প্রশ্ন: শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রীকে চুম্বন করার বিধান কী?
▬▬▬▬▬▬▬▬✿▬▬▬▬▬▬▬▬
উত্তর: পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু মহান আল্লাহর নামে শুরু করছি। যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহর জন্য। অগণিত দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের প্রাণপ্রিয় নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি। অতঃপর, শিক্ষক কর্তৃক তাঁর গাইরে মাহরাম ছাত্রীকে চুম্বন করার বিধান নির্ধারণের ক্ষেত্রে ছাত্রীর বয়স, তার প্রতি কামভাব সৃষ্টির আশঙ্কা এবং এ আচরণের সম্ভাব্য পরিণতি বিবেচনা করা জরুরি। আলেমদের বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, ছাত্রী বালেগা হলে তাকে চুম্বন করা কোনভাবেই জায়েজ নয়। অনুরূপভাবে, সে বালেগা না হলেও যদি এমন বয়সে উপনীত হয়, যে বয়সে সাধারণত তার প্রতি কামভাব সৃষ্টি হতে পারে, তাহলে সে শিক্ষকের গাইরে মাহরাম হলে তাকে চুম্বন করা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।আর কামভাব নিয়ে চুম্বন করা নিঃসন্দেহে নিষিদ্ধ। কেননা, শিক্ষক ও ছাত্রীর সম্পর্কের মূল ভিত্তি হলো শিক্ষা, উত্তম চরিত্র গঠন, শিষ্টাচার ও পারস্পরিক সম্মান—শারীরিক ঘনিষ্ঠতা নয়। বিশেষত,গাইরে মাহরাম ছাত্রীর সঙ্গে এমন আচরণ করা, যা ফিতনা, কুপ্রবৃত্তি কিংবা অনৈতিক সম্পর্কের দিকে পরিচালিত করতে পারে, তা থেকে বিরত থাকা শরিয়তের নির্দেশনার অন্তর্ভুক্ত।তবে একেবারে ছোট শিশুর প্রতি স্বাভাবিক স্নেহ-মমতা প্রকাশের উদ্দেশ্যে তার কপাল বা মাথায় চুম্বন করা এবং একই শিশুকে কামভাব বা শারীরিক উপভোগের উদ্দেশ্যে চুম্বন করা এক বিষয় নয়; বরং এ দুটির বিধান ভিন্ন। আলেমগণও এ পার্থক্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।
.
আহলুল ইলমের ঐকমত্য অনুযায়ী, কামভাব বা শারীরিক উপভোগের উদ্দেশ্যে ছোট মেয়ের দিকে তাকানো, তাকে স্পর্শ করা কিংবা চুম্বন করা হারাম। তবে কোনো মেয়ের প্রতি কামভাব সৃষ্টি হতে পারে—এমন বয়স নির্ধারণের ক্ষেত্রে ফকিহদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। এ প্রসঙ্গে মালিকি মাযহাবের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ আল-ফাওয়াকিহ আদ-দাওয়ানী-তে বলা হয়েছে:وَاخْتُلِفَ فِيهَا) أَيْ الصَّبِيَّةِ (إنْ كَانَتْ مِمَّنْ لَمْ تَبْلُغْ أَنْ تُشْتَهَى) كَبِنْتِ أَرْبَعٍ أَوْ خَمْسٍ অর্থাৎ, “ছোট মেয়েটি এমন বয়সে উপনীত হয়েছে কি না, যে বয়সে সাধারণত তার প্রতি কামভাব সৃষ্টি হতে পারে—এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। যেমন, চার বা পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে।” এ ছাড়া মালিকি মাযহাবের কোনো কোনো বক্তব্যে তিন বা চার বছর বয়সী মেয়েকে স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও তার দিকে তাকানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। (বিস্তারিত দেখুন: আন-নাফরাবী, আল-ফাওয়াকিহ আদ-দাওয়ানী আলা রিসালাতি ইবনি আবী যায়েদ আল-কায়রাওয়ানী, ১/৩০১)।
.
আল-মাওসূ‘আতুল ফিকহিয়্যাহ আল-কুয়েতিয়্যাহ (কুয়েতি ফিকহ বিশ্বকোষে) এসেছে, وَاتَّفَقُوا –أَي الْفُقَهَاء- عَلَى أَنَّهُ يَجُوزُ لِلرَّجُل أَنْ يَنْظُرَ بِغَيْرِ شَهْوَةٍ إِلَى جَمِيعِ بَدَنِ الصَّغِيرَةِ الَّتِي لَمْ تَبْلُغْ حَدَّ الشَّهْوَةِ سِوَى الْفَرْجِ مِنْهَا অর্থাৎ, “ফকীহগণ একমত হয়েছেন যে, একজন পুরুষের জন্য কামভাব ছাড়া এমন ছোট বালিকার পুরো শরীরের দিকে তাকানো জায়েয, যাকে দেখে কামভাব হতে পারে এমন বয়স পর্যন্ত সে পৌঁছেনি। তবে তার যোনির দিকে তাকানো যাবে না” (আল-মাওসূ‘আতুল ফিকহিয়্যাহ আল-কুয়েতিয়্যাহ, ৪০/৩৪৭)। এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করা প্রয়োজন: সাধারণত কোনো বালিকাকে দেখে কামভাব জাগ্রত হওয়ার উপযোগী বয়সে পৌঁছানোর অর্থ হলো, স্বাভাবিক ও সুস্থ প্রকৃতির মানুষের মধ্যে তাকে দেখে কামভাব জাগ্রত হওয়ার আশঙ্কা থাকা। কারণ, বিকৃত মানসিকতার কোনো ব্যক্তি যেকোনো বয়সের শিশুর প্রতিও যৌন আকর্ষণ অনুভব করতে পারে; তাই এমন ব্যক্তির অস্বাভাবিক প্রবৃত্তিকে এ ক্ষেত্রে মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। সুতরাং, এ ক্ষেত্রে বয়সের কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা নির্ধারণ করাই মূল বিষয় নয়; বরং সাধারণত ওই বালিকাকে দেখে কামভাব জাগ্রত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে কি না, সেটিই বিবেচ্য।
.
সর্বোচ্চ ‘উলামা পরিষদের সম্মানিত সদস্য, বিগত শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও উসূলবিদ, আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ, ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২১ হি./২০০১ খ্রি.] বলেছেন:إِذَا بَلَغَتِ الْبِنْتُ حَدًّا تَتَعَلَّقُ بِهَا نُفُوسُ الرِّجَالِ وَشَهْوَاتُهُمْ فَإِنَّهَا تَحْتَجِبُ دَفْعًا لِلْفِتْنَةِ وَالشَّرِّ، وَيَخْتَلِفُ هَذَا بِاخْتِلَافِ النِّسَاءِ، فَإِنَّ مِنْهُنَّ مَنْ تَكُونُ سَرِيعَةَ النُّمُوِّ جَيِّدَةَ الشَّبَابِ، وَمِنْهُنَّ مَنْ تَكُونُ بِالْعَكْسِ.”যখন মেয়ে এমন এক বয়সে উপনীত হয়, যে সময় পুরুষদের মন ও আকাঙ্ক্ষা তার সাথে যুক্ত হতে পারে, তখন ফেতনা ও অকল্যাণ প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে তাকে পর্দা করতে হবে। এটি বিভিন্ন মেয়ের ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকম হতে পারে। কারণ তাদের মধ্যে কেউ কেউ দ্রুত বড় হয় ও তরুণী হয়, আবার কেউ কেউ হয় এর উল্টো”(ইবনু উসাইমীন; মাজমূ‘আতু আসইলাতিন তাহুম্মুল উসরাহ আল-মুসলিমাহ, পৃষ্ঠা: ৪৩-৪৪)
.
ইবনুল মুফলিহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন:قال ابن منصور لأبي عبد الله [يعني : الإمام أحمد] : يقبل الرجل ذات محرم منه ؟ قال : إذا قدم من سفر ولم يَخَفْ على نفسه , ولكن لا يفعله على الفم أبدا , الجبهة أو الرأس.وقال بكر بن محمد عن أبيه عن أبي عبد الله وسئل عن الرجل يقبل أخته ؟ قال : قد قبل خالد بن الوليد أخته”ইবনে মানসুর আবু আব্দুল্লাহ অর্থাৎ ইমাম আহমাদকে বলেন,কোন ব্যক্তি তার মাহরামদেরকে চুমু খেতে পারবে কি? তিনি উত্তরে বলেন: যদি সফর থেকে আসে এবং নিজের প্রতি ভয় বা ফিতনার আশঙ্কা না থাকে (অর্থাৎ মনে খারাপ কিছু না জাগে) তাহলে চুমু খাওয়া যাবে তবে মুখের ওপরে কখনোই চুমু দিবে না বরং কপালে বা মাথায় দিবে।বকর ইবনু মোহাম্মদকে ওই ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন যে ব্যক্তি তার বোনকে চুমু দিয়েছিল এটা কি সঠিক? উত্তর তিনি বলেন হ্যাঁ এটা সঠিক খলিদ ইবনে ওয়ালিদ তার বোনকে চুমু দিয়েছিল।(আল আদাবুস শরয়ী; ২/২৬৬ আরও দেখুন আল-মাওসুআহ আল-ফিকহিয়াহ: ১৩/১৩০)
.
হাম্বালী মাযহাবের প্রখ্যাত ফাক্বীহ, শাইখুল ইসলাম, ইমাম ‘আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন কুদামাহ আল-মাক্বদিসী আল-হাম্বালী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ৬২০ হি.] বলেছেন,قَالَ أَحْمَدُ، فِي رِوَايَةِ الْأَثْرَمِ فِي رَجُلٍ يَأْخُذُ الصَّغِيرَةَ فَيَضَعُهَا فِي حِجْرِهِ، وَيُقَبِّلُهَا: فَإِنْ كَانَ يَجِدُ شَهْوَةً فَلَا، وَإِنْ كَانَ لِغَيْرِ شَهْوَةٍ، فَلَا بَأْسَ “একজন পুরুষ একটি ছোট মেয়েকে তার কোলে নিলে এবং তাকে চুম্বন করলে বিধান কী হবে? সে ব্যাপারে ইমাম আহমাদ বলেন, যদি সে কামনা অনুভব করে, তাহলে এভাবে কোলে নিতে ও চুমু দিতে পারবে না। কিন্তু যদি তা কামনার জন্য না হয়, তাহলে তাতে কোনো সমস্যা নেই”।(ইবনু কুদামা, আল-মুগনী: ৭/১০৩)
.
ইমাম ইবনুল জাওযী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,وَتَقْبِيلُ الصَّبِيَّةِ الَّتِي لَهَا مِنَ الْعُمْرِ ثَلَاثُ سِنِينَ جَائِزٌ إِذْ لَا شَهْوَةَ تَقَعُ هُنَاكَ فِي الْأَغْلَبِ فَإِنْ وُجِدَ شَهْوَةٌ حُرِّمَ ذَلِكَ وَكَذَلِكَ الْخَلْوَةُ بِذَوَاتِ الْمَحَارِمِ فَإِنْ خِيفَ مِنْ ذَلِكَ حُرِّمَ فَتَأَمَّلْ هَذِهِ الْقَاعِدَةَ
“তিন বছর বয়সী ছোট মেয়েকে চুম্বন করা জায়েয; কেননা সাধারণত এ ক্ষেত্রে কামভাব সৃষ্টি হয় না। তবে যদি কামভাব সৃষ্টি হয়, তাহলে তা হারাম হয়ে যাবে। অনুরূপভাবে, মাহরাম নারীদের সঙ্গে নির্জনে অবস্থান করার ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য। সুতরাং, এ ক্ষেত্রে যদি (কামভাব সৃষ্টি হওয়ার বা নিষিদ্ধ কিছু ঘটার) আশঙ্কা থাকে, তাহলে তা হারাম হয়ে যাবে। অতএব, এই মূলনীতিটি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করো।”
(তালবীসু ইবলীস, পৃষ্ঠা: ১৯৯)
.
সর্বোচ্চ ‘উলামা পরিষদের সম্মানিত সদস্য, বিগত শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও উসূলবিদ, আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ, ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২১ হি./২০০১ খ্রি.] বলেছেন:
“تقبيل المحارم فإن كانت الأم، أو الأخت الكبيرة أو الجدة ، أو البنت ، فهذا لا بأس به ، وقد قبل أبو بكر ابنته عائشة رضي الله عنها على خدها .وأما غيرهن من المحارم غير الأصول والفروع ، فالأولى ألا يقبلها إلا إذا كانت أختاً كبيرة ، فهنا يقبلها على جبهتها ، أو على رأسها ، أما يقبل أخته الشابة ، فالشيطان يجري من ابن آدم مجرى الدم، فليتجنب هذا ، لا يقبلها، وأبلغ من ذلك في التحذير منه : أن يقبل محارمه من الرضاع ؛ لأن المحارم من الرضاع أقل هيبة عند الإنسان من المحارم من النسب ، ولهذا يجب الحذر من أختك من الرضاع أن تقبلها ، لاسيما إن كانت شابة جميلة ، فإن الشيطان يجري من ابن آدم مجرى الدم .الخلاصة : تقبيل الزوجة مطلوب ، وتقبيل غيرها من المحارم إن كان من الأصول أو الفروع فلا بأس به ، وإن كان من غيرهن فالحذر من ذلك أولى
“মাহরাম নারীদের চুম্বনের বিষয়টি হলো—যদি তিনি মা, বড় বোন, দাদি-নানি কিংবা মেয়ে হন, তবে এতে কোনো সমস্যা নেই। আবূ বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর মেয়ে ‘আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর গালে চুম্বন করেছিলেন। আর এঁদের বাহিরে অন্যান্য মাহরাম নারীদের ক্ষেত্রে—যাঁরা ঊর্ধ্বতন বংশধর (মা, দাদি-নানি প্রমুখ) কিংবা অধস্তন বংশধর (মেয়ে, নাতনি প্রমুখ) নন—তাঁদের চুম্বন না করাই উত্তম। তবে তিনি যদি বড় বোন হন, তাহলে তাঁর কপালে অথবা মাথায় চুম্বন করতে পারেন।কিন্তু নিজের যুবতী বোনকে চুম্বন করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা উচিত। কেননা, শয়তান আদমসন্তানের মধ্যে রক্তপ্রবাহের মতো চলাচল করে। সুতরাং এ ধরনের চুম্বন থেকে বিরত থাকা উচিত। এর চেয়েও অধিক সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন দুধ-সম্পর্কীয় মাহরাম নারীদের চুম্বনের ক্ষেত্রে। কারণ, রক্তসম্পর্কীয় মাহরামদের তুলনায় দুধ-সম্পর্কীয় মাহরামদের প্রতি মানুষের মনে স্বাভাবিক সংকোচ ও শ্রদ্ধাবোধ তুলনামূলকভাবে কম থাকতে পারে। এ কারণে দুধ-বোনকে চুম্বন করার ব্যাপারে সতর্ক থাকা আবশ্যক। বিশেষত, সে যদি যুবতী ও সুন্দরী হয়। কেননা, শয়তান আদমসন্তানের মধ্যে রক্তপ্রবাহের মতো চলাচল করে।
সারসংক্ষেপ: স্ত্রীকে চুম্বন করা কাম্য (বা কাঙ্ক্ষিত)। আর তাঁর বাইরে অন্যান্য মাহরাম নারীদের মধ্যে যাঁরা ঊর্ধ্বতন কিংবা অধস্তন বংশধর (যেমন—মা, দাদি, মেয়ে, নাতনি), তাঁদের চুম্বন করায় কোনো অসুবিধা নেই। তবে এঁরা ছাড়া অন্য মাহরাম নারীদের ক্ষেত্রে তা থেকে বিরত থাকাই নিরাপদ ।”(ইবনু উসাইমীন; লিক্বাউ আল-বাবিল মাফতুহ: ১৪৬, প্রশ্ন নং-৬)
.
পরিশেষে, উপরোক্ত দলিল ও আলেমদের বক্তব্য থেকে প্রতীয়মান হয় যে, কোনো মেয়েকে চুম্বন করার বিধান নির্ধারণের ক্ষেত্রে তার বয়স, শারীরিক বিকাশ, কামভাব সৃষ্টির আশঙ্কা এবং এ আচরণের সম্ভাব্য পরিণতি বিবেচনা করা জরুরি। তবে একজন শিক্ষকের জন্য তাঁর গাইরে মাহরাম ছাত্রীর সঙ্গে শারীরিক ঘনিষ্ঠতা পরিহার করা এবং শরিয়তের সীমারেখা, শালীনতা ও পেশাগত শিষ্টাচার বজায় রাখা অপরিহার্য। ছাত্রী বালেগা হলে তাকে চুম্বন করা জায়েজ নয়; অনুরূপভাবে, সে বালেগা না হলেও তার প্রতি কামভাব সৃষ্টির আশঙ্কা থাকলে তাকে চুম্বন করা থেকে বিরত থাকতে হবে। আর কামভাব বা শারীরিক উপভোগের উদ্দেশ্যে চুম্বন করা হারাম। মনে রাখতে হবে, শিক্ষকের দায়িত্ব কেবল জ্ঞান দান করা নয়; বরং ছাত্রীর মর্যাদা, নিরাপত্তা ও শালীনতা রক্ষা করাও তাঁর দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। তাই স্নেহ-মমতা প্রকাশের ক্ষেত্রেও এমন পন্থা অবলম্বন করা উচিত, যাতে শরিয়তের সীমালঙ্ঘন, ফিতনা কিংবা কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতির আশঙ্কা না থাকে। একজন আদর্শ শিক্ষকের পরিচয় শারীরিক ঘনিষ্ঠতায় নয়; বরং তাঁর আমানতদারিতা, উত্তম চরিত্র, সংযম ও শিক্ষার্থীর প্রতি দায়িত্বশীল আচরণে। আল্লাহ তাআলাই সর্বাধিক জ্ঞানী।
▬▬▬▬▬◄❖►▬▬▬▬▬
উপস্থাপনায়: জুয়েল মাহমুদ সালাফি।
উপস্থাপনায়: জুয়েল মাহমুদ সালাফি।