মিলাদুন্নবী উপলক্ষে বিভিন্ন সেমিনারে যোগদান করা এবং ওই দিনে যে খাবার বিতরণ করা হয় সেটা খাওয়ার বিধান

ভূমিকা: প্রচলিত মিলাদুন্নবী সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে কমেন্ট থেকে পূর্বের তিনটি পর্ব পড়ে নিন। আজকের পর্বে আমরা আলোচনা করবো প্রচলিত মিলাদুন্নবী উপলক্ষে বিভিন্ন সেমিনার কিংবা অনুষ্ঠানে যোগদান করা এবং এই দিবসকে কেন্দ্র করে যে খাবার বিতরণ করা হয় সেটা খাওয়া জায়েয হবে কিনা?
.
ইসলাম ধর্মে মুসলিমদের উৎসবের দিন দুইটি। যথা: ১. ঈদুল আযহা ও ২. ঈদুল ফিতর। আল্লাহ তা‘আলা মুসলিমদেরকে এ দুটি দিবস নির্ধারণ করে দিয়েছেন, এ দুটি দিবসে তারা উৎসব পালন করবে, একে অপরের মধ্যে আনন্দ, ভালোবাসা, সুখ-দুঃখ বিনিময় করবে। তাই ইসলামে উপরোক্ত দুটি উৎসবের দিন ছাড়া বাকি যত দিবস আছে হোক সেটা আরবি, অথবা বাংলা, কিংবা ইংরেজি, এক কথায় সকল দিবস পালন করা নিকৃষ্ট বিদ‘আত এবং নিষিদ্ধ হারাম। এমনকি আক্বীদা-বিশ্বাসের গরমিল হলে কখনো কখনো শিরক ও হতে পারে, তাই প্রতিটি সচেতন মুসলিমের জন্য এই সকল দিবস পালন করা এবং তাতে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা অপরিহার্য কর্তব্য। কারন এগুলো বিজাতীয় অপসংস্কৃতির অনুকরণ মাত্র। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি বিজাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে তাদের দলভুক্ত গণ্য হবে। (আবু দাঊদ হা ৪০৩১; তিরমিযী হা/২৬৯৫; সিলসিলা সিলসিলা সহীহাহ হা/২১৯৪; সনদ হাসান)।
.
কুরআন সুন্নাহ এবং প্রসিদ্ধ সালাফগনের মতামতের ভিত্তিতে এ কথা প্রমাণিত যে, ইসলামী শরিয়তে “ঈদে মিলাদুন্নবী” বলে কোন কিছু নেই। সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ীন কিংবা মুসলিম উম্মাহর ইমামগণ এ ধরণের কোন দিবস জানতেন না; থাকতো তাঁরা এমন কোন দিবস উদযাপন করবেন। বরঞ্চ বাতেনীপন্থী কিছু মূর্খ বিদআতি এটি উদ্ভাবন করেছে। পরবর্তীতে বিশ্বের আনাচে-কানাচের সাধারণ মুসলমানেরা এ বিদআতটি পালন করে আসছে।অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন; অতঃপর নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলার কিতাব এবং সর্বোত্তম পথ হচ্ছে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পথ। আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হলো দ্বীনে (মনগড়াভাবে) নতুন জিনিস সৃষ্টি করা এবং (এ রকম) সব নতুন সৃষ্টিই গুমরাহী (পথভ্রষ্ট)। (সহীহ মুসলিম হা/ ৮৬৭, সহীহ ইবনু হিব্বান হা/১০, সহীহ আত তারগীব হা/৫০, সহীহ ইবনু খুযাইমাহ্ ১৭৮৫)। অপর বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছুর উদ্ভব ঘটাল, যা তার মধ্যে নেই, তা প্রত্যাখ্যাত।’(সহীহ বুখারী হা/২৬৯৭, সহীহ মুসলিম হা/১৭১৮, মিশকাত হা/১৪০)।
.
তাছাড়া কুরআন সুন্নাহর কোন বিশুদ্ধ দলিল দ্বারা কোন নবীর জন্মদিন সুনির্দিষ্টভাবে জানা অসম্ভব। এমনকি আমাদের নবীর ক্ষেত্রেও। কারণ তাঁর জন্মদিন অকাট্যভাবে জানা যায় না। এ ব্যাপারে ইতিহাসবিদগণের প্রায় ৯টি বা তারও বেশি অভিমত রয়েছে। তাই তাঁর জন্মদিন পালন ঐতিহাসিকভাবে ও শরয়িভাবে বাতিল। এবং মিলাদ পালনের বিষয়টি সেটি আমাদের নবীর জন্মদিন হোক অথবা ঈসা (আঃ) এর জন্মদিন হোক মূল থেকেই বাতিল। ইমাম মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-‘উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২১ হি./২০০১ খ্রি.] বলেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মরাত পালন ঐতিহাসিকভাবে অথবা শরয়িভাবে সঠিক নয়।(ফাতাওয়া নুরুন আলাদ দারব: ১৯/৪৫)।
.
সৌদি আরবের ‘ইলমী গবেষণা ও ফাতাওয়া প্রদানের স্থায়ী কমিটির (আল-লাজনাতুদ দাইমাহ লিল বুহূসিল ‘ইলমিয়্যাহ ওয়াল ইফতা) ‘আলিমগণ বলেছেন,
الاحتفال بمناسبة المولد النبوي بدعة محرمة ؛ لأن ذلك لا دليل عليه من كتاب الله ولا سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم ، ولم يعمله أحد من خلفائه الراشدين والقرون المفضلة

মিলাদুন্নবী উপলক্ষে অনুষ্ঠান করা বিদআত, হারাম যেহেতু এর সপক্ষে আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের হাদিসে কোন দলিল নেই। সুপথপ্রাপ্ত খলিফাগণের কেউ অথবা উত্তম প্রজন্মের কেউ এটি পালন করেননি। (ফাতাওয়া লাজনাহ দায়িমাহ; খন্ড: ২ পৃষ্ঠা: ২৪৪) সুতরাং প্রচলিত মিলাদুন্নবী উপলক্ষে কোন অনুষ্ঠানে আয়োজন করা এবং এবং বিভিন্ন সেমিনারে যোগদান করা জায়েজ নয়।
.
▪️মিলাদুন্নবীর দিনে বিতরণকৃত খাবার খাওয়ার হুকুম:
.
প্রিয় পাঠক! আমি পূর্বেই উল্লেখ করেছি যে,ইসলামী শরিয়তে “ঈদে মিলাদুন্নবী” বলতে কিছু নেই। সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ীন, চার ইমাম ও অন্য আলেমগণ এমন কোন দিন জানতেন না। বরং এ ঈদ বা উৎসবটি উদ্ভাবন করেছে কিছু বিদআতী বাতেনী গোষ্ঠী। এরপর থেকে মানুষ এ বিদআত পালন করে আসছে; অথচ আলেমগণ সর্বকালে ও সর্বস্থানে এ বিদআত সম্পর্কে মানুষকে হুশিয়ার করে আসছেন। এ দিনকে উপলক্ষ করে মানুষ যা কিছু পালন করে থাকে যেমন- মাহফিল করা, খাবার বিতরণ করা ইত্যাদি সব হারাম কাজ হিসেবে গণ্য হবে। কারণ এর মাধ্যমে তারা আমাদের শরিয়তে একটি বিদআতী উৎসবকে চালু রাখতে চায়।
.
সৌদি ফতোয়া বোর্ড এবং সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ‘উলামা পরিষদের প্রবীণ সদস্য, যুগশ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ, আশ-শাইখুল ‘আল্লামাহ, ইমাম সালিহ বিন ফাওযান আল-ফাওযান (হাফিযাহুল্লাহ) [জন্ম: ১৩৫৪ হি./১৯৩৫ খ্রি.] আল-বায়ান লি আখতায়ি বাযিল কুত্তাব’ গ্রন্থে বলেন: কুরআন ও হাদিসে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কর্তৃক প্রদত্ত বিধানের অনুসরণ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং ধর্মীয় বিষয়ে নতুন কিছু প্রবর্তন করা থেকে নিষেধ করা হয়েছে- এটি কারো অজানা নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: “বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস, তাহলে আমার অনুসরণ কর, ফলে আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের পাপরাশি মার্জনা করে দিবেন। আল্লাহ ক্ষমাশীলও দয়ালু।[সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৩১] তিনি আরও বলেন: “তোমরা অনুসরণ কর, যা তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে এবং আল্লাহকে বাদ দিয়ে কর্তাদের অনুসরণ করো না।”।[সূরা আরাফ, আয়াত: ৩] তিনি আরও বলেন: “তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন, যেন তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর। নিশ্চিত এটি আমার সরল পথ। অতএব, এ পথে চল এবং অন্যান্য পথে চলো না। তা হলে সেসব পথ তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিবে।”[সূরা আনআম, আয়াত: ১৫৩] নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “নিশ্চয় শ্রেষ্ঠ সত্যবাণী হচ্ছে আল্লাহর কিতাব। সর্বোত্তম আদর্শ হচ্ছে- নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ। সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হচ্ছে- নব প্রবর্তিত বিষয়গুলো।” তিনি আরও বলেন: “যে ব্যক্তি আমাদের দ্বীনে এমন কোন বিষয় চালু করে যা এতে নেই সেটা প্রত্যাখ্যাত” । সহিহ মুসলিমের এ বর্ণনায় এসেছে- “যে ব্যক্তি এমন কোন আমল করে যা আমাদের দ্বীনে নেই সেটা প্রত্যাখ্যাত”মানুষ যে সব বিদআতের প্রবর্তন করেছে তার মধ্যে রবিউল আউয়াল মাসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মবার্ষিকী পালন করা অন্যতম। এ জন্মবার্ষিকী পালন করার ক্ষেত্রে তারা কয়েক শ্রেণীর:এক শ্রেণী যারা শুধু জমায়েত হয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্ম কাহিনী পড়ে; কিংবা এ উপলক্ষে আলোচনা পেশ করে ও কাসিদা পাঠ করে। আর কেউ আছে খাবার-দাবার ও মিষ্টান্ন তৈরী করে উপস্থিত লোকদের মাঝে বিতরণ করে।কেউ আছে মসজিদে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে; কেউ আছে বাড়ীতে আয়োজন করে। আর কেউ আছে শুধু এ সবের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে আরও অনেক হারাম ও গর্হিত কাজে লিপ্ত হয়; যেমন নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা, নাচগান, কিংবা বিভিন্ন শিরকমিশ্রিত কার্যাবলী যেমন- রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট সাহায্য চাওয়া, তাঁকে ডাকা, শত্রুর বিরুদ্ধে বিজয়ী হওয়ার জন্য তাঁর মদদ চাওয়া ইত্যাদি।মিলাদ অনুষ্ঠানের এ নানাবিধ ধরন ও প্রকারসহ এটি একটি হারাম কাজ ও উত্তম ত্রি-প্রজন্মের উত্তরকালে প্রবর্তিত বিদআত। ষষ্ঠ হিজরী কিংবা সপ্তম হিজরীতে প্রথমবারের মত এ বিদআতটি চালু করেন আর্বিলের বাদশা আবু সাঈদ (সাঈদের পিতা) আল-মুজাফফর কুকবুরি; যেমনটি উল্লেখ করেছেন ইতিহাসবিদ ইবনে কাছির ও ইবনে খাল্লিকান প্রমুখ।আবু শামা বলেন: মোসুলে প্রথমবারের মত এ বিদআতটি পালন করেন একজন মশহুর দ্বীনদার মানুষ- শাইখ উমর বিন মুহাম্মদ আল-মোল্লা। এরপর আর্বিলের বাদশা ও অন্যরা তাকে অনুসরণ করেন। (আল-বায়ান লি আখতায়ি বাযিল কুত্তাব’পৃষ্ঠা ২৬৮-২৭০)।
.
ইবনুল হাজ্জ আল-মালেকী (রাহিমাহুল্লাহ) গান-বাজনা ও নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা এ জাতীয় শরিয়ত গর্হিত কার্যাবলী মুক্ত মিলাদুন্নবী পালনের হুকুম সম্পর্কে বলেন: যদি এ থেকে মুক্ত হয়, শুধুমাত্র খাবারের আয়োজন করা হয়, এর দ্বারা মিলাদ বা রাসূলের জন্মদিন পালনের নিয়ত করা হয়, এ উদ্দেশ্যে বন্ধুমহলকে দাওয়াত করা হয় এবং ইতিপূর্বে উল্লেখিত বিষয়াবলী থেকে মুক্ত হয় তদুপরি শুধু এ নিয়তের কারণে এটি পালন করা বিদআত। কেননা এটা পালন করা ইসলামী শরিয়তে একটি নতুন সংযোজন; যা পূর্ববর্তী সলফে সালেহীন পালন করেননি। সলফে সালেহীন যে অবস্থায় ছিলেন সেটা থেকে কোন কিছু না বাড়িয়ে তাদের অনুসরণ করাই উত্তম; বরং অপরিহার্য। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ অনুসরণ ও সুন্নাহর প্রতি সম্মান প্রদর্শনে তাঁরা ছিলেন সর্বাধিক আগ্রহী। এক্ষেত্রে তাঁদের অগ্রবর্তিতা সাব্যস্ত। তাঁদের কেউ মিলাদ পালন করেছেন মর্মে জানা যায় না। আমরা হচ্ছি তাঁদের অনুগামী। যা কিছু তাদের জন্য যথেষ্ট ছিল সেটা পালন করা আমাদের জন্যেও যথেষ্ট। জ্ঞানগত ক্ষেত্রে ও আমলী ক্ষেত্রে তাঁদেরকেই অনুসরণ করতে হবে এটা জ্ঞাত বিষয়; যেমনটি শাইখ ইমাম আবু তালেব আল-মাক্কী (রহঃ) তাঁর লিখিত গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।(আল-মাদখাল, ২/১০)।
.
হাফেয ইমাম ইবনু কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ৭৭৪ হি.] আল-বিদায়া’ গ্রন্থে আবু সাঈদ কুকবুরি এর জীবনীতে লিখেন: وكان يعمل المولد الشريف في ربيع الأول ويحتفل به احتفالًا هائلًا . . إلى أن قال :قال السبط : حكى بعض من حضر سماط المظفر في بعض الموالد ، كان يمد في ذلك السماط خمسة آلاف رأس مشوي ، وعشرة آلاف دجاجة ، ومائة ألف زبدية ، وثلاثين ألف صحن حلوى…إلى أن قال : ويعمل للصوفية سماعًا من الظهر إلى الفجر ، ويرقص بنفسه معهم“তিনি রবিউল আউয়াল মাসে মিলাদুন্নবী পালন করতেন এবং বিশাল অনুষ্ঠান করতেন…। এক পর্যায়ে তিনি বলেন: আল-সিবত বলেন: মুজাফফর কর্তৃক মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আয়োজনকৃত ভোজানুষ্ঠানে যারা হাজির হয়েছেন এমন একজন বলেন যে, সে অনুষ্ঠানে পাঁচ হাজার ভুনা মাথা, দশ হাজার মুরগী, একলক্ষ দুধের পেয়ালা এবং ত্রিশ হাজার মিষ্টান্নের প্লেট উপস্থাপন করা হত…। এক পর্যায়ে তিনি বলেন: সুফি গান শুনার ব্যবস্থা থাকত জোহর থেকে ফজর পর্যন্ত। বাদশা নিজে তাদের সাথে নাচত। (আল-বিদায়া’ গ্রন্থে:খন্ড:১৩ পৃষ্ঠা: ১৩৭)।
.
বিগত শতাব্দীর সৌদি আরবের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফাক্বীহ শাইখুল ইসলাম ইমাম ‘আব্দুল ‘আযীয বিন ‘আব্দুল্লাহ বিন বায (রাহিমাহুল্লাহ) [মৃত: ১৪২০ হি./১৯৯৯ খ্রি.]-কে নিম্নোক্ত প্রশ্নটি জিজ্ঞেস করা হয় মিলাদুন্নবী উপলক্ষে জবাইকৃত পশুর গোশত খাওয়ার হুকুম কি?
.
জবাবে তিনি বলেন: إن كان ذبحها لصاحب المولد فهذا شرك أكبر ، أما إن كان ذبحها للأكل فلا شيء في ذلك ، لكن ينبغي ألا يؤكل منها ، وأن لا يحضر المسلم إنكارا عليهم بالقول والفعل ؛ إلا أن يحضر لنصيحتهم بدون أن يشاركهم في أكل أو غيره “অর্থাৎ যদি যার মিলাদ (জন্ম বার্ষিকী) তাঁর জন্য এ পশু জবাই করা হয় তাহলে এটি শিরকে আকবার (বড় শিরক)। আর যদি গোশত খাওয়ার জন্য জবাই করা হয় তাতে কিছু নেই। তবে কোন মুসলমানের সে গোশত খাওয়া উচিত নয়; সে অনুষ্ঠানে যাওয়া উচিত নয়; যাতে করে মুসলমান কথা ও কাজের মাধ্যমে বিদআতীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে পারেন। আর যদি তাদেরকে নসিহত করার উদ্দেশ্যে উপস্থিত হতে চান সেটা করতে পারেন; তবে তাদের খাবার বা অন্য কিছুতে অংশ গ্রহণ করবে না। (মাজমূ‘উ ফাতাওয়া ওয়া মাক্বালাতুম মুতানাওয়্যা‘আহ খন্ড: ৯ পৃষ্ঠা: ৯৪)।
.
পরিশেষে প্রিয় পাঠক! প্রচলিত ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে এই দিনটিকে কেন্দ্র করে নানা রকমের খাবার-দাবার প্রস্তুত করা, খাবার বিতরণ করা, মানুষকে সে ভোজের দাওয়াত দেয়া। ইত্যাদি শরীয়ত সম্মত নয়। সুতরাং কোন মুসলমান যদি এসব কিছুতে তাদের সাথে অংশ গ্রহণ করে, তাদের প্রস্তুতকৃত খাবার খায়,তাদের দস্তরখানে বসে নিঃসন্দেহে সেটা এ বিদআত উদযাপনের মধ্যে পড়বে; এটি তাদেরকে এ বিদআত উদযাপনে সহযোগিতা করার নামান্তর। আল্লাহ তাআলা বলেন: “তোমরা পরস্পর পরস্পরকে নেকী ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা কর; পাপকাজ ও সীমালঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করো না। [সূরা মায়েদা, আয়াত: ২] এ কারণে সে দিনকে উপলক্ষ করে প্রস্তুতকৃত খাবার খাওয়া হারাম মর্মে আলেমগণ ফতোয়া দিয়েছেন এবং অন্য কোন বিদআত উৎসব উপলক্ষে প্রস্তুতকৃত খাবার খাওয়াও হারাম ফতোয়া দিয়েছেন। (বিস্তারিত জানতে দেখুন: ইসলাম সওয়াল-জবাব ফাতাওয়া নং৮৯৬৯৩) (আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী)।
______________________
উপস্থাপনায়:
জুয়েল মাহমুদ সালাফি।

Share On Social Media