প্রশ্ন: দুইজন ব্যক্তি জামাআতে সালাত শুরু করার পর যদি দ্বিতীয়, তৃতীয় বা চতুর্থ রাকাতে আরও একজন বা দুইজন মুসল্লি যোগ দেয় তাহলে তারা ইমামের পেছনে কীভাবে কাতারবদ্ধ হয়ে দাঁড়াবে?
▬▬▬▬▬▬▬◢✪◣▬▬▬▬▬▬▬
উত্তর: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ’র নামে শুরু করছি। যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহ’র জন্য। শতসহস্র দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক প্রাণাধিক প্রিয় নাবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’র প্রতি। অতঃপর যখন ইমামের সঙ্গে একই কাতারে তাঁর ডান পাশে একজন মুক্তাদী দাঁড়িয়ে জামাতে সালাত আদায় করছেন, এরপর দ্বিতীয় কোনো মুসল্লী এসে শরিক হলে করণীয় হলো—যদি ইমামের পেছনে পর্যাপ্ত জায়গা থাকে, তবে ইমামের সাথে সালাতরত প্রথম মুক্তাদী সামান্য পেছনে সরে গিয়ে নবাগত (যিনি পরে যোগ দিয়েছেন) ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে ইমামের পেছনে একটি পূর্ণ কাতার গঠন করবেন। এক্ষেত্রে দ্বিতীয় মুক্তাদী (যিনি পরে যোগ দিয়েছেন) তার জন্য উত্তম ও শালীন পদ্ধতি হলো—তিনি তাকবীরে তাহরীমা বলার পূর্বেই তার সঙ্গীর শরীরে হালকা স্পর্শে বা মৃদু সতর্কবার্তার মাধ্যমে অবহিত করবেন। এরপর উভয়ে একসাথে পেছনে সরে সুশৃঙ্খলভাবে কাতারবদ্ধ হবেন। এতে সতর্ক করা ও স্থান পরিবর্তনের কাজটি নামাজে প্রবেশের পূর্বেই সম্পন্ন হবে এবং সালাতের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় নড়াচড়া এড়িয়ে একাগ্রতা বজায় রাখা সম্ভব হবে। পক্ষান্তরে যদি ইমামের পেছনে পর্যাপ্ত স্থান না থাকে, তাহলে ইমাম নিজেই সামান্য সামনে এগিয়ে যাবেন, যাতে তাঁর পেছনে দুইজনের জন্য একটি স্বতন্ত্র কাতার গঠিত হতে পারে। তবে যদি ইমামের সামনে এগোনোরও সুযোগ না থাকে এবং মুত্তাদীর পিছনেও পর্যাপ্ত জায়গা না থাকে তাহলে নবাগত (যিনি পরে এসেছেন) ব্যক্তি ইমামের বাম পাশে দাঁড়াবে। এ ক্ষেত্রে তিনজনই একই কাতারে সালাত আদায় করবেন।কেননা প্রয়োজনবশত একই কাতারে ইমামসহ একাধিক মুসল্লী দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করলে তাতে শরিয়তের দৃষ্টিতে কোনো অসুবিধা নেই।পাশাপাশি জেনে রাখা ভাল যে,পিছনে জায়গা থাকা সত্ত্বেও নবাগত ব্যক্তি যদি অজ্ঞতার কারণে ইমামের পাশেই দাঁড়িয়ে যায়, তবে ইমাম উভয়কে পিছনে ঠেলে দিবেন।
.
হাদিসে এসেছে, প্রখ্যাত সাহাবী জাবির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূল (ﷺ)-এর সঙ্গে আমরা আবার রওয়ানা হলাম, সন্ধ্যা হলে আমরা আরবের এক কূপের কাছাকাছি পৌঁছলাম।..তারপর তিনি হাওযের কাছে এসে ওযূ করলেন, পরে আমিও উঠে গিয়ে রাসূল (ﷺ)-এর ওযূর স্থান হতে পানি নিয়ে ওযূ করলাম। অতঃপর রাসূল (ﷺ) ছালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে দাঁড়ালেন। আমিও এসে রাসূল (ﷺ)-এর বাম পাশে দাঁড়ালাম। তিনি আমার হাত ধরে ঘুরিয়ে আমাকে তাঁর ডান পাশে দাঁড় করলেন। অতঃপর জাব্বার ইবনু সাখর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এসে ওযূ করলেন এবং রাসূল (ﷺ)-এর বাম পাশে দাঁড়ালেন। তখন রাসূল (ﷺ) আমাদের দু’জনের হাত ধরে আমাদেরকে পশ্চাৎদিকে সরিয়ে দিলেন এবং আমাদেরকে তাঁর পেছনে দাঁড় করালেন …’(সহীহ মুসলিম, হা/৩০১০; মিশকাত হা/১১০৭)। উক্ত হাদিস থেকে প্রমাণিত হয় যে, জামাতে সালাতে যদি একজন মুক্তাদি থাকে, তবে সে ইমামের ডান পাশে দাঁড়াবে। আর যদি দুইজন বা তার বেশি মুক্তাদি থাকে, তাহলে তারা ইমামের পেছনে কাতারবদ্ধ হয়ে দাঁড়াবে। উলামায়ে কেরাম আরও উল্লেখ করেছেন— যদি এমন হয় যে ইমামের সামনে পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে কিন্তু মুক্তাদিদের পেছনে জায়গা নেই, তাহলে ইমাম সামান্য সামনে এগিয়ে যাবেন। আর যদি মুক্তাদিদের পেছনে জায়গা থাকে কিন্তু ইমামের সামনে জায়গা না থাকে, তাহলে মুক্তাদিরাই পেছনের দিকে সরে গিয়ে কাতার ঠিক করবে। তবে যদি ইমামের সামনে এবং মুক্তাদিদের পেছনে—উভয় দিকেই পর্যাপ্ত জায়গা থাকে, তাহলে মুক্তাদিরাই পেছনের দিকে সরে যাবে; ইমাম সামনে এগোবেন না। কারণ ইমাম হলেন অনুসরণীয় ব্যক্তি, আর মুক্তাদিরা তার অনুসারী। তাই স্থান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ইমামের পরিবর্তে মুক্তাদিদের নড়াচড়া করাই অধিক উপযুক্ত।এছাড়া সাধারণত ইমাম তার সামনে দেয়াল, খুঁটি বা অনুরূপ কোনো সুতরা রেখে সালাত আদায় করেন। তাই ইমামের অবস্থান অপরিবর্তিত রাখা অধিক শোভন ও উপযুক্ত।
.
শাফি‘ঈ মাযহাবের প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও ফাক্বীহ, ইমাম মুহিউদ্দীন বিন শারফ আন-নববী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ৬৭৬ হি.] বলেছেন:
إذا حضر إمام ومأمومان تقدم الإمام واصطفا خلفه سواء كانا رجلين أو صبيين أو رجلا وصبيا .. ثم إن كان قدام الإمام سعة وليس وراء المأمومين سعة تقدم أو تأخرا وأيهما أفضل فيه وجهان الصحيح الذي قطع به الشيخ أبو حامد والأكثرون تأخرهما لأن الإمام متبوع فلا ينتقل .. هذا إذا جاء المأموم الثاني في القيام فإن جاء في التشهد والسجود فلا تقدم ولا تأخر حتى يقوموا ولا خلاف أن التقدم والتأخر لا يكون إلا بعد إحرام المأموم الثاني كما ذكرناه . والله أعلم
“যখন একজন ইমাম ও দুইজন মুক্তাদি উপস্থিত থাকেন, তখন ইমাম সামনে দাঁড়াবেন এবং মুক্তাদিরা তাঁর পেছনে কাতারবদ্ধ হবেন—চাই তারা দুইজন পুরুষ হোক, দুইজন শিশু হোক অথবা একজন পুরুষ ও একজন শিশু হোক। এরপর (সালাত শুরু হওয়ার পর) যদি ইমামের সামনে জায়গা থাকে কিন্তু মুক্তাদিদের পেছনে জায়গা না থাকে, তবে ইমাম সামনে যাবেন নাকি মুক্তাদিরা পেছনে সরবেন—এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে। শায়খ আবু হামিদ ও অধিকাংশ ফকীহের মতে সঠিক ও গ্রহণযোগ্য মত হলো—মুক্তাদিরাই পেছনে সরে যাবে। কারণ ইমাম হলেন অনুসরণীয় নেতা; তাই তিনি নিজের স্থান থেকে সরে যাবেন না। তবে এই সামনে-পেছনে সরে দাঁড়ানোর বিধান তখনই প্রযোজ্য, যখন দ্বিতীয় মুক্তাদি কিয়াম (দাঁড়ানো) অবস্থায় জামাতে যোগ দেয়। কিন্তু যদি সে তাশাহহুদ বা সেজদা অবস্থায় এসে যোগ দেয়, তাহলে সবাই দাঁড়িয়ে কিয়ামে যাওয়ার আগ পর্যন্ত কোনো নড়াচড়া করা যাবে না। এ ব্যাপারে আলেমদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই যে, দ্বিতীয় মুক্তাদি প্রথমে তাকবীরে তাহরিমা বলে নামাজে প্রবেশ করবে; তারপরই এই সামনে-পেছনে সরে দাঁড়ানোর আমলটি সম্পন্ন করা হবে।”(ইমাম নববী, আল-মাজমূ‘ শারহুল মুহাযযাব, খণ্ড: ৪, পৃ. ২৯২)
.
সর্বোচ্চ ‘উলামা পরিষদের সম্মানিত সদস্য, বিগত শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও উসূলবিদ, আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ, ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২১ হি./২০০১ খ্রি.] বলেছেন:
إذا جاء ثالث فمن الناس من يشكل عليه هل يدفع الإمام ويؤخر المأموم أو يكبر أولاً؟ فنقول: أخر المأموم، ثم إذا استوى في مكانه كبر أنت، أو نقول: قدم الإمام فإذا استويت مع المأموم كبر؛ لأنه أحياناً يكون تقديم الإمام أسهل كما لو كان المكان الذي أمامه واسعاً، وأحياناً يكون تأخير المأموم أسهل كما لو كان المكان الذي أمامهم ضيقاً، والذي خلفهم واسعاً، المهم لا فرق بين أن يقدم الإمام أو يؤخر المأموم، لكن لا يكبر قبل ذلك، لئلا يلزم من ذلك حركة في الصلاة لا حاجة إليها “
“যখন দু’জন জামাতে সালাত পড়ছে, এরপর তৃতীয় ব্যক্তি এসে যোগ দেয়, তখন কিছু মানুষের কাছে বিষয়টি জটিল মনে হয়: ইমাম কি সামনে এগোবেন, নাকি মুক্তাদী (যে পিছনে দাঁড়িয়ে আছে) পিছিয়ে যাবে? অথবা আগে তাকবীর দেবে?আমরা বলি: মুক্তাদীকে পিছিয়ে দাও, তারপর যখন সে তার জায়গায় সোজা হয়ে দাঁড়াবে, তখন তুমি (ইমাম) তাকবীর দাও।অথবা আমরা বলি: ইমাম সামনে এগিয়ে যান, তারপর যখন তুমি মুক্তাদীর সঙ্গে সমান্তরালভাবে দাঁড়াবে, তখন তাকবীর দাও। কারণ কখনও ইমামের সামনে এগোনো সহজ হয়, যেমন যখন তার সামনে জায়গা প্রশস্ত থাকে। আবার কখনও মুক্তাদীর পিছিয়ে যাওয়া সহজ হয়, যেমন যখন তাদের সামনে জায়গা সংকীর্ণ, কিন্তু পেছনে প্রশস্ত।মূল কথা হলো, ইমাম সামনে এগোনো আর মুক্তাদী পিছিয়ে যাওয়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তবে এর আগে তাকবীর দেওয়া যাবে না; যাতে সালাতের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় নড়াচড়া করতে না হয়।”(ইবনু উসামীন লিক্বাউল বাব আল-মাফতূহ, লিক্বা নং-১৬/১১)
.
বিগত শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস ও ফাক্বীহ, ফাদ্বীলাতুশ শাইখ, ইমাম মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আলবানী আদ-দিমাশক্বী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২০ হি./১৯৯৯ খ্রি.]-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল প্রশ্ন: দুইজন জামাআতে সালাত পড়ছিল, তারপর তৃতীয় ব্যক্তি এলে, ইমাম সামনে এগোবেন, নাকি মুক্তাদী পিছিয়ে যাবে? প্রশ্নকারী: আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন।
শাইখ: জি।
প্রশ্নকারী: এই প্রশ্নটি দুই ভাগে বিভক্ত। প্রথম অংশ হলো, যদি প্রথমে একজন ব্যক্তি ইমামের সঙ্গে নামাজ পড়ে, তারপর পরে দ্বিতীয় ব্যক্তি আসে, তাহলে তারা কী করবে? ইমাম কি সামনে এগোবে, নাকি প্রথম যে ব্যক্তি ছিল তাকে টেনে পেছনে নেওয়া হবে?
শাইখ: ইমামকে সামনে এগিয়ে দেবে এভাবে বলা সঠিক নয়। কারণ ইমাম তো ইমামই; তাকে আদেশ দেওয়া হয় না। বরং আদেশ দেওয়া হয় সেই ব্যক্তিকে, যে ইমামের অনুসরণ করে। এটি ‘ইমামকে সামনে এগিয়ে দেওয়া’ কথাটির উপর একটি মন্তব্য।তবে সঠিক উত্তর হলো,যেমনটি জাবির (রাযি.)-এর হাদীসে এসেছে: তাঁর এক সাথী নবী (ﷺ)-এর সঙ্গে ইকতিদা করে তাঁর ডান পাশে দাঁড়ালেন। এরপর আরেকজন এসে তাঁর বাম পাশে দাঁড়ালেন। তখন তিনি তাদের দু’জনকে পিছনে নিয়ে গেলেন এবং তাঁদেরকে নিজের পেছনে একটি কাতার বানালেন। অতএব, একজন ব্যক্তি হলে সে ইমামের ডান পাশে সমান্তরালভাবে দাঁড়াবে। আর ইমাম থেকে সামান্য পিছিয়ে দাঁড়াবে যেমন কিছু পরবর্তী ফকিহ বলেছেন এ সামান্য পিছিয়ে দাঁড়ানোর কোনো ভিত্তি সুন্নাহতে নেই। বরং এটি সেই বর্ণনার বিরোধী, যা উমর আল-ফারুক (রাযি.) থেকে এসেছে। এমনকি সহীহ বুখারীর হাদীসে আছে।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কিয়ামুল লাইলের নামাজে ইবনু আব্বাস (রাযি.)-কে নিজের ঠিক সমান্তরালে দাঁড় করিয়েছিলেন। এভাবেই রাসূল (ﷺ) ও ইবনু আব্বাসের ব্যাপারে হাদীসে এসেছে, এবং উমর (রাযি.)-এর ক্ষেত্রেও তাঁর পাশে দাঁড়ানো ব্যক্তির ব্যাপারে একইভাবে এসেছে।
প্রশ্নকারী: হাদীসে আছে যে তিনি সামান্য এক কদম পিছিয়ে গিয়েছিলেন, তখন তিনি যেন তাকে তিরস্কার করেছিলেন,সহীহ বুখারীতে এমনিভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
শাইখ: আমরা তা জানি না।
প্রশ্নকারী: (ইবনু আব্বাস বলেছিলেন:)
আমি রাসূলুল্লাহর সমান্তরালে দাঁড়াতে চাইনি।
শাইখ: এটি কোন ঘটনার কথা? আবু বকর (রাযি.)-এর ঘটনা?
প্রশ্নকারী: না, ইবনু আব্বাস (রাযি.)-এর ঘটনা, যখন তিনি রাতে তাঁর সঙ্গে নামাজে দাঁড়িয়েছিলেন।
শাইখ: হ্যাঁ, সম্ভবত সেটিই। তিনি তাকে নিজের সমান্তরালে দাঁড় করিয়েছিলেন।
প্রশ্নকারী: জি, কিন্তু তিনি সামান্য এক কদম পিছিয়ে গিয়েছিলেন। তখন তিনি বললেন: আমি কি তোমাকে আমার সমান্তরালে রাখিনি?তখন ইবনু আব্বাস বললেন: আপনার সমান্তরালে দাঁড়ানো আমার জন্য শোভন ছিল না।
শাইখ: কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি যখন তাঁর সমান্তরালে দাঁড়ালেন, এ কথাটি ইবনু আব্বাসের নিজের ব্যাখ্যা, এবং এটি ছিল তাঁর আদব। তবে সুন্নাহ হলো, তিনি তাকে নিজের সমান্তরালেই দাঁড় করিয়েছিলেন।
প্রশ্নকারী: শাইখ, মনে হয় ইমাম বুখারী এ হাদীসের উপর অধ্যায় শিরোনাম দিয়েছেন,শাইখ: হ্যাঁ।
অন্য প্রশ্নকারী: “অধ্যায়: সালাতে একজন ব্যক্তি আরেকজনের সমান্তরালে দাঁড়াবে।”
শাইখ: ঠিক তাই।
অন্য প্রশ্নকারী: একই প্রশ্ন।
শাইখ: হ্যাঁ। আমি যা বলতে চাই তা হলো, একজন ব্যক্তি ইমামের ডান পাশে এবং তাঁর সমান্তরালে দাঁড়াবে। এরপর যদি আরেকজন আসে এবং স্বাভাবিকভাবেই সে হুকুম জানে না, তাই ইমামের বাম পাশে দাঁড়ায়, তাহলে ইমাম এখানে রাসূল (ﷺ)-এর অনুসরণ করবেন এবং দু’জনকেই নিজের পেছনে নিয়ে গিয়ে একটি কাতার বানাবেন। কিন্তু যদি দ্বিতীয় ব্যক্তি ফকিহ হয় এবং জানে যে দু’জনের হুকুম হলো ইমামের পেছনে কাতার করে দাঁড়ানো, তাহলে সে ইমামের পেছনে দাঁড়াবে এবং ডান পাশে দাঁড়ানো ব্যক্তিকে নম্রভাবে টেনে নিজের সঙ্গে পেছনে নিয়ে আসবে। আর ইমাম নিজের স্থানে স্থির থাকবেন; তাকে সামনে এগোতে বলা হবে না। হ্যাঁ।
প্রশ্নকারী: আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন।
শাইখ: আপনাকেও।
প্রশ্নকারী: প্রশ্নের দ্বিতীয় অংশের উত্তর আপনি আপনার বক্তব্যের মধ্যেই দিয়ে দিয়েছেন। কারণ আমরা বলেছিলাম, দ্বিতীয় অংশ ছিল: যদি দু’জন থাকে, তারপর তৃতীয় ব্যক্তি আসে এবং তাদের একজন ইমাম হয়, কিছু সমসাময়িক আলেম, যাদের অনুসরণ করা হয়, তাদের কারো বক্তব্যে আমি পড়েছি,তারা বলেন: একজনকে ইমামের ডান পাশে এবং অন্যজনকে বাম পাশে দাঁড় করানো হবে। শাইখ: এটি ইবনু মাসঊদ (রাযি.)-এর মত ছিল কিছু সময়ের জন্য। কিন্তু যে সুন্নাহর উপর বিষয়টি শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা হলো আমরা যা উল্লেখ করেছি। এ কথা জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আল-আনসারী (রাযি.)-এর হাদীস থেকেও প্রমাণিত।হ্যাঁ।”(সিলসিলাতুল হুদা ওয়ান নূর, ৮১২ নং অডিয়ো ক্লিপ)। (আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী)।
▬▬▬▬▬◢✪◣▬▬▬▬▬
উপস্থাপনায়: জুয়েল মাহমুদ সালাফি।