প্রশ্ন: আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে সাদকাহ করে দেওয়া কোনো সম্পদ পরবর্তীতে নিজেই পুনরায় ক্রয় করতে পারবে কি?
▬▬▬▬▬▬▬◄❖►▬▬▬▬▬▬▬▬
ভূমিকা: পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু মহান আল্লাহর নামে শুরু করছি। যাবতীয় প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ তাআলার জন্য, যিনি তাঁর বান্দাদের ইবাদত, দান-সাদকাহ ও নেক আমলের মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য অর্জনের পথ দেখিয়েছেন। অসংখ্য দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ ﷺ-এর প্রতি, যিনি উম্মতকে দান-সদকার আদব, বিধান ও সীমারেখা শিক্ষা দিয়েছেন। ইসলামে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো সম্পদ সাদকাহ করে দেওয়া নিঃসন্দেহে মহান ইবাদত। তবে কোনো সম্পদ শরিয়তসম্মতভাবে সাদকাহ করে দেওয়ার পর তা পুনরায় নিজের মালিকানায় ফিরিয়ে নেওয়া বা নিজেই তা ক্রয় করে নেওয়ার বিধান কী—এ বিষয়ে শরিয়তের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। কুরআন-সুন্নাহর দলিল ও সাহাবায়ে কেরামের আমল থেকে প্রতীয়মান হয় যে, কোনো ব্যক্তি নিজে যে সম্পদ আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সাদকাহ করে দিয়েছে, পরবর্তীতে তা সরাসরি ক্রয় করে নিজের মালিকানায় ফিরিয়ে নেওয়া জায়েয নয়। এর সুস্পষ্ট দলিল হলো,ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আল্লাহর পথে একটি ঘোড়া দান করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি দেখলেন, যার কাছে ঘোড়াটি ছিল সে যথাযথভাবে তার যত্ন নিচ্ছে না এবং সে আর্থিকভাবেও অসচ্ছল। তাই উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ঘোড়াটি পুনরায় কিনে নেওয়ার ইচ্ছা করলেন। তিনি বিষয়টি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে জানালে তিনি বললেন:لا تشتره ، وإن أعطيته بدرهم ، فإن مثل العائد في صدقته كمثل الكلب يعود في قيئه “তুমি তা কিনো না, যদিও সে তোমাকে মাত্র এক দিরহামের বিনিময়েও দিতে চায়। কেননা যে ব্যক্তি নিজের সাদকাহ ফিরিয়ে নেয়, তার দৃষ্টান্ত সেই কুকুরের মতো, যে নিজের বমি পুনরায় খায়।”(সহীহ বুখারি হা/২৬২৩ ও ইমাম মুসলিম হা/১৬২০) লক্ষণীয় বিষয় হল, এখানে রাসূল (ﷺ) যথার্থ কারণ থাকা সত্ত্বেও উমার ফারুক্ব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে টাকার বিনিময়েও স্বীয় দানকৃত ঘোড়া ক্রয় করতে নিষেধ করেছেন।হাদিসের আলোকে ইবনুল মালিক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,হাদীসটির বাহ্যিক অর্থ থেকে বোঝা যায় যে, সাদকাহকারী পরবর্তীতে নিজের সাদকাহকৃত বস্তু পুনরায় ক্রয় করা থেকে বিরত থাকবে কেননা তা হারাম; যদিও অধিকাংশ আলেম এটিকে মাকরূহে তানযীহী—অর্থাৎ অপছন্দনীয় বলে মত দিয়েছেন। হাফিয ইবনু হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন:”সাদকাহকৃত পশু কম মূল্যে হলেও পুনরায় ক্রয় করাকে রাসূলুল্লাহ ﷺ সদাকাহ থেকে ফিরে আসার সঙ্গে তুলনা করেছেন; কারণ সাদকাহ করার উদ্দেশ্য ছিল আখিরাতের সাওয়াব অর্জন, অথচ পুনরায় তা ক্রয় করা যেন দুনিয়াকে আখিরাতের ওপর প্রাধান্য দেওয়ার সদৃশ। নিজের সাদকাহ পুনরায় কিনে নেওয়া হারাম—এ মতটি ইমাম আহমদ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মাজহাবেরও মত। আর উল্লেখিত হাদিসের কারণে এই মতটিই অধিক শক্তিশালী।
.
হাদিসটির ব্যাখ্যায় শাফি‘ঈ মাযহাবের প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও ফাক্বীহ, ইমাম মুহিউদ্দীন বিন শারফ আন-নববী (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ৬৭৬ হি.] বলেছেন,
ثقوله: (حملت على فرس عتيق في سبيل الله) : معناه تصدقت به ووهبته لمن يقاتل عليه في سبيل الله، والعتيق الفرس النفيس الجواد السابق. قوله: ( فأضاعه صاحبه ) أي قصر في القيام بعلفه أو مؤنته. قوله صلى الله عليه و سلم: (لا تبتعه ولا تعد في صدقتك ) هذا نهي تنزيه لا تحريم، فيكره لمن تصدق بشيء، أو أخرجه في زكاة أو كفارة أو نذر، ونحو ذلك من القربات : أن يشتريه ممن دفعه هو إليه ، أو يتهبه ، أو يتملكه باختياره منه. فأما إذا ورثه منه : فلا كراهة فيه ، وقد سبق بيانه في كتاب الزكاة . وكذا لو انتقل إلى ثالث ، ثم اشتراه منه المتصدق : فلا كراهة. هذا مذهبنا ومذهب الجمهور. وقال جماعة من العلماء: النهي عن شراء صدقته : للتحريم، والله أعلم “
“আমি আল্লাহর পথে একটি উৎকৃষ্ট ঘোড়া দান করেছিলাম”—এর অর্থ হলো, তিনি ঘোড়াটি এমন ব্যক্তিকে দান করেছিলেন, যে আল্লাহর পথে যুদ্ধের কাজে তা ব্যবহার করবে। ‘আতীক’ বলতে মূল্যবান, উৎকৃষ্ট ও দ্রুতগামী ঘোড়াকে বোঝায়। আর “তার মালিক সেটির প্রতি অবহেলা করেছিল”—এর অর্থ হলো, সে ঘোড়াটির খাদ্য ও প্রয়োজনীয় ব্যয় বহনের ক্ষেত্রে ত্রুটি করেছিল। রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর বাণী, “তুমি তা কিনে নিয়ো না এবং তোমার সাদকাহর মধ্যে ফিরে যেয়ো না”—এটি নিষেধসূচক হলেও হারাম নয়; বরং মাকরূহ। অতএব, যে ব্যক্তি কোনো বস্তু সাদকাহ করেছে, অথবা যাকাত, কাফফারা, মানত কিংবা এ ধরনের কোনো নেক আমলের উদ্দেশ্যে তা প্রদান করেছে, তার জন্য সে বস্তুটি যাকে প্রদান করেছিল, তার কাছ থেকে পুনরায় কিনে নেওয়া, তার কাছ থেকে হিবা হিসেবে গ্রহণ করা, অথবা তার স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতিতে পুনরায় নিজের মালিকানায় নিয়ে নেওয়া মাকরূহ।তবে যদি তা উত্তরাধিকার সূত্রে তার মালিকানায় আসে, তাহলে এতে কোনো কেরাহাত নেই; এর আলোচনা পূর্বে কিতাবুয যাকাতে উল্লেখ করা হয়েছে। অনুরূপভাবে, বস্তুটি যদি তৃতীয় কোনো ব্যক্তির মালিকানায় চলে যায় এবং এরপর দানকারী সেই তৃতীয় ব্যক্তির কাছ থেকে তা ক্রয় করে, তাহলেও এতে কোনো কেরাহাত নেই। এটি আমাদের (শাফেয়ি) মাজহাব ও অধিকাংশ আলেমের মত। আর একদল আলেমের মতে, নিজের সাদকাহ পুনরায় ক্রয় করার ব্যাপারে যে নিষেধাজ্ঞা এসেছে, তা হারামের অর্থে; আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞানী।” (ইমাম নববী, শারহু সহীহ মুসলিম, ১১ তম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৬২)
.
হাম্বলী মাযহাবের বিখ্যাত আলেম ইমাম বুহূতী (রাহিমাহুল্লাহ) তার ‘কাশশাফুল ক্বিনা’ গ্রন্থে বলেন;
والمذهب أيضا : أنه يحرم ، ولا يصح شراؤه زكاته ولا صدقته ) ؛ لما روي عن عمر قال: حملت على فرس في سبيل الله ، فأضاعه الذي كان عنده، وأردت أن أشتريه ، وظننت أنه يبيعه برخص ، فسألت النبي صلى الله عليه وسلم ، فقال : لا تشتره ولا تعد في صدقتك ، وإن أعطاكه بدرهم ، فإن العائد في صدقته كالعائد في قيئه. متفق عليه .ولأن شراءها وسيلة إلى استرجاع شيء منها ، لأنه يستحيي أن يماكسه في ثمنها ، وربما سامحه طمعا منه بمثلها ، أو خوفا منه إذا لم يبعها أن لا يعود يعطيه في المستقبل، وكل هذه مفاسد ؛ فوجب حسم المادة…( وإن رجعت إليه ) زكاته أو صدقته ( بإرث ) : طابت له ، بلا كراهة ؛ لحديث بريدة أنه صلى الله عليه وسلم أتته امرأة ، فقالت : إني تصدقت على أمي بجارية ، وإنها ماتت فقال النبي صلى الله عليه وسلم : وجب أجرك وردها عليك الميراث . رواه الجماعة إلا البخاري والنسائي .( أو ) عادت إليه بـ ( هبة أو وصية أو أخذها من دينه ) : طابت له ، لأن ذلك كالإرث .( أو ردّها ) أي الزكاة ( له الإمام ، بعد قبضه منه ، لكونه ) ـ أي المالك ـ ( من أهلها ) ، أي الزكاة جاز له أخذها ، ( كما يأتي ) في الباب ؛ لأنها عادت إليه بسبب آخر ، فهو كما لو عادت إليه بميراث” ا
“হাম্বলী মাযহাবের মত হলো, কোনো ব্যক্তি যে সম্পদ যাকাত বা সাদকাহ হিসেবে দান করেছে, তা পুনরায় কিনে নেওয়া হারাম এবং এভাবে ক্রয় করলেও তা সহিহ হবে না। এর দলিল হলো উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিস। তিনি বলেন, “আমি আল্লাহর পথে একটি ঘোড়া দান করেছিলাম। যার কাছে ঘোড়াটি ছিল, সে সেটির যথাযথ যত্ন নেয়নি। পরে আমি সেটি কিনে নেওয়ার ইচ্ছা করলাম এবং ধারণা করলাম, সে হয়তো কম দামে তা বিক্রি করবে। তাই আমি নবী ﷺ-এর কাছে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, ‘তুমি তা কিনো না এবং তোমার সদকায় ফিরে যেয়ো না; যদিও সে তোমাকে তা এক দিরহামের বিনিময়েও দেয়। কেননা যে ব্যক্তি নিজের সাদকাহ ফিরিয়ে নেয়, সে ওই ব্যক্তির ন্যায়, যে নিজের বমি পুনরায় ভক্ষণ করে।’”—হাদিসটি মুত্তাফাকুন আলাইহি। নিজের সদকা বা যাকাতের সম্পদ ক্রয় করা নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ হলো,এটি সাদকাহর কিছু অংশ পুনরায় নিজের কাছে ফিরিয়ে নেওয়ার মাধ্যম হয়ে যায়। কেননা দানকারী সাধারণত গ্রহীতার সঙ্গে এর মূল্য নিয়ে দর-কষাকষি করতে সংকোচবোধ করে; আবার গ্রহীতা হয়তো তার কাছ থেকে অনুরূপ দান পাওয়ার আশায় তাকে কম মূল্যে তা দিয়ে দিতে পারে, অথবা সে যদি তা বিক্রি না করে, তাহলে ভবিষ্যতে দানকারী তাকে আর দান করবে না—এই আশঙ্কায়ও বিক্রি করতে পারে।এসবের মধ্যে নানা ধরনের অনিষ্ট ও ফাসাদের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এসবের পথ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা জরুরি।তবে তার যাকাত বা সাদকাহর সম্পদ যদি উত্তরাধিকার সূত্রে তার কাছে ফিরে আসে, তাহলে তা তার জন্য হালাল হবে; এতে কোনো কারাহাত নেই। এর দলিল বুরাইদাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিস—এক নারী নবী ﷺ-এর কাছে এসে বলল, “আমি আমার মায়ের কাছে একটি দাসী সাদকাহ করেছিলাম; এখন আমার মা মারা গেছেন।” নবী ﷺ বললেন, “তোমার সাদকাহর সওয়াব তোমার জন্য অবধারিত হয়েছে এবং সেটি উত্তরাধিকার হিসেবে তোমার কাছে ফিরে এসেছে।” অনুরূপভাবে, তা যদি হিবা (উপহার), ওসিয়ত অথবা নিজের পাওনা ঋণের বিনিময়ে তার কাছে ফিরে আসে, তাহলেও তা তার জন্য হালাল;কারণ এগুলো উত্তরাধিকারের মতোই অন্য একটি বৈধ পদ্ধতিতে তার কাছে ফিরে এসেছে যা উত্তরাধিকারের অনুরূপ।পাশাপাশি ইমাম/শাসক যদি তার কাছ থেকে যাকাত গ্রহণ করার পর পুনরায় তাকে তা ফিরিয়ে দেন, কারণ সে নিজেই যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত, তাহলেও সে তা গ্রহণ করতে পারবে। কারণ এখানে যাকাতটি অন্য একটি কারণে তার কাছে ফিরে এসেছে; সুতরাং এটি এমনই, যেমন তা উত্তরাধিকারসূত্রে তার কাছে ফিরে এসেছে।”(কাশশাফুল কিনা; খণ্ড: ২; পৃষ্ঠা: ২১৪)
.
সর্বোচ্চ ‘উলামা পরিষদের সম্মানিত সদস্য, বিগত শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও উসূলবিদ, আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ, ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২১ হি./২০০১ খ্রি.] বলেন:“যদি কেউ প্রশ্ন করে: যে ব্যক্তিকে কোনো হিবা (উপহার) দেওয়া হয়েছে, তার কাছ থেকে সেই উপহার কিনে নেওয়া কি জায়েয?
উত্তর হলো:لا يجوز؛ لأن الغالب أنك إذا اشتريت الهبة فسوف يخفض لك السعر ، ويستحي أن يماكسك، فلو وهبت له ما يساوي مائة ، ثم أردت أن تشتريه منه، فإنك لو قلت له: بثمانين، سوف يقول لك: خذها، ويخجل أن يقول: لا، إلا بمائة، وحينئذ تكون قد رجعت في بعض الهبة، لكن بطريق غير مباشر .ولهذا لما حمل أمير المؤمنين عمر ـ رضي الله عنه ـ على فرس له في سبيل الله، فأضاعه الذي حمله عليه، وظن عمر أنه يبيعه برخص، استأذن من النبي صلى الله عليه وسلم أن يشتريه فقال له: لا تشتره ولو باعكه بدرهم، العائد في هبته كالكلب يقيء ثم يعود في قيئه. أما إذا اشترى صدقته : فإنه أشنع؛ لأنه يتضمن شيئين: الرجوع في الهبة، والرجوع فيما أخرجه لله، وما أخرجه لله لا يجوز فيه الرجوع ، حتى البلد إذا هاجر الإنسان منها لله ، لا يجوز أن يرجع ويسكن فيها؛ لأنه تركها لله ، وما ترك لله فإنه لا يرجع فيه
“জায়েয নয়। কারণ, সাধারণত আপনি যখন নিজের দেওয়া উপহারটি তার কাছ থেকে কিনতে চাইবেন, তখন সে আপনার প্রতি সম্মানবশত মূল্যের ক্ষেত্রে ছাড় দেবে এবং আপনার সঙ্গে দরদাম করতে সংকোচবোধ করবে। যেমন, আপনি যদি তাকে এমন কোনো জিনিস উপহার দেন যার মূল্য একশত, অতঃপর সেটি তার কাছ থেকে পুনরায় কিনতে চান এবং তাকে বলেন, ‘আমি এটি আশি দিয়ে কিনব’; তখন সে হয়তো বলবে, ‘ঠিক আছে, নিয়ে নিন।’ কারন সে লজ্জার কারণে হয়তো বলবে না যে, ‘না, ১০০-এর কমে দেব না।’এভাবে আপনি সরাসরি নয়, বরং পরোক্ষভাবে আপনার দেওয়া হিবার কিছু অংশ নিজের কাছে ফিরিয়ে নিলেন। এ কারণেই আমিরুল মুমিনীন উমর (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু) যখন আল্লাহর পথে একটি ঘোড়া দান করেছিলেন এবং যার কাছে ঘোড়াটি ছিল সে সেটির দেখাশোনায় অবহেলা করল, তখন উমর (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু) ধারণা করলেন যে, সে হয়তো ঘোড়াটি কম দামে বিক্রি করবে। তাই তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে সেটি কিনে নেওয়ার অনুমতি চাইলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে বললেন: ‘তুমি সেটি ক্রয় করো না, যদিও সে তোমার কাছে মাত্র এক দিরহামের বিনিময়ে তা বিক্রি করে।’ কারণ, ‘যে ব্যক্তি তার হিবা (দান) ফিরিয়ে নেয়, সে ওই কুকুরের মতো, যে বমি করে আবার নিজের বমির দিকে ফিরে যায়।’ আর যদি কেউ নিজের সাদকাহ করা সম্পদ ক্রয় করে, তাহলে বিষয়টি আরও গুরুতর। কেননা, এতে দুটি বিষয় একত্রিত হয়—প্রথমত: নিজের হিবা ফিরিয়ে নেওয়া; দ্বিতীয়ত: আল্লাহর জন্য যে সম্পদ ব্যয় করে দেওয়া হয়েছে, তা পুনরায় নিজের কাছে ফিরিয়ে নেওয়া। আর আল্লাহর জন্য যে জিনিস ত্যাগ করা হয়েছে, তা পুনরায় ফিরিয়ে নেওয়া জায়েয নয়। এমনকি কোনো ব্যক্তি যদি আল্লাহর জন্য কোনো দেশ থেকে হিজরত করে,তাহলে সে আবার সেখানে ফিরে গিয়ে বসবাস করবে না; কারণ সে আল্লাহর জন্য সেই দেশ ত্যাগ করেছে। আর যে জিনিস আল্লাহর জন্য ত্যাগ করা হয়, তা পুনরায় ফিরিয়ে নেওয়া উচিত নয়।”(ইবনু উসাইমীন; আশ-শারহুল মুমতি‘ খণ্ড: ১১; পৃষ্ঠা: ৮৯)।
.
পরিশেষে বলা যায়, আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো সম্পদ সাদকাহ করে দেওয়ার পর তা পুনরায় নিজের মালিকানায় ফিরিয়ে নেওয়া অত্যন্ত সতর্কতার বিষয়। বিশেষত যে ব্যক্তিকে নিজে সাদকাহ করা হয়েছে, তার কাছ থেকেই সেই সম্পদ পুনরায় ক্রয় করা থেকে বিরত থাকা উচিত; বরং হাদিসের বাহ্যিক অর্থ এবং একদল আলেমের মত অনুযায়ী তা হারাম, আর অধিক সতর্ক ও শক্তিশালী মত হিসেবে এ থেকে বিরত থাকাই কর্তব্য। তবে উত্তরাধিকারসূত্রে বা স্বতন্ত্র কোনো বৈধ কারণে সম্পদটি পরবর্তীতে নিজের কাছে ফিরে এলে তার বিধান ভিন্ন। আর প্রশ্নে বর্ণিত পরিস্থিতিতে, প্রত্যেকে নিজের সাদকাহ করা সামগ্রী নিজে ক্রয় না করে অন্য বোনের সাদকাহ করা সামগ্রী ক্রয় করতে পারেন—এতে ইনশাআল্লাহ নিষিদ্ধ পন্থা থেকে বেঁচে গিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্দেশ্যও পূরণ হবে। অতএব, একজন মুমিনের কর্তব্য হলো—আল্লাহর জন্য যে সম্পদ ত্যাগ করেছেন, তা পুনরায় নিজের স্বার্থে ফিরিয়ে নেওয়ার পথ থেকে বেঁচে থাকা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা দানকে যথাসম্ভব নিষ্কলুষ রাখা। আল্লাহ তাআলাই সর্বাধিক জ্ঞানী।
▬▬▬▬▬◄❖►▬▬▬▬▬
উপস্থাপনায়: জুয়েল মাহমুদ সালাফি।