কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক বার্তা প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

আল্লাহ যাদেরকে ভালবাসেন

আল্লাহর মনোনীত দীনকে সমুন্নত রাখা, আল্লাহর আনুগত্য করা, আল্লাহর রাসুল(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে ভালবাসা, আল্লাহর বিধান বাস্তবায়নে উদ্যোগী শাসকদের আনুগত্য করা এ সমস্তই আল্লাহকে ভালবাসার অন্তর্ভুক্ত। অপরদিকে, বান্দার গুনাহসমুহ ক্ষমা করে তাকে জান্নাত দান করা হচ্ছে মানুষের প্রতি আল্লাহর ভালবাসা।
আল্লাহ বলেন, “বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস, তাহলে আমাকে অনুসরণ কর, যাতে আল্লাহ ও তোমাদিগকে ভালবাসেন এবং তোমাদিগকে তোমাদের পাপ মার্জনা করে দেন। আর আল্লাহ হলেন ক্ষমাকারী দয়ালু। বলুন, আল্লাহ ও রসূলের আনুগত্য প্রকাশ কর। বস্তুতঃ যদি তারা বিমুখতা অবলম্বন করে, তাহলে আল্লাহ কাফেরদিগকে ভালবাসেন না।”(সুরাঃ ৩,আয়াতঃ ৩১-৩২)
আল্লাহ বলেন, “হে মুমিনগণ, তোমাদের মধ্যে যে স্বীয় ধর্ম থেকে ফিরে যাবে, অচিরে আল্লাহ এমন সম্প্রদায় সৃষ্টি করবেন, যাদেরকে তিনি ভালবাসবেন এবং তারা তাঁকে ভালবাসবে। তারা মুসলমানদের প্রতি বিনয়-নম্র হবে এবং কাফেরদের প্রতি কঠোর হবে। তারা আল্লাহর পথে জেহাদ করবে এবং কোন তিরস্কারকারীর তিরস্কারে ভীত হবে না। এটি আল্লাহর অনুগ্রহ-তিনি যাকে ইচ্ছা দান করেন। আল্লাহ প্রাচুর্য দানকারী, মহাজ্ঞানী।”(সুরাঃ ৫,আয়াতঃ ৫৪)
আল্লাহ বলেন, “বল, তোমাদের নিকট যদি তোমাদের পিতা তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভাই তোমাদের পত্নী, তোমাদের গোত্র তোমাদের অর্জিত ধন-সম্পদ, তোমাদের ব্যবসা যা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় কর এবং তোমাদের বাসস্থান-যাকে তোমরা পছন্দ কর-আল্লাহ, তাঁর রসূল ও তাঁর রাহে জেহাদ করা থেকে অধিক প্রিয় হয়, তবে অপেক্ষা কর, আল্লাহর বিধান আসা পর্যন্ত, আর আল্লাহ ফাসেক সম্প্রদায়কে হেদায়েত করেন না।”পবিত্র কোরআনে আল্লাহ যে সকল বান্দাদের ভালবাসেন তাদের বর্ণনা উল্লেখ আছে। এরা সে সকল বান্দা যাদেরকে আল্লাহ অনুগ্রহ করেন,ক্ষমা করেন এবং এদের প্রতি আল্লাহর রহমত বর্ষিত হয়।
⦁ আল্লাহ মুহসিনীনদের ভালবাসেন, যারা অন্যের মঙ্গল করে থাকে, আল্লাহর পথে অকাতরে ব্যয় করে থাকে প্রাচুর্যের সময় আবার অভাবের সময়।
আল্লাহ বলেন, “আর ব্যয় কর আল্লাহর পথে, তবে নিজের জীবনকে ধ্বংসের সম্মুখীন করো না। আর মানুষের প্রতি অনুগ্রহ কর। আল্লাহ অনুগ্রহকারীদেরকে ভালবাসেন।”(সুরাঃ ২,আয়াতঃ ১৯৫)
মুহসিনীন তারা,যারা তাদের রাগ প্রশমিত করে এবং মানুষের সাথে কোমল আচরন করে, যারা ভুলবশত পাপ কাজ করে ফেললে তৎক্ষণাৎ তওবা করে, আল্লাহকে স্বরণ করে তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে।
আল্লাহ বলেন, “যারা স্বচ্ছলতায় ও অভাবের সময় ব্যয় করে, যারা নিজেদের রাগকে সংবরণ করে আর মানুষের প্রতি ক্ষমা প্রদর্শন করে, বস্তুতঃ আল্লাহ সৎকর্মশীলদিগকেই ভালবাসেন। তারা কখনও কোন অশ্লীল কাজ করে ফেললে কিংবা কোন মন্দ কাজে জড়িত হয়ে নিজের উপর জুলুম করে ফেললে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আল্লাহ ছাড়া আর কে পাপ ক্ষমা করবেন? তারা নিজের কৃতকর্মের জন্য হঠকারিতা প্রদর্শন করে না এবং জেনে-শুনে তাই করতে থাকে না।”(সুরাঃ ৩,আয়াতঃ ১৩৪-১৩৫)
মুহসিনীন তারা,যারা অন্যদের দোষ ক্ষমা করে দেয়। আল্লাহ বলেন, “অতএব, তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গের দরুন আমি তাদের উপর অভিসম্পাত করেছি এবং তাদের অন্তরকে কঠোর করে দিয়েছি। তারা কালামকে তার স্থান থেকে বিচ্যুত করে দেয় এবং তাদেরকে যে উপদেশ দেয়া হয়েছিল, তারা তা থেকে উপকার লাভ করার বিষয়টি বিস্মৃত হয়েছে। আপনি সর্বদা তাদের কোন না কোন প্রতারণা সম্পর্কে অবগত হতে থাকেন, তাদের অল্প কয়েকজন ছাড়া। অতএব, আপনি তাদেরকে ক্ষমা করুন এবং মার্জনা করুন। আল্লাহ অনুগ্রহকারীদেরকে ভালবাসেন।”(সুরাঃ ৫,আয়াতঃ ১৩),
মুহসিনীন তারা, যারা পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করে না। আল্লাহ বলেন, “পৃথিবীকে কুসংস্কারমুক্ত ও ঠিক করার পর তাতে অনর্থ সৃষ্টি করো না। তাঁকে আহবান কর ভয় ও আশা সহকারে। নিশ্চয় আল্লাহর করুণা সৎকর্মশীলদের নিকটবর্তী।” (সুরাঃ ৭,আয়াতঃ ৫৬)
মুহসিনীন তারা, যারা আল্লাহর পথে সাধনায় আত্মনিয়োগ করে। আল্লাহ বলেন, “যারা আমার পথে সাধনায় আত্মনিয়োগ করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে আমার পথে পরিচালিত করব। নিশ্চয় আল্লাহ সৎকর্মপরায়ণদের সাথে আছেন।”(সুরাঃ ২৯,আয়াতঃ ৬৯)
মুহসিনীন তারা, যারা আল্লাহর বিশ্বাসী বান্দা । আল্লাহ বলেন, “এমনিভাবে আমি সৎকর্মীদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি। সে(ইব্রাহীম) ছিল আমার বিশ্বাসী বান্দাদের একজন।”(সুরা: ৩৭,আয়াতঃ ১১০-১১১)
মুহসিনীন তারা, যারা রাতের অল্প সময় ঘুমায় এবং রাত জেগে তাঁর ইবাদত করায় ব্যস্ত থাকে। আ;;আহ বলেন “এমতাবস্থায় যে, তারা গ্রহণ করবে যা তাদের পালনকর্তা তাদেরকে দেবেন। নিশ্চয় ইতিপূর্বে তারা ছিল সৎকর্মপরায়ণ,তারা রাত্রির সামান্য অংশেই নিদ্রা যেত,রাতের শেষ প্রহরে তারা ক্ষমাপ্রার্থনা করত।”(সুরাঃ ৫১,আয়াতঃ ১৬-১৮)
⦁ আল্লাহ সবরকারীদের ভালবাসেন। আল্লাহ বলেন, “আর বহু নবী ছিলেন, যাঁদের সঙ্গী-সাথীরা তাঁদের অনুবর্তী হয়ে জেহাদ করেছে; আল্লাহর পথে-তাদের কিছু কষ্ট হয়েছে বটে, কিন্তু আল্লাহর রাহে তারা হেরেও যায়নি, ক্লান্তও হয়নি এবং দমেও যায়নি। আর যারা সবর করে, আল্লাহ তাদেরকে ভালবাসেন।”(সুরাঃ ৩,আয়াতঃ ১৪৬)
সবরকারী হচ্ছে সে সমস্ত বান্দা যারা আল্লাহর দেওয়া বিপদে-আপদে ধৈর্য্য ধারণ করে, কষ্টসহিষ্ণু হয়, আত্মসংযমী হয়, যারা উত্তেজনা দমন করে, যারা প্রশান্ত মনের অধিকারী, যারা আল্লাহর পথে সংযম, সবর, সহিষ্ণুতার পরিচয় দেয় এবং এ পথে অটল থাকে, যারা আল্লাহ প্রদত্ত বিধানের প্রতি অনুগত ও বাধ্য হয়, যারা আল্লাহর ব্যাপারে অটুট থাকে, যারা ক্ষতি, আঘাত, দারিদ্র, শারীরিক যন্ত্রনা, বিপদ, অভাব-অনটন, দুর্ঘটনা, দুর্দশা,জীবনের ভয়, কঠোর পরিশ্রমের ফল না পাওয়া,ক্ষুধা, মন্দা এ সকল কঠিন সময়গুলিতেও আল্লাহর দেওয়া হালাল-হারামের বিধানের প্রতি অনুগত, অবিচল, দৃঢ় থাকে, যারা অত্যচারে জর্জরিত হয়েও অসীম ধৈর্যের পরিচয় দেয়, যারা মিথ্যা অপবাদে দোষী সাব্যস্ত হলেও স্থীরতা অবলম্বন করে,যারা তাদের রবের সাথে সাক্ষাতের আশায় দৃঢ় থাকে, যারা আল্লাহর বিচার এবং এতে তাদের কৃতকর্মের ফলাফলের ঘোষণার অপেক্ষায় থাকে, এবং যারা নিজেদের যৌন অঙ্গের হিফাজত করে।
আল্লাহ বলেন,
“আর অবশ্যই যদি আমি মানুষকে আমার রহমতের আস্বাদ গ্রহণ করতে দেই, অতঃপর তা তার থেকে ছিনিয়ে নেই; তাহলে সে হতাশ ও কৃতঘ্ন হয়। আর যদি তার উপর আপতিত দুঃখ কষ্টের পরে তাকে সুখভোগ করতে দেই, তবে সে বলতে থাকে যে, আমার অমঙ্গল দূর হয়ে গেছে, আর সে আনন্দে আত্নহারা হয়, অহঙ্কারে উদ্দত হয়ে পড়ে।”(সুরাঃ ১১,আয়াতঃ ৯)
“এবং অবশ্যই আমি তোমাদিগকে পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, মাল ও জানের ক্ষতি ও ফল-ফসল বিনষ্টের মাধ্যমে। তবে সুসংবাদ দাও সবরকারীদের।”(সুরাঃ ২,আয়াতঃ ১৫৫)
“যাদের অন্তর আল্লাহর নাম স্মরণ করা হলে ভীত হয় এবং যারা তাদের বিপদাপদে ধৈর্য্যধারণ করে এবং যারা নামায কায়েম করে ও আমি যা দিয়েছি, তা থেকে ব্যয় করে।”(সুরাঃ ২২,আয়াতঃ ৩৫)
“আপনার পূর্ববর্তী অনেক পয়গম্বরকে মিথ্যা বলা হয়েছে। তাঁরা এতে সবর করেছেন। তাদের কাছে আমার সাহায্য পৌঁছে পর্যন্ত তারা নির্যাতিত হয়েছেন। আল্লাহর বানী কেউ পরিবর্তন করতে পারে না। আপনার কাছে পয়গম্বরদের কিছু কাহিনী পৌঁছেছে।”(সুরাঃ ৬,আয়াতঃ ৩৪)
“অতঃপর তোমরা তাদেরকে ঠাট্টার পাত্ররূপে গ্রহণ করতে। এমনকি, তা তোমাদেরকে আমার স্মরণ ভুলিয়ে দিয়েছিল এবং তোমরা তাদেরকে দেখে পরিহাস করতে। আজ আমি তাদেরকে তাদের সবরের কারণে এমন প্রতিদান দিয়েছি যে, তারাই সফলকাম।”(সুরাঃ ২৩,আয়াতঃ ১১০-১১১)
“এবং যারা স্বীয় পালনকর্তার সন্তুষ্টির জন্যে সবর করে, নামায প্রতিষ্টা করে আর আমি তাদেরকে যা দিয়েছি, তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্য ব্যয় করে এবং যারা মন্দের বিপরীতে ভাল করে, তাদের জন্যে রয়েছে পরকালের গৃহ।”(সুরাঃ ১৩,আয়াতঃ ২২)
“আর যদি তোমাদের একদল ঐ বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে যা নিয়ে আমি প্রেরিত হয়েছি এবং একদল বিশ্বাস স্থাপন করে যা নিয়ে আমি প্রেরিত হয়েছি এবং একদল বিশ্বাস স্থাপন না করে, তবে ছবর কর যে পর্যন্ত আল্লাহ আমাদের মধ্যে মীমাংসা না করে দেন। তিনিই শ্রেষ্ট মীমাংসাকারী।”(সুরাঃ ৭,আয়াতঃ ৮৭)
“আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি স্বাধীন মুসলমান নারীকে বিয়ে করার সামর্থ্য রাখে না, সে তোমাদের অধিকারভুক্ত মুসলিম ক্রীতদাসীদেরকে বিয়ে করবে। আল্লাহ তোমাদের ঈমান সম্পর্কে ভালোভাবে জ্ঞাত রয়েছেন। তোমরা পরস্পর এক, অতএব, তাদেরকে তাদের মালিকের অনুমতিক্রমে বিয়ে কর এবং নিয়ম অনুযায়ী তাদেরকে মোহরানা প্রদান কর এমতাবস্থায় যে, তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবে-ব্যভিচারিণী কিংবা উপ-পতি গ্রহণকারিণী হবে না। অতঃপর যখন তারা বিবাহ বন্ধনে এসে যায়, তখন যদি কোন অশ্লীল কাজ করে, তবে তাদেরকে স্বাধীন নারীদের অর্ধেক শাস্তি ভোগ করতে হবে। এ ব্যবস্থা তাদের জন্যে, তোমাদের মধ্যে যারা ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার ব্যাপারে ভয় করে। আর যদি সবর কর, তবে তা তোমাদের জন্যে উত্তম। আল্লাহ ক্ষমাশীল, করুণাময়।”(সুরাঃ ৪,আয়াতঃ ২৫)
⦁  আল্লাহ তওবাকারী এবং অপবিত্রতা থেকে যারা বেঁচে থাকে তাদেরকে পছন্দ করেন। আল্লাহ বলেন, “আর তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে হায়েয (ঋতু) সম্পর্কে। বলে দাও, এটা অশুচি। কাজেই তোমরা হায়েয অবস্থায় স্ত্রীগমন থেকে বিরত থাক। তখন পর্যন্ত তাদের নিকটবর্তী হবে না, যতক্ষণ না তারা পবিত্র হয়ে যায়। যখন উত্তম রূপে পরিশুদ্ধ হয়ে যাবে, তখন গমন কর তাদের কাছে, যেভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে হুকুম দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারী এবং অপবিত্রতা থেকে যারা বেঁচে থাকে তাদেরকে পছন্দ করেন।”(সুরাঃ ২,আয়াতঃ ২২২)

⦁ আল্লাহ পবিত্র লোকদের ভালবাসেন, যারা নিজেদের দেহকে নোংরা, ময়লা বস্তু হতে পবিত্র রাখে, যারা নিজেদের মনকে খারাপ চিন্তা-ভাবনা হতে দূরে রাখে এবং অশালীন আচরণ হতে দূরে থাকে। আল্লাহ বলেন,“তুমি কখনো সেখানে দাড়াবে না, তবে যে মসজিদের ভিত্তি রাখা হয়েছে তাকওয়ার উপর প্রথম দিন থেকে, সেটিই তোমার দাঁড়াবার যোগ্য স্থান। সেখানে রয়েছে এমন লোক, যারা পবিত্রতাকে ভালবাসে। আর আল্লাহ পবিত্র লোকদের ভালবাসেন।”(সুরাঃ ৯,আয়াতঃ ১০৮)
আল্লাহ মুত্তাকীদের ভালবাসেন, যারা নিজেদের খারাপ কাজ কাজ হতে রক্ষা করে, যারা আল্লাহর আদেশ মেনে চলে, যারা আল্লাহর নির্ধারিত সীমালঙ্ঘন করেনা, যারা সমস্ত কাজে কেবল আল্লাহর প্রতিই প্রত্যাবর্তন করে।আল্লাহ বলেন,“হে মানবসমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তার এবাদত কর, যিনি তোমাদিগকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদিগকে সৃষ্টি করেছেন। তাতে আশা করা যায়, তোমরা পরহেযগারী অর্জন করতে পারবে।”(সুরাঃ ২,আয়াতঃ ২১)
মুত্তাকী তারা, যারা আত্মসংযমে কঠোর। আল্লাহ বলেন, “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরয করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর, যেন তোমরা পরহেযগারী অর্জন করতে পার। গণনার কয়েকটি দিনের জন্য অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে, অসুখ থাকবে অথবা সফরে থাকবে, তার পক্ষে অন্য সময়ে সে রোজা পূরণ করে নিতে হবে। আর এটি যাদের জন্য অত্যন্ত কষ্ট দায়ক হয়, তারা এর পরিবর্তে একজন মিসকীনকে খাদ্যদান করবে। যে ব্যক্তি খুশীর সাথে সৎকর্ম করে, তা তার জন্য কল্যাণ কর হয়। আর যদি রোজা রাখ, তবে তোমাদের জন্যে বিশেষ কল্যাণকর, যদি তোমরা তা বুঝতে পার।”(সুরাঃ ২,আয়াতঃ ১৮৩-১৮৪)

মুত্তাকী তারা, যারা আল্লাহর প্রতি, তাঁর নাযীলকৃত কিতাবসমুহের প্রতি, ফেরেশতাদের প্রতি, আখিরাতের প্রতি, আল্লাহর প্রেরিত নবী-রাসুলদের প্রতি, গায়েবের প্রতি(যা মানুষের উপলব্ধির বাহিরে), বিচারদিবসের প্রতি, জান্নাত অ জাহান্নামের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখে। আল্লাহ বলেন,
“যারা না দেখেই তাদের পালনকর্তাকে ভয় করে এবং কেয়ামতের ভয়ে শঙ্কিত।”(সুরাঃ ২১,আয়াতঃ ৪৯)
“কেউ অপরের বোঝা বহন করবে না। কেউ যদি তার গুরুতর ভার বহন করতে অন্যকে আহবান করে কেউ তা বহন করবে না-যদি সে নিকটবর্তী আত্নীয়ও হয়। আপনি কেবল তাদেরকে সতর্ক করেন, যারা তাদের পালনকর্তাকে না দেখেও ভয় করে এবং নামায কায়েম করে। যে কেউ নিজের সংশোধন করে, সে সংশোধন করে, স্বীয় কল্যাণের জন্যেই আল্লাহর নিকটই সকলের প্রত্যাবর্তন।”(সুরাঃ ৩৫,আয়াতঃ ১৮)
“আপনি কেবল তাদেরকেই সতর্ক করতে পারেন, যারা উপদেশ অনুসরণ করে এবং দয়াময় আল্লাহকে না দেখে ভয় করে। অতএব আপনি তাদেরকে সুসংবাদ দিয়ে দিন ক্ষমা ও সম্মানজনক পুরস্কারের।”(সুরাঃ ৩৬,আয়াতঃ ১১)
“যে না দেখে দয়াময় আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করত এবং বিনীত অন্তরে উপস্থিত হত।”(সুরাঃ ৫০,আয়াতঃ ৩৩)
“নিশ্চয় যারা তাদের পালনকর্তাকে না দেখে ভয় করে, তাদের জন্যে রয়েছে ক্ষমা ও মহাপুরস্কার।”(সুরাঃ ৬৭,আয়াতঃ ১২)
“নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের গোপন রহস্য আল্লাহর কাছেই রয়েছে। কিয়ামতের ব্যাপারটি তো এমন, যেমন চোখের পলক অথবা তার চাইতেও নিকটবর্তী। নিশ্চয় আল্লাহ সব কিছুর উপর শক্তিমান।”(সুরাঃ ১৬,আয়াতঃ ৭৭)
“তিনি আকাশ থেকে পৃথিবী পর্যন্ত সমস্ত কর্ম পরিচালনা করেন, অতঃপর তা তাঁর কাছে পৌছবে এমন এক দিনে, যার পরিমাণ তোমাদের গণনায় হাজার বছরের সমান। তিনিই দৃশ্য ও অদৃশ্যের জ্ঞানী, পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।”(সুরাঃ ৩২,আয়াতঃ ৫-৬)
“কাফেররা বলে আমাদের উপর কেয়ামত আসবে না। বলুন কেন আসবে না? আমার পালনকর্তার শপথ-অবশ্যই আসবে। তিনি অদৃশ্য সম্পর্কে জ্ঞাত। নভোমন্ডলে ও ভূ-মন্ডলে তাঁর আগোচরে নয় অণু পরিমাণ কিছু, না তদপেক্ষা ক্ষুদ্র এবং না বৃহৎ-সমস্তই আছে সুস্পষ্ট কিতাবে।”(সুরাঃ ৩৪,আয়াতঃ ৩)
“বলুনঃ আমি জানি না তোমাদের প্রতিশ্রুত বিষয় আসন্ন না আমার পালনকর্তা এর জন্যে কোন মেয়াদ স্থির করে রেখেছেন। তিনি অদৃশ্যের জ্ঞানী। পরন্ত তিনি অদৃশ্য বিষয় কারও কাছে প্রকাশ করেন না।”(সুরাঃ ৭২,আয়াতঃ ২৫-২৬)
“কেয়ামত অবশ্যই আসবে, আমি তা গোপন রাখতে চাই; যাতে প্রত্যেকেই তার কর্মানুযায়ী ফল লাভ করে।” (সুরাঃ ২০,আয়াতঃ ১৫)
“বলুন, আল্লাহ ব্যতীত নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে কেউ গায়বের খবর জানে না এবং তারা জানে না যে, তারা কখন পুনরুজ্জীবিত হবে। বরং পরকাল সম্পর্কে তাদের জ্ঞান নিঃশেষ হয়ে গেছে; বরং তারা এ বিষয়ে সন্দেহ পোষন করছে বরং এ বিষয়ে তারা অন্ধ।”(সুরাঃ ২৭,আয়াতঃ ৬৫-৬৬)
“তাদের স্থায়ী বসবাস হবে যার ওয়াদা দয়াময় আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে অদৃশ্যভাবে দিয়েছেন। অবশ্যই তাঁর ওয়াদার তারা পৌঁছাবে।”(সুরাঃ ১৯,আয়াতঃ ৬১)
“এ সেই কিতাব যাতে কোনই সন্দেহ নেই। পথ প্রদর্শনকারী পরহেযগারদের জন্য। যারা অদেখা বিষয়ের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে এবং নামায প্রতিষ্ঠা করে। আর আমি তাদেরকে যে রুযী দান করেছি তা থেকে ব্যয় করে। এবং যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে সেসব বিষয়ের উপর যা কিছু তোমার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে এবং সেসব বিষয়ের উপর যা তোমার পূর্ববর্তীদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে। আর আখেরাতকে যারা নিশ্চিত বলে বিশ্বাস করে। তারাই নিজেদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে সুপথ প্রাপ্ত, আর তারাই যথার্থ সফলকাম।”(সুরাঃ ২,আয়াতঃ ২-৫)

⦁ মুত্তাকী তারা, যারা আল্লাহকে স্মরণ করে সালাত কায়েম করে সময়মত এবং রাতের শেষভাগে। আল্লাহ বলেন,
“আমিই আল্লাহ আমি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। অতএব আমার এবাদত কর এবং আমার স্মরণার্থে নামায কায়েম কর।”(সুরাঃ ২০,আয়াতঃ ১৪)
“মুমিনগণ, জুমআর দিনে যখন নামাযের আযান দেয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের পানে ত্বরা কর এবং বেচাকেনা বন্ধ কর। এটা তোমাদের জন্যে উত্তম যদি তোমরা বুঝ।”(সুরাঃ ৬২,আয়াতঃ ৯)
“যারা তাদের নামাযে সার্বক্ষণিক কায়েম থাকে।”(সুরাঃ ৭০,আয়াতঃ ২৩)
“অতঃপর যখন তোমরা নামায সম্পন্ন কর, তখন দন্ডায়মান, উপবিষ্ট ও শায়িত অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ কর। অতঃপর যখন বিপদমুক্ত হয়ে যাও, তখন নামায ঠিক করে পড়। নিশ্চয় নামায মুসলমানদের উপর ফরয নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে।”(সুরাঃ ৪,আয়াতঃ ১০৩)
মুত্তাকী তারা, যারা জীবনের সমস্ত কাজে আল্লাহর দেওয়া পথের অনুসরণ করে, যারা সাবধানী। আল্লাহ বলেন,
“আল্লাহ ও রোজ কেয়ামতের প্রতি যাদের ঈমান রয়েছে তারা মাল ও জান দ্বারা জেহাদ করা থেকে আপনার কাছে অব্যাহতি কামনা করবে না, আর আল্লাহ সাবধানীদের ভাল জানেন।”(সুরাঃ ৯,আয়াতঃ ৪৪)
“যারা সত্য নিয়ে আগমন করছে এবং সত্যকে সত্য মেনে নিয়েছে; তারাই তো খোদাভীরু।”(সুরাঃ ৩৯,আয়াতঃ ৩৩)
“এ (প্রজ্বলিত অগ্নি)থেকে দূরে রাখা হবে খোদাভীরু ব্যক্তিকে।”(সুরাঃ ৯২,আয়াতঃ ১৭)
“হেদায়েত ও রহমত সৎকর্মপরায়ণদের জন্য। যারা সালাত কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং আখেরাত সম্পর্কে দৃঢ় বিশ্বাস রাখে।”(সুরাঃ ৩১,আয়াতঃ ৩-৪)
⦁ মুত্তাকী তারা, যারা তাদের সম্পদ হতে দরিদ্র আত্মীয়কে, এতিমদের, বিধবাদের, দুস্থদের, অসহায়দের, বেকারদের, অভাবীদের, মজলুমদের, রাস্তার শিশুদের, গৃহহারা মানুষদের, সাহায্য প্রয়োজন এমন মানুষদের, ঋণী মানুষদের অকাতরে দান করে থাকে।
আল্লাহ বলেন, “সৎকর্ম শুধু এই নয় যে, পূর্ব কিংবা পশ্চিমদিকে মুখ করবে, বরং বড় সৎকাজ হল এই যে, ঈমান আনবে আল্লাহর উপর কিয়ামত দিবসের উপর, ফেরেশতাদের উপর এবং সমস্ত নবী-রসূলগণের উপর, আর সম্পদ ব্যয় করবে তাঁরই মহব্বতে আত্নীয়-স্বজন, এতীম-মিসকীন, মুসাফির-ভিক্ষুক ও মুক্তিকামী ক্রীতদাসদের জন্যে। আর যারা নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দান করে এবং যারা কৃত প্রতিজ্ঞা সম্পাদনকারী এবং অভাবে, রোগে-শোকে ও যুদ্ধের সময় ধৈর্য্য ধারণকারী তারাই হল সত্যাশ্রয়ী, আর তারাই পরহেযগার।”(সুরাঃ ২,আয়াতঃ ১৭৭)
মুত্তাকী তারা, যারা তাদের নিজেদের আত্মশুদ্ধির জন্য সম্পদ ব্যয় করে থাকে এবং এর বিনিময় ভোগ করেনা। আল্লাহ বলেন, “এ(প্রজ্বলিত অগ্নি) থেকে দূরে রাখা হবে খোদাভীরু ব্যক্তিকে, যে আত্নশুদ্ধির জন্যে তার ধন-সম্পদ দান করে,এবং তার উপর কারও কোন প্রতিদানযোগ্য অনুগ্রহ থাকে না।” (সুরাঃ ৯২,আয়াতঃ ১৭-১৯)
মুত্তাকী তারা, যারা যখনি কোন ওয়াদা করে, তা পূরণ করে থাকে। আল্লাহ বলেন,
“যাদের সাথে তুমি চুক্তি করেছ তাদের মধ্য থেকে অতঃপর প্রতিবার তারা নিজেদের কৃতচুক্তি লংঘন করে এবং ভয় করে না।”(সুরাঃ ৮,আয়াতঃ ৫৬)
“তবে যে মুশরিকদের সাথে তোমরা চুক্তি বদ্ধ, অতপরঃ যারা তোমাদের ব্যাপারে কোন ত্রুটি করেনি এবং তোমাদের বিরুদ্ধে কাউকে সাহায্যও করেনি, তাদের সাথে কৃত চুক্তিকে তাদের দেয়া মেয়াদ পর্যন্ত পূরণ কর। অবশ্যই আল্লাহ সাবধানীদের পছন্দ করেন।”(সুরাঃ ৯,আয়াতঃ ৪)
“মুশরিকদের চুক্তি আল্লাহর নিকট ও তাঁর রসূলের নিকট কিরূপে বলবৎ থাকবে। তবে যাদের সাথে তোমরা চুক্তি সম্পাদন করেছ মসজিদুল-হারামের নিকট। অতএব, যে পর্যন্ত তারা তোমাদের জন্যে সরল থাকে, তোমরাও তাদের জন্য সরল থাক। নিঃসন্দেহের আল্লাহ সাবধানীদের পছন্দ করেন।”(সুরাঃ ৯,আয়াতঃ ৭)
⦁ মুত্তাকী তারা, যারা বড় বড় গোনাহ ও অশ্লীলকার্য থেকে বেঁচে থাকে। আল্লাহ বলেন, “যারা বড় বড় গোনাহ ও অশ্লীলকার্য থেকে বেঁচে থাকে ছোটখাট অপরাধ করলেও নিশ্চয় আপনার পালনকর্তার ক্ষমা সুদূর বিস্তৃত। তিনি তোমাদের সম্পর্কে ভাল জানেন, যখন তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন মৃত্তিকা থেকে এবং যখন তোমরা মাতৃগর্ভে কচি শিশু ছিলে। অতএব তোমরা আত্নপ্রশংসা করো না। তিনি ভাল জানেন কে সংযম।”(সুরাঃ ৫৩,আয়াতঃ ৩২)
মুত্তাকী তারা, যারা সত্য প্রচার করে থাকে। আল্লাহ বলেন, “যারা সত্য নিয়ে আগমন করছে এবং সত্যকে সত্য মেনে নিয়েছে; তারাই তো খোদাভীরু।”(সুরাঃ ৩৯,আয়াতঃ ৩৩)
মুত্তাকী তারা, যারা শয়তানের প্ররোচনায় কোন পাপ কাজ করে ফেললে তৎক্ষণাৎ আল্লাহকে স্মরণ করে ও তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে। আল্লাহ বলেন, “আর যদি শয়তানের প্ররোচনা তোমাকে প্ররোচিত করে, তাহলে আল্লাহর শরণাপন্ন হও তিনিই শ্রবণকারী, মহাজ্ঞানী। যাদের মনে ভয় রয়েছে, তাদের উপর শয়তানের আগমন ঘটার সাথে সাথেই তারা সতর্ক হয়ে যায় এবং তখনই তাদের বিবেচনাশক্তি জাগ্রত হয়ে উঠে।”(সুরাঃ ৭,আয়াতঃ ২০০-২০১)
মুত্তাকী তারা, যারা আল্লাহর পথে নিজেদের জান ও মাল দিয়ে জিহাদ করে। আল্লাহ বলেন, “আল্লাহ ও রোজ কেয়ামতের প্রতি যাদের ঈমান রয়েছে তারা মাল ও জান দ্বারা জেহাদ করা থেকে আপনার কাছে অব্যাহতি কামনা করবে না, আর আল্লাহ সাবধানীদের ভাল জানেন।”(সুরাঃ ৯,আয়াতঃ ৪৪)
এবং মুত্তাকী তারাই, ফেরেশতা যাদের জান কবজ করেন তাদের পবিত্র থাকা অবস্থায়। আল্লাহ বলেন,“ফেরেশতা যাদের জান কবজ করেন তাদের পবিত্র থাকা অবস্থায়। ফেরেশতারা বলেঃ তোমাদের প্রতি শাস্তি বর্ষিত হোক। তোমরা যা করতে, তার প্রতিদানে জান্নাতে প্রবেশ কর।”(সুরাঃ ১৬,আয়াতঃ ৩২)
⦁ আল্লাহ তাওয়াক্কুলকারীদের ভালবাসেন। তাওয়াক্কুলকারী হচ্ছে তারাই যে কোন বিষয়ে যারা আল্লাহর উপর দৃঢ় ভরসা করে, যারা সমস্ত বিষয়ে কেবল আল্লাহর নিকট সাহায্য চায়, যারা যে কোন সীদ্ধান্ত গ্রহণে, বিচারের ক্ষেত্রে আল্লাহর উপর অটুট ভরসা করে। আল্লাহ বলেন, “আল্লাহর রহমতেই আপনি তাদের জন্য কোমল হৃদয় হয়েছেন পক্ষান্তরে আপনি যদি রাগ ও কঠিন হৃদয় হতেন তাহলে তারা আপনার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতো। কাজেই আপনি তাদের ক্ষমা করে দিন এবং তাদের জন্য মাগফেরাত কামনা করুন এবং কাজে কর্মে তাদের পরামর্শ করুন। অতঃপর যখন কোন কাজের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ফেলেন, তখন আল্লাহ তা’আলার উপর ভরসা করুন আল্লাহ তাওয়াক্কুল কারীদের ভালবাসেন।”(সুরাঃ ৩,আয়াতঃ ১৫৯)।

⦁ আল্লাহ সুবিচারকারীদেরকে ভালবাসেন। সুবিচারকারী হচ্ছে তারাই যারা বিচারকার্জে সততা অবলম্বন করে, যারা কারও প্রতি অন্যায় করেনা, জুলুম করেনা, যারা পক্ষপাতহীন, সঠিক মীমাংসাকারী। আল্লাহ বলেন,
“এরা মিথ্যা বলার জন্যে গুপ্তচরবৃত্তি করে, হারাম ভক্ষণ করে। অতএব, তারা যদি আপনার কাছে আসে, তবে হয় তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দিন, না হয় তাদের ব্যাপারে নির্লিপ্ত থাকুন। যদি তাদের থেকে নির্লিপ্ত থাকেন, তবে তাদের সাধ্য নেই যে, আপনার বিন্দুমাত্র ক্ষতি করতে পারে। যদি ফয়সালা করেন, তবেন্যায় ভাবে ফয়সালা করুন। নিশ্চয় আল্লাহ সুবিচারকারীদেরকে ভালবাসেন।”(সুরাঃ ৫,আয়াতঃ ৪২)
“যদি মুমিনদের দুই দল যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে পড়ে, তবে তোমরা তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দিবে। অতঃপর যদি তাদের একদল অপর দলের উপর চড়াও হয়, তবে তোমরা আক্রমণকারী দলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে; যে পর্যন্ত না তারা আল্লাহর নির্দেশের দিকে ফিরে আসে। যদি ফিরে আসে, তবে তোমরা তাদের মধ্যে ন্যায়ানুগ পন্থায় মীমাংসা করে দিবে এবং ইনছাফ করবে। নিশ্চয় আল্লাহ ইনসাফকারীদেরকে পছন্দ করেন।”(সুরাঃ ৪৯,আয়াতঃ ৯)
“ধর্মের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেনি এবং তোমাদেরকে দেশ থেকে বহিস্কৃত করেনি, তাদের প্রতি সদাচরণ ও ইনসাফ করতে আল্লাহ তোমাদেরকে নিষেধ করেন না। নিশ্চয় আল্লাহ ইনসাফকারীদেরকে ভালবাসেন।”(সুরাঃ ৬০,আয়াতঃ ৮)
আল্লাহ তাদের ভালবাসেন যারা আল্লাহর পথে জিহাদ করে, যারা অন্যায়ের প্রতিবাদ করে, আল্লাহর আদেশ লঙ্ঘনঙ্কারী অত্যাচারী ক্ষমতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে, যারা খারাপ কাজ হতে মানুষকে বাধা দান করে, যারা অবিচার,আগ্রাসন ইত্যাদির প্রতিবাদ করে, যারা আল্লাহর আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে সর্বদা সোচ্চার থাকে। আল্লাহ বলেন, “আল্লাহ তাদেরকে ভালবাসেন, যারা তাঁর পথে সারিবদ্ধভাবে লড়াই করে, যেন তারা সীসাগালানো প্রাচীর।”(সুরাঃ ৬১,আয়াতঃ ৪)

Share This Post
Translate In English