কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক বার্তা প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

হাউজওয়াইফও একটা চমৎকার পেশা হতে পারে।। জানতে বিস্তারিত পড়ুন

আমাদের উচ্চশিক্ষিতা অনেক বোনই (দ্বীন যেসব মেয়ে বুঝেন তারা আওতামুক্ত) ভাবতে পারেন না যে “হাউজওয়াইফ”ও একটা চমৎকার পেশা হতে পারে। না, বিডি জবস বা চাকুরীর পত্রিকাতে এই সার্কুলার পাওয়া যাবে না। আল্লাহকে ভালবাসেন এমন স্বামীর বাসায় এই চাকুরী। পারিশ্রমিক? আল্লাহর সন্তুষ্টি। কিভাবে? কারণ, স্বামী তার উপর সন্তুষ্ট।
.
ক্রিকেট হোক অথবা ফুটবল হোক – দলে একজন প্রধান কোচ থাকেন। তার কাজ দলকে এমনভাবে তৈরি করা যাতে পরের খেলায় জিতে যায়। একজন হাউজওয়াইফ এর কাজ এর চেয়েও বেশি কঠিন। তার বাচ্চাকে শূণ্য থেকে সব চেনাতে হয়। স্বামীর অবর্তমানে তার সম্পত্তিগুলো দেখভাল করে রাখতে হয়। তার নিজের সম্ভ্রম রক্ষা করে চলতে হয় পরপুরুষের হাত থেকে। ভালবাসা শেয়ার না করে স্বামীর জন্য জমা করে রাখতে হয়। এই কাজগুলো রাস্তাঘাটে ফেয়ার এন্ড লাভলী মেখে “ভিক্ষে” করা মেয়েদের চেয়ে কোন অংশে কম নয়।
.
এছাড়া একটা কমন যুক্তি আছে। সেটাও বলছি। হযরত খাদিজা রাযি’আল্লাহু আনহা। তিনি ব্যাবসা করেছিলেন। তাহলে আজকের দ্বীনি বোনরা কেন ব্যাবসা করবেন না? কেন খাদিজা (রা) হবেন না। দু:খজনক তবে সত্যিও বটে। খাদিজা (রা) কে যদি আইডল হিসেবে নেন, তবে তাঁর পুরোটাই নিবেন। “মন যারে চায়” ধরণের অর্ধেক নয়। তিনি বিয়ের পরে যাবতীয় ব্যাবসায়ের ভার রাসুল (সা) কে দিয়ে দিয়েছিলেন। যখন বিজনেস করতেন, তাও ঘরে বসে করতেন। কোন প্রোডাক্ট এর শিপমেন্ট এসে পৌঁছালে, এখনকার মেয়েদের মত “মেয়েরা সব পারে” বলে সেখানে গিয়ে তা রিসিভ করতেন না। বরং অন্য লোক পাঠিয়ে দিতেন। কঠোর পর্দা মেন্টেইন করতেন। লোক দেখানো পর্দা না। তাঁর মেয়ে হলেন জান্নাতের নারীদের চিফ, হযরত ফাতিমা(রা)। সেই ফাতিমা (রা) বাসায় বসেই ছিলেন। যাঁতা পিষে দাগ পড়ে গিয়েছিল। এই আটা, ময়দা, সুজির যুগ ছিল না।
.
আল্লাহ যাকে যেই কাজে ভাল মানায় সেখানে তাকে দিয়েছেন। এই টাকা আয়ের কাজটা ছেলেদের দিয়ে রেখেছেন বাই ডিফল্ট। আর প্রতিদিন সকালে উঠে মনে না চাইলেও অফিসে যাওয়া কেবল স্ত্রী সন্তানের ভরণ পোষণের জন্যেই যাওয়া। আল্লাহর একটা আদেশ মানতে যাওয়া। স্ত্রীর হক আদায় করতে যাওয়া। অফিসে যেতে কার না বিরক্ত লাগে!
.
আর যেসব মেয়ে ক্যারিয়ারের দোহাই দিয়ে, “পড়াশুনা করেছি কি চুলা ঠেলতে” এই দোহাই দিয়ে ছেলেদের পাশাপাশি নেমে পড়েছে তাদের জন্য আফসোস লাগে। আমি দেখেছি অনেক বুয়েট আর ঢাকা ইউনিভার্সিটির মেয়ে কেবল স্বামী সন্তানকে ভালবেসে চাকুরী ছেড়ে দিয়েছেন। ওরা “বেকার” না। যেই কাজ নিয়েছেন তা দিয়ে জান্নাত পাওয়া যায়!
.
ক্যারিয়ার সচেতন অনেক মেয়েই আছেন যারা সারাজীবনের পড়াশুনার দোহাই দেন। অথচ বেশির ভাগের চাকুরি কিন্তু রিসিপশানিস্টের ডেস্কে। যেন শো কেইজ! বিজ্ঞানে নারীর পদচারণা নেই, অলমোস্ট। আমাদের দেশ না হয় গত পরশু স্বাধীন হল, কিন্তু পশ্চিমা দেশে এ হাল কেন? থেরেসা মে, এঙ্গেলা মার্কেল বাদে আর প্রভাবশালী কয়জন আছে। হাতে গোনা কয়েকজন। সবচেয়ে বড় কথা এরাও আবার কাফির। মুসলিম মেয়ে যেই কয়জন আছেন অধিকাংশই সেকুলার মুসলিম। আমাদের মেয়েরা কেন মালালা কে অনুসরণ করবে? যখন আফিয়া সিদ্দিকীর মত মহিলাও থাকে?
.
আমাদের মুসলমানদের ঘরে সিংহের বাচ্চা থাকে। তাদের পরিচর্যা করতে সিংহী লাগে। যে আদর আর শাসন দুটোই করতে পারবে। অন্যের কাছে চাকরানী করে এমন নয়।
.
যারা একান্ত বাধ্য হয়ে, বেঁচে থাকতে একটা চাকুরী করছে তাদের কথা বলছি না। আমি বলছি তাদের কথা যারা বান্ধবীদের সামনে “ছোটলোক গৃহিণী” হয়ে যেতে হবে তাই চাকুরী করে, এই ভয়ে চাকুরী করছে যে পাছে লোকে কি বলে? এই কারণে চাকুরী করছে যে, এই বাসায় টাইলস নেই। টাইলসওয়ালা বাসায় থাকা লাগবে তাই একটা চাকুরী দরকার। বাসায় ঝাড়বাতি লাগাতে হবে তাই চাকুরী দরকার। সংসারের নিজে সৃষ্টি করা অভাব মেটাতে যাদের চাকুরী দরকার।
.
রাসুল (সা) চলে গেছেন। যাওয়ার আগে দ্বীন পূর্ণ করে গেছেন। মানে দাঁড়ালো তিনি যা করে গেছেন তা ঠিক। আর কোন কাটছাঁট বা বাড়াবাড়ি দরকার নেই। তিনি চাইলে তাঁর স্ত্রীদের দিয়ে, মেয়েদের দিয়ে জব করাতেন। এত বড় সংসারে যেখানে প্রায়ই হাড়িতে আগুন জ্বলতো না। একটা জব করানো কোন ব্যাপার ছিল না। করান নি তো। আমরা কি আরো বেশি নেককার হয়ে গেলাম? নাউজুবিল্লাহ।
.
আল্লাহ যেখানে যা দিয়েছেন সেখানে তা থাকলে রাণীর মত থাকে। নয়ত চাকরানীর জীবন বেছে নিতে হয়। যারা নিতান্ত লোভে পড়ে, যথেষ্ঠ অর্থ থাকার পরেও নিজের ইজ্জত, আব্রুর বিসর্জন দিয়ে কাজ করে চলেছেন, সমবেদনা আপনাদের জন্য। ভাল কথা, ইজ্জত আব্রুর কারো কাছে স্লিভলেস জামা, কারো কাছে কেবল ফুলস্লিভ জামা, কারো কাছে কেবল মাথায় একটা কাপড়, কারো কাছে ত্যানা প্যাঁচানো ওড়না, কারো কাছে ফেইস ওপেন রাখা বুরকা, কারো কাছে নিকাব, হাত পা মৌজা সহ বুরকা। নিন! চয়েস করুন!

Translate In English