কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক বার্তা প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

সালাম প্রদানের সুন্নাহ সমর্থিত বাক্য সমূহ এবং সবচেয়ে উত্তম বাক্য

সালাম প্রদানের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত পাঁচটি বাক্যের যে কোন একটি বাক্য ব্যবহার করা জায়েয আছে। যথা:

▪১. আসসালামু আলাইকুম।
অর্থ: আপনার/আপনাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক।

▪২. আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
অর্থ: আপনার/আপনাদের প্রতি শান্তি ও আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।

▪৩. আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ ওয়া বারাকাতুহ।
অর্থ: আপনার/আপনাদের প্রতি শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।

▪৪. সালামুন আলাইকুম অর্থ: আপনার/আপনাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক।

▪ ৫. সংক্ষিপ্তভাবে কেবল “সালাম” অর্থ: “শান্তি বর্ষিত হোক” বাক্য দ্বারাও সালাম দেওয়া জায়েয আছে।

১ম বাক্য দিয়ে সালাম দেয়া জায়েজ। এতে ১০টি সওয়াব রয়েছে।
১মটি থেকে ২য় বাক্যটি অধিক উত্তম এবং অধিক সওয়াবের। এতে ২০টি সওয়াব রয়েছে।
তবে ৩য় বাক্যটি সর্বাধিক উত্তম এবং সর্বাধিক সওয়াবের। এতে ৩০টি সওয়াব রয়েছে।
৪র্থ ও ৫ম বাক্যদ্বয়ও মাঝে-মধ্যে ব্যবহার করা দোষণীয় নয়। তবে সর্বোত্তম হল, উপরের বাক্যগুলোর মধ্যে তৃতীয় পূর্ণাঙ্গ বাক্যটি।

——————————————–

নিম্নে উক্ত ৫টি বাক্যের দলিল উপস্থাপন করা হল:

◉ হাদিস:

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَجُلًا مَرَّ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ فِي مَجْلِسٍ فَقَالَ: السَّلَامُ عَلَيْكُمْ، فَقَالَ: «عَشْرُ حَسَنَاتٍ» ، فَمَرَّ رَجُلٌ آخَرُ فَقَالَ: السَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ، فَقَالَ: «عِشْرُونَ حَسَنَةً» ، فَمَرَّ رَجُلٌ آخَرُ فَقَالَ: السَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، فَقَالَ: «ثَلَاثُونَ حَسَنَةً» ، فَقَامَ رَجُلٌ مِنَ الْمَجْلِسِ وَلَمْ يُسَلِّمْ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا أَوْشَكَ مَا نَسِيَ صَاحِبُكُمْ، إِذَا جَاءَ أَحَدُكُمُ الْمَجْلِسَ فَلْيُسَلِّمْ، فَإِنْ بَدَا لَهُ أَنْ يَجْلِسَ فَلْيَجْلِسْ، وَإِذَا قَامَ فَلْيُسَلِّمْ، مَا الْأُولَى بِأَحَقَّ مِنَ الْآخِرَةِ»

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিল। তিনি তখন এক মজলিসে ছিলেন।
সে বলল, আসসালামু আলাইকুম (অর্থ: আপনার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (সালামের জবাব দিয়ে বললেন): “দশ নেকি।”
অতঃপর অপর এক ব্যক্তি যাওয়ার সময় বলল: আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ (অর্থ: আপনার/ প্রতি শান্তি ও আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক)।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “বিশ নেকি।”

আরেক ব্যক্তি সেখান দিয়ে যাওয়ার সময় বলল: আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ ওয়া বারাকাতুহ (অর্থ: আপনার উপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক)।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (সালামের জবাব দিয়ে বললেন) বললেন: “তিরিশ নেকি।”

অতঃপর এক ব্যক্তি মজলিস থেকে উঠে চলে গেলো কিন্তু সালাম দিলো না।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:

“হয়তো তোমাদের সাথী ভুলে গেছে। তোমাদের কেউ বৈঠকে এসে পৌছলে যেন সালাম দেয়। তারপর মজলিসে বসার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলে সে বসবে। আবার সে যখন চলে যাবে তখনও যেন সালাম দেয়। কেননা পরের সালাম পূর্বের সালামের চেয়ে কম মর্যাদাপূর্ণ নয়।” (তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে হিব্বান, আহমাদ, আবু দাউদ-সহিহ)

◉ এ ছাড়াও হাদিসে এসেছে:
عَنْ عُمَرَ، أَنَّهُ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ فِي مَشْرُبَةٍ لَهُ فَقَالَ السَّلاَمُ عَلَيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ أَيَدْخُلُ عُمَرُ ‏

উমর রা. হতে বর্ণিত তিনি বলেন, একদিন তিনি নবি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আসলেন। তিনি তখন রুমে ছিলেন। তিনি সেখানে এসে বললেন:
আসসালামু আলাইকা ইয়া রাসূলুল্লাহ। আসসালামু আলাইকুম, উমর কি প্রবেশ করবে? (সুনানে আবু দাউদ, অধ্যায়: শিষ্টাচার, হা/৫২০১)

◉ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন:
إذا لقي الرجل أخاه المسلم، فليقل: السلام عليكم ورحمة الله وبركاته
“যখন কেউ তার কোন মুসলিম ভাইয়ের সাথে স্বাক্ষাত করে সে যেন বলে:
‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।’ (অর্থ: আপনার উপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক)।” [তিরমিযী, সহিহুল জামে, হা/৭৯০]

➤ ইমাম নওবী রহ. বলেন:
يستحب أن يقول المبتدئ بالسلام : “السلام عليكم ورحمة الله وبركاته” ، فيأتي بضمير الجمع ، وإن كان المسلَّم عليه واحداً ويقول المجيب : “وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته” ، فيأتي بواو العطف في قوله : “وعليكم”. “رياض الصالحين” (ص 446) .
“মুস্তাহাব (উত্তম) হল, প্রথমে সালাম দাতা বলবে: আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ (অর্থ: আপনার উপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক)। বহু বচনের ‘কুম’ সর্বনাম ব্যবহার করবে যদিও মাত্র এক জনকে সালাম প্রদান করা হয়। আর যে উত্তর দিবে সে বলবে: ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ” এখানে ‘ওয়া আলাইকুম’ এর মধ্যে আতফের ‘ওয়া’ শব্দটি ব্যবহার করবে।” (রিয়াযুস সালেহীন, পৃষ্ঠা: ৪৪৬)

◉ ‘সালামুন আলাইকুম’ শব্দ দ্বারাও মাঝে-মধ্যে সালাম দেয়া জায়েজ আছে। যেমন: আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَإِذَا جَاءَكَ الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِآيَاتِنَا فَقُلْ سَلَامٌ عَلَيْكُمْ
“আর যখন তারা আপনার কাছে আসবে যারা আমার নিদর্শনসমূহে বিশ্বাস করে, তখন আপনি বলুন: সালামুন আলাইকুম “তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক।” (সূরা আনআম: ৫৪)

◉ আল্লাহ তাআলা আরও বলেন:
وَإِذَا سَمِعُوا اللَّغْوَ أَعْرَضُوا عَنْهُ وَقَالُوا لَنَا أَعْمَالُنَا وَلَكُمْ أَعْمَالُكُمْ سَلامٌ عَلَيْكُمْ لا نَبْتَغِي الْجَاهِلِينَ
“তারা যখন অবাঞ্চিত বাজে কথাবার্তা শ্রবণ করে, তখন তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বলে, আমাদের জন্যে আমাদের কাজ এবং তোমাদের জন্যে তোমাদের কাজ। সালামুন আলাইকুম “তোমাদের প্রতি সালাম।” আমরা অজ্ঞদের সাথে জড়িত হতে চাই না।” (সূরা কাসাস: ৫৫)

শেষোক্ত বাক্যটির ব্যাপারে পূর্বোল্লিখিত আয়াত ও হাদিস ছাড়াও কুরআনে বর্ণিত হয়েছে যে, জান্নাতবাসী লোকদেরকে ফেরেশতা মণ্ডলী ‘সালামুন আলাইকুম’ বলে সম্ভাষণ জানাবেন। [দেখুন: সূরা নাহল: ৩২, সূরা রা’দ, ২৩ ও ২৪ নং আয়াত] এবং এ সম্পর্কে আরো হাদিসও বিদ্যমান রয়েছে আল হামদুলিল্লাহ।

◉ সংক্ষিপ্তভাবে কেবল “সালাম” বাক্য দ্বারাও সালাম দেওয়া জায়েয আছে। যেমন: আল্লাহ তাআলা বলেন,
إِذْ دَخَلُوا عَلَيْهِ فَقَالُوا سَلَامًا ۖ قَالَ سَلَامٌ قَوْمٌ مُّنكَرُونَ
“যখন তারা তাঁর কাছে উপস্থিত হয়ে বললঃ সালাম। তখন সে বললঃ ‘সালাম’। এরা তো অপরিচিত লোক।” (সূরা যারিয়াত: ২৫)

এ ছাড়াও হাদিসে বর্ণিত হয়েছে,
জিবরাঈল আ. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বললেন:
فاقرأ عليها السلام من ربها ومني
“হে নবী, আপনি খাদিজাকে তার রবের পক্ষ থেকে এবং আমার পক্ষ থেকে ‘সালাম’ দিন।”
(সহীহুল বুখারী, মানকিবুল আনসার, খদিজা র. এর সাথে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিবাহ ও তাঁর মর্যাদা)

◉ আয়েশা রা. কেও এভাবে ‘সালাম’ দেয়ার কথা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। যেমন, নিম্নোক্ত হাদীসটি:
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
يا عائشة هذا جبريل يقرأ عليك السلام
“হে আয়েশা, এই যে জিবারাঈল, তিনি তোমাকে ‘সালাম’ জানাচ্ছেন।” (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)
আল্লাহু আলাম।
▬▬▬▬◢◣▬▬▬▬
লেখক:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।।

Share This Post
Translate In English