একজন আদর্শবান স্বামীর স্ত্রীর প্রতি আরোপিত সুন্নাহসম্মত দায়িত্ব

একজন পুরুষের জন্য ৪ বিবাহ করা বৈধ; এটা তো আমরা সবাই জানি। কিন্তু একজন আদর্শবান স্বামীর স্ত্রীর প্রতি আরোপিত সুন্নাহসম্মত বাকী দায়িত্বগুলি কি কি তা কি আমরা জানি।
▬▬▬▬▬▬▬💠💠💠▬▬▬▬▬▬▬
ভূমিকা: নিশ্চয় যাবতীয় প্রশংসা একমাত্র মহান আল্লাহর জন্য নিবেদিত। আমরা তাঁর সাহায্য চাইছি এবং তাঁর কাছেই ক্ষমা প্রার্থনা করছি। প্রিয় পাঠক, ইসলামী শরীয়তে পুরুষগণ নারীদের উপর কর্তৃত্বশীল হলেও স্ত্রীর প্রতি স্বামীর রয়েছে ইসলাম কর্তৃক স্বীকৃত দায়িত্ব ও কর্তব্য। কিন্তু বর্তমান সমাজে স্বামীর প্রতি স্ত্রীর দায়িত্ব-কর্তব্য নিয়ে বেশি বেশি আলোচনা হয়। মনে হয় যেন সংসারে স্ত্রীর কোন মূল্যই নেই, স্বামীর সংসারে মুখ বুজে খেটে যাবার জন্যই তার জন্ম। যখন সমাজে এই চিন্তা প্রবল হয়, তখনই কাঙ্খিত সুখের সংসার ও প্রেমের সম্পর্ক স্বামী-স্ত্রীর কাছে অত্যন্ত বিকট ও বীভৎস আকার ধারণ করে। এ বীভৎসতা থেকে সমাজকে মুক্তি দিতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আদর্শ গ্রহণই একমাত্র পথ।

▪️একনজরে কুরআন- সুন্নাহর আলোকে সংক্ষিপ্তভাবে স্ত্রীর প্রতি স্বামীর ৬৪টি দায়িত্ব ও কর্তব্য সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

➤(১). কুমারী মেয়েকে বিবাহ সুন্নাহ এবং উত্তম। (আবু দাউদ হা/২০৫০; নাসাঈ হা/৩২২৭; ইরওয়াউল গালীল হা/১৭৮৪; মিশকাত হা/৩১৯১)

➤(২). বয়স্ক মহিলাকে বিবাহ করা সুন্নাত। (ইবনু হিশাম ১/১৮৭, টীকা ১-২; হাকেম হা/৪৮৩৮, ৩/২০০; বায়হাক্বী দালায়েল হা/৪০৪; মা শা-‘আ ১৮-১৯ পৃঃ)

➤(৩). ডিভোর্সী নারীকে বিবাহ করা সুন্নাত। (আহমাদ হা/২৯২৬; সিলসিলা সহীহাহ হা/২৫২৩)

➤(৪). বিধবা নারীকে বিবাহ করা সুন্নাত। এতে ফজিলত রয়েছে (সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৫০৩৮, ৫৩৫৩)

➤(৫). সামর্থ্য থাকলে এবং স্ত্রীর প্রতি সমান ইনসাফ ও অধিকার রক্ষা করতে পারলে একাধিক বিবাহ করা (সর্বোচ্চ চারটি বিবাহ করা জায়েজ)। (সূরা নিসা; ৩, বুখারী হা/৪৮৭৮)

➤(৬). সামর্থ্য থাকলে স্ত্রীর পূর্বের সন্তানদের লালন-পালন করা সুন্নত। এটি রাসূল ﷺ নিজেও করেছেন। (সহীহ বুখারী হা/৫৩৭৬; মুসলিম হা/২০২২)

➤(৭). বিবাহে নির্ধারিত স্ত্রীর মোহর পরিশোধ করা ফরজ। এই মহর সাথে সাথে পরিশোধ করা উত্তম কিন্তু ক্ষেত্র বিশেষে বাকি রাখা জায়েজ তবে এটি ঋণ হিসাবে থাকবে অনতিবিলম্বে পরিশোধ করতে হবে (সূরা নিসা; ৪, সহীহ বুখারী ৫১৫১, মুসলিম ১৪১৮, মিশকাতুল মাসাবিহ হা/৩২০২)

➤(৮). কেউ মোহরের বিনিময়ে কোন নারীকে বিবাহ করল, অথচ মোহর পরিশোধ করবে না বলে নিয়ত করলে, হাদীসের ভাষায় ঐ স্বামী যিনাকারী। কেয়ামতে মিনাকারী হিসেবে আল্লাহর সামনে দাঁড়াবে। (বায়হাক্বী শু‘আবুল ঈমান হা/৫৫৪৯; বাযযার হা/৮৭২১; সহীহ আত-তারগীব হা/১৮০৬ সনদ সহীহ লিগায়রিহী)

➤(৯). স্বামীর মৃত্যু বা ত্বালাক্বের সময় স্ত্রী তার অনাদায়ী মোহরের দাবী করতে পারে।(ইলামুল মুওয়াক্বেঈন, ৩য় খণ্ড, পৃ. ৮১, ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল, আবু ই‘আলা, ইবনু তাইমিয়্যা, নাখঈ, শা‘বী এবং লাইছ বিন সা‘দ এই মতটিই গ্রহণ করেছেন]

➤(১০). স্ত্রীকে পর্দায় রাখা ফরজ। বেপর্দায় চলতে দিলে স্বামী দাঈউসের কাতারে পড়বে। (সূরা নূর; ২৪/৩১ তিরমিযী হা/১১৭৩, মিশকাত হা/৩১০৯, নাসাঈ ২৫৬২, মিশকাত ৩৬৫৫, সহীহুল জামে ৩০৫২)

➤(১১). স্ত্রীকে দ্বীনের হুকুম পালনের
ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া ওয়াজিব। (সূরা ত্ব-হা; ২০/১৩২, সহীহ বুখারী হা/৭০৬৯)

➤(১২). স্ত্রীকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করাও স্বামীর এক বড় দায়িত্ব। তাকে দ্বীন, আক্বীদা,পবিত্রতা, ইবাদত, হারাম, হালাল, অধিকার ও ব্যবহার প্রভৃতি শিক্ষা দিয়ে সৎকাজ করতে আদেশ ও অসৎকাজে বাধা দিয়ে আল্লাহর আযাব থেকে সতর্ক করা ওয়াজিব। (সূরা তাহরীম ৬৬/৬ সহীহ বুখারী হা/৮৯৩, ৫১৮৮)

➤(১৩). স্ত্রীর হক আদায় করা ফরয। (সূরা আল-বাক্বারাহ; ২২৮, সহীহ বুখারী হা/৫১৯৯)

➤(১৪). আর্থিক সামর্থ্য/অবস্থানুযায়ী সংসারের সকল খরচ স্বামীর বহন করা ওয়াজিব। (সূরা তালাক্ব; ৬৫/৭, সূরা বাক্বারাহ; ২/২৩৩, আবু দাউদ হা/২১৪২; মিশকাত হা/৩২৫৯)

➤(১৫). একাধিক স্ত্রী থাকলে তাদের মধ্যে পালা বণ্টন করা ওয়াজিব। (সহীহ বুখারী হা/৫০৬৭; সহীহ মুসলিম হা/১৪৫৬)

➤(১৬). একাধিক স্ত্রী থাকলে এক স্ত্রীর ঘরে একদিন অবস্থান করলে অন্য স্ত্রীর ঘরেও একদিন অবস্থান করতে হবে, এটি ওয়াজিব।(সহীহ বুখারী হা/৪৪৫০, ৫২১৭)

➤(১৭). যদি দুজন স্ত্রী থাকে আর তাদের মধ্যে ন্যায় বিচার করা ওয়াজিব।অন্যথায় পরিণতি ভয়াবহ (তিরমিযী হা/১১৪১; আবু দাঊদ হা/২১৩৩)

➤(১৮). স্ত্রীর সাথে রান্না করার কাজে, পরিস্কারের কাজে, ধোয়া-মোছার কাজে সহায়তা করা সুন্নাত। (সহীহ বুখারী, হা/৬৭৬, ৫৩৬৩, ৬০৩৯, আদাবুল মুফরাদ, হা/৫৪১; শামায়েলে তিরমিযী, হা/৩৪৩; সহীহুল জামে‘, হা/৪৯৯৬)

➤(১৯). স্ত্রীর রান্না করা খাবারের দোষ-ত্রুটি বর্ণনা না করা সুন্নত। (সহীহ বুখারী, হা/৩৫৬৩; সহীহ মুসলিম, হা/২০৬৪।)

➤(২০). ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে স্ত্রীকে মুখে খাবার তুলে খাওয়ানো সুন্নাত। (আবু দাঊদ; ২৮৬৪)

➤(২১). বাড়িতে ব্যতীত অন্যত্র স্ত্রীকে ছেড়ে না রাখা কর্তব্য। (আবু দাউদ হা/২১৪২; মিশকাত হা/৩২৫৯, সনদ হাসান)

➤(২২). স্ত্রীর প্রতি উত্তম ধারণা রাখা সুন্নত বিনা দলিলে সন্দেহ করা হারাম। (সূরা হুজুরাত; ৪৯/১২, সহীহ বুখারী হা/৫১৪৩, ৬০৬৪; মুসলিম হা/২৫৬৩; মিশকাত হা/৫০২৮)

➤(২৩). স্ত্রীর নিকট থেকে যত বড় আদর্শের ব্যবহারই আশা করা যাক না কেন, তার মধ্যে কিছু না কিছু দোষ- ত্রুটি থাকবেই। সম্পূর্ণভাবে স্বামীর মনে অঙ্কিত সরল পথে সে চলতে চাইবে না। সোজা করে চালাতে গেলে হাড় ভাঙ্গার মত ভেঙ্গে যাবে, সেটা মাথায় রাখা স্বামীর অন্যতম কর্তব্য। (মুসলিম ১৪৬৮, সহীহাহ্ ৩৫১৭, সহীহ আল জামি ৩৯৪৩, মিশকাত, ৩২৩৯)

➤(২৪). স্ত্রীর সাথে হাসিমুখে কথা বলা ও উত্তম ব্যবহার করা সুন্নত। (তিরমিযী হা/১৯৭০; মিশকাত হা/১৯১০)

➤(২৫). স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধা প্রকাশ করা সুন্নাত। (সহীহ বুখারী, হা/২৭৩১-২৭৩২)

➤(২৬). স্ত্রীর উপর অযথা রাগ না করা, তারা রেগে গেলে ধৈর্যধারণ করা সুন্নত। (সহীহ বুখারী, হা/৫২২৮; সহীহ মুসলিম, হা/২৪৩৯)

➤(২৭). স্ত্রীর রাগ-অভিমান এবং মন বোঝার চেষ্টা করা সুন্নাত। (সহীহ বুখারী; ৫২২৮)

➤(২৮). স্ত্রীর অভিমান ভাঙ্গানো সুন্নাত। (সহীহ বুখারী; ৫২২৮)

➤(২৯). স্ত্রীর নিকট থেকে যতটুকু সম্ভব ততটুকু লাভ করেই সন্তুষ্ট থাকা সুন্নত। (সহীহ বুখারি, হা/৩৩৩১; সহিহ মুসলিম, হা/১৪৬৮)

➤(৩০). স্ত্রীকে ক্রোধান্বিত না করা এবং শুধু তার দোষত্রুটি না দেখা সুন্নত। (সহিহ মুসলিম, হা/১৪৬৯; স্তন্যপান অধ্যায় (১৮); পরিচ্ছেদ: ১৮)

➤(৩১). স্বামীর উপর স্ত্রীর অন্যতম অধিকার এই যে, বিপদ আপদ থেকে স্বামী তাকে রক্ষা করবে। স্ত্রীকে রক্ষা করতে গিয়ে যদি স্বামী শত্রুর হাতে মারা পরে, তবে সে শহীদের মর্যাদা পাবে। (তিরমিযী, আবু দাঊদ, নাসাঈ, মিশকাতুল মাসাবীহ ৩৫২৯)

➤(৩২). স্ত্রীকে গালিগালাজ না করা সুন্নত,করা হারাম। (তিরমিযী হা/২০১৬, মিশকাত, হা/৫৮২০, আবু দাউদ, হা/২১৪২ সনদ সহীহ )

➤(৩৩). স্ত্রীকে এবং কোন খাদিমকে মারধর না করা সুন্নাত। (সহীহ মুসলিম, হা/২৩২৮; মিশকাত, হা/৫৮১৮ মুসলিম হা/২৩২৮; ইবনু মাজাহ হা/১৯৮৪)

➤(৩৪). বিনা দোষে স্ত্রীকে বয়কট না করা সুন্নত। (পাগুত্ব)

➤(৩৫). স্ত্রীর ত্রুটি-বিচ্যুতি, ভুল ক্ষমা করা সুন্নাত। (মুসলিম হা/১৪৬৯; মিশকাত হা/৩২৪০, বিবাহ’ অধ্যায়। আহমাদ হা/২০১০৫; সহীহুল জামে হা/১৯৪৪; সহীহ আত-তারগীব হা/১৯২৬। মুসলিম হা/১৪৬৮।)

➤(৩৬). স্ত্রীর সাথে পরামর্শ করা ও তাকে গুরুত্ব দেওয়া সুন্নত। (আলে ইমরান; ৩/১৫৯, বুখারী হা/৪৯৫৩; মুসলিম হা/১৬০; মিশকাত হা/৫৮৪, ‘ফাযায়েল ও শামায়েল’ অধ্যায়, ‘অহি-র সূচনা’ অনুচ্ছেদ। বুখারী হা/২৭৩২)

➤(৩৭). স্ত্রীর জন্য নিজেকে পরিচ্ছন্ন রাখা সুন্নাত। (সহীহ মুসলিম হা/২৫৩, আবু দাঊদ, হা/৪১৬৩ তাফসীর কুরতুবী, ৫/৯৭)

➤(৩৮). স্ত্রীর অনুভূতিগুলো জানার চেষ্টা করা এবং তাকে যখন প্রয়োজন হয় শান্ত্বনা দেওয়া সুন্নাত। (বুখারী, হা/৫২২৮; সহীহ মুসলিম, হা/২৪৩৯, তিরমিযী, হা/৩৮৯৪)

➤(৩৯). স্ত্রীর সাথে খেলা করা, গল্প করা, ঘুরতে নিয়ে যাওয়া সুন্নাত। (তিরমিযী, হা/৩৬৯১; আলবানী হাদীস সহীহ বলেছেন। অনুরূপ হাদীস সহীহ বুখারী, হা/৪৫৫, সহীহ মুসলিম, হা/৮৯২-তেও বর্ণিত হয়েছে)

➤(৪০). কখনো কখনো খাবার অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় স্ত্রীদেরও সাথে নিয়ে যাওয়া সুন্নত। (সহীহ মুসলিম, হা/২০৩৭। শারহে সহীহ মুসলিম, ১৩তম খণ্ড, পৃ. ২০৯)

➤(৪১). স্ত্রীকে বিভিন্ন উপলক্ষে (যেমন ঈদ, কুরবানী প্রভৃতিতে) ছোটখাট উপহার দেওয়া সুন্নত। (সহীহ আত্ তারগীব ১৯৫১, সহীহ আল জামি আস্ সগীর ৮৭৮।মিশকাত,১৯৩১)

➤(৪২). স্ত্রীর কোলে আবদ্ধ হওয়া এবং শিথিল করা সুন্নাত। (সহীহ বুখারী, হা/৩৩৪; সহীহ মুসলিম, হা/৫৫০)

➤(৪৩). স্ত্রীদের সাথে একই পাত্র থেকে গোসল করা সুন্নাত। (সহীহ বুখারী, হা/২৫০; সহীহ মুসলিম, হা/৩২১; নাসাঈ, হা/২৩৯)

➤(৪৪). স্ত্রীকে সুন্দর নাম নিয়ে ডাকা সুন্নাত। (নাসাঈ, সুনানুল কুবরা, হা/৮৯০২; সিলসিলা সহীহাহ, হা/৩২৭৭।)

➤(৪৫). স্ত্রীর পিছনে খরচ করা অন্যান্য সকল ব্যয়ের চেয়ে নেকীই অধিক। (সহীহ মুসলিম ৯৯৫, আহমাদ ১০১৭৪, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১৫৬৯৭, সহীহ আত্ তারগীব ১৯৫১, মিশকাত ১৯৩১)

➤(৪৬). স্ত্রীদেরকে দান সাদাক্বাহ করতে উপদেশ দেয়া সুন্নত। (মুসনাদে আহমাদ, হা/২৩৯৮০, সনদ হাসান; সহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৮৬৫, আবু দাউদ, হা/১৭০০; নাসাঈ, হা/২৫৪৯)

➤(৪৭). নিজের কাজ নিজেই সম্পন্ন করা সুন্নাত।(সহীহ বুখারী, হা/৬৭৬, ৫৩৬৩, ৬০৩৯, ‘ভরণ-পোষণ’ অধ্যায়, ‘অনুচ্ছেদ-৬৯। আল-আদাবুল মুফরাদ, হা/৫৪১; শামায়েলে তিরমিযী, হা/৩৪৩; সহীহুল জামে, হা/৪৯৯৬, সনদ সহীহ। মুসনাদে আহমাদ, হা/২৪৯০৩; সহীহ ইবনু হিব্বান, হা/৫৬৭৭; সহীহুল জামে, হা/৪৯৩৭, সনদ সহীহ)

➤(৪৮). রাতে স্ত্রীরা জেগে থাকলে তাঁদের সাথে গল্প করা, কথাবার্তা বলা সুন্নাত। (সহীহ বুখারী, হা/১১৬৭ ও১১৬১। আবু দাউদ হা/১২৬২; মিশকাত হা/১১৮৯, সনদ সহীহ)

➤(৪৯). স্ত্রী অসুস্থ হলে তার সেবা-শুশ্রূষা করা সুন্নত।(আবু দাউদ হা/৪০৮৪; মিশকাত হা/১৯১৮, সনদ ছহীহ। বুখারী হা/২৯৮৯; মুসলিম হা/১০০৯; মিশকাত হা/১৮৯৬।)

➤(৫০). স্ত্রীর সাথে বৈধ খেলাধুলায় প্রতিযোগিতা করাও সুন্নাত। (আবু দাঊদ, হা/২৫৭৮; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৬৩২০; মিশকাত, হা/৩২৫১, সনদ সহীহ; সিলসিলা সহীহাহ, হা/১৩১)

➤(৫১). স্ত্রীর প্রশংসা করা সুন্নাত। রাসূল (ﷺ) আয়েশা (রাঃ) সবার সেরা, এবং খাদিজা (রাঃ) এর ভালোবাসার প্রশংসা করতেন। (বুখারী; ৫২২৯, ৩৪১১)

➤(৫২). অন্তরঙ্গ মুহূর্ত ছাড়াও স্ত্রীদের চুম্বন করা ও তাদের শরীরের সাথে শরীর মিলানো সুন্নাত। (সহীহ বুখারী, হা/১৯২৭; সহীহ মুসলিম, হা/১১০৬।)

➤(৫৩). রাতে সালাত আদায় করার সময় স্ত্রীদের জাগিয়ে তোলা সুন্নত। (সহীহ বুখারী, হা/৫১২; সহীহ মুসলিম, হা/৭৪৪, আবু দাউদ, হা/১৩০৮; নাসায়ি, হা: ১৬১০)

➤(৫৪). বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় চুম্বন করা সুন্নাত। (তিরমিযী, হা/৮৬; আবু দাউদ, হা/১৭৮)

➤(৫৫). সফরে স্ত্রীদের সঙ্গে এক সাওয়ারীতে আরোহণ করা এবং তাঁদের সাথে কথা বলতে বলতে পথ চলা সুন্নাত। (সহীহ বুখারী, হা/৫২১১; সহীহ মুসলিম, হা/২৪৪৫)

➤(৫৬). নিজের পরিবারের ব্যক্তিগত সদস্য এবং বন্ধুদের কাছে তার ব্যক্তিগত কথা প্রকাশ না করা সুন্নাত। প্রকাশ করা হারাম। (সহীহ মুসলিম, হা/ ৩৪৩৪-৩৫)

➤(৫৭). স্ত্রীর পরিবার ও পরিজন বন্ধু-বান্ধবকে উত্তমরূপে আতিথেয়তা ও তাদের খোজ খবর নেওয়া মুস্তাহাব (সহীহ মুসলিম, হা/২৪৩৫ ও ৬১৭২)

➤(৫৮). নিজের পিতা মাতার পাশাপাশি স্ত্রীর পিতা-মাতাকে ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধা করা সুন্নাত। (সহীহ মুসলিম, হা/২৪৩৫ ও ৬০৬০)

➤(৫৯). স্ত্রীকে তার পরিবারের সাথে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া সুন্নত। (বুখারী হা/২৬৬১, ৪১৪১; মুসলিম হা/২৭৭০; আহমাদ হা/২৫৬৬৪)

➤(৬০). স্ত্রীর এটো খাবার খাওয়া সুন্নাত। (সহীহ মুসলিম, হা/৩০০; মিশকাত, হা/৫৪৭।)

➤(৬১). স্ত্রী যেখান থেকে পানি পান করতেন সেখান থেকে পানি পান করা সুন্নাত। (সহীহ মুসলিম, হা/৩০০ সুনানে নাসাঈ, হা/৩৭৮)

➤(৬২). হায়েয অবস্থায় স্ত্রীর সাথে সহবাস না করে সাধারণ মেলামেশা করা সুন্নাত। (সহীহ বুখারী মুসলিম, হা/৩০০; মিশকাত, হা/৫৪৭)

➤(৬৩). স্ত্রীর কোলে শুয়ে কুরআন তিলাওয়াত করা সুন্নাত। (সহীহ বুখারী; ২৯৭, ইবনুল ক্বাইয়িম, যাদুল মা‘আদ, ১ম খণ্ড, পৃ. ৪৮২)

➤(৬৪). বাড়িতে প্রবেশের সময় স্ত্রীকে সালাম দেওয়া সুন্নাত। (তিরমিযী হা/২৬৯৮; সহীহ আত-তারগীব হা/১৬০৮; তারাজু‘আত হা/২৫৯; ইরওয়া হা/২০৪১, সনদ হাসান)

পরিশেষে, আমরা অনেক পুরুষই আছি, যারা উপরোক্ত ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নাতগুলো তার ১ম স্ত্রীর জন্যই পালন করতে রাজি নই বা সামর্থ্য রাখিনা কিন্ত ৪ বিয়ের সুন্নাত পালন এবং বিভিন্ন যুক্তি দাঁড় করাতে সদা প্রস্তুত। তাই নিজেকে আদর্শ স্বামী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী উপরোক্ত ৬৪ টি পয়েন্ট পালন করার চেষ্টা করতে হবে। প্রিয় নবী রাসূল (ﷺ) বলেন, তোমাদের মধ্যে উত্তম ব্যক্তি সেই, যে তার স্ত্রীর নিকট উত্তম। (ইবনে মাজাহ ১৯১৭, তিরমিজি ৩৮৯৫)। সুতরাং, উপরোক্ত হাদিসের আলোকে নিজেকে উত্তম স্বামী প্রমাণ করতে চাইলে উপরোক্ত বিষয়গুলো সামর্থ্য অনুযায়ী পালন করার বিকল্প কোনো পথ নেই। অতএব, যার যার স্ত্রী আছেন তার অধিকারগুলা ভালোভাবে আদায় করেন, যারা অবিবাহিত আছে নিজেকে প্রস্তুত করেন। তাহলে দুনিয়াটা যেমন জান্নাত হবে তেমনি পরকালটাতেও রবের সান্নিধ্য পাবেন ইনশাআল্লাহ। (আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী)
_____________________________
উপস্থাপনায়:
জুয়েল মাহমুদ সালাফি।