কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক বার্তা প্রচার করাই এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

সাহাবী আমর ইবনুল আছ (রাঃ) এর মৃত্যুকালীন একটি ঘটনা

ইবনু শিমাসা আল-মাহরী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমর বিন আছ (রাঃ) এর মরণকালে আমরা তাঁর কাছে হাযির ছিলাম। তিনি দীর্ঘক্ষণ ধরে কান্নাকাটি করলেন এবং দেয়ালের দিকে মুখ ফিরিয়ে রাখলেন। তখন তাঁর ছেলে বলতে লাগলেন, আব্বা,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গ লাভের পরও কি এ চিন্তা! আব্বা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম এর সঙ্গ লাভের পরও কি এ চিন্তা!

তিনি তখন মুখ ফিরিয়ে বললেন, আমরা যা সবচেয়ে উত্তম গণ্য করি তা হ’ল, কালিমা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ’ (আল্লাহ ছাড়া কোন মা‘বূদ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল)-এর সাক্ষ্য দান। আমার জীবনের তিনটি পর্যায় আমি অতিবাহিত করেছি। একসময় ছিল যে, রাসূলুল্লাহ সালালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে আমার থেকে অধিক ঘৃণাকারী দ্বিতীয় কেউ ছিল না। সেসময় তাঁকে বাগে পেলে হত্যা না করা পর্যন্ত আমার মনে স্বস্তি মিলত না। ঐ অবস্থায় মারা গেলে আমি হ’তাম জাহান্নামী।

তারপর যখন আল্লাহ তা‘আলা আমার অন্তরে ইসলামের আকর্ষণ পয়দা করলেন তখন আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে বললাম, ‘আপনার ডান হাত প্রসারিত করুন,আমি আপনার নিকট বায়‘আত হব (আনুগত্যের শপথ করব)’। তিনি তাঁর ডান হাত প্রসারিত করে দিলেন, কিন্তু আমি আমার হাত টেনে নিলাম। তিনি বললেন, ‘আমর, তোমার কী হ’ল’? আমি বললাম, ‘আমি একটা শর্ত করতে চাই’। তিনি বললেন, ‘কী শর্ত’? আমি বললাম, ‘আমাকে যেন মাফ’ করে দেওয়া হয়। তিনি বললেন, ‘ইসলাম তার পূর্বেকার সকল গুনাহ নিশ্চিহ্ন করে দেয় এবং হিজরত তার পূর্বেকার সকল গুনাহ নিশ্চিহ্ন করে দেয় এবং হজ্জ তার পূর্বেকার সকল গুনাহ নিশ্চিহ্ন করে দেয়’। এভাবে ইসলাম গ্রহণের পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে (আমার অন্তরে) অধিক প্রিয় এবং আমার চোখে অধিক মর্যাদাশালী দ্বিতীয় আর কেউ ছিল না। তাঁর বড়ত্ব ও মহত্ত্ব আমার চোখে এতটাই ভরপুর হয়ে ধরা দিত যে, তাঁকে দু’চোখ ভরে দেখার সামর্থ্য আমার হ’ত না। আমাকে যদি তাঁর দৈহিক রূপ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়, তবে আমি তা বলতে পারব না। কারণ আমি তাঁকে দু’চোখ ভরে দেখতে পারিনি। ঐ অবস্থায় মারা গেলে আমার জান্নাতবাসী হওয়ার আশা ছিল। তারপর আমি অনেক রকমের দায়িত্বে জড়িয়ে পড়েছি। জানি না তাতে আমার অবস্থা কী দাঁড়াবে।

অবশ্য আমি যখন মারা যাব তখন যেন আমার সাথে কোন মাতমকারিণী না যায়, আর না কোন আগুন সাথে নেওয়া হয়। তারপর যখন তোমরা আমাকে দাফন করবে (মাটির নীচে রাখবে) তখন অল্প অল্প করে মাটি দিবে। পরিশেষে তোমরা একটা উট যবেহ করে তার গোশত বিতরণ পর্যন্ত যে সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় আমার কবরের পাশে অবস্থান করবে। যাতে করে আমি তোমাদের বিচ্ছেদকে মানিয়ে নিতে পারি এবং আমার রবের দূতদের সঙ্গে আমি কী কথোপকথন করতে পারব তা ভাবতে পারি’।(সহীহ মুসলিম হা/১২১) আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী।