রামাদানের শেষ দশকের গুরুত্ব ও ফজিলত এবং আমাদের করণীয় কার্যাবলী

ভূমিকা: রামাদানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হলো শেষ দশ রাত। যা ইবাদতের বসন্তকাল নামে পরিচিত এবং খুবই মূল্যবান। এ সময় মুমিনের জন্য বেশি-বেশি ইবাদতে মশগূল থেকে পাপ মোচন ও পুঁজি সংগ্রহের জন্য বিশেষ সুযোগ রয়েছে। কারণ, এ দশদিনে একজন মুমিন ইতিকাফ ও লাইলাতুল ক্বদর পালন করার সৌভাগ্য অর্জন করে। যারা এ দশকের বিশেষ রাত্রি লাইলাতুল ক্বদরে ইবাদত করা থেকে বঞ্চিত হলো, তারা যেন সব ধরনের কল্যাণ এবং মঙ্গল থেকে বঞ্চিত হল। (সুনানে নাসাঈ; হা/২১০৬)। রামাযানের শেষ দশকে বিশেষ আমলগুলোর অন্যতম হলো, ইতিকাফ, বেজোড় রাতে লাইলাতুল ক্বদর তালাশ, ক্বিয়ামুল লাইল, কুরআন-তেলাওয়াত, দান-সাদাক্বাহ, বেশি-বেশি দু‘আ ও তওবাহ-ইস্তেগফার করা ইত্যাদি। আলোচ্য নিবন্ধে আমরা ‘রামাযানের শেষ দশকের গুরুত্ব ও করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা করার প্রয়াস পাব ইনশাআল্লাহ।
.
▪️একনজরে রামাদানের শেষ দশকে করণীয়:
_______________________________________
আমলের অপূর্ণতা এবং ঘাটতি পুষিয়ে নেয়ার মোক্ষম সময় রামাদানের শেষের দশক। তাই সকল গাফিলতি ঝেড়ে ফেলে দিয়ে এখনই আল্লাহমুখী হওয়া খুব জরূরী। রামাদানের অবশিষ্ট দিনগুলোতে যে কয়েকটা আমল আমাদের বিশেষভাবে করতে হবে, তা নিম্নে আলোচনা করা হল:
.
(১). শেষ দশকের অন্যতম আমল ই‘তিকাফ করা:
.
ই‘তিকাফ হলো রামাদানের শেষ দশদিনে মহান প্রভুকে ডাকার উদ্দেশ্যে কোন মসজিদে অবস্থান করা। রামাদান মাসের শেষ দশকে ই‘তিকাফ করা মুস্তাহাব। ই‘তিকাফ পুরুষ-মহিলা সবাই করতে পারে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আর যতক্ষণ তোমরা ই‘তিকাফ অবস্থায় মসজিদে অবস্থান কর, ততক্ষণ পর্যন্ত স্ত্রীদের সাথে মিলিত হয়ো না।’ (সূরা আল-বাক্বারাহ: ১৮৭)। আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতি রামাযানে দশদিন ই‘তিকাফ করতেন। যে বছর তিনি ইন্তেকাল করেছেন সে বছর বিশদিন ই‘তিকাফ করেছেন।’ (সহীহ বুখারী, হা/২০৪৪)। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন,كَانَ يَعْتَكِفُ الْعَشْرَ الْأَوَاخِرَ مِنْ رَمَضَانَ حَتّٰى تَوَفَّاهُ اللهُ ثُمَّ اعْتَكَفَ أَزْوَاجُهُ مِنْ بَعْدِهِ ‘নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রামাদানের শেষ দশকে ই‘তিকাফ করতেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন ইন্তেকাল করলেন, তারপর তাঁর স্ত্রীগণ ই‘তিকাফ করতেন।’ (সহীহ বুখারী, হা/২০২৬; সহীহ মুসলিম, হা/১১৭২)। মূলত ই‘তিকাফে অধিক অধিক কল্যাণমূলক কাজ করা যায় এবং নেক আমল করার জন্য অত্যধিক প্রচেষ্টা করার সুযোগ থাকে; যা অন্যাবস্থায় থাকে না। যার কারণে লাইলাতুল ক্বদরের রাত পাওয়া সহজ হয়।
.
(২). রাত জেগে ইবাদতে মগ্ন থাকা:
.
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআন নাযিল করেছেন ক্বদরের রাত্রিতে। আর এ মর্যাদাপূর্ণ রাত্রিটি মাহে রামাদানে বিদ্যমান। মুসলিমদের জন্য কর্তব্য হলো, এ রাতগুলোতে বেশি বেশি ইবাদত করা ও পরিবার-পরিজনকে ইবাদতে উৎসাহিত করা। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণিত- তিনি বলেন; যখন রামাদানের শেষ দশক আসত, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইবাদতের জন্য কোমর বেঁধে ফেলতেন। তিনি রাত্রি জেগে নিজে ইবাদত করতেন এবং তাঁর পরিবারকেও জাগাতেন।(সহীহ বুখারী হা/২০২৪; সহীহ মুসলিম হা/১১৭৪)
.
(৩). বেশি বেশি পরিশ্রম করা:
.
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অন্যান্য রাতগুলোর চেয়ে শেষ দশকের রাতগুলোতে ইবাদতের জন্য বেশি পরিশ্রম করতেন। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন; রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রামাদানের শেষ দশকে ইবাদত করার জন্য এত পরিশ্রম করতেন, যা অন্য সময়ে করতেন না।’ (সহীহ মুসলিম হা/১১৭৫)
.
(৪). বেশি বেশি আমলে সালিহ তথা সৎ আমল করা:
.
বছরের ১২টি মাসের মধ্যে সবচেয়ে বরকতময় মাস হচ্ছে রামাদান মাস। এ মাসের প্রত্যেকটি দিন আল্লাহর নেয়ামতে পরিপূর্ণ। রামাদান মাসে সৎ আমলের প্রতিদান বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়। তাই এ মাসে বিশেষ করে বিদায়ী শেষ দশকে বেশি বেশি আমলে সালিহ আত্মনিয়োগ করা উচিত। কেননা এ সময় বান্দার আমল দশ থেকে সাতশ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। তাছাড়া রামাযানে প্রত্যেক আমল তার দশ গুণ মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয়। আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন; ‘আদম সন্তানের নেক আমল বাড়ানো হয়ে থাকে। প্রত্যেক নেক আমল দশগুণ হতে সাতশগুণ পর্যন্ত পৌঁছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, তবে সিয়াম ব্যতীত। কারণ সিয়াম আমারই জন্য পালন করা হয় এবং তার প্রতিদান আমিই দিব। (সহীহ বুখারী হা/১৯০৪; সহীহ মুসলিম, হা/১১৫১)। সহীহ বুখারীর অন্য বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, وَالْحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا ‘আর প্রত্যেক নেক কাজের বিনিময় দশ গুণ।’ (সহীহ বুখারী, হা/১৮৯৪)
.
(৫). মিথ্যা আমল ও কাজ পরিহার করা:
.
অশ্লীলতা ও মিথ্যাচার, এ দু’টি কাজ জঘন্য পাপ। এগুলো মানুষের দুনিয়াবী জীবনে যেমন ক্ষতিকর তেমনি আখিরাতে আল্লাহর ক্রোধের কারণ। তাই এ আত্মশুদ্ধির মাসে এ ধরনের পাপাচার হতে দূরে থাকার জন্য তাঁর উম্মতকে সতর্ক করে দিয়ে গেছেন। একজন মুমিন সর্বদাই মিথ্যা কথা ও কাজ পরিহার করে সততার পথ অবলম্বন করবে। রামাদান মাসে এই সততার গুণ অর্জন করার বিশেষ শিক্ষা দেয়া হয়। তাই শেষ দশকে সৎ আমল করার পাশাপাশি সকল প্রকার মিথ্যা ও অপকর্ম থেকে দূরে থাকতে হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَ اجۡتَنِبُوۡا قَوۡلَ الزُّوۡرِ ‘তোমরা দূরে থাক মিথ্যা বলা হতে।’ (সূরা আল-হাজ্জ: ৩৯)। আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন; যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা এবং কাজ ছাড়েনি, তার পানাহার ছেড়ে দেয়াতে আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই। (সহীহ বুখারী, হা/১৯০৩, ৬০৫৭)
.
(৬). জান্নাত তালাশ করা ও জাহান্নাম থেকে পরিত্রান চাওয়া:
.
প্রকৃত সফল ব্যক্তি সেই, যে জাহান্নাম থেকে বেঁচে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারল। রামাদান মাসে জাহান্নাম থেকে বেঁচে জান্নাত লাভের সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে। তাই এ দশকে আল্লাহর কাছে বারবার জাহান্নাম থেকে বাঁচা ও জান্নাত লাভের জন্য আল্লাহর কাছে প্রত্যাশা করতে হবে। কারণ, এ মাসে অসংখ্য জাহান্নামীকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করা হয়। আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন; যখন রামাদান মাসের প্রথম রাত্রি আসে, তখন শয়তান ও অবাধ্য জিনদেরকে শৃঙ্খলে আবদ্ধ করা হয়। জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করা হয়, অতঃপর তার কোন দরজাই খোলা হয় না। জান্নাতের দরজাসমূহ খোলা হয়, অতঃপর তার কোন দরজাই বন্ধ করা হয় না। এ মাসে এক আহ্বানকারী আহ্বান করতে থাকে, হে কল্যাণের অর্নেষণকারী! অগ্রসর হও। হে মন্দের অন্বেষণকারী! থাম। আল্লাহ তা‘আলা এ মাসে বহু ব্যক্তিকে জাহান্নাম হতে মুক্তি দেন, আর এটা প্রত্যেক রাতেই হয়ে থাকে। (তিরমিযী হা/৬৮২; ইবনু মাজাহ, হা/১৬৪২; সনদ সহীহ)। সাহল ইবনু সা‘দ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘জান্নাতের আটটি দরজা রয়েছে। তার একটি দরজার নাম রাইয়ান। ছিয়ামপালনকারী ব্যতীত ঐ দরজা দিয়ে আর কেউ প্রবেশ করতে পারবে না।’ (সহীহ বুখারী, হা/৩২৫৭; সহীহ মুসলিম, হা/১১৫২)
.
(৭). রহমত তালাশ করা:
.
পুরা রামাদান মাসে আসমান ও রহমতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়। সুতরাং, শেষ দশকে বেশি বেশি রহমত কামনা করা উচিত। আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন- যখন রামাদান মাস আসে, তখন আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়। (সহীহ বুখারী, হা/১৮৯৯, ৩২৭৭; সহীহ মুসলিম, হা/১০৭৯)। তিনি আরো বলেন, فُتِحَتْ أَبْوَابُ الرَّحْمَةِ ‘রহমতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়।’ (সহীহ বুখারী, হা/১৮৯৯, ৩২৭৭, সহীহ মুসলিম, হা/১০৭৯)
.
(৮). বেশি বেশি সাদাক্বাহ করা:
.
রামাদান একটি ফজিলত পূর্ণ মাস; বিশেষ করে শেষ দশক আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, শেষ দশকে লাইলাতুল ক্বদর রয়েছে। তাই শেষ দশকে সামর্থ্য অনুযায়ী অধিক পরিমাণে দান-সাদাক্বাহ করা উচিত। এ দশকে কেউ একটি টাকা দান করলে এবং সেটা লাইলাতুল ক্বদরের মধ্যে পড়ে গেলে তা অন্য মাসে ৩০০০০ টাকা দান করার চেয়েও বেশি সওয়াবের অধিকারী হবে (সুবহা-নাল্লাহ)। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ দানশীল। আর রামাদানে অধিক দান করতেন। আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, দানের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে প্রশস্ত হৃদয়ের অধিকারী। আর তাঁর হৃদয়ের এ প্রশস্ততা রামাযান মাসে সবচেয়ে বেশী বেড়ে যেত। রামাযানে প্রত্যেক রাতেই জিব্রীল (আলাইহিস সালাম) তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন এবং তিনি তাঁকে কুরআন শুনাতেন যখন তাঁর সাথে জিব্রীল (আলাইহিস সালাম) সাক্ষাৎ করতেন, তাঁর দান প্রবাহিত বাতাসের বেগের চেয়েও বেড়ে যেত। (সহীহ বুখারী, হা/১৯০২, ৪৯৯৭, সহীহ মুসলিম, হা/২৩০৮)
.
(৯). কুরআন তেলাওয়াত করা:
.
রামাদান কুরআন নাজিলের মাস। আর রামাদানের সাথে কুরআনের রয়েছে গভীর সম্পর্ক। কারণ, রামাদান মাসেই কুরআন অবতরণ করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রামাদানে প্রত্যেক রাতেই জিব্রীল (আলাইহিস সালাম) তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতেন এবং তিনি তাঁকে কুরআন শুনাতেন।(সহীহ বুখারী, হা/১৯০২, ৪৯৯৭, সহীহ মুসলিম, হা/২৩০৮)। সুতরাং, এ মাসে অধিক পরিমাণে কুরআন তেলাওয়াত করা দরকার। কারণহ কুরআনের একটি অক্ষর পড়লে দশটি করে সাওয়াব পাওয়া যায়। (তিরমিযী হা/২৯১০; মিশকাত, হা/২১৩৭, সনদ সহীহ)। তাই শেষ দশকে লাইলাতুল ক্বদরের একটি অক্ষরের বিনিময় ৩০০০০ এরও বেশি সওয়াব আমরা পেতে পারি। তাছাড়া কুরআন ক্বিয়ামতের দিন তেলাওয়াতকারীর জন্য সুপারিশ করবে। আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, সিয়াম এবং কুরআন ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। সিয়াম বলবে, হে প্রতিপালক! আমি তাকে দিনে তার খাদ্য ও প্রবৃত্তি হতে বাধা দিয়েছি। সুতরাং, তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। কুরআন বলবে, আমি তাকে রাত্রে নিদ্রা হতে বাধা দিয়েছি। সুতরাং তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। অতঃপর উভয়ের সুপারিশ কবুল করা হবে। (বায়হাক্বী, শু‘আবুল ঈমান হা/১৯৯৪)
.
(১০). বেশি বেশি দু‘আ করা:
.
রামাদান মাসে দিনে রাতে ২৪ ঘন্টা দু‘আ কবুলের সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। তাই শেষ দশকে বেশি বেশি দু‘আ করা উচিত। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ثَلَاثُ دَعَوَاتٍ لَا تُرَدُّ دَعْوَةُ الْوَالِدِ وَدَعْوَةُ الصَّائِمِ وَدَعْوَةُ الْمُسَافِرِ ‘তিন ব্যক্তির দু‘আ ফেরত দেয়া হয় না। যথা:- ১. পিতা-মাতার দু‘আ। ২. সিয়াম পালনকারীর দু‘আ এবং ৩. মুসাফিরের দু‘আ।(বায়হাক্বী, সুনানুল কুবরা, হা/৬৬১৯; সিলসিলা সহীহাহ, হা/১৭৯৭)। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরো বলেছেন, আল্লাহ রামাদানে প্রত্যেক দিন ও রাতে বান্দাদেরকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন এবং দু‘আ কবুল করেন। (মুসনাদে আহমাদ, হা/৭৪৪৩)। যে দু‘আটি বেশি বেশি পড়তে হয় তা হলো- আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! যদি আমি বুঝতে পারি রাতের মধ্যে ক্বদরের রাত কোনটি? তখন আমি কী বলব? তিনি বললেন, তুমি বলবে, اَللّٰهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّيْ. ‘হে আল্লাহ! নিশ্চয় আপনি ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমাকে ভালোবাসেন। অতএব আমাকে ক্ষমা করুন।’ (ইবনু মাজাহ, হা/৩৮৫০, সনদ সহীহ)
.
(১১). তওবা ও ইস্তেগফার করা:
.
তওবা ও ইস্তেগফারের মাস হলো রামাদান মাস। সুতরাং এ মাসের সুবর্ণ সুযোগ যে হাতছাড়া করল তার মত হতভাগা আর কেউ হতে পারে না। তাই পুরো রামাদান বিশেষ করে শেষ দশকে বেশি বেশি তওবা ও ইস্তেগফার করা উচিত। আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ঐ ব্যক্তি লাঞ্ছিত হোক, যার নিকট আমার নাম নেয়া হয় অথচ সে আমার প্রতি দরূদ পাঠ করে না। ঐ ব্যক্তি লাঞ্ছিত হোক, যার নিকট রামাযান মাস উপস্থিত হলো, অথচ তার গুনাহ মাফ করার পূর্বে তা অতিবাহিত হয়ে গেল। ঐ ব্যক্তি লাঞ্ছিত হোক, যে তার পিতা-মাতা অথবা তাদের দু’জনের একজনকে বার্ধক্য অবস্থায় পেল, অথচ তারা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাতে পারল না। (সুনানে তিরমিযী হা/৩৫৪৫)
.
পরিশেষে বলা যায়, রামাদানের পুরো মাস জুড়েই ইবাদতের সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে। তাই পুরো মাস ইবাদতের পাশাপাশি বিদায়ের শেষ দশকে আরো সচেতন হয়ে ইবাদত করলে তা আমাদের জন্য আরো কল্যাণ বয়ে আনবে। আল্লাহ আমাদের রামাযান মাসের বরকত, রহমত ও মাগফিরাতের সুযোগ লাভে ধন্য করুন-আমীন! (আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী) (সংকলিত)
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬
উপস্থাপনায়:
জুয়েল মাহমুদ সালাফি।

Share: