কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক বার্তা প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

গণক, জ্যোতিষী, দৈবজ্ঞ ইত্যাদির নিকট যাওয়ার বিধান এবং এদেরকে চেনার ২০টি আলামত

ইসলামের দৃষ্টিতে কথিত গণক, জ্যোতিষী, ঠাকুর, সাধু-সন্ন্যাসী, ভবিষ্যৎবক্তা ইত্যাদির কাছে নিজের ভাগ্য পরীক্ষা, হারানো বস্তু ফিরে পাওয়া, অদৃশ্য বিষয়ে জানতে চাওয়া ইত্যাদি উদ্দেশ্যে যাওয়া বা তাদেরকে কোন কিছু জিজ্ঞেস করা হারাম। বহু হাদিসে এ ব্যাপারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও হুশিয়ারি উচ্চারিত হয়েছে। যেমন:
– নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
مَنْ أَتَى عَرَّافًا فَسَأَلَهُ عَنْ شَيْءٍ لَمْ تُقْبَلْ لَهُ صَلَاةٌ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً
“যে ব্যক্তি কোন গণক বা জ্যোতিষীর কাছে গিয়ে কোন কিছু সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবে, তার চল্লিশ দিনের সালাত কবুল করা হবে না।” (সহিহ মুসলিম)
গণক বলতে ভাগ্য গণনাকারী দৈবজ্ঞ, জ্যোতিষী, যাদুকর সকলেই উদ্দেশ্য।
– তিনি আরও বলেন,
«مَنْ أَتَى كَاهِنًا أَوْ عَرَّافًا فَصَدَّقَهُ بِمَا يَقُولُ فَقَدْ كَفَرَ بِمَا أُنْزِلَ عَلَى مُحَمَّدٍ
“যে ব্যক্তি কোন গণক বা জ্যোতিষীর কাছে যাবে, অত:পর সে যা বলে তা বিশ্বাস করবে, সে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এর উপর অবতীর্ণ দ্বীনের সাথে কুফরি করবে।” (মুসনাদ আহমদ ও সুনান গ্রন্থ সমূহ)
❑ গণক, দৈবজ্ঞ, জ্যোতিষী ইত্যাদিকে কিভাবে চিনবেন?
বিশেষজ্ঞগণ এ ব্যাপারে বেশি কতিপয় আলামত ও কার্যক্রম উল্লেখ করেছেন যেগুলো দেখে এই দজ্জালদের পরিচয় পাওয়া যাবে।
নিম্নে এমন ২০টি আলামত উল্লেখ করা হল:
১) রোগীর নাম, তার মায়ের নাম, জন্মস্থান ইত্যাদি সম্পর্কে জানতে চাওয়া।
২) বিশেষ রঙ্গের (সাদা, কালো ইত্যাদি) মোরগ-মুরগি, ছাগল-গরু ইত্যাদি চাওয়া বা এগুলো জবেহ করে তার রক্ত রোগীর বাড়ির দরজা কিংবা রোগীর শরীরের ব্যথাযুক্ত স্থানে লাগাতে বলা।
৩) অস্পষ্ট বা দুর্বোধ্য শব্দ বা বাক্য উচ্চারণ করা কিংবা এমন কিছু নাম ধরে ডাকা যারা রোগ মুক্তি ও সমস্যার সমাধানে সাহায্য করবে বলে তার বিশ্বাস। যেমন: হিন্দুদের বিভিন্ন দেব-দেবী, জিন-শয়তান, কারুন, হামান, সুলাইমান আ., নমরুদ, ফেরআউন, জিবরাইল আ., মিকাইল আ., ইসরাফিল আ., আলি রা., ফাতেমা রা., হাসান রা., হুসাইন রা. ইত্যাদি।
৪) রোগীর শরীরে কালি দ্বারা বিভিন্ন শব্দ, নাম্বার, চিহ্ন ইত্যাদি অঙ্কন করা অথবা মাটি, তামা, কাশা ইত্যাদি পাত্রে লিখে পানি দ্বারা ধৌত করে তা রোগীকে পান করতে বলা।
৫) এ সব জিনিস কাগজে লিখে তাবিজ আকারে রোগীর শরীরে, তার বালিশের নিচে, শয়ন কক্ষে, ঘরের দরজা, বাড়ির মূল ফটক ইত্যাদি স্থানে মাটির নিচে পুঁতে রাখা বা কোথাও ঝুলিয়ে রাখতে বলা।
৬) কিছু পানি পাতিল বা কোন পাত্রে সারা রাত চাঁদের আলোয় রাখার পর সকালে তা পান করতে বা তা দ্বারা গোসল করতে বলা।
৭) রোগীর শরীরের ব্যথা যুক্ত স্থান বা অন্য কোনও অংশের উপর দিয়ে পশু-পাখীর হাড় বা কোনও ধাতব বস্তু ঘুরানো।
৮) মোরগ, মুরগী, পাখি বা ছাগলের রক্ত পান করতে বলা।
৯) রোগীর চারপাশে গোল দাগ টেনে তাকে কিছুক্ষণ তার মধ্যে অবস্থান করতে বলা।
১০) রোগীর সাথে অন্ধকার ঘরে একাকী অবস্থান করা। এরা অনেক সময় নন মাহরাম নারীর সাথেও একাকী অন্ধকার ঘরে অবস্থান করে।
১১) সূর্যের আলো প্রবেশ করে না এমন ঘরে রোগীকে নির্দিষ্ট সময় একাকী থাকতে বলা।
১২) রোগীকে পানি স্পর্শ করতে অথবা প্রাণীর গোস্ত খেতে নিষেধ করা।
১৩) তার নিকট নারী-পুরুষ একাকার হয়ে অবস্থান করাকে কোন সমস্যা মনে না করা।
১৪) অস্পষ্ট ও দুর্বোধ্য বাক্য উচ্চারণ করা বা বিড়বিড় করে এমন কিছু পাঠ করা যার কোন অর্থ নেই অথবা জিন-শয়তানের নাম উচ্চারণ করা এবং তাদের নিকট সাহায্য চাওয়া।
১৫) হায়েজের রক্ত, জিনার বীর্য ইত্যাদি দ্বারা কুরআনের আয়াত লেখা। (নাউযুবিল্লাহ)
১৬) গরু, ছাগল, মোরগ-মুরগী ইত্যাদি কোন ওলি, মাজার বা কবরে দান বা মানত করতে বলা।
১৭) চেহারা দেখে অতীতের খবর বলে দেয়ার দাবী করা।
১৮) কথিত তান্ত্রিক সাধু কর্তৃক তন্ত্র-মন্ত্র পড়ে তুলা রাশির জাতক এর মাধ্যমে হাত চালান, লাঠি চালান, বাটি চালান দেয়া ইত্যাদি।
১৯) হাতের রেখা দেখে ভাগ্যের ভালমন্দ বলা।
২০) অ্যাস্ট্রোলোজি বা রাশিচক্রে বিশ্বাস করা। অর্থাৎ বৈদিক জ্যোতিষের ১২টি রাশি তথা মেষ, বৃষভ, মিথুন, কর্কট, সিংহ, কন্যা, তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীন- এর ভিত্তিতে মানুষের ভাগ্য পরীক্ষা এবং ভবিষ্যদ্বাণী করা।
তাওহিদবাদী মুক্তিকামী মানুষের জন্য এসব ঈমান হরণকারী দজ্জালদের ঈমান বিধ্বংসী কার্যক্রম সম্পর্কে সচেত হওয়া এবং সচেতন করা অপরিহার্য। আল্লাহ হেফাজত করুন। আমিন।
▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬
লেখক:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল৷
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব৷
Share This Post
Translate In English