কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক বার্তা প্রচার করাই এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

অমুসলিমদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা ও তাদের জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং ‘‘শান্তিতে থাকুন’’ (RIP: Rest in peace) ইত্যাদি বলার বিধান

ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলামে মুসলিম-অমুসলিম যেকোন মানুষের মৃত্যু বা বিপদে দুঃখিত হওয়া এবং সমাবেদনা জানানোই মানুষের স্বাভাবিক কর্তব্য। তাই
যদি কোনো অমুসলিম তথা কাফির ইসলামের সাথে শত্রুতা না করে নিরীহভাবে জীবনযাপন করে এবং এভাবেই মারা যায়, তবে তার ব্যাপারে মুমিনের মনে এজন্য দুঃখ আসবে যে, সে ঈমানহারা হয়ে কবরে চলে গেলো।সুতরাং মানুষ হিসাবে তার প্রতি সমবেদনা দেখানো কিংবা প্রয়োজনে তার রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়-স্বজনের নিকট শোক প্রকাশ করা এবং তাদেরকে ধৈর্যের উপদেশ দেয়া যাবে। এমনকি তাদের মৃত্যুতে দুঃখ প্রকাশ করে ‘ইন্নালিল্লাহ..’বলাও জায়েজ। কেননা এগুলি স্বাভাবিক মানবীয় সদাচরণের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত (ইমাম ইবনু কুদামা আল মুগনি, ২/৪১০; মুগনিউল মুহতাজ ২/৪২; বিন বায, ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব, ৩৭৫ পৃ:১৪/৩৬৪-৬৫)। রাসূল (ﷺ) বলেন,‘তোমরা পৃথিবীবাসীর প্রতি দয়া প্রদর্শন কর, আসমানবাসী (আল্লাহ) তোমাদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করবেন’(আবুদাউদ হা/৪৯৪১; মিশকাত হা/৪৯৬৯ সিলসিলা সহীহাহ হা/৯২৫)। …জনৈক ইহূদী বালক রাসূল ﷺ-এর খিদমত করত। সে অসুস্থ হ’লে রাসূল (ﷺ) তাকে দেখতে যান (সহীহ বুখারী হা/১৩৫৬; মিশকাত হা/১৫৭৪)।
.
তবে কোন অমুসলিম কাফেরের মৃত্যুতে তাদের জন্য কোনোভাবেই ক্ষমাপ্রার্থনা করা যাবে না এবং তাদের কল্যাণ কামনা করা অথবা দু’আ করা যাবে না। (সূরা তওবা ৯/৮৪; নববী, আল-মাজমু‘ ৫/১১৯; ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমু‘ ফাতাওয়া ১২/৪৮৯)। কেননা যে ব্যক্তি ঈমানের উপর মৃত্যুবরণ করেনি, সে নিশ্চিতভাবে চিরস্থায়ী জাহান্নামী (সূরা বাইয়েনাহ ৯৮/৬; সহীহ মুসলিম হা/১৫৩)। মহান আল্লাহ বলেন, ‘মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা নবী এবং মুমিনদের জন্য সঙ্গত নয়; যদিও তারা নিজেদের আত্মীয় হয়, তাদের কাছে একথা সুস্পষ্ট হওয়ার পর যে, তারা জাহান্নামের অধিবাসী’ (সূরা তওবা ৯/১১৩)। এজন্য রাসূল ﷺ-কে তাঁর মৃত মায়ের জন্যও ইস্তেগফার বা ক্ষমাপ্রার্থনা করতে নিষেধ করা হয়েছিল (সহীহ মুসলিম হা/৯৭৬ মিশকাত,১৭৬৩)
.
আমরা সকলেই জানি ইসলামের জন্য রাসূল ﷺ এর চাচা আবু তালিবের অবদান বলে বা লিখে শেষ করা যাবে না। কিন্তু সে ঈমান আনার সৌভাগ্য লাভ করতে পারেনি। নবীজি দাঁত কামড়িয়ে চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সে কাফির অবস্থায়ই মৃত্যুবরণ করে। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার মৃত্যুর পর তার জন্য ক্ষমা চাইতে থাকেন আল্লাহর কাছে। তখন আল্লাহ্ আয়াত নাযিল করে বলেন ‘নবী ও মুমিনের উচিত নয় যে, তারা মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে, যদিও তারা আত্মীয় হয় একথা সুস্পষ্ট হওয়ার পর যে, তারা জাহান্নামের অধিবাসী।’’(সূরা তাওবাহ, আয়াত: ১১৩) এবার বলুন, যে আবু তালিব তার জীবন বাজি রেখে ভাতিজা মুহাম্মাদ ﷺ কে সাপোর্ট দিয়ে গেছে, তার জন্যও ক্ষমা প্রার্থনার অনুমতি ইসলামে নেই, তবে আপনি আর কার জন্য শান্তি কামনা করেন? অতএব কোন অমুসলিমের মৃত্যুতে ‘ওপারে ভাল থাকবেন’ বা ‘শান্তিতে বিশ্রাম নিন’ (RIP) ইত্যাদি প্রার্থনাসূচক বাক্য বলা জায়েজ নয়। (আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী)।
___________________________
উপস্থাপনায়:
জুয়েল মাহমুদ সালাফি।