কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক বার্তা প্রচার করাই এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

আমি সালাতে গিয়ে দেখি ইমাম সাহেব সিজদা অবস্থায় রয়েছেন এমন অবস্থায় আমার করনীয় কি

উক্ত অবস্থায় ইমামের অনুসরণ করার জন্য সরাসরি তাকবীর দিয়ে সিজদায় যেতে হবে (অর্থাৎ তাকবীর হবে দুটি একটি তাকবীরে তাহরীমা অন্যটি সিজদায় যাওয়ার তাকবীর (বই সালাতে মুবাশ্বির)। কারণ ইমাম নির্ধারণ করা হয় তাকে অনুসরণের জন্য (সহীহ বুখারী,৬৮৯, ৭৩৩ সহীহ মুসলিম,৪১৪ মিশকাত হা/১১৩৯)। এ ক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে তকবীরের পর বুকে হাতও রাখবে না এবং সানা বা ফাতিহাও পড়বে না। কারণ, ইমামের অনুসরণ জরুরী। (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ্‌, সঊদী উলামা-কমিটি ১/২৫৫, আলমুমতে’, শারহে ফিক্‌হ, ইবনে উষাইমীন ৪/২৪২-২৪৩)
.
রাসূল (ﷺ) বলেন, ‘তোমাদের কেউ সালাত আদায় করতে এসে ইমামকে যে অবস্থায় পাবে, তখন ইমাম যেরূপ করে সেও যেন অনুরূপ করে’ (তিরমিযী হা/৫৯১; মিশকাত হা/১১৪২; সহীহুল জামে‘ হা/২৬১)।
.
অপর বর্ননায় রাসূল (ﷺ) আরো বলেন, তোমরা যখন সালাতে আসবে আর ইমামকে রুকূ‘ অবস্থায় পাবে, তখন রুকূতে যাবে। আর সিজদা অবস্থায় পেলে সিজদায় চলে যাবে (বায়হাকী, সুনানুল কুবরা হা/২৪০৯; ইরওয়া হা/৪৯৬; সিলসিলা সহীহাহ হা/১১৮৮)কিন্তু উক্ত রাকাআত গন্য করা হবেনা কেননা মহানবী (ﷺ) বলেন, “আমরা সিজদারত থাকা অবস্থায় তোমরা নামাযে এলে তোমরাও সিজদা কর এবং সেটাকে কিছুও গণ্য করো না।” (বুখারী ৫৫৬, মুসলিম, সহীহ ৬০৭-৬০৮, আবূদাঊদ, সুনান ৮৯৩)
.
তবে উক্ত রাক‘আত গণ্য না হ’লেও এর মাধ্যমে সে জামা‘আতের সওয়াব পেয়ে যাবেন (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ৬/২২৪, ৭/৩২১; বাহূতী, কাশশাফুল কেনা‘ ১/৪৬০)। সুতরাং এমতাবস্থায় আপনি ইমামের সাথে শেষ বৈঠকে বসে তাশাহুদ পড়ে হয় চুপ থাকবেন অথবা চাইলে দুরুদসহ অন্যান্য দোয়াও পড়তে পারেন অতঃপর ইমাম যখন ডানে বামে সালাম ফিরাবে তখন আপনি উঠে দাঁড়িয়ে রফউল ইয়াদাইন করে ছুটে যাওয়া উক্ত রাকাআত আদায় করে নিবেন। এক্ষেত্রে ইমামের পিছনে যে রাক‘আত পাবেন সেটা আপনার প্রথম রাক‘আত হিসাবে গণ্য হবে।এভাবে বাকি সালাত আদায় করবেন।
.
উল্লেখ্য যে, সালাতের জামাআত শুরু হয়ে গেলে তাড়াতাড়ি জামাআত ধরার জন্য দৌড়াদৌড়ি করে আসা উচিত নয় কেননা হাদীসে নিষেধ করা হয়েছে, আবূ হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, যখন সালাত শুরু হয়, তখন দৌড়িয়ে গিয়ে সালাতে যোগদান করবে না, বরং হেঁটে গিয়ে সালাতে যোগদান করবে। ছালাতে ধীরস্থিরভাবে যাওয়া তোমাদের জন্য অপরিহার্য। কাজেই জামা‘আতের সাথে সালাত যতটুকু পাও আদায় কর, আর যা ছুটে গেছে, পরে তা পূর্ণ করে নাও’ (সহীহ বুখারী, হা/৬৩৫, ৬৩৬ ও ৯০৮ সহীহ মুসলিম, হা/৬০২; মিশকাত, হা/৬৮৬)। (আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী)।
_________________
উপস্থাপনায়:
জুয়েল মাহমুদ সালাফি।