কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক বার্তা প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

আব্দুল ও আবুল শব্দ দুটি বর্তমান সময়ে ঠাট্টা মশকরা তামাশা আর জোকস করার শব্দ হয়ে গেছে

আব্দুল ও আবুল শব্দ দুটি বর্তমান সময়ে ঠাট্টা মশকরা তামাশা আর জোকস করার শব্দ !!
কোনো মুসলিম ভাইয়ের উচিত এই শব্দ গুলো দিয়ে কাউকেই হাসি ঠাট্টা না করা।

কেন? সমস্যা কোথায়?

আসুন জানার চেষ্টা করি এবং অনুধাবন করি।
————————————————
আব্দুল। যার অর্থ বান্দা বা দাস বা গোলাম!
————————————————
আমরা নাম রাখি আব্দুল্লাহ ( এটাই শ্রেষ্ঠ নাম) = আব্দুল + আল্লাহ = অর্থাত বান্দা/ দাস//গোলাম + আল্লাহ’র ।

আব্দুল্লাহ মানে আল্লাহর বান্দা বা আল্লাহর দাস।

একই ভাবে, আব্দুল আলিম যার অর্থ ”সর্বজ্ঞ,যিনি সবকিছু জানেন” তাঁর বান্দা বা গোলাম।

আল্লাহর গুন বাচক নামের আগে আব্দুল লাগিয়ে মুসলিমরা নাম রাখেন।

আবিধানিক অর্থে আমাদের ভাষায় কাজের লোক বা দাস দাসী বা গোলাম অর্থে ”আব্দুল” শব্দটি ব্যবহৃত হয় না।

নামকরণের ক্ষেত্রে আমরা অনেকেই না জেনেই এমনিই এই নাম রাখি। অনেক ”আব্দুল আল্লাহ” ই জানেন না তার নামের কি অর্থ বহন করে। কেন তার নামের প্রথমে ”আব্দুল’ !!

এখন আমরা যদি এই ”আব্দুল” নামকে খারাপ ও ঠাট্টা হিসেবে ব্যবহার করি বিষয়টা কত জঘন্য পর্যায়ে যায় আমরা কি এতটুকু চিন্তা করেছি?

অনেকের নামের সাথে আব্দুল না থাকলেও আমরা গালি দিচ্ছি বা হাসি তামাশা করছি আব্দুল আব্দুল করে অথচ আমরা প্রত্যেকেই একেক জন ”আব্দুল”। নামের সাথে আব্দুল না থাকলেও তো আমরা সকলেই একেকজন ”আব্দুল” ! তো গালি গালাজ ঠাট্টা তো নিজেকেই করছি আমরা !!

আপনি প্রমান করতে পারবেন যে আপনি আব্দুল নন যদি না আপনি নাস্তিক না হন?

স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আমাদের নির্দেশ দিয়ে গিয়েছেন যে আমরা যেন তাঁর সম্পর্কে বলি তিনি ”আব্দুহু ওয়া রাসূলুহু” অর্থাত আল্লাহর বান্দা ও রাসুল !!

কালেমায় তো আমরা এটাই বলি তা-ই না?

আপনি যদি নিতান্তই কাওকে অন্যের (মানুষের) গোলামী বা চামচামির জন্য কিছু বলতেই চান তবে শুধু আব্দুল না বলে ”আব্দুল নাস” তো কোনদিন বলেন না !!! বা আব্দুল অমুক তমুক তো বলেন না ?
————————-
————————-
আবুল । যার অর্থ ——+এর বাবা। ”The father of……”
————————-
যেমন আবুল কাশেম। এটা রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর নাম। কারণ তাঁর ছেলের নাম ছিল কাশেম। তিনি কাশেমের পিতা তাই তিনি আবুল কাশেম বা ”পিতা+কাশেম এর” !

অতএব আমাদের প্রত্যেকের পিতাই একেকজন আবুল । আমাদের নামের আগে আবুল যোগ করলেই আমাদের বাবার নাম হয়।

এখন গালি বা হাসি ঠাট্টা কি নিজের পিতাকে নিয়ে করব আমরা?

নাম রাখার সময় আমরা অর্থের দিকে খেয়াল করি না। আমার নাম যখন আমার পিতা মাতা রাখেন তারাও খেয়াল করেননি। রেখে দিয়েছেন একটি নাম সমাজ থেকে দেখে। আমিও জানিনা আমার নামের সঠিক অর্থ কি। হয়ত বা ভালো মন্দ একটি অর্থ খুজলে পাওয়া যাবে কিন্তু আমি জানিনা বা আমার পিতা মাতা অর্থ জেনে নাম রাখেন নি এমনি একজন গুনিজনের নামের সাথে মিলিয়ে রেখে দিয়েছেন।

ওই যে প্রথমেই বলেছে নামের অর্থের দিকে খেয়াল না করেই আমরা নাম রেখে দেই৷

উপরেই উল্লেখ করেছি স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে ডাকা হত ”আবুল কাশেম”।
এর পরেও কি আপনি ”আবুল” শব্দটি ঠাট্টার জন্য ব্যবহার করবেন?

———————

জ্বী ভাই। আগে হয়ত জানতাম না কিন্তু এখন এই মুহুর্তে তো জানলাম। আমরা এই আবুল বা আব্দুল নামের কারণে মানুষকে বা মানুষের কর্মের কারণে মানুষকে আবুল বা আব্দুল বলে হাসি ঠাট্টা তামাশা করবনা ইনশা আল্লাহ। হয়ত বা আমাদের ব্যপক অপব্যবহারের কারণে পরবর্তী প্রজন্ম নামের এই অংশ গুলোকে বিকৃত ও খারাপ অর্থে ব্যবহার শুরু হবে।

বিশেষ করে বর্তমান আওয়ামিগ সরকারের কতিপয় মন্ত্রীর নামের সাথে এই আব্দুল ও আবুল থাকার কারণে বিশেষ করে আওয়ামী বিরোধীরা এই দুটো সব্দ ব্যবহার করে ব্যপক হাসি ঠাট্টা করছে যা মোটেও সঠিক নয়।

আমরা আওয়ামীলীগ বা যে কারোই বিরোধিতা করি শুধুমাত্র তাদের নীতি ও কর্মের কারণে। তারা যখন ধর্ম নিরপেক্ষ বা নাস্তিকতার কথা বলেন এবং ইসলাম কে হাসি ঠাট্টার বিষয় বানান তখনই তাদের এই নীতির ও কর্মের বিরোধিতা করি। তাই বলে তাদের সমর্থক কারো নামাংশ নিয়ে হাসি ঠাট্টা আমাদের করা উচিত নয়।

আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই মুনাফিকদের সর্দার বা দলনেতা । অপরদিকে আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) একজন সম্মানিত সাহাবী।
অতএব নাম বা নামাংশ কে কৌতুক করে হাসি ঠাট্টা নয় ।

প্রয়োজনীয়তা অনুধাবনে আমরা যথা সম্ভব শেয়ার করব ইনশা আল্লাহ।

Translate In English