত্যুবরণ করেছেন। তাঁদের রূহ ‘আলমে বারযাখে’ জীবিত আছে। যা দুনিয়াবী জীবন থেকে পৃথক। যে জগত সম্পর্কে আল্লাহ ব্যতীত কেউ অবগত নন (আলবানী, সহীহাহ হা/৬২১-এর আলোচনা)।
.
আল্লাহ বলেন, ‘আর তাদের (মৃতদের) সামনে পর্দা থাকবে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত’ (মুমিনূন ২৩/১০০)। আর উক্ত পর্দা ভেদ করে দুনিয়াবী জীবনের সাথে সম্পর্ক করা কোন মৃতের পক্ষে সম্ভব নয়। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ‘নবীগণ তাদের কবরে জীবিত থেকে ছালাত আদায় করছেন’ (মুসনাদে বাযযার, হা/৬৮৮৮; মুসনাদে আবী ইয়ালা, হা/৩৪২৫; বায়হাক্বী, হায়াতুল আম্বিয়া, পৃ. ৩; সনদ সহীহ, সিলসিলা ছহীহাহ, হা/৬২১)। অন্য হাদীছে বলেন, ‘মি‘রাজের রাত্রে আমি যখন লাল টিলার নিকট দিয়ে মূসা (আলাইহিস সালাম)-কে অতিক্রম করছিলাম, তখন তিনি তাঁর কবরে দাঁড়িয়ে ছালাত আদায় করছিলেন’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২৩৭৫, ‘মর্যাদা’ অধ্যায়, ‘মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর ফযীলত’ অনুচ্ছেদ-৪২)। ‘নিশ্চয় মহান আল্লাহ যমীনের উপর নবীগণের শরীরকে হারাম করে দিয়েছেন’ (আবূ দাঊদ, হা/১০৪৭ ও ১৫৩১; মিশকাত, হা/১৩৬১ ও ১৩৬৬]
.
উপরে বর্ণিত হাদীসগুলোও সহীহ। কিন্তু তা বারযাখী জীবনের বিষয় অর্থাৎ দুনিয়াবী জীবন ও পরকালীন জীবনের মাঝের জীবন। দুনিয়াবী জীবনের সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই। দুনিয়ার মানুষের কথা শুনতে পান না, উপকার বা ক্ষতিও করতে পারেন না। তাই কুরআন ও ছহীহ হাদীছে যেভাবে বর্ণিত হয়েছে, ঠিক সেভাবেই বিশ্বাস করতে হবে। কারণ এগুলো গায়েবের বিষয়। যেমন- রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মূসা (আলাইহিস সালাম)-কে কবরে ছালাত আদায় করতে দেখলেন কিন্তু একটু পরে ৬ষ্ঠ আসমানে দেখা হল (ছহীহ বুখারী, হা/৩৮৮৭; ছহীহ মুসলিম, হা/২৩৭৫, মিশকাত, হা/৫৮৬২)। এরপর যখন ফিরে আসলেন, তখন বায়তুল মাক্বদেছে সকল নবী-রাসূল তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করলেন এবং তাঁর ইমামতিতে ছালাত আদায় করলেন (সহীহ মুসলিম, হা/১৭২, ‘ঈমান’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-৭৭)। সুতরাং এগুলোর কোন কল্পিত ব্যাখ্যা করা যাবে না।

দ্বিতীয়তঃ কবরে ছালাত আদায়ের বিষয়টি কেবল নবীদের সাথেই খাছ। অন্যদের ব্যাপারে নয়। কারণ মৃত্যুর পর কোন ইবাদত নেই। তাছাড়া কবরস্থানে ছালাত আদায় করা নিষেধ (ছহীহ বুখারী, হা/১৩৩০; মিশকাত, হা/৭১২)। অথচ তাঁরা সেখানে ছালাত আদায় করছেন। তাই এগুলো দুনিয়াবী বিষয়ের সাথে মিলানো যাবে না।

তৃতীয়তঃ সাধারণ মানুষকে কবরে রাখার পর লোকেরা যখন চলে আসে, তখনও মৃত ব্যক্তি তাদের পায়ের জুতার শব্দ শুনতে পায় (ছহীহ বুখারী, হা/১৩৩৮, ‘জানাযা’ অনুচ্ছেদ-৬৭; মিশকাত, হা/১২৬)। কিন্তু কুরআন-হাদীছ থেকে এর বেশী কিছু জানা যায় না। তাই যেভাবে বর্ণিত হয়েছে, সেভাবেই বিশ্বাস করতে হবে।
.
মূলত উক্ত বিষয়গুলো কোনটিই দুনিয়াবী জীবনের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। কারণ ছাহাবায়ে কেরাম উক্ত হাদীছগুলো জানা সত্ত্বেও কখনোই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কবরের কাছে গিয়ে কোন কিছু চাননি কিংবা তাঁর কাছে কোন অভিযোগ করেননি এবং তাঁকে অসীলা মেনে দু‘আও করেননি। বরং দুর্ভিক্ষের কারণে তাঁরা রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কবরের কাছে না গিয়ে তাঁর জীবিত চাচা আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর কাছে গিয়ে দু‘আ চেয়েছেন (সহীহ বুখারী, হা/১০১০, ‘ইস্তিস্কা’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-৩)। কারণ কবরে যাওয়ার পর দুনিয়ার সাথে যেমন কোন সম্পর্ক থাকে না, তেমনি কারো কোন উপকার বা ক্ষতি করারও ক্ষমতা থাকে না। কিন্তু কবরপূজারীরা উপরোক্ত হাদীছের অপব্যাখ্যা করে শিরকী আক্বীদা চালু করেছে তারা বলে রাসূল ﷺ কবরে দুনিয়াবী জীবনের ন্যায় বেঁচে আছেন এবং তিনি মানুষের প্রার্থনা শোনেন ও ভাল-মন্দ করেন বলে ধারণা করা। সহীহ বুখারীর ভাষ্যকার হাফেয ইবনু হাজার (রহঃ) বলেন,لِأَنَّهُ بَعْدَ مَوْتِهِ وَإِنْ كَانَ حَيًّا فَهِيَ حَيَاةٌ أُخْرَوِيَّةٌ لاَ تُشْبِهُ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا ‘রাসূল ﷺ মৃত্যুর পরে যদিও জীবিত আছেন, তবুও সেটি পরকালীন জীবন। দুনিয়াবী জীবনের সাথে যা সামঞ্জস্যশীল নয়’। নবীগণ তাদের প্রভুর নিকটে জীবিত আছেন শহীদদের ন্যায়’ (ফাৎহুল বারী হা/৪০৪২-এর ব্যাখ্যা, ৭/৩৪৯ পৃ.)। অতএব বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে বারযাখী জীবনের অন্তর্ভুক্ত। যেখানে মানুষের হায়াত বা মঊত বলে কিছু নেই। তাই রূহ ফেরত দেওয়ার অর্থ তাঁকে অবহিত করানো এবং তিনি তা বুঝতে পারেন। আর সেটাই হ’ল তাঁর উত্তর দেওয়া’ (মির‘আত হা/৯৩১-এর ব্যাখ্যা ৪/২৬২-৭৪)।

অতএব তিনি শুনছেন এরূপ ধারণায় তাঁর কবরের পাশে গিয়ে দরূদ পাঠ করা সুস্পষ্টভাবে শিরক। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই তুমি শুনাতে পারো না কোন মৃত ব্যক্তিকে’ (নামল ২৭/৮০)। আর ‘তুমি শুনাতে পারো না কোন কবরবাসীকে’ (ফাত্বির ৩৫/২২)। এছাড়া ‘যে ব্যক্তি রাসূল (ছাঃ)-এর কবরে গিয়ে দরূদ পাঠ করবে, তিনি তার জন্য সাক্ষী হবেন ও সুফারিশকারী হবেন’, ‘যে ব্যক্তি আমার কবর যেয়ারত করবে, তার জন্য আমার শাফা‘আত ওয়াজিব হবে’, ‘আমি তার জন্য ক্বিয়ামতের দিন সাক্ষী হব’ ইত্যাদি মর্মে যেসব হাদীছ বলা হয়ে থাকে, সবগুলিই জাল (আলবানী, সিলসিলা যঈফাহ হা/৪৭, ২০৩, ১০২১; ইরওয়াউল গালীল হা/১১২৭-২৮ প্রভৃতি)। আত-

(১৫) কয়েকজন যুবক নামায পড়তে পড়তে কঠোর সাধনা করে ইহলোক ত্যাগ করে আল্লাহর দরবারে চলে যাওয়ার গল্প। (ফাযায়েলে নামায, পৃঃ ৩৪-৩৫)

(১৬) কোন বুজুর্গের এশার অযু দ্বারা একাধারে ৪০ বছর পর্যন্ত ফজর নামাজ পড়ার কল্প-কাহিনী। (ফাযায়েলে নামায, পৃঃ ৯৪, ১০২)

(১৭) জনৈক ব্যক্তি একই অজু দ্বারা ১২ দিন নামায পড়েছেন। (ফাযায়েলে নামায, পৃঃ ৯৮)

(১৮) আদম (আঃ) দুনিয়াতে এসে ৪০ বছর যাবৎ ক্রন্দন করেও ক্ষমা পাননি, সর্বশেষে জান্নাতে খোদিত মুহাম্মাদ (ﷺ) এর নামের অসীলায় দো‘আ করে ক্ষমা প্রাপ্ত হয়েছেন।(ফাযায়েলে যিকির, পৃঃ ১৫৩-১৫৪)

(১৯) হে মুহাম্মাদ (ﷺ) আপনাকে সৃষ্টি না করলে বিশ্বজাহানের কিছুই সৃষ্টি করতাম না।(ফাযায়েলে যিকির, পৃঃ ১৫৩) এটি লোক মুখে হাদীসে কুদসী হিসাবে যথেষ্ট প্রসিদ্ধ। অথচ হাদীছ বিশেষজ্ঞগণ এ ব্যাপারে একমত যে, এটি একটি ভিত্তিহীন রেওয়ায়াত, মিথ্যুকদের বাননো কথা। রাসূল (ছাঃ)-এর হাদীছের সাথে এর সামান্যতম মিল নেই। ইমাম ছাগানি, আল্লামা পাটনী, মোল্লা আলী কারী, শায়খ আজলুনী, আল্লামা কাউকজী, ইমাম শওকানী, মুহাদ্দিস ‘আব্দুল্লাহ ইবনু সিদ্দিক আল-গুমারী এবং শাহ ‘আব্দুল ‘আযীয মুহাদ্দিছ দেহলভী (রহঃ) প্রমুখ মুহাদ্দিসীনে কিরাম এটিকে জাল বলেছেন।

(২০) রাসূল (ﷺ) এর মলমূত্র পাক-পবিত্র ছিল ও রক্ত হালাল ছিল এবং সাহাবায়ে কেরামদের দুইজন তা খেয়ে জান্নাতের নিশ্চয়তা পেয়েছেন স্বয়ং রাসূল (ﷺ) থেকে। (হেকায়াতে সাহাবা, পৃঃ ২৬২-২৬৩) অথচ আল্লাহ তায়ালা বলেন, আপনি বলে দিন, যা কিছু বিধান ওহীর মাধ্যমে আমার কাছে পৌঁছেছে, তন্মধ্যে আমি কোন হারাম খাদ্য পাইনা কোন ভক্ষণকারীর জন্যে, যা সে ভক্ষণ করে; কিন্তু মৃত অথবা প্রবাহিত রক্ত অথবা শুকরের মাংস এটা অপবিত্র অথবা অবৈধ; যবেহ করা জন্তু যা আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে উৎসর্গ করা হয়। অতঃপর যে ক্ষুধায় কাতর হয়ে পড়ে এমতবস্থায় যে অবাধ্যতা করে না এবং সীমালঙ্ঘন করে না, নিশ্চয় আপনার পালনকর্তা ক্ষমাশীল দয়ালু (সূরা আন‘আম ৬/১৪৫)। কিছু বিষয় সংকলিত (আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী)।
______________________
উপস্থাপনায়:
জুয়েল মাহমুদ সালাফি।