কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক বার্তা প্রচার করাই এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

তাকবীরে ঊলা সহ জামা‘আতে সালাত আদায় সম্পর্কিত হাদীসের ব্যাখ্যা

যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টিলাভের উদ্দেশ্যে ৪০ দিন তাকবীরে ঊলা সহ জামা‘আতে সালাত আদায় করল, তার জন্য দু’টি মুক্তি লেখা হয়। একটি হ’ল জাহান্নাম হ’তে মুক্তি। অপরটি হ’ল নিফাক্ব অর্থাৎ মুনাফিকী হ’তে। এ হাদীসটির সঠিক ব্যাখ্যা।
▬▬▬▬▬▬▬💠💠💠▬▬▬▬▬▬▬
আনাস ইবনু মালিক রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টিলাভের উদ্দেশ্যে ৪০ দিন তাকবীরে ঊলা সহ জামা‘আতে সালাত আদায় করল, তার জন্য দু’টি মুক্তি লেখা হয়। একটি হ’ল জাহান্নাম হ’তে মুক্তি। অপরটি হ’ল নিফাক্ব অর্থাৎ মুনাফিকী হ’তে মুক্তি। (তিরমিযী হা/২৪১; সহীহ আত তারগীব ৪০৯, সহীহ আল জামি‘ ৬৩৬৫ মিশকাত হা/১১৪৪ ‘সালাত’ অধ্যায়-৪, অনুচ্ছেদ-২৮,পরিচ্ছেদ-২) তাহক্বীক: হাদীসটির সনদ পূর্ববর্তী অনেক আলেম জয়ীফ বলেছেন তবে পরবর্তী কিছু আলেম এটিকে হাসান হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করেছিলেন শাইখ আলবানী রহঃ হাদীসটি হাসান বলেছেন। (দেখুন তালখীস আল-হাবীর, ২/২৭ সিলসিলা সহীহাহ ১৯৭৯)
.
হাদীসটির ব্যাখ্যা: হাদীসটি ইমামের সাথে তাকবীরে উলা পাওয়া মর্যাদাপূর্ণ হওয়ার উপর প্রমাণ বহন করছে। উক্ত হাদীসে তাকবীরে উলার প্রাপ্তি কোনটিকে বলা হবে এই সম্পর্কে কয়েকটি মতামত রয়েছে। যেমন:

(১). ইমামের সঙ্গে সঙ্গে মুক্তাদী তাকবীরে তাহরীমা বলতে পারলে সেটিই তাকবীরে উলা।(এটি শাফাঈ, হাম্বলী ও অন্যান্যদের মধ্যে অধিকাংশ আলেমদের মত।

(২). যতক্ষণ না ইমাম আল-ফাতিহা পাঠ শুরু না করেন এই সময়ের মধ্যে ইমামের সাথে যোগদান করলে হবে।

(৩). ইমাম আল-ফাতিহা পাঠ শেষ করার আগে ইমামের সাথে মিলিত হলে তিনি তা এই ফজিলত পাবেন।

(৪). ইমামের সাথে প্রথম রুকুর আগে যোগদান করলে অর্থাৎ যে মুসল্লির রাকাআত ছুটেনি তিনিও তাকবীরে উলা পেয়ে গেছেন। এটি হানাফী মাযহাবের মত।
উপরোক্ত চারটি মতের মধ্যে সর্বাধিক বিশুদ্ধ মত হল প্রথমটি অর্থাৎ ইমামের সঙ্গে সঙ্গে মুক্তাদী তাকবীরে তাহরীমা বলতে পারলে সেটিই তাকবীরে উলা। (ইসলামি সওয়াল-জবাব ফাতাওয়া নং-১২৬৩৮৮)
.
হাদীসটির ব্যাখ্যায় ইমান ত্বীবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ অর্থাৎ ইহকালে তাকে মুনাফিক্বের ‘আমল করা থেকে নিরাপদে রাখবেন এবং নিষ্ঠাপূর্ণ ‘আমলের জন্য তাকে তাওফীক দিবেন। পরকালে তাকে মুনাফিক্বের শাস্তি থেকে নিরাপদে রাখা হবে অথবা সে ব্যক্তি মুনাফিক্ব না বলে তার পক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করা হবে। কেননা মুনাফিক্বরা যখন সালাতে দাঁড়ায় তখন অলস অবস্থায় দাঁড়ায় আর এ অবস্থা তার বিপরীত।

ইবনু হাজার আসকালানি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, ‘তাকবীরে ঊলা’ পাওয়া সুন্নাতে মুওয়াক্কাদাহ। সালাফে সালেহীন ইমামের সাথে প্রথম তাকবীর না পেলে ৩ দিন দুঃখ প্রকাশ করতেন। আর জামা‘আত ছুটে গেলে ৭ দিন দুঃখ প্রকাশ করতেন’। (মির‘আত ৪/১০২) (আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী)
______________________
জুয়েল মাহমুদ সালাফি