মসজিদে সালাত আদায়ের ফযীলত এবং মসজিদে প্রবেশ ও বের হওয়ার আদবসমূহ

প্রশ্ন: মসজিদে সালাত আদায়ের ফযীলত কি? মসজিদের প্রবেশ এবং বের হওয়ার আদবসমূহ কি কি?
▬▬▬▬▬▬▬💠💠💠▬▬▬▬▬▬▬
উত্তর: মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত ইবাদতগুলোর মধ্যে সালাত হচ্ছে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইবাদত। যা ঈমানের পরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ। এটা মুমিন ও কাফিরের মাঝে পার্থক্যকারী। আর এ ইবাদত পালনের অন্যতম স্থান হ’ল মসজিদ। যা পৃথিবীর মধ্যে আল্লাহর নিকটে সবচেয়ে পসন্দের জায়গা। প্রত্যেক মুমিন প্রতিদিন কমপক্ষে পাঁচবার তার প্রভূর আদেশ পালনার্থে সেখানে সমবেত হয়। এই মসজিদে আসা-যাওয়া ও অবস্থানের অনেক ফযীলত ও নিয়ম-কানূন রয়েছে।আলোচ্য প্রবন্ধে এই বিষয়ে আলোচনা করা হ’ল:

(১) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এরশাদ করেন, আল্লাহর নিকটে প্রিয়তর স্থান হল মসজিদ এবং নিকৃষ্টতর স্থান হল বাজার।’ (সহীহ মুসলিম, মিশকাত হা/৬৯৬, ‘মসজিদ ও সালাতের স্থান সমূহ’ অনুচ্ছেদ-৭)।

(২) ‘যে ব্যক্তি সকালে ও সন্ধ্যায় (পাঁচ ওয়াক্ত সালাতে) মসজিদে যাতায়াত করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে মেহমানদারী প্রস্ত্তত রাখেন।’ (মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৬৯৮)।

(৩) ‘সবচেয়ে বেশী নেকী পান ঐ ব্যক্তি যিনি সবচেয়ে দূর থেকে মসজিদে আসেন এবং ঐ ব্যক্তি বেশী পুরস্কৃত হন, যিনি আগে এসে অপেক্ষায় থাকেন। অতঃপর ইমামের সাথে সালাত আদায় করেন।’
(মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৬৯৯) তিনি আরো বলেন, ‘প্রথম কাতার হল ফেরেশতাদের কাতারের ন্যায়। যদি তোমরা জানতে এর ফযীলত কত বেশী, তাহলে তোমরা এখানে আসার জন্য অতি ব্যস্ত হয়ে উঠতে।’ (আবুদাঊদ, নাসাঈ, মিশকাত হা/১০৬৬ ‘জামা‘আত ও উহার ফযীলত’ অনুচ্ছেদ-২৩)।

(৪) ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহর আরশের ছায়াতলে যে সাত শ্রেণীর লোক আশ্রয় পাবে, তাদের এক শ্রেণী হ’ল ঐ সকল ব্যক্তি যাদের অন্তর মসজিদের সাথে লটকানো থাকে। যখনই বের হয়,পুনরায় ফিরে আসে। (মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৭০১,‘মসজিদ ও ছালাতের স্থান সমূহ’ অনুচ্ছেদ-৭)।

(৫) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)তিন প্রকার লোকের প্রত্যেকেই মহান আল্লাহর দায়িত্বে থাকে। ১. যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর পথে জিহাদের জন্য বের হয়, তার মৃত্যু পর্যন্ত আল্লাহ তার যিম্মাদার। অতঃপর আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন কিংবা তাকে নিরাপদে তার নেকী ও গনীমতসহ তার বাড়িতে ফিরিয়ে দেবেন। ২. যে ব্যক্তি মসজিদে যায়, আল্লাহ তার যিম্মাদার। এমনকি তার মৃত্যুর পর আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন কিংবা তাকে নিরাপদে তার নেকী ও গনীমতসহ তার বাড়িতে ফিরিয়ে আনবেন। ৩. যে ব্যক্তি ঘরে প্রবেশ করে সালাম দিয়ে, আল্লাহ তার যিম্মাদার’। (আবূদাঊদ হা/২৪৯৪; ইবনে হিববান হা/৪৯৯; আদাবুল মুফরাদ হা/১০৯৪; মিশকাত হা/৭২৭)।

মসজিদে যে ব্যক্তি যেই নিয়তে আসবে আল্লাহ তাকে তার নিয়ত অনুযায়ীই ফযীলত দিবেন। আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, مَنْ أَتَى الْمَسْجِدَ لِشَىْءٍ فَهُوَ حَظُّهُ ‘যে ব্যক্তি মসজিদে যে কাজের নিয়ত করে আসবে, সে সেই কাজেরই অংশ পাবে’।(আবূদাঊদ হা/৪৭২; ছহীহুল জামে‘ হা/৫৯৬৩; মিশকাত হা/৭৩০)।

উল্লেখ্য যে ‘অন্য মসজিদের চেয়ে জুম‘আ মসজিদে সালাত আদায় করলে পাঁচশত গুণ ছওয়াব বেশী পাওয়া যাবে মর্মে বর্ণিত হাদীছটি ‘যঈফ’। (ইবনু মাজাহ হা/১৪১৩; ঐ, মিশকাত হা/৭৫২)।

◾মসজিদ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কয়কটি বিষয়ে জেনে রাখা ভাল:
______________________________________
(১) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি গৃহ নির্মাণ করেন।(মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৬৯৭, ‘সালাত’ অধ্যায়-৪, অনুচ্ছেদ-৭)। তবে যদি ঐ মসজিদ ঈমানদারগণের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে নির্মিত হয়, তাহলে তা ‘যেরার’ (ضِرَار) অর্থাৎ ক্ষতিকর মসজিদ হিসাবে গণ্য হবে।’ (তওবাহ ৯/১০৭)। উক্ত মসজিদ নির্মাণকারীরা গোনাহগার হবে।

(২) মসজিদ থেকে কবরস্থান দূরে রাখতে হবে।(তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/৭৩৭)।নিতান্ত বাধ্য হলে মাঝখানে দেওয়াল দিতে হবে। মসজিদ সর্বদা কোলাহল মুক্ত ও নিরিবিলি পরিবেশে হওয়া আবশ্যক।

(৩) মসজিদ অনাড়ম্বর ও সাধাসিধা হবে। কোনরূপ সাজ-সজ্জা ও জাঁকজমক পূর্ণ করা যাবে না বা মসজিদ নিয়ে কোনরূপ গর্ব করা যাবে না। (আবুদাঊদ, নাসাঈ, মিশকাত হা/৭১৮-১৯, ‘মসজিদ ও সালাতের স্থান সমূহ’ অনুচ্ছেদ-৭)।

(৪) মসজিদ নির্মাণে সতর্কতার সাথে ইসলামী নির্মাণশৈলী অনুসরণ করতে হবে। কোন অবস্থাতেই অমুসলিমদের উপাসনা গৃহের অনুকরণ করা যাবে না।

(৫) মসজিদে নববীতে প্রথমে মিম্বর ছিল না। কয়েক বছর পরে একটি কাঠের তৈরী মিম্বর স্থাপন করা হয়। যা তিন স্তর বিশিষ্ট ছিল। তিন স্তরের অধিক উমাইয়াদের সৃষ্ট। (ইবনু মাজাহ হা/১৪১৪; বুখারী হা/৯১৭-১৯; ফাৎহুল বারী ২/৪৬২-৬৩, ‘জুম‘আ’ অধ্যায়-১১, ‘মিম্বরে দাঁড়িয়ে খুৎবা প্রদান’ অনুচ্ছেদ-২৬)।

(৬) যে সব কবরে বা স্থানে পূজা হয়,সিজদা হয় বা যেখানে কিছু কামনা করা হয় ও মানত করা হয়,ঐসব কবরের বা স্থানের পাশে মসজিদ নির্মাণ করা হারাম এবং ঐ মসজিদে সালাত আদায় করা বা কোনরূপ সহযোগিতা করাও হারাম। কেননা এগুলি শিরক এবং আল্লাহ শিরকের গোনাহ কখনই ক্ষমা করেন না (তওবা করা ব্যতীত)। (সূরা নিসা ৪/৪৮, ১১৬)।

(৭) মসজিদে ক্বিবলার দিকে ‘আল্লাহ’ ও কা‘বা গৃহের ছবি এবং মেহরাবের দু’পাশে গম্বুজের আকৃতি বিশিষ্ট দীর্ঘ খাম্বাযুক্ত সুসজ্জিত টাইলস বসানো যাবে না। মেহরাবের উপরে কোনরূপ লেখা বা নকশা করা যাবে না। মোল্লা আলী ক্বারী হানাফী (রহঃ) মসজিদে চাকচিক্য করাকে বিদ‘আত বলেছেন। (মির‘আত ২/৪২৮)।

(৮) মসজিদের বাইরে, মিনারে বা গম্বুজে ‘আল্লাহ’ বা ‘আল্লাহু আকবর’ এবং দেওয়ালে ও ছাদের নীচে দো‘আ, কালেমা, আসমাউল হুসনা ও কুরআনের আয়াত সমূহ লেখা বা খোদাই করা যাবেনা বা কা‘বা গৃহের গেলাফের অংশ ঝুলানো যাবে না। কেননা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মসজিদে এসবের কিছুই ছিল না।

(৯) মসজিদের ভিতরে-বাইরে কোথাও মাথাসহ পূর্ণদেহী বা অর্ধদেহী প্রাণীর প্রতিকৃতি বা ছবিযুক্ত পোস্টার লাগানো যাবে না। কেননা ‘যে ঘরে কোন (প্রাণীর) ছবি টাঙানো থাকে, সে ঘরে আল্লাহর রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না।’ (মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৪৪৮৯, ৯২; ‘পোষাক’ অধ্যায়-২২, ‘ছবি সমূহ’ অনুচ্ছেদ-৪)।

(১০) মসজিদে অবশ্যই নিয়মিতভাবে আযান ও ইবাদতের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

(১১) মসজিদে (নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক) ওযুখানা ও টয়লেটের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

(১২) মসজিদ ও তার আঙিনা সর্বদা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং ইবাদতের নির্বিঘ্ন ও সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখতে হবে।

(১৩) মসজিদে আগত আলেম ও মেহমানদের প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শন করতে হবে ও সর্বোচ্চ আপ্যায়ন করতে হবে। কেননা তারা আল্লাহর ঘরের মেহমান।

(১৪) পুরুষের কাতারের পিছনে মহিলা মুসল্লীদের জন্য পৃথকভাবে পর্দার মধ্যে পুরুষের জামা‘আতের সাথে সালাতের ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যামানায় মহিলাগণ নিয়মিতভাবে পুরুষদের সাথে জুম‘আ ও জামা‘আতে যোগদান করতেন।(বুখারী, মিশকাত হা/৯৪৮, ১১২৬, মুসলিম, মিশকাত হা/১০৯২)। তবে এজন্য পরিবেশ নিরাপদ ও অভিভাবকের অনুমতি প্রয়োজন হবে এবং তাকে সুগন্ধিবিহীন অবস্থায় আসতে হবে। (মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/১০৫৯-৬০)।

(১৫) কেবল মসজিদ নির্মাণ নয়,বরং মসজিদ আবাদের প্রতি দৃষ্টি দিতে হবে এবং নিয়মিতভাবে বিশুদ্ধ দ্বীনী তা‘লীম ও তারবিয়াতের ব্যবস্থা করতে হবে। যেমন মসজিদে নববীতে ছিল। বর্তমানে মসজিদগুলিতে সহীহ হাদীস ভিত্তিক বিশুদ্ধ দ্বীনী তা‘লীমের বদলে অশুদ্ধ বিদ‘আতী তা‘লীম বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তাছাড়া জামা‘আত শেষে দলবদ্ধভাবে সর্বোচ্চ স্বরে ও সুরেলা কণ্ঠে মীলাদ ও দরূদের অনুষ্ঠান করা কোন কোন মসজিদে নিয়মে পরিণত হয়েছে। ফলে ঐসব মসজিদ এখন ইবাদত গৃহের বদলে বিদ‘আত গৃহে পরিণত হয়েছে। সংশ্লিষ্টগণ আল্লাহকে ভয় করুন!

(১৬) সুন্নাত থেকে বিরত রাখার জন্য ‘সুন্নাতের নিয়ত করিবেন না’ লেখা বা মসজিদে লালবাতি জ্বালানোর ব্যবস্থা রাখা ঠিক নয়। কেননা ইক্বামত হয়ে গেলে সুন্নাত ছেড়ে দিয়ে জামা‘আতে যোগ দিলে ঐ ব্যক্তি পূর্ণ সালাতের নেকী পেয়ে যায়। (মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/২৩৭৪, ‘দো‘আ সমূহ’ অধ্যায়-৯)।

(১৭) জামে মসজিদের সাথে (প্রয়োজন বোধে) ইমাম ও মুওয়াযযিনের পৃথক কোয়ার্টার ও তাদের থাকা-খাওয়ার ও জীবন-জীবিকার সম্মানজনক ব্যবস্থা থাকা আবশ্যক।

◾মসজিদে প্রবেশ এবং মসজিদ থেকে বের হওয়ার আদব:
_________________________________
রাসূল (ﷺ) প্রত্যেক ভাল কাজের শুরু ডান দিক দিয়ে করতেন। এমনিভাবে মসজিদে প্রবেশের সময়ও ডান পা দিয়ে প্রবেশ করতেন। আয়েশা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম (ছাঃ) নিজের সমস্ত কাজ ডানদিক হ’তে আরম্ভ করা পসন্দ করতেন। তাহারাত অর্জন, মাথা আচঁড়ানো এবং জুতা পরার সময়ও’।(সহীহ বুখারী হা/৪২৬)।

রাসূল (ﷺ) মসজিদে প্রবেশের সময় বেশ কয়েকটি দো‘আ পাঠ করতেন। আমর ইবনুল ‘আছ (রাঃ) বলেন, রাসূল (ﷺ) যখন মসজিদে প্রবেশ করতেন তখন বলতেন,

أَعُوْذُ بِاللهِ الْعَظِيْمِ وَبِوَجْهِهِ الْكَرِيْمِ وَسُلْطَانِهِ الْقَدِيْمِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ-

‘আমি মহান আল্লাহর নিকট বিতাড়িত শয়তান হ’তে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, যিনি সর্বদা রাজত্বের এবং মর্যাদাপূর্ণ চেহারার অধিকারী (আবূদাঊদ হা/৪৬৬, সনদ ছহীহ; মিশকাত হা/৭৪৯)।

আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, ‘যখন তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করবে তখন সে যেন বলে, اَللّهُمَّ افْتَحْ لِيْ اَبْوَابَ رَحْمَتِكَ ‘হে আল্লাহ! তুমি আমার জন্য তোমার রহমতের দরজাসমূহ খুলে দাও’।(মুসলিম, মিশকাত হা/৭০৩)।

এছাড়াও রয়েছে (ক) মসজিদে প্রবেশ করে আল্লাহর উদ্দেশ্যে দু’রাক‘আত ‘তাহিয়াতুল মাসজিদ’ নফল সালাত আদায় করবে।(মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৭০৪)।সরাসরি বসবে না। (খ) মসজিদে (খুৎবা ব্যতীত) উঁচু স্বরে কথা বলবে না বা শোরগোল করবে না। (মুসলিম, মিশকাত হা/১০৮৯)
(গ) সেখানে কোন হারানো বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা যাবে না। (মুসলিম, মিশকাত হা/৭০৬)। (ঘ) মসজিদে কাতারের মধ্যে কারো জন্য কোন স্থান নির্দিষ্ট করা যাবে না (ইমাম ব্যতীত)। (মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৬৯৩)।অতএব কোন মুসল্লীর জন্য পৃথকভাবে কোন জায়নামায বিছানো যাবে না। (ঙ) মসজিদে হারাম, মসজিদে নববী ও মসজিদুল আক্বসা ব্যতীত।(মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৬৯৩)।সকল মসজিদের মর্যাদা সমান। অতএব বেশী নেকী হবে মনে করে বড় মসজিদে যাওয়া যাবে না।

১৮) মসজিদ কমিটির সভাপতি ও সদস্যবৃন্দকে সর্বদা মসজিদের তদারকি করতে হবে এবং এর সংরক্ষণের প্রতি দৃষ্টি রাখতে হবে। নইলে তাদেরকে আল্লাহর নিকট জবাবদিহি করতে হবে। (মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৩৬৮৫ ‘নেতৃত্ব ও বিচার’ অধ্যায়-১৮)।

তাদেরকে পবিত্র কুরআন ও সহীহ হাদীসের নির্ভীক অনুসারী,আল্লাহভীরু ও নিষ্ঠাবান মুসল্লী হতে হবে। (তওবা ৯/১৮)। তারা যেন মসজিদে কোন বিদ‘আত ও বিদ‘আতীকে প্রশ্রয় না দেন। কেননা তাহলে তাদের উপর আল্লাহর লা‘নত হবে এবং তাদের কোন নেক আমল আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না। (মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/২৭২৮ ‘মানাসিক’ অধ্যায়-১০, অনুচ্ছেদ-১৫)।

(১৯) মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় বাম পা দিয়ে বের হওয়া এবং দো‘আ পাঠ করা: আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন,রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ মসজিদ থেকে বের হবে, তখন যেন বলে, اَللّهُمَّ إنِّيْ أسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ- ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি।’ (মুসলিম, মিশকাত হা/৭০৩ ‘মসজিদ ও সালাতের অন্যান্য স্থান সমূহ’ অনুচ্ছেদ)।

(২০)ফাতেমা (রাঃ) বলেন, রাসূল (ﷺ) যখন মসজিদ থেকে বের হতেন তখন বলতেন, بسم الله والسلام على رسول الله اللهم اغْفِرْلِىْ ذُنُوْبِىْ وَافْتَحْ لِىْ أَبْوَابَ فَضْلِكَ- ‘আল্লাহর নামে (প্রস্থান করছি) এবং আল্লাহর রাসূলের প্রতি সালাম। হে আমার প্রতিপালক! আমার পাপসমূহ ক্ষমা করে দাও এবং তোমার অনুগ্রহের দরজাসমূহ আমার জন্য খুলে দাও। (আলবানী,সহীহ ইবনু মাজাহ হা/৭৭১; তিরমিযী হা/৩১৪)। (আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী)।
__________________
উপস্থাপনায়,
জুয়েল মাহমুদ সালাফি।

Share: