কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক বার্তা প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

জিহাদের হুকুম ও প্রকারভেদ

জিহাদের হুকুম ও প্রকারভেদ
.
মূলঃ শায়খ মুহাম্মাদ সালিহ আল মুনাজ্জিদ
অনুবাদঃ মুহাম্মাদ মুশফিকুর রহমান মিনার
.
প্রশ্নঃ
বর্তমান সময়ে শারিরীকভাবে সক্ষম সকল মানুষের জন্য কি জিহাদ ফরয হয়ে গেছে?
.
উত্তরঃ
সকল প্রশংসা আল্লাহর।
.
▪ প্রথমতঃ
জিহাদের বিভিন্ন প্রকার আছে। এর কিছু প্রকার আছে যা প্রতিটি ব্যক্তির জন্য আলাদাভাবে ওয়াজিব বা জরুরী। আর কিছু প্রকার আছে যা পুরো জাতির জন্য সামষ্টিকভাবে জরুরী – যদি কিছু মানুষ আদায় করে তাহলে অন্যরা দায়িত্ব থেকে মুক্ত হয়। আর কিছু প্রকারের জিহাদ আছে যা মুস্তাহাব।
.
জিহাদুন নাফস (নাফসের বিরুদ্ধে জিহাদ) এবং জিহাদুশ শাইত্বন (শয়তানের বিরুদ্ধে জিহাদ) প্রতিটি ব্যক্তির জন্য ওয়াজিব। মুনাফিক এবং কাফিরদের বিরুদ্ধে জিহাদ এবং জুলুম ও বিদআতের নেতৃত্বদানকারীদের বিরুদ্ধে জিহাদ পুরো জাতির জন্য সামষ্টিকভাবে জরুরী। কোনো কোনো পরিস্থিতিতে শারিরীক জিহাদ (অর্থাৎ লড়াই) সক্ষম সকল ব্যক্তির জন্য ব্যক্তিগতভাবে ওয়াজিব হয়ে যেতে পারে। এই পরিস্থিতিগুলো নিম্নে উল্লেখ করা হল।
.
ইবনুল কাইয়িম(র.) বলেছেন,
জিহাদ চার প্রকারের। জিহাদুন নাফস (নাফসের বিরুদ্ধে জিহাদ), জিহাদুশ শাইত্বন (শয়তানের বিরুদ্ধে জিহাদ), কাফিরদের বিরুদ্ধে জিহাদ এবং মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ।
.
জিহাদুন নাফস (নাফসের বিরুদ্ধে জিহাদ) চার প্রকারের। যথাঃ
.
১। হেদায়েত এবং সত্য দ্বীন (ইসলাম) শেখার জন্য জিহাদ বা সংগ্রাম করা। কেননা এটি ব্যতিত ইহকাল ও পরকালে কেউ সুখ বা সাফল্য অর্জন করতে পারে না। যদি এটি বাদ পড়ে, তাহলে ইহকাল ও পরকালে তার আমল নষ্ট হয়ে যাবে এবং সে ধ্বংস হয়ে যাবে।
২। যে ইলম অর্জন করা হয়েছে, সে অনুযায়ী আমলের জন্য সংগ্রাম করা। আমল ব্যতিত শুধুমাত্র ইলম অর্জন যদিও কোনো ক্ষতির কারণ নয়; কিন্তু তা কোনো উপকারও করে না।
৩। মানুষকে ইসলামের দিকে আহ্বানের জন্য সংগ্রাম করা। যারা ইসলাম সম্পর্কে জানে না, তাদেরকে জানানো। তা না হলে একজন ব্যক্তি আল্লাহ্‌ যে হেফায়েত ও প্রমাণ নাজিল করেছেন, তা গোপনকারী হিসাবে গণ্য হবেন। এবং তার ইলম তাকে আল্লাহর শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পারবে না।
৪। মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকার পথে মানুষের অপমান ও বিভিন্ন কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সংগ্রাম করা। এ সমস্ত কিছুকে আল্লাহর জন্য সহ্য করা।
.
যদি কেউ এই চারটি প্রকারের সবগুলো পূর্ণ করে, তাহলে সে একজন ‘রব্বানী’ {দ্বীন সম্পর্কে জ্ঞানী ব্যক্তিবর্গ যাঁরা ইলম অনুযায়ী আমল করেন এবং অন্যের নিকটেও প্রচার করেন; দেখুন সুরা আলি ইমরান ৩ : ৭৯} হিসাবে গণ্য হবে। সালাফগণ এ ব্যাপারে একমত যে, কোনো আলেম ‘রব্বানী’ হিসাবে গণ্য হবেন না যদি না তিনি হক জানেন, সে অনুযায়ী আমল করেন এবং অন্যকে তা শিক্ষা দেন। যাঁর ইলম আছে, তা শিক্ষা দেন এবং সে অনুযায়ী আমল করেন – আসমানী রাজ্যে তিনি মহান বলে গণ্য হবেন।
.
শয়তানের বিরুদ্ধে জিহাদ ২ প্রকারের।
.
১। ঈমানকে নাড়িয়ে দিতে পারে এমন সংশয় ও সন্দেহকে প্রতিরোধ করা।

২। নিজ খারাপ প্রবৃত্তি ও কামনার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা।
.
এখানে প্রথম জিহাদটি হয় ইয়াকিন বা দৃঢ় বিশ্বাসের দ্বারা। আর পরেরটি হয় ধৈর্যের দ্বারা। আল্লাহ্‌ বলেছেন,
وَجَعَلنا مِنهُم أَئِمَّةً يَهدونَ بِأَمرِنا لَمّا صَبَروا ۖ وَكانوا بِآياتِنا يوقِنونَ
অর্থঃ আর আমি তাদের মধ্য হতে নেতাদেরকে মনোনিত করেছিলাম যারা আমার নির্দেশ অনুসারে সৎপথ প্রদর্শন করত, যখন তারা ধৈর্য ধারণ করতো। আর তারা ছিল আমার নিদর্শনাবলীতে দৃঢ় বিশ্বাসী।
(আল কুরআন, সাজদাহ ৩২ : ২৪)
.
আল্লাহ্‌ আমাদেরকে জানাচ্ছেন যে, নের্তৃত্ব অর্জিত হয় ধৈর্য এবং দৃঢ় বিশ্বাসের দ্বারা। ধৈর্য কামনাকে দমন করে, দৃঢ় বিশ্বাস সংশয়কে দমন করে।
.
কাফির এবং মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ চার প্রকার।
যথাঃ অন্তর দ্বারা, জবানের দ্বারা, সম্পদ দ্বারা এবং জীবনের দ্বারা। কাফিরদের বিরুদ্ধে জিহাদ শারিরীকভাবে লড়াইয়ের সাথে অধিক সম্পৃক্ত, অপরদিকে মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ ভাষা ও চিন্তার প্রয়োগের সাথে অধিক সম্পৃক্ত।
.
জুলুম ও বিদআতের নেতৃত্বদানকারীদের বিরুদ্ধে জিহাদ তিন প্রকারের। যথাঃ
.
১। হাতের দ্বারা (অর্থাৎ শারিরীক জিহাদ বা লড়াই), যদি কেউ সক্ষম হয়। যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে জিহ্বা দ্বারা (অর্থাৎ কথা বা ভাষার দ্বারা)। আর যদি তা-ও সম্ভব না হয় তাহলে অন্তর দ্বারা (অর্থাৎ মন্দকে ঘৃণা করা এবং তাকে ভুল মনে করা)।
.
এই হচ্ছে ১৩ প্রকারের জিহাদ।
.
مَنْ مَاتَ وَلَمْ يَغْزُ، وَلَمْ يُحَدِّثْ نَفْسَهُ بِغَزْوٍ، مَاتَ عَلَى شُعْبَةِ نِفَاقٍ
যে ব্যাক্তি জিহাদ না করে মারা গেল বা তার মনে যুদ্ধের বাসনা জাগলো না, তার মৃত্যু হলো নিফাকের একটি অংশ (জিহাদ বিমুখ হওয়া)-এর উপর। (সহীহ মুসলিম ১৯১০)
[যাদুল মাআদ ৩/৯-১১]
.
শায়খ আব্দুল আজিজ ইবন বাজ(র.) বলেছেন,
“জিহাদ বিভিন্ন প্রকারের হতে পারেঃ জীবন দ্বারা, সম্পদ দ্বারা, দুআ করার দ্বারা, শিক্ষা ও দিকনির্দেশনা প্রদানের দ্বারা, যে কোনো উপায়ে উত্তম কাজে সহায়তা করার দ্বারা। জিহাদের সব থেকে বড় ধরন হচ্ছে আপন সত্ত্বা দ্বারা জিহাদ (অর্থাৎ নিজে গমন করা ও লড়াই করা)। এরপরে রয়েছে সম্পদ দ্বারা জিহাদ করা, বক্তব্যের দ্বারা জিহাদ করা এবং অন্যদেরকে দিকনির্দেশনা দেয়া। কিন্তু আপন সত্ত্বা দ্বারা জিহাদ হচ্ছে এর মধ্যে জিহাদের সর্বোচ্চ ধরন।”
[ফাতাওয়া শায়খ ইবন বাজ ৭/৩৩৪, ৩৩৫]
.
▪দ্বিতীয়তঃ
মুসলিম উম্মাহ কী অবস্থায় রয়েছে এর উপর ভিত্তি করে কাফিরদের বিরুদ্ধে শারিরীকভাবে জিহাদ (বা লড়াই) এর বিভিন্ন পর্যায় রয়েছে। ইবনুল কাইয়িম(র.) বলেছেন,
.
“প্রথম যে জিনিসটি মহামহিম প্রভু তাঁর [মুহাম্মাদ (ﷺ)] উপর নাজিল করেছিলেন তা হলঃ তাঁর প্রভুর নামে পাঠ করা যিনি সৃষ্টি করেছেন [اقرَأ بِاسمِ رَبِّكَ الَّذي خَلَقَ]। এটিই ছিল তাঁর নবুয়তে সূচনা, যেখানে আল্লাহ্‌ তাঁকে পাঠ করতে বলেছিলেন কিন্তু তখনও প্রচার করার নির্দেশ দেননি। এরপরে তিনি নাজিল করলেন,
يا أَيُّهَا المُدَّثِّرُ
قُم فَأَنذِر
অর্থঃ হে বস্ত্রাবৃত! ওঠো, সতর্কবাণী প্রচার করো।
(আল কুরআন, মুদ্দাসসির ৭৪ : ১-২)
.
সুতরাং তিনি নবী হলেন একটি শব্দ اقرَأ এর দ্বারা এবং রাসুল হলেন এই শব্দগুলো দ্বারাঃ يا أَيُّهَا المُدَّثِّرُ।
এরপর আল্লাহ্‌ তাঁকে তাঁর কাছের আত্মীয়দের নিকট সতর্কবাণী প্রচারের নির্দেশ দেন। এরপর তাঁর গোত্রকে, এরপর সকল আরবকে এবং এরপর সমগ্র মানবজাতির প্রতি সতর্কবাণী প্রচারের নির্দেশ দেন। নবুয়তের শুরুর সময় থেকে দশ বছর ধরে তিনি ক্রমাগত তাদের নিকট প্রচারকাজ চালিয়ে যান। এ সময় তিনি তাদের সাথে কোনো যুদ্ধ করেননি, জিজিয়াও চাননি। তাঁকে এ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছিলো। ধৈর্য ও সহনশীলতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছিলো।
অতঃপর তাঁকে হিজরত করার অনুমতি দেয়া হয়। এবং যুদ্ধ করার অনুমতি দেয়া হয়। ”
এরপর তাঁকে আদেশ দেয়া হয় তাদের সঙ্গে লড়তে যারা তাঁর সঙ্গে লড়ে। এবং তাদের সাথে লড়াই হতে বিরত থাকতে যারা তাঁর সঙ্গে লড়াই করে না এবং এমন কিছু থেকে বিরত থাকে।
.
এরপর আল্লাহ তাঁকে আদেশ দেন মুশরিকদের সঙ্গে লড়তে যাতে দ্বীন শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য হয়ে যায়।
তাঁকে জিহাদের আদেশ দেবার পর থেকে কাফিরদেরকে তিনটি শ্রেণীতে নির্দিষ্ট করা যায়। চুক্তিবদ্ধ, যুদ্ধরত এবং আহলুয যিম্মাহ (ইসলামী রাষ্ট্রে বসবাসকারী অমুসলিম)।
[যাদুল মাআদ ৩/১৫৯]
.
▪তৃতীয়তঃ
কাফিরদের বিরুদ্ধে হাত দ্বারা (শারিরীক) জিহাদের বিধান হচ্ছে, তা ফরযে কিফায়াহ।
.
ইবন কুদামাহ(র.) বলেছেন,
“জিহাদ হচ্ছে ফরযে কিফায়াহ। যদি কিছু ব্যক্তি তা আদায় করে তাহলে অন্যরা দায়িত্ব থেকে মুক্ত হয়।”
ফরযে কিফায়াহ মানে হচ্ছে, যদি যথেষ্ট সংখ্যক ব্যক্তি এটি আদায় না করে তাহলে সবাই গুনাহগার হবে। কিন্তু যদি যথেষ্ট সংখ্যক ব্যক্তি তা আদায় করে, তাহলে বাকিরা দায় থেকে মুক্ত হবে। প্রথমে এই বক্তব্য সবার জন্য, যেভাবে ফরযে আইন হয়। কিন্তু ফরযে কিফায়াহর ক্ষেত্রে, যদি যথেষ্ট পরিমাণ লোক এটি পালনের জন্য পদক্ষেপ নেয়, তাহলে অন্যরা দায়িত্ব থেকে নিষ্কৃতি পেয়ে যায়। যা ফরযে আইনের ক্ষেত্রে হয় না। ফরযের আইনের ক্ষেত্রে একজন পালন করলে অন্য কারো দায়মুক্তি হয় না। জিহাদ ফরযে কিফায়াহ, আমভাবে এটাই আহলুল ইলমদের অভিমত। ”
[আল মুগনী ৯/১৬৩]
.
শায়খ আব্দুল আজিজ ইবন বাজ(র.) বলেছেন,
“আমরা ইতিমধ্যেই একাধিকবার আলোচনা করেছি যে, জিহাদ ফরযে কিফায়াহ, ফরযে আইন নয়। সকল মুসলিমেরই কর্তব্য হচ্ছে অন্য ভাইদের সাহায্যে নিজ সত্ত্বা (দৈহিকভাবে যোগ দিয়ে), অর্থ, অস্ত্র, দাওয়াহ এবং উপদেশ দ্বারা জিহাদ করা। যদি তাদের মধ্যে যথেষ্ট সংখ্যক ব্যক্তি (লড়াই করতে) বের হয়, তাহলে অন্যরা পাপ থেকে মুক্ত হয়। আর যদি তাদের সকলেই এ থেকে বিরত থাকে, তাহলে সবাই গুনাহগার হয়।
.
মামলাকাহ (সৌদি আরব), আফ্রিকা, মাগরিব (উত্তর আফ্রিকা) এবং এর কাছের ও দূরের মুসলিমদের তাদের সাধ্যানুযায়ী শক্তি ব্যয় করা কর্তব্য (যদি এসব জায়গায় জিহাদ হয়)। যদি এর একটি, দুইটি, তিনটি অথবা এর চেয়ে বেশি দেশ তাদের দায়িত্ব পালন করে, তাহলে অন্যরা দায়িত্ব থেকে মুক্ত হয়।
তারা সাহায্য ও সমর্থনের হকদার। তাদেরকে তাদের শত্রুর বিরুদ্ধে সাহায্য করা অপরিহার্য কেননা তারা মজলুম। আল্লাহ সকল মুসলিমকে জিহাদের নির্দেশ দিয়েছেন। তারা ততক্ষন পর্যন্ত আল্লাহর শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়বে যতক্ষন না তাদের ভাইয়েরা বিজয়ী হয়। যদি তারা এ থেকে বিরত হয় তবে তারা পাপী বলে গণ্য হবে। আর যদি যথেষ্ট সংখ্যক ব্যক্তি এর জন্য দাঁড়িয়ে যায় – তাহলে বাকিরা পাপ থেকে মুক্ত হয়।
[ফাতাওয়া শায়খ ইবন বাজ ৭/৩৩৫]
.
▪চতুর্থতঃ
কাফিরদের বিরুদ্ধে দৈহিক জিহাদ চারটি ক্ষেত্রে ওয়াজিব বা জরুরী হয়ে যায়,
.
১। যখন মুসলিমরা জিহাদের পরিস্থিতিতে উপনিত হয়
২। যখন শত্রুরা কোনো মুসলিম ভুখণ্ডে আক্রমণ করে
৩। যখন ইমাম (শাসক) জনগণকে (জিহাদের জন্য) একত্রিত করেন, তাদেরকে অবশ্যই সাড়া দিতে হবে
৪। যখন কোনো ব্যক্তির প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় এবং তিনি ব্যতিত অন্য কেউ সেই কাজ করতে সক্ষম না হন
.
শায়খ ইবন উসাইমিন(র.) বলেছেন,
জিহাদ জরুরী হয়ে যাবে এবং ফরযে আইন হয়ে যাবে যদি কোনো ব্যক্তি এমন স্থানে উপস্থিত থাকে যেখানে কিতাল বা লড়াই চলছে। এটি প্রথম পরিস্থিতি যার জন্য জিহাদ ব্যক্তিগতভাবে জরুরী হয়ে যায়। যেমনটি আল্লাহ বলেছেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا لَقِيتُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا زَحْفًا فَلَا تُوَلُّوهُمُ الْأَدْبَارَ
وَمَن يُوَلِّهِمْ يَوْمَئِذٍ دُبُرَهُ إِلَّا مُتَحَرِّفًا لِّقِتَالٍ أَوْ مُتَحَيِّزًا إِلَىٰ فِئَةٍ فَقَدْ بَاءَ بِغَضَبٍ مِّنَ اللَّهِ وَمَأْوَاهُ جَهَنَّمُ ۖ وَبِئْسَ الْمَصِيرُ
অর্থঃ হে ঈমানদারগণ! তোমরা যখন কাফির বাহিনীর সম্মুখীন হবে তখন তাদের মোকাবিলা করা হতে কখনোই পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবেনা।
আর যে ব্যক্তি সেদিন তাদেরকে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে তাহলে সে আল্লাহর গযব নিয়ে ফিরে আসবে। তবে যুদ্ধের জন্য (কৌশলগত) দিক পরিবর্তন অথবা নিজ দলে আশ্রয় গ্রহণের জন্য হলে ভিন্ন কথা এবং তার আবাস জাহান্নাম। আর সেটি কতইনা নিকৃষ্ট প্রত্যাবর্তনস্থল।
(আল কুরআন, আনফাল ৮ : ১৫-১৬)
.
নবী(ﷺ) আমাদের জানিয়েছেন যে, যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করা ধ্বংসাত্মক কাজগুলোর একটি। তিনি বলেছেন, তোমরা ৭ ধ্বংসাত্মক কাজ থেকে বেচে থাকো। এবং তিনি সে (৭ টি ধ্বংসাত্মক ) বিষয়ের মধ্য হতে (১ টি) যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করাও উল্লেখ্য করেছে। এটাই সর্বসম্মত মত, তবে আল্লাহ ২ ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম করেছেন (অর্থাৎ শাস্তি দেবেন না)।
.
১। যুদ্ধের কৌশল হিসাবে (পিছু হটা), যাতে একজন ব্যক্তি চলে গিয়ে বাড়তি শক্তি-সাহায্য নিয়ে ফিরে আসতে পারে।
২। যখন কাউকে বলা হয় যে, মুসলিমদের অন্য একটি দল এই জায়গায় আছে এবং তারা হেরে যাচ্ছে। আর তখন সে পিছু হটে ঐ দলে যোগ দেয় যাতে তাদের শক্তিবৃদ্ধি হয়। এক্ষেত্রে একটি শর্ত রয়েছে – সে যেই দলে ছিলো, এর দ্বারা সেই দল যেন কোনো ঝুঁকির মুখে না পড়ে। যদি এর দ্বারা ঐ দল ঝুঁকির মুখে পড়ে, তাহলে তার জন্য অন্য দলে যোগ দেয়া জায়েজ নয়। সেক্ষেত্রে এটি (জিহাদ) তার জন্য ফরযে আইন এবং তার জন্য যুদ্ধক্ষেত্র ত্যাগ করা বৈধ নয়।
.
দ্বিতীয় পরিস্থিতি হলো (জিহাদ ফরযে আইন হবার জন্য), যখন কোনো শহর শত্রু দ্বারা আক্রান্ত হয়। তখন সে শহরকে রক্ষার জন্য লড়াই করতে হবে। কেননা যখন কোনো শহরকে অবরোধ করা হয় তখন একে রক্ষার জন্য লড়াই ছাড়া উপায় থাকে না। শত্রুরা শহরের কাউকে ঢুকতে দেয় না বা শহর থেকে কাউকে বেরোতে দেয় না, জীবন ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ বা অন্য কোনো জিনিস ঐ শহরে পৌঁছাতে দেয় না। এই পরিস্থিতিতে সেই শহরের অধিবাসীদের জন্য জরুরী হচ্ছে নিজ শহর রক্ষার জন্য যুদ্ধ করা।
.
তৃতীয় পরিস্থিতি হলো, যখন তাদের ইমাম (শাসক) সকলকে একত্রিত হবার আদেশ দেন। ইমাম হচ্ছেন একটি রাষ্ট্রের কর্তৃত্বের অধিকারী। এক্ষেত্রে তাঁর জন্য সমগ্র মুসলিম উম্মাহর ইমাম হওয়া জরুরী নয়। কেননা বহুকাল ধরে সমগ্র মুসলিম উম্মাহর ইমামত (অর্থাৎ খিলাফত) নেই। নবী(ﷺ) বলেছেন, “তোমরা শোনো এবং আনুগত্য করো, যদিও তোমাদের উপর কোনো হাবশী কৃতদাসকে শাসক নিযুক্ত করা হয়”। সুতরাং যদি কোনো ব্যক্তি শাসক হন, তাঁর কথা শুনতে হবে এবং তাঁর আদেশ মেনে চলতে হবে।
[শারহুল মুমতি ৮/১০-১২]
.
.
মূল ফতোয়ার লিঙ্কঃ
ইংরেজিঃ https://islamqa.info/en/20214/
আরবিঃ https://islamqa.info/ar/20214/

Share This Post
Translate In English