নির্জনতা ও অনাবশ্যক স্পর্শ ছাড়া নারী সহকারীর উপস্থিতিতে একজন পুরুষ ডাক্তারের জন্য নারী রোগীর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করা কি শরীয়তসম্মত

প্রশ্ন: নির্জনতা (খালওয়াহ) ও অনাবশ্যক স্পর্শ ছাড়া, নারী সহকারীর উপস্থিতিতে একজন পুরুষ ডাক্তারের জন্য নারী রোগীর সমস্যা শোনা, তাকে দেখা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করা কি শরীয়তসম্মত?
▬▬▬▬▬▬▬▬◖◉◗▬▬▬▬▬▬▬▬
ভূমিকা: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু মহান আল্লাহ’র নামে শুরু করছি। যাবতীয় প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক মহান আল্লাহ’র জন্য।শতসহস্র দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক প্রাণাধিক প্রিয় নাবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রতি। অতঃপর প্রথমেই প্রশ্নকারী ডাক্তার ভাইকে ধন্যবাদ জানাই—বর্তমান সময়ে ব্যাপকভাবে বিদ্যমান ও গুরুত্বপূর্ণ একটি মাসআলার শরয়ি বিধান জানার আগ্রহ প্রকাশ করার জন্য। আল্লাহ আমাদের সকলকে কথা ও কাজে সঠিক পথ ও তাওফিক দান করুন। ইসলাম মানবজীবনের মৌলিক প্রয়োজনসমূহের অন্যতম হিসেবে চিকিৎসার গুরুত্বকে স্বীকৃতি দিয়েছে। অসুস্থ হলে চিকিৎসা গ্রহণ বৈধ; বরং অনেক ক্ষেত্রে তা অপরিহার্যও হয়ে থাকে। তবে চিকিৎসাসেবা প্রদানের ক্ষেত্রেও শরীয়ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা নির্ধারণ করেছে; যেমন—খালওয়াহ (নারী-পুরুষের নির্জন অবস্থান) পরিহার করা, দৃষ্টি ও স্পর্শকে প্রয়োজনের সীমায় আবদ্ধ রাখা এবং ফিতনার সম্ভাবনা থেকে দূরে থাকা। এ বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। তিনি (ﷺ) বলেছেন,”কোনো পুরুষ কোনো নারীর সাথে নির্জনে একত্র হলে শয়তান তাদের তৃতীয়জন হয়।” অন্য হাদীসে তিনি বলেন: “কোনো পুরুষ যেন কোনো নারীর সাথে নির্জনে না থাকে, তবে তার সাথে মাহরাম থাকতে হবে।” (সহীহ মুসলিম, হা/২৫১৩)। আরও এসেছে,“আমার পর পুরুষদের জন্য নারীদের ফিতনার চেয়ে অধিক ক্ষতিকর কোনো ফিতনা আমি রেখে যাইনি।” (সহীহ বুখারী হা/৪৮০৮; সহীহ মুসলিম, হা/৬৮৮১)।আমাদের সালাফগনও নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশার সম্ভাব্য ফিতনার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তাই মূলনীতি হলো—নারীদের চিকিৎসা নারী ডাক্তার এবং পুরুষদের চিকিৎসা পুরুষ ডাক্তার কর্তৃক সম্পন্ন হওয়া। তবে জরুরি প্রয়োজন,অক্ষমতা বা বিকল্পের অভাবে ভিন্ন লিঙ্গের ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া কখন অনুমোদিত সেটি পরিষ্কারভাবে বুঝার জন্য নিচে পুরো মাসআলাটি নিয়ে সংক্ষেপে কয়েকটি পয়েন্টে আলোচনা করা হলো:
.
প্রথমত: মূলনীতি হলো কোনো পুরুষ ডাক্তারের জন্য মহিলা রোগী দেখা জায়েজ নয়। কারণ চিকিৎসার প্রয়োজনে রোগীকে দেখা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা এবং কখনো কখনো সংবেদনশীল বিষয় অবলোকন এবং রোগীকে স্পর্শ করার প্রয়োজন হতে পারে।তাই নারীদের চিকিৎসা নারী ডাক্তারাই করবেন।তবে যদি কোনো মুসলিম বা অমুসলিম নারী চিকিৎসক পাওয়া না যায়, কিংবা জরুরি ও বিশেষ প্রয়োজনে (যেমন: পুরুষ চিকিৎসক অধিক অভিজ্ঞ বা দক্ষ হলে) পুরুষ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে—তবে শরীয়তের শর্ত ও সীমারেখা মেনে যতটুকু প্রয়োজন, ঠিক ততটুকুর জন্য পুরুষ চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা গ্রহণ করা জায়েজ। এতে কোনো গুনাহ নেই।কারন আলেমগণের নিকট স্বতঃসিদ্ধ মূলনীতি হচ্ছে- ইসলামী শরিয়ত কল্যাণ সাধন কিংবা কল্যাণকে পরিপূর্ণতা দিতে এসেছে এবং অকল্যাণকে প্রতিহত করা কিংবা হ্রাস করার জন্য এসেছে। তাই বড় অকল্যাণকে দূর করার জন্য ছোট অকল্যাণে লিপ্ত হওয়া জায়েয।যেসব পেশায় চাকুরী করা নিষিদ্ধ কোন কোন আলেম সাধ্যানুযায়ী মন্দকে হ্রাস করার জন্য সেসব পেশায় চাকুরী করা জায়েয ফতোয়া দিয়ে থাকেন।যেমন শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) ফতোয়া দিয়েছেন। তিনি রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন:فيمن يتولى الولايات ، ويُلزم بأخذ المكوس المحرمة من الناس ، لكنه يجتهد في العدل ورفع الظلم بحسب إمكانه ، ويخفف من المكوس ما استطاع ، ولو ترك الولاية لحل محله من يزيد معه الظلم ، فأفتى رحمه الله بأنه يجوز له البقاء في ولايته ، بل بقاؤه على ذلك أفضل من تركه ، إذا لم يشتغل بما هو أفضل منه ،”যে ব্যক্তিকে সরকারী কোন পদে নিয়োগ দিয়ে জনগণ থেকে মুকুস (হারাম ট্যাক্স) আদায়ে তাকে বাধ্য করা হয়, কিন্তু সে ব্যক্তি ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা ও যুলমকে প্রতিহত করার ও যতদূর সম্ভব মুকুস (হারাম ট্যাক্স) কমানোর সাধ্যানুযায়ী চেষ্টা করে। যদি তিনি এ পদ ছেড়ে দেন তাহলে এমন ব্যক্তি পদটি দখল করবে যে মানুষের উপর আরও বেশি যুলুম করবে। সে ব্যক্তির ক্ষেত্রে তিনি ফতোয়া দেন যে, এমন ব্যক্তির জন্য এ পদে বহাল থাকা জায়েয। বরঞ্চ তার চেয়ে উত্তম কোন ব্যক্তি যদি পদটি গ্রহণ না করে তাহলে তার জন্য এ পদে বহাল থাকা পদ ছেড়ে দেয়ার চেয়ে উত্তম। তিনি বলেন:وقد يكون ذلك واجبا عليه إذا لم يقم به غيره قادرا عليه . فنشر العدل بحسب الإمكان ، ورفع الظلم بحسب الإمكان فرض على الكفاية ، يقوم كل إنسان بما يقدر عليه من ذلك إذا لم يقم غيره في ذلك مقامه …“কখনো কখনো এ পদে বহাল থাকা তার উপর ফরজও হতে পারে; যদি অন্য কেউ দায়িত্ব গ্রহণে সক্ষম না হয়। কারণ সাধ্যানুযায়ী ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা ও যুলুমকে প্রতিহত করা ফরজে কিফায়া। প্রত্যেক ব্যক্তি তার সক্ষমতা অনুযায়ী এ ফরজিয়ত আদায়ের চেষ্টা করবে; যদি তার পক্ষ থেকে অন্য কেউ সে দায়িত্ব পালন না করে।”(ইবনু তাইমিয়া; মাজমুউল ফাতাওয়া; খণ্ড: ৩০; পৃষ্ঠা: ৩৫৬-৩৬০; থেকে সংকলিত] জ্ঞাতব্য হচ্ছে- মুকুস (হারাম ট্যাক্স) আদায় করা মারাত্মক হারাম। এটি কবিরা গুনাহ। কিন্তু একজন নেককার মুসলিমের এ পদের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্যে যেহেতু সাধ্যমত অকল্যাণকে হ্রাস করা ও সীমিত করার সুযোগ রয়েছে তাই তার জন্য এটি জায়েয হবে।
.
বিগত শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও উসূলবিদ, আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ, ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) শাইখুল ইসলাম (রহঃ) এর একটি বাণীর উপর সংযোজন করতে গিয়ে বলেন: “والمصالح العامة يجب مراعاتها ، لو مثلا تركنا مسألة الطب ، وصار أهل الخير لا يتعلمون الطب ، قال : كيف أتعلم الطب وإلى جانبنا نساء ممرضات ومتعلمات ومطبقات لمعلومات؟ نقول : هل أنت إذا امتنعت عن هذا هل سيبقى الجو فارغا ؟ سيأتي أناس خبثاء يفسدون في الأرض بعد إصلاحها ، وأنت ربما إذا اجتمعت أنت والثاني والثالث والرابع ، ربما في يوم من الأيام يهدي الله ولاة الأمور ويجعلون النساء على حدة والرجال على حدة“সাধারণ কল্যাণকে রক্ষা করতে হবে। উদাহরণত: আমরা যদি ডাক্তারিবিদ্যা ছেড়ে দিতে বলি এবং ভাল লোকেরা ডাক্তারিবিদ্যা অর্জন না করে; বলে যে, আমরা কিভাবে চিকিৎসাবিদ্যা অর্জন করব; আমাদের পাশে থাকে মহিলা নার্স, শিক্ষার্থী, ইন্টার্নী ডাক্তার? আমরা বলব: আপনি যদি এ ডাক্তারিবিদ্যা অর্জন করা থেকে বিরত থাকেন তাহলে এ বিদ্যার ময়দান কি খালি থাকবে? অচিরেই খারাপ লোকগুলো এ ময়দান দখল করে নিবে এবং জমিনে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে দিবে। বরং আপনারা একজন, দুইজন, তিনজন, চারজন যদি একত্রিত হন আশা করি এমন একদিন আসবে যেদিন আল্লাহ তাআলা রাষ্ট্রপ্রধানকে হেদায়েত দিবেন এবং তিনি মহিলাদের জন্য আলাদা ও পুরুষদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করবেন।”(শারহ কিতাবুস-সিয়াসা আল-শারইয়্যা, পৃষ্ঠা-১৪৯)
.
সুতরাং যেহেতু বাংলাদেশের হাসপাতালসমূহে অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের মিশ্রিত চিকিৎসা-পরিবেশ বিরাজমান এবং পৃথক চিকিৎসা-ব্যবস্থা খুবই সীমিত; তাই এ বাস্তবতায় পুরুষ চিকিৎসকের জন্য শরীয়তসম্মত নীতিমালা, প্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ ও বৈধতার শর্তাবলি কঠোরভাবে অনুসরণ করা আবশ্যক।যেন চিকিৎসার প্রয়োজন পূরণ হওয়ার পাশাপাশি শরীয়তের বিধিবিধানও সংরক্ষিত থাকে এবং প্রয়োজনের সীমা অতিক্রম না হয়। অতএব, প্রয়োজন বা জরুরি পরিস্থিতিতে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত ও বিধিনিষেধের অধীনে পুরুষ ডাক্তারের জন্য মহিলা রোগী দেখা বৈধ হতে পারে।
যেমন—
.
(১).নারী রোগীর সাথে নির্জনে অবস্থান না করা: নারী রোগী দেখার ক্ষেত্রে পুরুষ ডাক্তারের জন্য নির্জনে অবস্থান করা বৈধ নয়। তাই রোগীর সাথে তাঁর কোনো মাহরাম—যেমন: স্বামী, বাবা বা ভাই—উপস্থিত থাকতে হবে। আর যদি মাহরাম উপস্থিত না থাকেন, তবে এমন কোনো বিশ্বস্ত নারী উপস্থিত থাকলেও যথেষ্ট, যার উপস্থিতিতে শালীনতা ও পর্দার পরিবেশ বজায় থাকে; যেমন রোগীর মা বা অন্য কোনো নারী সহকারী। কারণ এতে খলওয়াহ (নির্জন অবস্থান) দূর হয়ে যায়।
.
​(২).পুরুষ ডাক্তারের সামনে নারী রোগীর পূর্ণাঙ্গ পর্দা বজায় রাখা:অর্থাৎ চিকিৎসার প্রয়োজন দেখা দিলেও নন-মাহরাম নারী ও পুরুষের মাঝে শরীয়ত নির্ধারিত পর্দার বিধান যথাসম্ভব বজায় রাখা আবশ্যক। নারী রোগীর জন্য পুরুষ ডাক্তারের সামনে শালীনতা, লজ্জাশীলতা ও পরিপূর্ণ পর্দার নীতিমালা অনুসরণ করা ফরজ। চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রয়োজনের কারণে যতটুকু ছাড় অনুমোদিত, তা কেবল প্রয়োজনের সীমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে; এর বাইরে অপ্রয়োজনীয়ভাবে শরীর প্রকাশ, সৌন্দর্য প্রদর্শন বা পর্দার বিধান শিথিল করা বৈধ নয়। সুতরাং চিকিৎসার সময়ও নারী ও পুরুষ উভয়ের কর্তব্য হলো—আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা মেনে চলা, দৃষ্টি সংযত রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সর্বোচ্চ মাত্রায় পর্দা ও শালীনতা বজায় রাখা।
.
(৩).রোগীর শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় অংশই দেখা:পুরুষ ডাক্তারের জন্য চিকিৎসার প্রয়োজনে যতটুকু দেখা অপরিহার্য, ততটুকুতেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে; এর অতিরিক্ত কোনো অংশের দিকে দৃষ্টি দেওয়া বৈধ নয়। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের উচিত আল্লাহ তাআলাকে ভয় করা, সর্বদা এ বিশ্বাস হৃদয়ে জাগ্রত রাখা যে, আল্লাহ তাকে দেখছেন এবং তাঁর সকল কর্মের হিসাব সংরক্ষণ করছেন।
.
(৪).রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার প্রয়োজনেই ডাক্তার রোগীর শরীরের যে অংশ পরীক্ষা করা অপরিহার্য, কেবল সেই পরিমাণই স্পর্শ করা বৈধ; এর বাইরে অতিরিক্ত বা অপ্রয়োজনীয় স্পর্শ সম্পূর্ণ পরিহার করতে হবে। আর যদি সরাসরি স্পর্শ ছাড়া পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়—যেমন কোনো মহিলা রোগীকে অন্য কোনো মহিলার সহায়তায় পরীক্ষা করা, অথবা পুরুষ ডাক্তার দস্তানা (গ্লাভস), কাপড় কিংবা অন্য কোনো উপযুক্ত আবরণ ব্যবহার করে পরীক্ষা করতে পারেন—তাহলে সেই পদ্ধতিই অনুসরণ করা আবশ্যক। কেননা, এ ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো প্রয়োজনকে সর্বনিম্ন পর্যায়ে সীমাবদ্ধ রাখা এবং যথাসম্ভব সরাসরি স্পর্শ এড়িয়ে চলা।
.
​(৫).নারী রোগীর সাথে কথাবার্তা কেবল প্রয়োজনীয় সীমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা:অর্থাৎ,পুরুষ ডাক্তারের জন্য নারী রোগীর সাথে আলোচনা, প্রশ্নোত্তর ও কথাবার্তা শুধুমাত্র রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা প্রদান এবং প্রয়োজনীয় মেডিকেল তথ্য জানার পরিমাণেই সীমাবদ্ধ থাকবে। চিকিৎসাগত প্রয়োজন ব্যতীত অপ্রয়োজনীয়, দীর্ঘ, ব্যক্তিগত, হাসি-তামাশাপূর্ণ বা অতিরিক্ত আলাপচারিতা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। শরয়ি শালীনতা, পেশাগত সৌজন্য ও প্রয়োজনের নীতিমালা বজায় রেখেই যোগাযোগ করতে হবে। অতএব কোনো ডাক্তার যদি এই বিষয়গুলো মেনে চলেন, তবে প্রয়োজনবশত তাঁর জন্য নারী রোগীদের চিকিৎসা করায় কোনো অসুবিধা নেই।
.
এ বিষয়ে ‘ইসলামী ফিকাহ একাডেমি’ থেকে একটি সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে রয়েছে:” الأصل أنه إذا توافرت طبيبة متخصصة يجب أن تقوم بالكشف على المريضة ، وإذا لم يتوافر ذلك فتقوم بذلك طبيبة غير مسلمة ثقة ، فإن لم يتوافر ذلك يقوم به طبيب مسلم ، وإن لم يتوافر طبيب مسلم يمكن أن يقوم مقامه طبيب غير مسلم ، على أن يطّلع من جسم المرأة على قدر الحاجة في تشخيص المرض ومداواته وألا يزيد عن ذلك وأن يغض الطرف قدر استطاعته ، وأن تتم معالجة الطبيب للمرأة هذه بحضور محرم أو زوج أو امرأة ثقة خشية الخلوة. “শরিয়তের মূল বিধান হচ্ছে- বিশেষজ্ঞ মহিলা ডাক্তার মহিলা রোগীর চেক-আপ করবেন। যদি মুসলিম মহিলা ডাক্তার না পাওয়া যায় তাহলে বিশ্বস্ত অমুসলিম মহিলা ডাক্তার মহিলা রোগীর চেক-আপ করবেন। যদি অমুসলিম মহিলা ডাক্তারও না পাওয়া যায় তাহলে মুসলিম পুরুষ ডাক্তার মহিলা রোগীর চেক-আপ করবেন। যদি মুসলিম ডাক্তারও না পাওয়া যায় তাহলে অমুসলিম পুরুষ ডাক্তার সে দায়িত্ব পালন করবেন। তবে শর্ত হল, পুরুষ ডাক্তার রোগিনীর শরীরের ততটুকু দেখবেন যতটুকু দেখা রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার স্বার্থে প্রয়োজন; এর বেশি দেখবে না এবং সাধ্যমত দৃষ্টি অবনত রাখবে। পুরুষ ডাক্তারকে রোগিনীর চিকিৎসা করতে হবে রোগিনীর মোহরেম কিংবা স্বামী কিংবা কোন বিশ্বস্ত নারীর উপস্থিতিতে; যাতে করে নিষিদ্ধ নির্জনবাস না ঘটে।”(একাডেমীর জার্নাল থেকে সংকলিত (৮/১/৪৯)
.
বিগত শতাব্দীর সৌদি আরবের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ শাইখুল ইসলাম ইমাম ‘আব্দুল ‘আযীয বিন ‘আব্দুল্লাহ বিন বায আন-নাজদী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২০ হি./১৯৯৯ খ্রি.] বলেছেন:الواجب أن تكون الطبيبات مختصات للنساء ، والأطباء مختصين للرجال إلا عند الضرورة القصوى إذا وجد مرض في الرجال ليس له طبيب رجل ، فهذا لا بأس به ، والله يقول : ( وقد فصل لكم ما حرم عليكم إلا ما اضطررتم إليه ) الأنعام / 119“আবশ্যক (ওয়াজিব) হলো—নারী চিকিৎসকরা নারীদের চিকিৎসার জন্য বিশেষভাবে নির্ধারিত থাকবেন এবং পুরুষ চিকিৎসকরা পুরুষদের চিকিৎসার জন্য বিশেষভাবে নির্ধারিত থাকবেন। তবে চরম অপরিহার্যতার পরিস্থিতি হলে ভিন্ন কথা; যেমন, পুরুষদের মধ্যে এমন কোনো রোগ দেখা দিল, যার জন্য কোনো পুরুষ চিকিৎসক পাওয়া যায় না—তাহলে সে ক্ষেত্রে (নারী চিকিৎসকের মাধ্যমে চিকিৎসা গ্রহণে) কোনো অসুবিধা বা গুনাহ নেই। আর আল্লাহ তাআলা বলেছেন:”তিনি তোমাদের জন্য বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করে দিয়েছেন, কোন কোন বিষয় তোমাদের ওপর হারাম করা হয়েছে; তবে সেই অবস্থা ব্যতীত, যখন তোমরা বাধ্য বা নিরুপায় হয়ে পড়ো।”(সূরা আল-আন‘আম: ১১৯; ফাতাওয়া আজিলা লি-মানসুবিস সিহহাহ; পৃষ্ঠা: ২৯)।
.
সর্বোচ্চ ‘উলামা পরিষদের সম্মানিত সদস্য, বিগত শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও উসূলবিদ, আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ, ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২১ হি./২০০১ খ্রি.]-কে জিজ্ঞেস করা হয় যে, “আমরা একদল ডাক্তার রিয়াদে চাকুরী করি। আমাদের ডিউটিকালে পুরুষ ও মহিলা রোগী আসে। কখনো কখনো কোন মহিলা রোগী মাথা ব্যথা বা পেটে ব্যথার কথা বলেন। পরিপূর্ণ চিকিৎসার দাবী হচ্ছে- রোগিনীকে পরীক্ষা করে দেখা। পরীক্ষার মাধ্যমে মাথা ব্যথার কারণ নির্ণয় করা। রোগের কারণ নির্ণয় করতে গেলে রোগীর পেট কিংবা মাথা কিংবা অন্য কোন অঙ্গ পরীক্ষা করার প্রয়োজন হয়; যাতে করে ডাক্তারের উপর কোন দায় না আসে। আর যদি রোগিনীকে পরীক্ষা করা না হয় হতে পারে এতে করে রোগিনী ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। অর্থাৎ এক্ষেত্রে পরীক্ষা না করারও সুযোগ আছে। তবে যথাযথ কনসালটেন্সির করতে গেলে পরীক্ষা করা প্রয়োজন…। শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) জবাবে বলেন:”الواجب على إدارة المستشفى أن تلاحظ هذا وأن تجعل المناوبة بين الرجال والنساء حتى إذا احتاج النساء المرضى أن يُعالجن أو يفحصن أُرسل إليهن النساء ، فإذا لم تقم الإدارة بهذا الواجب عليها ولم تبال فأنتم لا حرج أن تفحصوا النساء ، لكن بشرط ألا يكون هناك خلوة أو شهوة ، وأيضا يكون هناك حاجة إلى الفحص ، فإن لم يكن حاجة وأمكن تأخير الفحص الدقيق إلى وقت تحضر فيه النساء فأخروه ، وإذا كان لا يمكن فهذه حاجة ولا بأس بها”হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কর্তব্য হচ্ছে- পুরুষ ডাক্তার ও মহিলা ডাক্তারের মাঝে এমনভাবে ডিউটি ভাগ করে দেয়া যাতে করে মহিলা রোগী আসলে তাদের চেক-আপ করা ও পরীক্ষা করার জন্য মহিলা ডাক্তারের কাছে পাঠানো যায়। যদি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ কর্তব্য পালন না করে, এ বিষয়ে ভ্রূক্ষেপ না করে তাহলে মহিলাদের চিকিৎসা করায় আপনারা গুনাহগার হবেন না। তবে শর্ত হচ্ছে- চিকিৎসাকালে কোন মহিলা রোগীর সাথে নির্জনবাস না ঘটা এবং যৌন উত্তেজনা না আসা এবং প্রকৃতপক্ষে রোগীকে পরীক্ষা করার প্রয়োজন থাকা। যদি পরীক্ষা করার প্রয়োজন না থাকে, কিংবা সূক্ষ্ম পরীক্ষা পরবর্তীতে মহিলা ডাক্তার আসার পর করলেও চলে তাহলে সে পরীক্ষা পরবর্তীতেই করতে হবে। আর যদি দেরী করার সুযোগ না থাকে; তাহলে এটি প্রয়োজন। এমতাবস্থায় পুরুষ ডাক্তার মহিলা রোগীর চিকিৎসা করলে গুনাহ হবে না।”(ইবনু উসাইমীন; লিকাআতুল বাব আল-মাফতুহ (১/২০৬)
.
আমরা আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের পরিবেশ-পরিস্থিতি ও মুসলমানদের পরিবেশ-পরিস্থিতি শোধরে দেন। আমাদেরকে প্রকাশ্য ও গোপন সকল ফেতনা থেকে বাঁচিয়ে রাখেন। নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, নিকটবর্তী ও দোয়াতে সাড়াদানকারী। আল্লাহই ভাল জানেন।
▬▬▬▬▬◖◉◗▬▬▬▬▬
উপস্থাপনায়: জুয়েল মাহমুদ সালাফি।

Share: