বিপদ-মুসিবত মোকাবিলায় ১০টি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি

ভূমিকা: মানুষের জীবন কখনো সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে ভরে ওঠে, আবার কখনো হঠাৎ নেমে আসে দুঃখ, দুশ্চিন্তা, বিপদ ও মুসিবতের ঘনঘটা। কখনো এমন পরিস্থিতিও আসে, যখন চারপাশের সব দরজা বন্ধ মনে হয় এবং মানুষ নিজেকে একেবারে অসহায় মনে করতে থাকে। কিন্তু একজন মুমিনের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন। সে জানে—এই পৃথিবী পরীক্ষা ও পরীক্ষণের স্থান; আর কোনো বিপদই আল্লাহর জ্ঞান, ইচ্ছা ও হিকমতের বাইরে নয়।তাই বিপদের সময় ভেঙে পড়া নয়; বরং নিজের অন্তরকে আল্লাহর সঙ্গে আরও দৃঢ়ভাবে সম্পৃক্ত করা, তাঁর ওপর তাওয়াক্কুল করা, তাঁর ফয়সালার প্রতি সন্তুষ্ট থাকা এবং তাঁর রহমত ও সাহায্যের ব্যাপারে আশাবাদী থাকা জরুরি। বিপদ যত বড়ই হোক, আল্লাহ তার চেয়েও মহান; সংকট যত কঠিনই হোক, আল্লাহর কাছে তার সমাধান তত কঠিন নয়। নিচে বিপদ-মুসিবতের সময় একজন মুমিনের জন্য ১০টি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি তুলে ধরা হলো।
.
▪ প্রথম নীতি: আপনি একা নন। বিপদ যত কঠিনই হোক, আল্লাহ আপনার অবস্থা সম্পর্কে অবগত এবং তিনি তাঁর বান্দার সঙ্গে আছেন।
.
▪ দ্বিতীয় নীতি: আল্লাহ তাআলা কোনো কিছুই হিকমত ছাড়া নির্ধারণ করেন না। আপনার জীবনে যা কিছু ঘটছে, তার পেছনে আল্লাহর প্রজ্ঞা রয়েছে—যদিও সবসময় সেই হিকমত আমাদের বোধগম্য হয় না।
.
▪ তৃতীয় নীতি: উপকার সাধন এবং ক্ষতি প্রতিহত করার ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর হাতে। অতএব, অন্তরকে সৃষ্টির প্রতি নির্ভরশীল না করে একমাত্র আল্লাহর সঙ্গেই সম্পৃক্ত করুন এবং তাঁর ওপরই ভরসা করুন।
.
▪ চতুর্থ নীতি: আপনার জন্য যা নির্ধারিত হয়েছে, তা কখনো আপনাকে এড়িয়ে যেতে পারে না; আর যা আপনার জন্য নির্ধারিত হয়নি, তা কখনো আপনার কাছে পৌঁছাতে পারে না।
.
▪ পঞ্চম নীতি: দুনিয়ার প্রকৃত স্বরূপ উপলব্ধি করুন—তাহলেই অন্তর প্রশান্ত হবে। মনে রাখুন, দুনিয়া স্থায়ী সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের স্থান নয়; এটি পরীক্ষা ও ক্ষণস্থায়ী জীবনের আবাস।
.
▪ ষষ্ঠ নীতি: আপনার রব সম্পর্কে সর্বদা উত্তম ধারণা রাখুন। বিশ্বাস রাখুন, আল্লাহ তাঁর বান্দার প্রতি দয়ালু এবং তাঁর ফয়সালার মধ্যেই কল্যাণ নিহিত রয়েছে।
.
▪ সপ্তম নীতি: আপনার নিজের পছন্দ ও পরিকল্পনার চেয়ে আল্লাহর আপনার জন্য করা নির্বাচনই উত্তম। আপনি যা চান, তার সবকিছু হয়তো আপনার জন্য কল্যাণকর নয়; কিন্তু আল্লাহ যা নির্ধারণ করেন, তিনি তা পূর্ণ জ্ঞান ও হিকমতের ভিত্তিতেই নির্ধারণ করেন।
.
▪ অষ্টম নীতি: বিপদ যতই তীব্র হয়, আল্লাহর পক্ষ থেকে মুক্তির আশা ততই দৃঢ় রাখুন। কঠিনতার সঙ্গে স্বস্তি রয়েছে—অতএব, সংকটের মুহূর্তে হতাশ না হয়ে আল্লাহর সাহায্যের অপেক্ষা করুন।
.
▪ নবম নীতি: মুক্তি কীভাবে আসবে, তা নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করবেন না। আল্লাহ যখন কোনো কিছুর ফয়সালা করেন, তখন তিনি এমন উপায়ে তার কারণ ও পথ তৈরি করে দেন, যা মানুষের কল্পনাতেও আসে না।
.
▪ দশম নীতি: যাঁর হাতে মুক্তির চাবিকাঠি, তাঁর কাছেই দোয়া করুন। সংকট দূর করা, বিপদ থেকে উদ্ধার করা এবং কল্যাণ দান করার প্রকৃত ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর। তাই বিপদের সময় তাঁর কাছেই ফিরে আসুন, তাঁর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করুন এবং তাঁর ওপরই পূর্ণ তাওয়াক্কুল করুন। (এই ১০ টি পয়েন্ট আরবি থেকে অনূদিত)
.
পরিশেষে হে আমাদের পাঠক! মনে রাখবেন, বিপদ আপনার জীবনের শেষ অধ্যায় নয়; অনেক সময় সেটিই আল্লাহর দিকে ফিরে আসার নতুন সূচনা। যে কষ্ট আজ আপনাকে কাঁদাচ্ছে, হয়তো সেটিই আপনাকে আপনার রবের আরও নিকটবর্তী করবে। তাই দুঃসময়ে হতাশ হবেন না, নিজের দুর্বলতার দিকে নয় বরং আল্লাহর অসীম ক্ষমতা, রহমত ও হিকমতের দিকে তাকান।আপনি জানেন না আগামী মুহূর্তে কীভাবে আপনার সংকটের সমাধান হবে; কিন্তু আপনার রব জানেন। আপনি জানেন না কোন দরজা দিয়ে মুক্তি আসবে; কিন্তু আল্লাহ জানেন কোন দরজা আপনার জন্য খুলতে হবে। অতএব, সবর করুন, দোয়া করুন, সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চান এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল রাখুন।যিনি বিপদ দিয়েছেন, তিনিই তা দূর করার ক্ষমতা রাখেন; যিনি পরীক্ষা নিয়েছেন, তিনিই তার উত্তম পরিণতি দান করতে পারেন। তাই বিপদের অন্ধকারে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হবেন না।আল্লাহ আমাদের সকল বিপদ-মুসিবত থেকে হেফাজত করুন, পরীক্ষার সময়ে আমাদের সবর ও তাওয়াক্কুল দান করুন, আমাদের অন্তরকে তাঁর ওপর অবিচল রাখুন এবং প্রতিটি কষ্টের পর আমাদের জন্য কল্যাণ ও প্রশান্তি নির্ধারণ করুন। আমীন।
▬▬▬▬▬◄❖►▬▬▬▬▬
উপস্থাপনায়: জুয়েল মাহমুদ সালাফি।
Share: