কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক বার্তা প্রচার করাই এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

হুন্ডির ব্যবসা কি এবং হুন্ডির মাধ্যমে দেশে টাকা পাঠানো জায়েজ কি

হুন্ডি ব্যাবসা বলতে বুঝায়, কোনো ব্যক্তি তার সম্পদ অন্য কোনো ব্যক্তিকে বা হুন্ডি ব্যবসায়ীকে প্রদান করা (ব্যাংকের মাধ্যমে নয়) যাতে সে নিরাপদে তার গন্তব্যে পৌঁছে দেয় আর পরিশ্রমের বিনিময়ে চুক্তি অনুযায়ী পারিশ্রমিক গ্রহণ করবে। বর্তমানে ব্যাংক সেবা বাস্তবায়িত হওয়ার পর অনেক দেশ হুন্ডি ব্যবসাকে অবৈধ অর্থ চালান হিসাবে আইন করেছে। সাধার‌ণত আন্তর্জাতিক স্তরে আদান-প্রদানকৃত টাকার একটা অংশ সরকারী আয়কর বিভাগকে প্রদান করতে হয়। মূলত ঐ ট্যাক্স বা কর ফাঁকি দেয়ার উদ্দেশ্যেই হুন্ডি ব্যবস্থার উৎপত্তি হয়েছে। যা দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী অপরাধ। তাই একজন আদর্শ মুসলিমের উচিত এই নিষেধাজ্ঞা মেনে চলা। কেননা সরকারের কোনো আইন যদি গুনাহের না হয়, তাহলে তা সাধারণ মানুষের জন্য মানা জরুরী। যেহেতু রাষ্ট্রীয় আইনে হুন্ডি ব্যাবসা নিষিদ্ধ। তাই এ থেকে বিরত থাকাই উচিত। নতুবা তা রাষ্ট্রের সাথে ধোঁকা হবে যা শরীয়তে নিষিদ্ধ। আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণিত, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)বলেছেন, ‘যে ধোঁকা দেয়, সে আমার উম্মাতের অন্তর্ভুক্ত নয়’(সহীহ মুসলিম, হা/১০১)। তাছাড়াও এই হুন্ডির মাধ্যমে বড় বড় চোরাচালান হয়ে থাকে, যা সম্পূর্ণ হারাম। তাই এমন ব্যাবসা না করাই উচিত।
.
শায়খ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, ‘আয়কর বিভাগের ট্যাক্স বা কর সংক্রান্ত আইন-কানুন ও রাষ্ট্রীয় বিধান মেনে চলা প্রত্যেক অধিবাসীর উপর অপরিহার্য। আর এ ব্যাপারে আমরা সকলেই নাগরিকত্ব সার্টিফিকেট গ্রহণ করার সময় দেশের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। অতএব যতক্ষণ পর্যন্ত সরকারী বিধিনিষেধ শরী‘আতের মূলনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত উক্ত সরকারী আইন মেনে চলা যরূরী। আর অঙ্গীকার ভঙ্গ করা জায়েয নয় (সূরা আল-মায়িদাহ: ১; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৫২৮১০)।
.
উল্লেখ্য, যে সমস্ত দেশের সঙ্গে জাতীয় স্তরে অর্থ আদান-প্রদানের সুব্যবস্থা নেই এবং যাদের সরকার অতিরিক্ত ট্যাক্স বসিয়ে যুলুম করে এবং যে সকল ব্যক্তিরা কাগজপত্রের সমস্যার কারণে বৈধ মাধ্যমে টাকা পাঠাতে পারছে না সেক্ষেত্রে সাময়িক হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠানো জায়েয হতে পারে। কেননা আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন, ‘তোমরা আল্লাহকে যথাসাধ্য ভয় কর’ (সূরা আত-তাগাবূন: ১৬)। অন্যত্র তিনি বলেন, ‘আল্লাহ কাউকেও তার সাধ্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব অর্পণ করেন না’ (সূরা আল-বাক্বারাহ: ২৮৬)। আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী।
______________________
উপস্থাপনায়:
জুয়েল মাহমুদ সালাফি।