ইহরাম সম্পর্কিত বিদআত সমূহ:
- উচ্চৈঃস্বরে নিয়ত পড়া।
- তাওয়াফ ব্যতীত অন্য সময় ইহরাম অবস্থায় ডান কাঁধ খালি রেখে ডান বগলের নীচ দিয়ে ইহরামের কাপড় পরিধান করা। যা শুধুমাত্র তাওয়াফের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। তাওয়াফ ব্যতীত অন্য সময় তা করা বিদআত। এমনকি বর্তমানে অনেকেই ডান কাঁধ খোলা রাখা অবস্থাতেই সালাত আদায় করে থাকেন। অথচ কাঁধ খোলা রাখা অবস্থায় সালাত আদায় করলে সালাত শুদ্ধ হবে না।
- দলবদ্ধভাবে তালবিয়া পাঠ করা। মীকাত থেকে ইহরাম বেঁধে স্ব স্ব তালবিয়া পাঠ করতে হয়। কিন্তু অনেকেই দলবদ্ধভাবে সম্মিলিতভাবে তালবিয়া পাঠ করে থাকেন যা বিদআত।
- পুরুষের নিম্নস্বরে তালবিয়া পাঠ। পুরুষের উচ্চৈঃস্বরে এবং মহিলাদের নিম্নস্বরে স্ব স্ব তালবিয়া পাঠ করাই হল সুন্নাত।
- মসজিদ আয়েশা বা তানীম মসজিদ থেকে ইহরাম বেঁধে বার বার উমরা পালন করা।
তাওয়াফ সম্পর্কিত বিদআত সমূহ:
- তাওয়াফের উদ্দেশ্যে মসজিদুল হারামে প্রবেশের পর তাহিয়াতুল মসজিদ আদায় করা।
- মসজিদুল হারামে নির্দিষ্ট দরজা দিয়ে প্রবেশ করাকে বাধ্যতামূলক ও শরীআতের বিধান মনে করা।
- তাওয়াফ শুরুর সময় উচ্চারণ করে নিয়ত পাঠ করা। শুধু মাত্র মিকাতে ইহরামে প্রবেশ করার সময় ইহরামের নিয়ত মুখে উচ্চারণ করে পড়তে হয়।
- মনগড়া দোয়া পড়া।
- হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করার সময় রাফউল ইয়াদায়েন করা।
- রুকনে ইয়ামানতে চুম্বন করা।
- মাকামে ইবরাহিমে হাত বুলানো বা চুম্বন করা।
- কাবার গিলাফ, দেয়াল, দরজা প্রভৃতি স্থানে হাত দিয়ে ধরে বা মুখ-বুক লাগিয়ে বরকত কামনা করা বা দোয়া বা কান্নাকাটি করা। ইহরাম অবস্থায় কাবার সুগন্ধি স্পর্শ করা ইহরামের বিধান লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হয়। কারণ কাবার গিলাফ (কিসওয়া)-তে প্রচুর পরিমাণে সুগন্ধি বা পারফিউম ব্যবহার করা হয়। ইহরাম অবস্থায় আপনি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে সুগন্ধিযুক্ত ওই কাপড় স্পর্শ করেন অথবা সুগন্ধি আপনার ত্বক বা কাপড়ে লেগে যায়, তাহলে তা সঙ্গে সঙ্গে ধুয়ে ফেলতে হবে এবং আপনাকে দম (জরিমানা) আদায় করতে হবে।
- তাওয়াফের সময় দলব্ধভাবে সম্মিলিত দোয়া পাঠ করা।
- হাতীমের মধ্যে দিয়ে তাওয়াফ করা। কাবার উত্তর পার্শ্বে স্বল্প উচ্চ দেওয়াল ঘেরা হাতীেমের বাহির দিয়ে তাওয়াফ করতে হবে। ভিতর দিয়ে গেলে ঐ তাওয়াফ বাতিল হয়ে যাবে এবং পুনরায় আরেকটি তাওয়াফ করতে হবে।
- প্রতিটি চক্করে আলাদা আলাদা নির্দিষ্ট দোয়া পাঠ করা।
- তাওয়াফের সময় প্রথম তিন চক্করে ‘রমল’ না করা অথবা প্রতি চক্করেই রমল করা।
- রমলের সময় নির্দিষ্ট কোন দো‘আ পাঠ
- হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ বা চুম্বনের সময় নির্দিষ্ট দোয়া পাঠ করা।
- রুকনে ইরাক্বী ও রুকনে শামী স্পর্শ করা।
- রুকনে ইয়ামানির দিকে ইশারা করা ও তাকবীর বলা। রুকনে ইয়ামানি স্পর্শ করা সুন্নাত। কিন্তু কোন কারণে স্পর্শ করতে না পারলে ইশারা করার এবং তাকবীর বলার কোন বিধান নেই।
- হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করে দু’হাত উঁচু করে সগর্বে আল্লাহু আকবার বলা। অনেকেই হাজরে আসওয়াদকে স্পর্শ ও চুম্বন করাকে অনেক গর্ব মনে করেন। তাই হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ ও চুম্বন করে দু’হাত উঁচু করে সগর্বে ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি দিয়ে সকলকে জানিয়ে দেন যে আমি পেরেছি।
সাঈ সম্পর্কিত বিদআত সমূহ:
- সাঈ শুরুর পূর্বে উচ্চারণ করে নিয়ত পাঠ করা।
- অধিক সওয়াবের প্রত্যাশায় সাঈ শুরুর পূর্বে ওযূ করা।
- মনগড়া দোয়া পড়া।
- কুরআন ও সহীহ হাদীসে বর্ণিত সা‘ঈর নির্দিষ্ট দোয়ার সাথে অন্য দোয়া নির্দিষ্ট করা।
- সাঈ করার সময় প্রত্যেক চক্করে নির্দিষ্ট দোয়া করা।
- মহিলাদের সাফা-মারওয়ার মাঝখানে সবুজ লাইট চিহ্নিত স্থানে দ্রুত চলা বা দৌড়ানো।
- সাঈ শেষে সালাত আদায় করা।
যমযম সম্পর্কিত বিদআত সমূহ:
- যমযম পানি পানের সময় নির্দিষ্ট দোয়া পড়া।
- এটা মনে করা যে যমযম পানি দাঁড়িয়েই পান করতে হবে।
- এটা মনে করা যে যমযম পানি কেবলামুখী হয়েই পান করতে হবে।
- বরকত লাভের উদ্দেশে জমজম কূপের দেয়াল বা কল স্পর্শ করা।
- বরকত লাভের উদ্দেশে শরীরে যমযম পানি ঢালা।
- বরকত লাভের উদ্দেশে যমযমের পানি দ্বারা ইহরামের কাপড় ধৌত করা।
মক্কা ও মদিনায় যিয়ারত সম্পর্কিত বিদআত সমূহ:
- নির্দিষ্ট পাহাড় বা স্থানে গিয়ে বিশেষ ইবাদত আবশ্যক মনে করা। যেমন জাবালে নূর (হেরা গুহা) বা জাবালে সাওরে গিয়ে সালাত আদায় করাকে সওয়াবের কাজ বা উমরার অংশ মনে করা।
- নির্দিষ্ট পাহাড় বা স্থান বা গুহায় গিয়ে সালাত আদায় করা বা দোয়া করা।
- জাবালে রহমত (আরাফার ময়দান) বা অন্য কোনো পাহাড়ে পাথর নিক্ষেপ করা বা সেখানে নাম লিখে রাখাকে সওয়াবের কাজ মনে করা।
- মক্কা বা মদিনার বা সেখানের পাহাড়ের মাটি বা পাথর বা গাছের পাতা বরকতের জন্য নিয়ে আসা।
- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কবরের উদ্দেশ্যেই শুধু সফর করা।
- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কবর যিয়ারতকে হজ বা উমরার অংশ মনে করা।
- মদীনায় প্রবেশের পূর্বে সুন্নাহ মনে করে গোসল করা, নির্দিষ্ট আয়াত বা দোয়া পড়া যা কুরআন-হাদিসে নেই।
- মসজিদে নববীতে প্রবেশ করে কোন সালাত আদায়ের পূর্বেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর যিয়ারতের জন্যে যাওয়া।
- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবরের সামনে সালাতে দাঁড়ানোর মত ডান হাত বাম হাতের ওপর রেখে হাত বেঁধে দাঁড়ানো।
- দোয়া করার সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবরের দিকে ফিরে দোয়া করা।
- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর যিয়ারতের সময় নির্দিষ্ট কোনো দোয়া বা দরুদ বানানো, যা হাদিসে বর্ণিত হয়নি।
- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবরের দিকে ফিরে দোয়া করলে কবুল হবে মনে করা।
- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সত্ত্বা ও তাঁর সম্মানের অসীলা দিয়ে দু’আ করা।
- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে সুপারিশ চাওয়া।
- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে কোনো কিছু চাওয়া। আল্লাহ ব্যতীত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে কোনো প্রয়োজন পূরণের জন্য প্রার্থনা করা। এরূপ করা নিঃসন্দেহে বড় শিরক।
- এটা মনে করা যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের অবস্থা জানেন। এরূপ মনে করা সুস্পষ্ট শিরক।
- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবরকে সেজদা করা বা রুকু করা। যা সুস্পষ্ট শিরক।
- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবরের ছোট ছিদ্র পথে বরকত লাভের আশায় হাত ঢুকানো। এটাও শিরক।
- বরকত লাভের আশায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর চুম্বন করা অথবা স্পর্শ করা এবং কবরের সাথে লাগোয়া কোন কাঠ স্পর্শ করা বা চুব্বন করা।
- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কবরের দিকে ফিরে সালাত আদায় করা।
- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কবরের কাছে বসে কুরআন পাঠ বা যিকর করা।
- প্রতি সালাতের পরই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কবর যিয়ারতের জন্য কবরের কাছে যাওয়া।
- মসজিদে নববীতে প্রবেশ করার সময় এবং বের হওয়ার সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কবরের দিকে মুখ করে থাকা।
- দূর থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কবরকে উদ্দেশ্য করে বিনীতভাবে দাঁড়িয়ে কান্নাকাটি করা।
- সালাতের পর পর আসসালামু আলাইকা ইয়া রাসূলাল্লাহ বলা।
- মসজিদের প্রথম অংশ বাদ দিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কবরে সালাত পড়া উত্তম মনে করা।
- মসজিদে নববীর মিম্বার, মেহরাব, স্তম্ভ, দরজা, রেলিং, সবুজ গম্বুজ থেকে পড়া পানি ইত্যাদি দিয়ে “তাবারুক” নেওয়া।
- মসজিদ নববী এবং কুবা মসজিদ ছাড়া অন্য মসজিদে সওয়াবের উদ্দেশ্যে গমন করা।
- মসজিদ নববী থেকে বের হওয়ার সময় পেছন দিকে উল্টো হেঁটে বের হওয়া।
- জান্নাতুল বাকী বা উহুদের শহীদদের কবরে অতিরিক্ত আচার। যেমন: কবরের উপর হাত রাখা, চুম্বন করা, বরকতের আশায় মাটি নেওয়া, তাদের কাছে কিছু চাওয়া, তাদের দিকে ফিরে দোয়া করা।
- প্রতিদিন বাকী কবরস্থান যিয়ারত করা বা যিয়ারতকে আবশ্যিক বা বিশেষ ফজিলতের মনে করা।