কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক বার্তা প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

কোন মহিলাকে তার শ্বশুর ধর্ষণ করলে সে মহিলা কি তার স্বামী তার জন্য হারাম হয়ে যাবে?

প্রশ্নঃ কিছুদিন আগে ভারতের নিউজ চ্যানেলে একটি খবর দেখিয়েছে যে এক মহিলাকে তার শ্বশুর ধর্ষণ করেছে ৷ সে একজন মুসলিম ৷ তখন মৌলভীরা ফতোয়া দিল মহিলা এখন তার শ্বশুরকে বিয়ে করবে ৷ তার স্বামী এখন তার জন্য হারাম ৷ এ ব্যাপারটা নিয়ে কিছু বলবেন৷

উত্তরঃ ডা. জাকির নায়েক ৷ . ভাই এ ব্যাপারটা আসলে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু মিডিয়ার কাছে ৷ আপনারাও হয়তো জানেন ভারতে ইমরানা নামে একজন গৃহবধূ তাকে তার শ্বশুর ধর্ষণ করেছিল ৷ তখন ফতোয়া দেয়া হয়েছিল, বেশিরভাগ ভারতীয় ওলামাই ফতোয়া দিয়েছিলেন ৷ আর একটা দারুল উলুম ফতোয়া দিয়েছিল যেহেতু সে মেয়েটাকে তার শ্বশুর ধর্ষণ করেছিল ৷ সে তার স্বামীর কাছে ফিরে যেতে পারবে না ৷ সে স্বামীর জন্য হারাম হয়ে গেছে ৷ আর মিডিয়া যখনই দেখে এই খবরটা দিয়ে ইসলামের নিন্দা করা যায় তারা সেটা লুফে নেয় ৷ তারপর খবরটা চারদিকে ছড়িয়ে দেয় ৷ যেন ইসলাম ধর্মে এই ইস্যুটা ছাড়া আরো কোন ইস্যুই নেই ৷আর ইন্ডিয়ান প্রেস তারা কি করেছে? বেশিরভাগ চ্যানেলেই খবরটা দেখানো হয়েছে যে ইসলাম ধর্মের উলামা, মাওলানা তারা বলে একটা মেয়েকে তার শ্বশুর ধর্ষণ করেছে ৷ সে একজন ভিকটিম ৷ কিন্তু ইসলাম ধর্ম কি বলছে? ইসলাম তাকে সাহায্য না করে উল্টো আরও তার নামে বলছে যে মেয়েটা তার স্বামীর কাছে যেতে পারবে না ৷ সে তার স্বামীর জন্য হারাম ৷ আর মিডিয়া তারপর এই খবরটাকে চারদিকে ছড়িয়ে দিচ্ছে ৷ এমনকি আজও ছড়াচ্ছে ৷ তবে আমি সবসময়ই বলি ৷ যদি আপনি মিডিয়ার সামনে কথা বলতে না জানেন ৷ আপনাকে ট্রেনিং নিতে হবে ৷ আর এই ঘটনার কয়েক সপ্তাহ পরেই ৷ অন্য কয়েকজন মুসলিম বিশেষজ্ঞ বললেন— না! না! না! মেয়েটা তার স্বামীর জন্য হারাম নয় ৷ সে স্বামীর কাছে ফিরে যেতে পারবে ৷ যারা ফতোয়া দিয়েছে যে মেয়েটার জন্য তার স্বামী হারাম ৷ তারা ভুল বলেছে ৷ তারপর তারা অমুসলিমদের সামনে এই নিয়ে তর্ক যুদ্ধ শুরু করে দিল ৷ আমরা এভাবেই আমাদের দুর্বলতাগুলো অন্যদের সামনে তুলে ধরছি ৷ . মজার ব্যাপারটা হচ্ছে ৷ বিশেষজ্ঞদের এই দুটো দলই তাদের ফতোয়া দেয়ার জন্য পবিত্র কুরআনের একই আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়েছে ৷ যারা ফতোয়া দিয়েছে যে মেয়েটা হারাম তার স্বামীর জন্য তারা সূরা নিসার একটি আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়েছে— . ”তোমাদের পিতৃগণ নারীকূলের মধ্যে যাদেরকে নিকাহ করেছে তোমরা তাদেরকে নিকাহ করনা, কিন্তু যা বিগত হয়েছে। নিশ্চয়ই এটি অশ্লীল, অরুচিকর এবং নিকৃষ্ট আচরণ।’ Al-Quran (An-Nisaa No4 Verse No: 22) . এখন আরবি ভাষায় “নিকাহ” শব্দটার দুটো অর্থ আছে ৷ একটা হল বিয়ে, আরেকটা অর্থ হচ্ছে সহবাস ৷ আর আরবি ভাষা সম্পর্কে ভাল জানে এমন কাউকে জিজ্ঞেস করুন ৷ তিনি বলবেন হ্যাঁ, নিকাহ শব্দটার দুটো অর্থ আছে একটা হচ্ছে বিয়ে আরেকটা হচ্ছে সহবাস ৷ আর বিশেষজ্ঞদের প্রথম দলটা তারাই সংখ্যায় বেশি ৷ তারা হল দারুল উলুমের একটা বিশেষ গ্রুপ ৷ তারা “নিকাহ” শব্দটার অর্থ করেছেন সহবাস ৷ তাহলে “নিকাহ” শব্দের অর্থ যদি ধরে নেন সহবাস তাহলে কুরআনের আয়াত বলছে তোমরা সহবাস করতে পারবে না তোমাদের বোনের সাথে, তোমরা সহবাস করবে না তোমাদের ফুফুর সাথে অথবা খালার সাথে, তোমরা সহবাস করবে না সেই মহিলার সাথে যে সহবাস করেছে তোমার বাবার সাথে….. [যাদের সাথে বিবাহ অবৈধ তার একটি তালিকা ৷ বিস্তারিতঃ https://www.hadithbd.com/shareqa.php?qa=3694 ৷ ] এটার উপর ভিত্তি করে তারা বললেন ছেলেটার বাবা এই মেয়েটার সাথে সহবাস করেছে ৷ এখন এই মেয়ে তার ছেলের সাথে সহবাস করতে পারবে না ৷ সেজন্য মেয়েটার স্বামী তার জন্য হারাম ৷ অন্য আরেকদল বলল – না, এটার অর্থ বিয়ে ৷ এই নিয়ে তারা তর্ক করতে লাগল ৷ আমাদেরকে কৌশলের সাথে উত্তর দিতে হবে ৷ ১ নং পয়েন্ট, ইমরানা নামে এই মেয়েটির সাথে যা হয়েছিল ছিল ৷ সেটা সহবাস ছিল না ৷ সেটা ছিল জিনা বিল যাবার বা ধর্ষণ ৷ ধর্ষণ আর সহবাস দুটো আসলে এক নয় ৷ আর ধর্ষণকে আরবিতে নিকাহ বলা হয় না ৷ ১ নং পয়েন্ট ৷ হয়তো বলবেন – না, না, না আপনি শব্দ নিয়ে খেলা করছেন ৷ এটা সহবাস ৷ সমস্যা নেই ৷ দেখেন আমি আগেও বলেছি যদি কেউ কোন ভুল কিছু বলে ৷ বিতর্ক করার একটা টেকনিক আছে ৷ যদি কেউ বলে ২+২ = ৫ ৷ আমি তর্ক না করে বলব আচ্ছা এই নেন এখানে ২ লক্ষ দিরহাম আরও ২ লক্ষ দিরহাম ৷ এবার এখন আমাকে ৫ লক্ষ দিরহাম দিন ৷ সে তখন বলবে না না না ৷ টেবিলটাকে ঘুরিয়ে দিন ৷ আমাকে যখন এই প্রশ্নটা করা হয়েছিল আমি বলেছিলাম ৷ আমি তর্কের খাতিরে মেনে নিলাম যে নিকাহ অর্থ সহবাস ৷ তাহলে কুরআনের আয়াত বলছে যে তোমরা সহবাস করবে না তোমাদের বোনের সাথে, তোমাদের ফুফুর সাথে, তোমাদের খালার সাথে, সেই মহিলার সাথে যে তোমাদের বাবার সাথে সহবাস করেছেন…. [যাদের সাথে বিবাহ অবৈধ তার একটি তালিকা ৷ বিস্তারিতঃ https://www.hadithbd.com/shareqa.php?qa=3694 ৷ ]৷ তার মানে কি এই যে কুরআন সহবাসের অনুমতি দিচ্ছে প্রতিবেশী মহিলার সাথে?? অথবা অন্য কোন মহিলার সাথে?? তারা বলল- না, না ৷ আমি বললাম কেন?? যদি বলেন যে নিকাহ অর্থ সহবাস ৷ তাহলে কুরআন বলছে যে তোমরা সহবাস করবে না বোনের সাথে, ফুফুর সাথে, খালার সাথে আর যে মহিলার সাথে তোমার বাবা সহবাস করেছে….. [যাদের সাথে বিবাহ অবৈধ তার একটি তালিকা ৷ বিস্তারিতঃ https://www.hadithbd.com/shareqa.php?qa=3694 ৷]৷ কিন্তু সহবাস করতে পারবে প্রতিবেশী মহিলার সাথে! অন্য যেকোন মহিলার সাথে ৷ তারা বলল, না! তাহলে সঠিক অর্থটা হচ্ছে নিকাহ মানে বিয়ে ৷ অর্থাৎ তোমরা বিয়ে করবে না তোমাদের বোনকে, তোমরা বিয়ে করবে না তোমাদের ফুফুকে, তোমাদের খালাকে এবং বিয়ে করবে না সেই মহিলাকে যে বিয়ে করেছে তোমাদের বাবাকে….. [যাদের সাথে বিবাহ অবৈধ তার একটি তালিকা ৷ বিস্তারিতঃ https://www.hadithbd.com/shareqa.php?qa=3694 ৷ ] ৷ তবে আপনি প্রতিবেশী মহিলাকে বিয়ে করতে পারেন ৷ অন্য যেকোন মহিলাকে বিয়ে করতে পারেন ৷ তাই আপনারা লড়াই না করে হিকমাহ (কৌশল) দিয়ে এটা বোঝাবেন ৷ আর কোন বিশেষজ্ঞই বলবেন না যে আপনি যিনা করতে পারেন যেকোন মহিলার সাথে ৷ হিকমাহর সাথে উত্তর দিন সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে ৷ কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে নিজেরাই একে অন্যের সাথে তর্ক করছি মিডিয়ার সামনে ৷ ইসলামকে সবার সামনে হাস্যকর বানাচ্ছি ৷ . আশা করি উত্তরটা পেয়েছেন ৷ . ভিডিও লিঙ্ক বাংলাতেঃ https://www.youtube.com/watch?v=RbBsSERL1X8 . ভিডিও লিঙ্ক ইংরেজিতেঃ https://www.youtube.com/watch?v=ymSq6gD3YhU

Share This Post
Translate In English