কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক বার্তা প্রচার করাই এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

বমি করলে কি অযু ভঙ্গ হবে এবং এই বিষয়ে ইসলাম কি বলে

বমি করলে অযু ভঙ্গ হবে কিনা এটি নিয়ে আহালুল আলেমগনের মধ্যে মতানৈক্য রয়েছে। ইমাম আবু হানিফা রাহিমাহুল্লাহ এবং ইমাম আহমেদ রাহিমাহুল্লাহ এর একটি মতে বমি করলে অযু ভঙ্গ হবে। তবে ইমাম আহমাদ এক্ষেত্রে শর্ত দিয়েছেন যে অত্যধিক বমি করলে অযু ভঙ্গ হবে কিন্তু অত্যধিক না হলে নয়, অপরদিকে ইমাম শাফেঈ ইমাম মালেক ও ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহিমাহুল্লাহ) সহ জুমহুর ওলামাদের বিশুদ্ধ মতে বমি করলে অযু ভঙ্গ হবেনা। কেননা বমি করলে অযু ভঙ্গ হবে এই মর্মে রাসূল (ﷺ) থেকে বিশুদ্ধ কোন দলিল নেই। (ইবনে কুদামাহ আল-মুগনি, ১/২৪৭-২৫০, ইসলামি সওয়াল-জবাব ফাতাওয়া নং-৪৪৬৩৩)
.
বমি করলে অযু ভঙ্গ হয় মর্মে যত বর্ণনা রয়েছে তার একটিও সহীহ নয়। যেমন, আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন- “সালাতের মধ্যে যদি কারো যদি বমি হয় অথবা নাক থেকে রক্ত ঝরে বা মুখ দিয়ে খাদ্যদ্রব্য বের হয় কিংবা মযী নির্গত হয়, তাহলে সে যেন ফিরে যায় এবং ওযু করে। এরপর পূর্ববর্তী সালাতের উপর ভিত্তি করে সালাত আদায় করে। আর এই সময়ে সে কোন কথা বলবেন না। (ইবনু মাজাহ হা/১২২১)। তাহক্বীক্ব: হাদীসটি জঈফ। কারণ উক্ত হাদীসের সনদে ইসমাঈল ইবনু আইয়াশ নামে একজন রাবী আছে, সে জঈফ। সে হিজাযের দুই ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছে। কিন্তু তারা জঈফ।(যঈফ আবুদাঊদ (আল-উম্ম),পৃঃ ৬৮; জঈফুল জামে হা/৫৪২৬)
.
জেনে রাখা ভাল যে, সহীহ সূত্রে আবু দারদা (রাঃ) থেকে একটি হাদীসে এসেছে- একদা রাসূল (ﷺ) বমি করার পর ইফতার করলেন, অতঃপর ওযু করলেন। (আবু দাউদ, হা/ ২৩৮১; তিরমিযী হা/ ৮৭; মুসনাদে আহমাদ,৬/৪৪৯)। প্রথমত এই হাদীসে রাসূল (ﷺ) এর কর্মের পরস্পর অবস্থা বর্ণিত হয়েছে।দ্বিতীয়ত এ হাদীসে যেমন বমি নাপাক হওয়ার কোন প্রমাণ নেই। তেমনি এটাও প্রমাণ করে না যে, বমি করার ফলে ওযু করা ওয়াজিব। এর দ্বারা ওযু ভঙ্গেরও কোন প্রমাণ নেই। (আলবানী ইরওয়াউল গালীল১/১৪৮,শারহে আলমুমতে ফিক্‌হ ইবনে উসাইমীন রাহিমাহুল্লাহ ১/২২৪-২২৫) (আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী)
____________________
জুয়েল মাহমুদ সালাফি।