কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক বার্তা প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

কবরে নিষিদ্ধকর্ম সমূহ কি কি

প্রশ্নঃ কবরে নিষিদ্ধকর্ম সমূহ কি কি?
——————
উত্তরঃ
কবরে নিষিদ্ধকর্ম সমূহ নিম্নরূপ————–
১. কবর এক বিঘতের বেশি উচুঁ করা, পাকা ও চুনকাম করা, সমাধি সৌধ নির্মাণ করা, গায়ে নাম লেখা, কবরের উপরে বসা, কবরের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করা নিষিদ্ধ । (মুসলিম, মিশকাত হা/১৬৯৬-৯৯)।

২. ধুয়ে মুছে সুন্দর করা, কবরে মসজিদ নির্মাণ করা, সেখানে মেলা বসানো, ওরস করা ও কবরকে তীর্থস্থানে পরিণত করা নিষিদ্ধ ।(মুসলিম, মিশকাত হা/৭১৩; নাসাঈ, আবু দাউদ, মিশকাত হা/৯২৬; ফিকহুস সুন্নাহ ১/২৯৫)।

৩. কবরের নিকট গরু-ছাগল-মোরগ ইত্যাদি যবেহ করা। জাহেলী যুগে দানশীল ও নেককার ব্যক্তিদের কবরের পাশে এগুলি করা হতো।(আবু দাউদ হা/৩২২২; আহমাদ হা/১৩০৫৫, সিলসিলা সহীহাহ হা/২৪৩৬)।

৪. কবরে ফুল দেওয়া, গেলাফ চড়ানো, শামিয়ানা টাঙ্গানো ইত্যাদি।(ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/২৯৫)।
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, আল্লাহ আমাদেরকে ইট, পাথর ও মাটি ইত্যাদিকে কাপড় পরিধান করাতে নির্দেশ দেননি।
(মুত্তাফাক আলাইহ, মিশকাত হা/৪৪৯৪ ‘পোষাক’ অধ্যায়-২২, ‘ছবি সমূহ’ অনুচ্ছেদ-৪; আবু দাউদ হা/৪১৫৩)।

এগুলো স্পষ্টভাবে কবর পূজার শামিল। রাসূলুল্লাহ(ছাঃ) হযরত আলী (রাঃ)-কে নির্দেশ দিয়ে বলেছিলেন, ‘তুমি কোন মূর্তিকে ছেড় না নিশ্চিহৃ না করা পর্যন্ত এবং কোন উঁচু কবরকে ছেড় না মাটি সমান না করা পর্যন্ত’। {মুসলিম হা/৯৬৯; ঐ, মিশকাত হা/১৯৯৬ ‘জানায়েয’ অধ্যায়-৫, ‘মৃতের দাফন’ অনুচ্ছেদ-৬; }।

৫- রাসূলুল্লাহ প্রার্থনা করেছেন, ‘হে আল্লাহ! তুমি আমার কবরকে ইবাদতের স্থানে পরিণত করো না। আল্লাহর গযব কঠোরতর হয় ঐ জাতির উপরে, যারা তাদের নবীর কবরকে সিজদাহর স্থানে পরিণত করে’। (মুওয়াত্ত্বা, মিশকাত হা/৭৫০, ‘সালাত’-অধ্যায়-৪, মসজিদ ও সালাতের স্থান সমূহ’ অনুচ্ছেদ-৭)।

৬- আজকাল কবরকে ‘মাযার’ বলা হচ্ছে। যার অর্থ: পবিত্র সফরের স্থান। অথচ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলে গেছেন, ‘(নেকী হাছিলের উদ্দেশ্যে) তিনটি স্থান ব্যতীত সফর করা যাবে না, মসজিদুল হারাম, মসজিদুল আক্বছা ও আমার এই মসজিদ’। (ম্ত্তুাফাক ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৬৯৩, ‘মসজিদ ও সালাতের স্থান সমূহ’ অনুচ্ছেদ-৭)।
তিনি তাঁর উম্মতের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘তোমরা আমার কবরকে তীর্থস্থানে পরিণত করো না’।(নাসাঈ, আবু দাউদ, মিশকাত হা/৯২৬, ‘রাসূল (সাঃ) এর উপর দরুদ পাঠ’অনুচ্ছেদ-১৬)।

৭- মৃত্যুর পাঁচদিন পূর্বে তিনি উম্মতকে সাবধান করে বলেন, ‘সাবধান! তোমরা কবর সমূহকে সিজদাহর স্থানে পরিণত করো না। আমি তোমাদেরকে এ ব্যাপারে নিষেধ করে যাচ্ছি।
(মুসলিম হা/১২১৬, মিশকাত হা/৭১৩, মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ, আলবানী, তাহযীরুস সাজেদ পৃষ্ঠা-১৫)।

৮- কবরে মসজিদ নির্মাণকারী ও সেখানে মৃত ব্যক্তির ছবি, মূতি ও প্রতিকৃতি স্থাপনকারীদের সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘এরা ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকটে নিকৃষ্টতম সৃষ্টি হিসাবে গণ্য হবে’।
(বুখারী হা/১৩৪১; মুসলিম হা/১২০৯)।

৯- কবরের বদলে কোন গৃহে বা রাস্তার ধারে বা কোন বিশেষ স্থানে মৃতের পূর্ণদেহী বা আবক্ষ প্রতিকৃতি নির্মাণ করে বা স্মৃতিচিহৃ স্থাপন করে সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করা ও নীরবে দাঁড়িয়ে থাকা পরিষ্কারভাবে মূর্তিপূজার শামিল। যা স্পষ্ট শিরক এবং যা থেকে বিরত থাকা অপরিহার্য। (আবু দাউদ হা/৪১৫৮।)

মাইয়েতের অভিভাকের জন্য সুন্নাত হলো কবরকে পাথর ইত্যাদি দ্বারা চিহ্নিত করে রাখা; যাতে করে পরবর্তীতে তার পরিবারের কেউ মারা গেলে তার পার্শ্বে দাফন করতে পারে এবং তার দ্বারা তার মাইয়েতের কবরকে চিনতে পারে। রাসূল(ছাঃ),সাহাবী উসমান ইবনে মাজউন (রাঃ)- এর কবরের উপর চিহৃ স্থাপন করেছিলেন।
(আবুদাউদ হা/৩১৯২; শায়খ ইবনে বায, জানাযার বিধান, বঙ্গ:)।

Translate In English