ওযুর সময় দাড়ি খিলাল করার হুকুম

প্রশ্ন: ওযুর সময় দাড়ি খিলাল করার হুকুম কী? এ ব্যাপারে আলেমদের অগ্রগণ্য মত কোনটি?
▬▬▬▬▬▬▬◄❖►▬▬▬▬▬▬▬▬
প্রথমত: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ’র নামে শুরু করছি। যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহ’র জন্য।শতসহস্র দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক প্রাণাধিক প্রিয় নাবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রতি। অতঃপর ওযুর সময় দাড়ি খিলাল করার হুকুম দাড়ির ঘনত্বের ওপর নির্ভরশীল।দাড়ি যদি পাতলা হয়—অর্থাৎ তার নিচের চামড়া দৃশ্যমান থাকে—তাহলে দাড়ির ভেতরে পানি পৌঁছানো এবং তা ধৌত করা ওয়াজিব; কারণ এ অবস্থায় দাড়ির নিচের অংশ চেহারার সীমানার অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হয়। পক্ষান্তরে, দাড়ি যদি ঘন ও নিবিড় হয়, যার কারণে তার নিচের চামড়া দৃশ্যমান না হয়, তাহলে দাড়ির ভেতরের অংশ ধৌত করা ওয়াজিব নয়; তবে ওযুর সময় আঙুল দিয়ে দাড়ি খিলাল করা মুস্তাহাব। এটাই অধিকাংশ আলেমের মত এবং দলিলের আলোকে এটিই অধিকতর শক্তিশালী ও অগ্রগণ্য অভিমত।
.
হাম্বালী মাযহাবের প্রখ্যাত ফাক্বীহ, শাইখুল ইসলাম, ইমাম ‘আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন কুদামাহ আল-মাক্বদিসী আল-হাম্বালী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ৬২০ হি.] বলেছেন:
اللحية إن كانت خفيفة تصف البشرة وجب غسل باطنها. وإن كانت كثيفة لم يجب غسل ما تحتها، ويستحب تخليلها.
وقال إسحاق: إذا ترك تخليل لحيته عامدا أعاد، لأن النبي صلى الله عليه وسلم (كان يخلل لحيته) رواه عنه عثمان بن عفان. قال الترمذي: هذا حديث حسن صحيح. وقال البخاري: هذا أصح حديث في الباب. وروى أبو داود عن أنس أن النبي صلى الله عليه وسلم كان إذا توضأ أخذ كفا من ماء فأدخله تحت حنكه. وقال: هكذا أمرني ربي عز وجل. وعن ابن عمر قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا توضأ عرك عارضيه بعض العرك، ثم شبك لحيته بأصابعه من تحتها رواه ابن ماجه. وقال عطاء وأبو ثور: يجب غسل باطن شعور الوجه وإن كان كثيفا كما يجب في الجنابة؛ لأنه مأمور بغسل الوجه في الوضوء كما أمر بغسله في الجنابة، فما وجب في أحدهما وجب في الآخر مثله.
ومذهب أكثر أهل العلم أن ذلك لا يجب، ولا يجب التخليل؛ وممن رخص في ترك التخليل ابن عمر، والحسن بن علي، وطاوس، والنخعي، والشعبي، وأبو العالية، ومجاهد، وأبو القاسم، ومحمد بن علي، وسعيد بن عبد العزيز وابن المنذر؛ لأن الله تعالى أمر بالغسل، ولم يذكر التخليل، وأكثر من حكى وضوء رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يحكه. ولو كان واجبا لما أخل به في وضوء، ولو فعله في كل وضوء لنقله كل من حكى وضوءه أو أكثرهم، وتركه لذلك يدل على أن غسل ما تحت الشعر الكثيف ليس بواجب؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم كان كثيف اللحية فلا يبلغ الماء ما تحت شعرها بدون التخليل والمبالغة، وفعله للتخليل في بعض أحيانه يدل على استحباب ذلك، والله أعلم.
“দাড়ি যদি পাতলা হয় যার ফলে ত্বক প্রকাশ পায়, তাহলে ভেতরের অংশ ধোয়া ওয়াজিব হবে। আর যদি ঘন হয় তাহলে ভেতরের অংশ ধৌত করা ওয়াজিব নয়। বরং খিলাল করা মুস্তাহাব। ইসহাক বলেন: যদি সে ইচ্ছাকৃত দাড়ি খিলাল করা ছেড়ে দেয়, তাহলে পুনরায় ওযু করতে হবে। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দাড়ি খিলাল করতেন, যেমনটি উসমান ইবনে আফ্‌ফান তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী বলেন: এটি ‘হাসান সহীহ’ হাদীস। বুখারী বলেন: এটি উক্ত পরিচ্ছেদের সবচেয়ে বিশুদ্ধ হাদীস। আবু দাউদ আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওযু করার পর অঞ্জলি ভরে পানি নিয়ে চিবুকের নিচে ঢুকিয়ে দিতেন। তিনি বলতেন: “আমার মহান রব আমাকে এভাবে নির্দেশ দিয়েছেন।” ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওযু করার সময় তার চেহারার দুই পাশে ঘষতেন। তারপর তিনি তার আঙুল দিয়ে নিচের দিক থেকে তার দাড়ি খিলাল করতেন।[হাদীসটি ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেন] আত্বা ও ইবনে সাওর বলেন: চেহারায় থাকা চুল ঘন হলেও এর ভেতর পর্যন্ত ধৌত করা ওয়াজিব যেমনটি জানাবতের গোসলের ক্ষেত্রে ওয়াজিব। কারণ জানাবতের গোসলে যেমন তিনি চেহারা ধোয়ার ব্যাপারে আদিষ্ট, তেমনিভাবে অযুতেও তিনি চেহারা ধোয়ার ব্যাপারে আদিষ্ট। একটির ক্ষেত্রে যা আবশ্যক হয়, অনুরূপ অন্যটির ক্ষেত্রেও তা আবশ্যক। অধিকাংশ আলেমের মতে এটি (জানাবতের সময়) আবশ্যক নয়। তাই খিলাল করাও আবশ্যক নয়। খিলাল পরিত্যাগের ক্ষেত্রে যারা ছাড় দিয়েছেন তাদের মাঝে রয়েছেন: ইবনে উমর, হাসান ইবনে আলী, ত্বাউস, নখয়ী, শা’বী, আবুল আলিয়া, মুজাহিদ, আবুল কাসেম, মুহাম্মাদ ইবনে আলী, সাঈদ ইবনে আব্দুল আযীয ও ইবনুল মুনযির। কারণ আল্লাহ তায়ালা ধৌত করার নির্দেশ দিয়েছেন; তিনি খিলাল করার কথা উল্লেখ করেননি। যে সাহাবীরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওযুর বিবরণ দিয়েছেন তাদের অধিকাংশই খিলাল করার কথা বর্ণনা করেননি। যদি এটি ওয়াজিব হত তাহলো কোনো ওযুতে তিনি এটি ছাড়তেন না। প্রত্যেক অযুতেই যদি তিনি দাড়ি খিলাল করতেন তাহলে যারা তার ওযুর বিবরণ দিয়েছেন তারা সবাই বা তাদের অধিকাংশই এটি বর্ণনা করত। তিনি কখনও খিলাল না করা প্রমাণ করে যে ঘন চুলের নিচে যা আছে সেটি ধৌত করা ওয়াজিব নয়। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাড়ি ঘন ছিল। খিলাল করা ও প্রকৃষ্টভাবে খিলাল করা ছাড়া এই দাড়ির নিচে পানি পৌঁছায় না। তিনি কখনো কখনো খিলাল করা থেকে এটি মুস্তাহাব হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।”(ইবনু কুদামাহ; আল-মুগনী; খণ্ড: ১; পৃষ্ঠা: ৭৪)
.
শাফি‘ঈ মাযহাবের প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও ফাক্বীহ, ইমাম মুহিউদ্দীন বিন শারফ আন-নববী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ৬৭৬ হি.] বলেছেন:” اللحية الكثيفة يجب غسل ظاهرها بلا خلاف ولا يجب غسل باطنها ولا البشرة تحته، هذا هو المذهب الصحيح المشهور، الذي نص عليه الشافعي رحمه الله وقطع به جمهور الأصحاب، وهو مذهب مالك وأبي حنيفة وأحمد وجماهير العلماء من الصحابة والتابعين وغيرهم.وحكى الرافعي قولا ووجها أنه يجب غسل البشرة وهو مذهب المزني وأبي ثور “ঘন দাড়ির উপরিভাগ ধোয়া ওয়াজিব; এতে কোনো মতানৈক্য নেই। এর ভেতরের দিক ও নিচের ত্বক ধৌত করা ওয়াজিব নয়। এটাই বিশুদ্ধ ও প্রসিদ্ধ মত। ইমাম শাফি‘ঈ (রাহিমাহুল্লাহ) এ মতটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন এবং মাযহাবের অধিকাংশ আলেম এটিকে অকাট্য মত হিসেবে গ্রহণ করেছেন। এটি ইমাম মালিক, আবু হানীফা ও আহমদ (রাহিমাহুমুল্লাহ)-এর মত এবং সাহাবী, তাবেঈন ও তাঁদের পরবর্তী অধিকাংশ আলেমের মতও এটাই। তবে ইমাম রাফি‘ঈ এমন একটি মত ও একটি দৃষ্টিভঙ্গি উল্লেখ করেছেন যে, (ঘন দাড়ির নিচে থাকা) ত্বকও ধৌত করা ওয়াজিব। এটি ইমাম মুযানী ও আবু সাওর (রাহিমাহুমাল্লাহ)-এর মত।”(নববী আল-মাজমূ; খণ্ড: ১; পৃষ্ঠা: ৪০৮)
.
ঘন দাড়ি খিলাল করা ওয়াজিব নয় এবং ঘন দাড়ির ভেতরের অংশ ধোয়া আবশ্যক নয়; এর পক্ষে জমহুর আলেমদের অন্যতম দলীল হলো বুখারীতে বর্ণিত একটি হাদীস, ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণনা করেন:أَنَّهُ تَوَضَّأَ فَغَسَلَ وَجْهَهُ، أَخَذَ غَرْفَةً مِنْ مَاءٍ، فَمَضْمَضَ بِهَا وَاسْتَنْشَقَ، ثُمَّ أَخَذَ غَرْفَةً مِنْ مَاءٍ فَجَعَلَ بِهَا هَكَذَا، أَضَافَهَا إِلَى يَدِهِ الْأُخْرَى، فَغَسَلَ بِهِمَا وَجْهَهُ… ثُمَّ قَالَ: هَكَذَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَوَضَّأُ.“নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওযু করা শুরু করলেন। এজন্য চেহারা ধৌত করলেন। তিনি এক কোষ পানি নিয়ে তা দিয়ে কুলি করলেনও নাকে পানি দিলেন। তারপর এক কোষ পানি নিয়ে তা দিয়ে এমনটি করলেন। তিনি তার অন্য হাতের সাথে একত্রিত করে উভয়টি দিয়ে চেহারা ধৌত করলেন। … তারপর বলেন: আমি রাসূল (ﷺ)-কে এভাবেই ওযু করতে দেখেছি।”(সহীহ বুখারী হা/১৪০) হাদীসটি থেকে দলীল প্রদানের দিকটি হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘন দাড়ি ছিল। এক অঞ্জলি পানি চেহারা ধৌত করা এবং দাড়ির নিচের ত্বক ধোয়ার জন্য যথেষ্ট পরিমাণ না। সুতরাং বোঝা গেল যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুধু এর উপরিভাগ ধৌত করার মাঝেই সীমাবদ্ধ থেকেছেন।(আরো দেখুন: নববী আল-মাজমূ (১/৪০৮), শাওকানী, নাইলুল আওত্বার (১/১৯০)
.
দ্বিতীয়ত: যারা দাড়ি খিলাল করা ওয়াজিব মনে করেন, তাদে প্রদত্ত দলীল হলো আবু দাউদে বর্ণিত হাদীস, আনাস ইবনে মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অযু করার সময় এক অঞ্জলি পানি নিয়ে সেটি চোয়ালের নিম্নদেশে (থুতনির নিচে) লাগিয়ে দাড়ি খিলাল করতেন এবং বলতেন: “আমার মহান রব আমাকে এমনটি করার নির্দেশ দিয়েছেন।”(আবু দাউদ হা/১৪৫) এই হাদীসটি মতভেদপূর্ণ। হাফেয ইবনে হাজার রাহিমাহুল্লাহ বলেন: “আনাসের হাদীসটি আবু দাউদ বর্ণনা করেন। এর সনদে রয়েছেন আল-ওয়ালীদ ইবনে যারওয়ান। তার অবস্থা অজ্ঞাত।…আনাস থেকে এর অন্য বেশ কিছু সনদ রয়েছে যেগুলো দুর্বল।”[আত-তালখীসুল হাবীর (১/৮৬) থেকে সংক্ষেপে সমাপ্ত] হাদীসটিকে ইবনুল কাইয়িম তার ‘তাহযীবুস সুনান’ বইয়ে এবং আলবানী তার ‘সহীহ আবু দাউদ’ গ্রন্থে সহিহ বলেছেন। তবে হাদীসটি সহিহ হিসেবে ধরে নিলেও অন্যান্য দলীলের সাথে সমন্বয় করতে গিয়ে উক্ত হাদীসের নির্দেশকে মুস্তাহাব অর্থে গ্রহণ করতে হবে। কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওযু বর্ণনাকারীদের অধিকাংশ দাড়ি খিলাল করার বিষয়টি উল্লেখ করেননি। যদি এটি ওয়াজিব হত, তাহলে তিনি কোনো ওযুতেই তা বাদ দিতেন না। আর যদি প্রত্যেক ওযুতে তিনি সেটা করতেন, তাহলে যারা তাঁর অযু বর্ণনা করেছেন তাদের সবাই বা অধিকাংশই এটি বর্ণনা করতেন।
.
তৃতীয়ত: লক্ষ্য রাখতে হবে যে, ঘন দাড়ির উপরিভাগ লম্বা হলেও তা ধোয়া ওয়াজিব; কেননা এটি চেহারার সীমানাভুক্ত। তাই্ এর বাহ্যিক দিক ধোয়া আবশ্যক।
.
সর্বোচ্চ ‘উলামা পরিষদের সম্মানিত সদস্য, বিগত শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও উসূলবিদ, আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ, ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২১ হি./২০০১ খ্রি.] বলেছেন:من سنن الوضوء: تخليل اللحية الكثيفة، واللحية إما خفيفة، وإما كثيفة.فالخفيفة هي التي لا تستر البشرة، وهذه يجب غسلها وما تحتها؛ لأن ما تحتها لما كان باديا كان داخلا في الوجه الذي تكون به المواجهة، والكثيفة: ما تستر البشرة، وهذه لا يجب إلا غسل ظاهرها فقط، وعلى المشهور من المذهب يجب غسل المسترسل منها.وقيل: لا يجب، كما لا يجب مسح ما استرسل من الرأس، والأقرب في ذلك الوجوب، والفرق بينها وبين الرأس: أن اللحية وإن طالت تحصل بها المواجهة؛ فهي داخلة في حد الوجه، أما المسترسل من الرأس فلا يدخل في الرأس، لأنه مأخوذ من الترؤس وهو العلو، وما نزل عن حد الشعر، فليس بمترئس.”ওযুর অন্যতম সুন্নত হলো: ঘন দাড়ি খিলাল করা। দাড়ি পাতলাও হতে পারে, আবার ঘনও হতে পারে। পাতলা দাড়ি হলো এমন দাড়ি যা ত্বক ঢেকে রাখে না। এমন দাড়ি এবং এর অভ্যন্তরের ত্বক ধোয়া আবশ্যক। কারণ এর ভেতরের অংশ প্রকাশমান থাকা অবস্থায় চেহারার গণ্ডিভুক্ত যা দিয়ে ব্যক্তিরা একে অন্যের সম্মুখীন হয়। আর ঘন দাড়ি হলো এমন দাড়ি যা ত্বক ঢেকে রাখে। এর উপরিভাগই কেবল ধোয়া ওয়াজিব। মাযহাবের প্রসিদ্ধ মত অনুসারে এমন দাড়ি লম্বা হলেও তা ধোয়া ওয়াজিব। অন্য মত অনুসারে, এমন দাড়ি লম্বা হলে সেটি ধোয়া ওয়াজিব নয় যেমনিভাবে চুল লম্বা হলে তা মাসেহ করা ওয়াজিব নয়। যদিও ওয়াজিব হওয়ার মতটিই সঠিক হওয়ার অধিক নিকটবর্তী।দাড়ির সাথে চুলের পার্থক্য হলো: দাড়ি যত লম্বাই্ হোক তা দিয়ে মানুষের মুখোমুখি হওয়া যায়। সুতরাং দাড়ি চেহারার সীমানাভুক্ত। আর মাথার লম্বা চুল মাথার অন্তর্ভুক্ত না।কারণ رأس (মাথা) শব্দটি গৃহীত হয়েছে তারাউস থেকে যার অর্থ উর্ধ্বত্ব। আর মাথার সীমানা ছাড়িয়ে যা নিচে নেমে গিয়েছে, তা উর্ধ্বে নয়।”(ইবনু উসাইমীন; আশ-শারহুল মুমতি; খণ্ড: ১; পৃষ্ঠা: ১০৬)
.
পরিশেষে, উপরোক্ত আলোচনা থেকে কথা পরিষ্কার যে,ওযুর সময় দাড়ি খিলাল করার বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও অগ্রগণ্য মত হলো—ঘন দাড়ি খিলাল করা ওয়াজিব নয়; বরং মুস্তাহাব। ঘন দাড়ির ক্ষেত্রে দাড়ির বাহ্যিক অংশ ধৌত করাই ওয়াজিব; আর দাড়ি পাতলা হলে এবং এর নিচের ত্বক দৃশ্যমান থাকলে সেই ত্বকসহ দাড়ির অংশ ধৌত করা ওয়াজিব। নবী ﷺ থেকে দাড়ি খিলাল করার আমল সহিহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হওয়ায় ঘন দাড়ি খিলাল করা উত্তম; তবে খিলাল না করলে ওযু সহিহ হবে এবং গুনাহ হবে না ইনশাআল্লাহ। গৃহীত ইসলাম সওয়াল-জবাব ফাতাওয়া নং-৮৫০৩১)। (আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী)।
▬▬▬▬▬◄❖►▬▬▬▬▬
উপস্থাপনায়: জুয়েল মাহমুদ সালাফি।
Share: