কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক বার্তা প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

ফরজ বিষয়গুলো ইচ্ছা-অনিচ্ছার বিষয় না

মন চাইছে না, নামাযটা ছেড়ে দিলেন!
ইচ্ছা করছে না ঘুম ভেঙ্গে উঠতে, ফজরটা মিস করলেন!
কাল রোজা রেখে কষ্ট হয়েছে, আজ রোজা তাই রাখলেন না!
বন্ধু-বান্ধব ‘হুজুর হয়া গেছিস’ বলবে তাই দাড়িটা রাখছেন না বা হিজাব/পর্দা করছেন না!!
গরম লাগার অজুহাতে নিজেকে আবৃত করছেন না!!
পড়াশুনা, ক্লাসমেট, আত্মীয় ইত্যাদির অজুহাতে পরপুরুষ/পরনারীর সাথে যোগাযোগ রাখছেন!
বন্ধ করবেন করবেন করেও মিউজিক শোনাটা এখনো বন্ধ করতে পারেন নি!
সন্তান বালেগ হয়েছে জেনেও নিজ পায়ে দাড়ানোর অজুহাতে তার বিয়ে দিচ্ছেন না!
বাল্যবিবাহ হবে ভেবে বালেগ সন্তানকেও ফিতনা-জ্বিনায় লিপ্ত রাখছেন কিন্তু বিয়ে দিচ্ছেন না!
গ্রাজুয়েসান শেষ করার অজুহাতে বিয়েতে রাজি হচ্ছেন না!
সামাজিকতা রক্ষার নামে যা ইচ্ছা তাই করতে বাধ্য হচ্ছেন!!
সব কিছু ঠিক আছে আপনার ফরজ বিধানসমূহ কি ইচ্ছা আর স্বাধীনতার বিষয় ছিল?!
আপনি স্বাধীন না, আপনি আত্মসমর্পনকারী (মুসলিম)!
.
ফজর ইচ্ছা স্বাধীন কোন নির্দেশ নয়
.
শূন্য থেকে যেই আপনার বর্তমান অস্তিত্ব সেই আপনি কিভাবে নিজ মনিবের আদেশকে উপেক্ষা করে নিজেকে নিজের প্রভু বানিয়ে ফেলেছেন তা আপনি খেয়ালও করেন নি!!
.
অথচ, আপনি এই বলে মুসলিম হয়েছেন যে,
لا إله إلا الله
আল্লাহ ছাড়া (আপনি আপনার উপর হুকুম চালাতে পারে এমন কাউকেই) ইলাহ হিসেবে মানবেন না! তার প্রভুত্বে কাউকে অংশি করবেন না।
.
এছাড়া আপনি প্রতি রাকায়াত সালাতে বলছেন,
إِيَّاكَ نَعْبُدُ وإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ
“আমরা একমাত্র আপনারই গোলামী করি (হুকুম মত চলি, আপনাকেই একমাত্র অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করেছি, আপনার হুকুমের বিপরীত কিছু করি না), এবং শুধুমাত্র আপনার কাছেই সাহায্য চাই।
.
আপনি সাক্ষ্য দিয়েছেন যে,
اِنَّ صَلاَتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي ِﷲِ رَبِّ الْعَالَمِينَ,
“”নিশ্চয়ই আমার নামায, আমার কুরবানী, আমার জীবন ও আমার মরণ সারা জাহানের রব আল্লাহর জন্য” (সূরা আনআম ৬ : ১৬২)
.
এছাড়া আল্লাহ আপনার মালিক হওয়া সত্ত্বেও নিজের ইচ্ছা-স্বাধীনতাকে আল্লাহর কাছে জান্নাতের বিনিময়ে বেঁচে দিয়েছেন তাও ভুলে আছেন!!
إِنَّ اللَّهَ اشْتَرَىٰ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ أَنفُسَهُمْ وَأَمْوَالَهُم بِأَنَّ لَهُمُ الْجَنَّةَ
“ নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’য়ালা মু’মিনদের থেকে তাদের প্রাণ ও ধন-সম্পদ জান্নাতের বিনিময়ে কিনে নিয়েছেন।” -তারপরও আপনার জীবনের সময়গুলো সম্পদগুলোকে আল্লাহর হুকুমের অধিন করে দিতে শয়তান ছাড়া আর কোন বিষয় সংশয়ে ফেলে রেখেছে!?
.
শয়তানের গোলামে পরিণত হওয়া থেকে কি নিজেকে নিবৃত করবেন না?
কিন্তু সামান্য অজুহাতে সেই ফরজ বিধানগুলোকে উপেক্ষা করে, হেলায় দিন কাটিয়ে দিতে আপনার সংকোচবোধও নেই!
আপনার আত্মপরিচয় বিষয় আরেকবার ভাববেন কি?

Share This Post
Translate In English