কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক বার্তা প্রচার করাই এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

ইলায়াসী তাবলীগ বনাম রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তাবলীগ

(ক) তারা নিজেরা কুরআন বুঝে না অন্যদেরকেও বুঝতে দেয় না। কিন্তু রাসূল ﷺ নিজে কুরআন শিখিয়েছেন এবং তার প্রচারকও ছিলেন।

(খ) তাদের দাওয়াতী নিয়ম স্বপ্নে প্রাপ্ত।(মালফূযাতে মাওলানা মুহাম্মাদ ইলিয়াস, পৃঃ ৫১ ) রাসূল ﷺ-এর দাওয়াতী নিয়ম স্বয়ং আল্লাহ প্রদত্ত (সূরা মায়েদা, ৫/ ৬৭)।

(গ) তাদের দাওয়াতের মধ্যে সপ্তাহে ১ দিন, মাসে ৩ দিন, বছরে ১ চিল্লা, কমপক্ষে জীবনে ৩ চিল্লা লাগিয়ে দ্বীনি কাজ শিখতে হবে।(মালফূযাতে মাওলানা মুহাম্মাদ ইলিয়াস, পৃঃ ৫১) পক্ষান্তরে রাসূল ﷺ -এর দাওয়াতী কাজে এগুলোর কোন অস্তিত্ব নেই।

(ঘ) তাদের দাওয়াতের মধ্যে ইসলামের একটি অপরিহার্য বিধান ও আল্লাহর প্রিয় জিহাদ নেই। কিন্তু রাসূল ﷺ-এর দাওয়াতে জিহাদ একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

(ঙ) তাদের দাওয়াতে কাফের মুশরিকদের কোন বাধা নেই। রাসূল ﷺ যখন দাওয়াত দিতেন তখন কাফের মুশরিক বাধা দিত।

(চ) তাদের দাওয়াতী কাজ শেখার মূল উৎস হল ‘ফাযায়েলে আমাল’। কুরআনের চেয়েও তারা ফাযায়িলে আমাল-এর গুরুত্ব বেশী দেয়। অথচ রাসূল ﷺ-এর দাওয়াত শেখার মূল উৎস হচ্ছে কুরআন ও সহীহ হাদীস। আর কুরআনের মর্যাদা হচ্ছে সবকিছুর উর্ধ্বে।

(ছ) তারা রাষ্ট্রপ্রধান বা ক্ষমতাশালীদের বিরুদ্ধে কোন কথা বলে না যদিও তারা শিরক করে ও ইসলামের বিরুদ্ধে বলে। রাসূল ﷺ তৎকালীন রাষ্টপ্রধান ও ক্ষমতাশালীদের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন, শিরক ও ইসলাম বিরোধী কাজে বাধা দিয়েছেন।

(জ) তারা কোন দাওয়াতী কাজ করার সময় কুরআন হাদীছের দলীল পেশ করে না, নিজেদের মনগড়া কথা বলে। রাসূল ﷺ নিজে কোন কিছু বলার বা দাওয়াত দেবার আগে দলীল পেশ করতেন।

(ঝ) তারা কোন মতেই কারো সাথে যুদ্ধ করতে চায় না। রাসূল ﷺ যুদ্ধ করতে গিয়ে নিজের দাঁতকে শহীদ করেছেন।

(ঞ) তারা শুধু দাওয়াত কিভাবে দিবে তা শেখায় যদিও তা ইসলামী পদ্ধতিতে নয়; অন্য কোন কিছু তারা শিখায় না। রাসূল ﷺ জীবনের প্রতি মুহূর্তে কি করতে হবে, কার সাথে কিভাবে চলতে হবে সবকিছু শিখিয়েছেন।

(ট) ইলিয়াসী তাবলীগ বুযুর্গদের সন্তুষ্টির জন্য করা হয়।(ফাযায়েলে আমাল, ভূমিকা, ১ম পৃষ্ঠা) রাসূল ﷺ-এর তাবলীগ একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য (আন‘আম ১৬; বাইয়েনা ৫)।

(ঠ) ইলিয়াসী তাবলীগের অলিরা গায়েব জানেন। (যাকারিয়া সাহারানপুরী, অনুবাদ ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা: ২৭) অথচ রাসূল ﷺ গায়েব জানতেন না (সূরা আন‘আম,৬/ ৫০; ‘আরাফ ৭/১৮৮)।

(ড) ইলিয়াস সাহেবের আক্বীদায় রাসূল ﷺ জীবিত। শায়খুল হাদীস মাওলানা মুহাম্মাদ যাকারিয়া ছাহেব কান্ধলভী (রহঃ);২০০১ ইং), পৃঃ ১৩৫। কিন্তু বাস্তবতা হলো রাসূল ﷺ ইন্তেকাল করেছেন (সূরা যুমার, ৩৯/৩০)।

(ঢ) বুযুর্গরা জান্নাত-জাহান্নাম দুনিয়াতে দেখেন।(ফাযায়েলে হাজ্জ, পৃঃ ১৩০-১৩১) জান্নাত এমন যে, না কোন চোখ দেখেছে, না কোন কান শুনেছে এবং না কোন হৃদয় কল্পনা করেছে।(মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৫৬১২)

(ণ) ইলিয়াসী তাবলীগে বুযুর্গদের মৃত্যুকে অস্বীকার করা হয়েছে।(ফাযায়েলে ছাদাকাত ২/২৭) রাসূল ﷺ-এর তাবলীগের প্রত্যেকের মৃত্যু সত্য (আল-ইমরান ১৮৫)।

(ত) পর্যবেক্ষক ফেরেশতারা আল্লাহ ও বান্দার গোপন যিকির সম্পর্কে জানতে পারে না।(ফাযায়েলে যিকির, পৃঃ ৭০) ফেরেশতাগণ পর্যবেক্ষণ হিসাবে রয়েছেন এবং আমরা যা করি তারা সে সব জানেন (সূরা ইনফিতার, ১০ ও ১২)।

(থ) ইলিয়াসী তাবলীগের কেন্দ্রস্থল ভরতের নিযামুদ্দীন মসজিদের ভিতরে মাওলানা ইলিয়াস সাহেব ও তার পুত্রের কবর রয়েছে।(আকফাতুন মাঅ জামায়াতিত তাবলীগ, পৃঃ ৫৯) রাসূল ﷺ কবরের দিকে সালাত পড়তে ও কবরকে পাকা নিষেধ করেছেন।(সহীহ মুসলিম, মিশকাত-১৪২)

(দ) মাওলানা মুহাম্মাদ ইলিয়াস সাহেবের ইন্তিকালের পর আল্লাহর সাথে মিশে গেছেন (নাউজুবিল্লাহ)।(মালফূযাতে মাওলানা মুহাম্মাদ ইলিয়াস, শেষ পৃষ্ঠা) নবী করীম ﷺ বলেন,আল্লাহর সমতুল্য কেউ নেই, তার সাথে কেউ মিশতে পারে না (ইখলাস ৪; শূরা ১১)।

▪️পরিশেষে তাবলীগ জামায়াতের প্রতি আমাদের আহবান:
_______________________________________
যদি আপনারা প্রকৃত তাবলীগ করতে চান তাহলে টঙ্গী থেকে ঘোষণা দিন

(ক) আসুন! পবিত্র কুরআন ও সহীহ হাদীসের প্রতি আমল করি।

(খ) মূর্তিপুজা হারাম, যে লোক নিজে সালাত পড়ে ও মূর্তিপুজাকে নীরব সমর্থন করে সে প্রকারান্তে মূর্তিপুজা করে।

(গ) ফাযায়েলে আমাল নয়, আল-কুরআনই মুসলিমদের একমাত্র সংবিধান।

(ঘ) মুরুববী, হুজুর, আকাবীর, বুযুর্গদের স্বপ্ন ও বিদ‘আতী আমল আর নয়, আজ থেকে সুন্নাতের অনুসারী হোন।

(ঙ) পান, জর্দা, তামাক, গুল সহ সকল নেশাদার দ্রব্য হারাম।

(চ) নির্ভয়ে বলুন! মাযারে পুস্পস্তবক অর্পণ করা, জীবিত ও মৃত মানুষদের সম্মানে দাঁড়ানো, শিখা চিরন্তন, শিখা অনির্বাণ সহ যাবতীয় শিরকী কর্মকান্ড বন্ধ করুন।

(ছ) সকল ধর্মের লোকের বাৎসরিক মুনাজাতে অংশ নেওয়ার আগে কালেমা পড়ে মুসলিম হতে হবে। অন্যথায় এ ধরনের ইজতেমাকে ইসলামী বলা যায় কিভাবে? যদিও ফরয সালাতের পর সম্মিলিত হাত তুলে দু‘আ করা বিদ‘আত।

হিন্দুরা গঙ্গায় সণান করে। একটা মন্ত্র পড়ে সকল পাপ মোচন করে ফিরে আসে। আর ইলিয়াসী জামায়াতের ভাইয়েরা টঙ্গী ইজতেমায় গিয়ে একখানা আখেরী মুনাজাত দিয়ে গুনাহ মোচন করে ফিরে আসে! অতএব আসুন, ফাযায়েলে আমলকে তুরাগ নদীতে বিসর্জন দিয়ে পবিত্র কুরআন ও সহীহ হাদিস ভিত্তিক আমল করার চেষ্টা করি।আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। আমীন! সংকলিত। আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী)