কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক বার্তা প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর কৌতুক

————————-রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর কৌতুক——————————
____________________________________________________

বইঃ সহীহ শামায়েলে তিরমিযী,
অধ্যায়ঃ ৩৬.
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর কৌতুক,
____________________________________________________

হাদিস নম্বরঃ ১৭৪

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আনাস (রাঃ) এর সাথে কৌতুক করতেন :

১৭৪. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। একবার নবী (সাঃ) তাকে সম্বোধন করে (কৌতুকচ্ছলে) বলেছিলেন, ‘হে দু’কানবিশিষ্ট!’ মাহমুদ (রহঃ) বলেন, আবু উসামা (রহঃ) এর অর্থ করেছেন- “তিনি তাঁর সাথে কৌতুক করেছেন”।[1]

[1] আবু দাউদ, হা/৫০০৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/১২১৮৫; মুজামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/৬৬১; জমেউস সগীর, হা/১৩৮৬৮; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৬০৬। হাদিসের মানঃ সহিহ

হাদিস নম্বরঃ ১৭৫

আনাস (রাঃ) এর ছোট ভাইয়ের সাথে কৌতুক করতেন :

১৭৫. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সাঃ) আমাদের সাথে কৌতুক করতেন। এমনকি একবার তিনি আমার ছোট ভাইকে (কৌতুক করে) বললেন, হে আবু উমায়ের! কী হলো নুগায়ের?[1]

ইমাম আবু ঈসা তিরমিয়ী (রহঃ) বলেন, এ হাদীসে অনুধাবনযোগ্য বিষয় হলো, আনাস (রাঃ) এর ছোট ভাইয়ের নুগায়ের নামে একটি পাখি ছিল, যা নিয়ে সে খেলা করত। পাখিটি মরে গেল। এতে সে দুঃখিত হলো। তখন নবী (সাঃ) তাঁর সাথে কৌতুক করলেন এবং বললেন, ওহে আবু উমায়ের! কী হলো তোমার নুগায়ের? এতে বুঝা গেল যে, ছোট বাচ্চাদের পাখি নিয়ে খেলতে বাধা নেই।

[1] সহীহ বুখারী, হা/৬১২৯; সহীহ মুসলিম, হা/৫৭৪৭; আবু দাউদ, হা/৪৯৭১; ইবনে মাজাহ, হা/৩৭২০; মুসনাদে আহমাদ, হা/১২১৫৮; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/১০৯; আদাবুল মুফরাদ, হা/৮৪৭; জামেউস সগীর, হা/১৩৭৮৮৷ হাদিসের মানঃ সহিহ

হাদিস নম্বরঃ ১৭৬

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বাস্তবসম্মত কৌতুক করতেন

১৭৬. আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তারা (সাহাবায়ে কেরাম) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাদের সাথে কৌতুক করছেন? তিনি বললেন, আমি কৌতুকচ্ছলে কখনো সত্য ছাড়া কিছু বলি না।[1]

[1] মুসনাদে আহমাদ, হা/৮৭০৮; মুসানুল কুবরা লিল বায়হাকী, হা/২১৭০৫; আদাবুল মুফরাদ, হা/২৬৫; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৬০২: মুজামুল আওসাত, হা/৮৭০৬; সিলসিলা সহীহাহ, হা/১৭২৬। হাদিসের মানঃ সহিহ

হাদিস নম্বরঃ ১৭৭

১৭৭. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর নিকট একটি বাহন চেয়েছিল, তিনি বললেন, আমি তোমাকে একটি উটনীর বাচ্চা দিচ্ছি। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি উটনীর বাচ্চা দিয়ে কী করব? রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, উটমাত্রই তো কোন না কোন উটনীর বাচ্চা।[1]

[1] আবু দাউদ, হা/৫০০০; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৩৮৪৪; আদাবুল মুফরাদ, হা/২৬৮; বায়হাকী, হা/২০৯৫৭; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৬০৫। হাদিসের মানঃ সহিহ

হাদিস নম্বরঃ ১৭৮

১৭৮. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। যাহির (ইবনে হিযাম আশজায়ী বদরী) নামে এক বেদুঈন প্রায়ই নবী (সাঃ) কে হাদিয়া দিত। যখন সে চলে যেতে উদ্যত হতো তখন নবী (সাঃ) বলতেন, যাহির আমাদের পল্লিবন্ধু, আমরা তার শহুরে বন্ধু। সে কদাকার হলেও নবী (সাঃ) তাকে ভালোবাসতেন। একবার সে বেচাকেনা করছিল আর নবী (সাঃ) তাঁর অলক্ষ্যে পেছন দিক থেকে ধরে ফেললেন। তারপর সে বলল, কে? আমাকে ছেড়ে দাও! দৃষ্টিপাত করতেই সে নবী (সাঃ) কে দেখে তাঁর পিঠ আরো নৰী (সাঃ) এর বুকের সাথে মিলালো। এরপর নবী (সাঃ) বললেন, এ গোলামটিকে কে ক্রয় করবে?

যাহির বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে বিক্রি করে কেবল অচল মুদ্ৰাই পাবেন। এরপর তিনি বললেন, কিন্তু তুমি আল্লাহর নিকট অচল নও। অথবা তিনি বলেছেন, আল্লাহর নিকট তোমার উচ্চমর্যাদা রয়েছে।[1]

[1] মুসনাদে আহমদ, হা/১২৬৬৯ সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৫৭৯০ বায়হাকী, হা/২০৯৬১; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৬০৪; মুসনাদুল বাযযার, হা/৬৯২২। হাদিসের মানঃ সহিহ

হাদিস নম্বরঃ ১৭৯

১৭৯. হাসান (রাঃ) হতে বর্ণিত। একবার এক বৃদ্ধা মহিলা নবী (সাঃ) এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কাছে দু’আ করুন যেন আমি-জান্নাতে প্রবেশ করতে পারি। তিনি বললেন, ওহে! কোন বৃদ্ধা জান্নাতে প্রবেশ করবে না। বর্ণনাকারী বলেন, (তা শুনে) সে কাঁদতে কাঁদতে চলে গেল। নবী (সাঃ) বললেন, তাকে এ মর্মে খবর দাও যে, তুমি বৃদ্ধাবস্থায় জান্নাতে প্রবেশ করবে না। কারণ, আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন, “আমি তাদেরকে বিশেষভাবে সৃষ্টি করেছি। আর তাদেরকে করেছি কুমারী— (সূরা ওয়াক্বিয়া- ৩৬)।[1]

[1] সিলসিলা সহীহাহ, হা/২৯৮৭; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৬০৬। হাদিসের মানঃ সহিহ।।

Translate In English