কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক বার্তা প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

ভূমিকম্প, প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও ইসলাম

প্রশ্ন: ভূমিকম্পের ব্যাপারে ইসলাম কী বলে? এর কি কোনও পূর্বাভাস আছে? আর ভূমিকম্প, জলোচ্ছ্বাস ও আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বিশ্বাস কি গায়েব বা অদৃশ্য বিষয়ে বিশ্বাস করার অন্তর্ভুক্ত?
উত্তর:
নিঃসন্দেহ ভূমিকম্প আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার মহাজাগতিক বড় নিদর্শনসমূহের অন্যতম। এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এ বিশ্বচরাচরের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ এবং তার অপরিমেয় শক্তিমত্তার সামান্য বহিঃপ্রকাশ মাত্র। তিনি মাঝে-মধ্যে তার শক্তিমত্তা ও অপরাজেয় ক্ষমতার সামান্য কিছু প্রকাশ ঘটান মানুষকে সতর্ক করার জন্য। যেন তারা তাঁকে চিনতে পরে এবং নিজেদের অসহায়ত্ব, অক্ষমতা, দুর্বলতা ও তাঁর নিয়ন্ত্রণাধীন থাকার বিষয়টি উপলব্ধি করতে‌ সক্ষম হয়। তারা যেন আল্লাহকে ভয় করে এবং পাপাচার থেকে ফিরে আসে। যেন মৃত্যুর কথা স্মরণ করে এবং ভঙ্গুর এ পৃথিবীকে চিরস্থায়ী নিবাস মনে না করে।

❂ আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَمَا نُرْسِلُ بِالْآيَاتِ إِلَّا تَخْوِيفًا
“(আসলে) আমি ভয় দেখানোর জন্যই (তাদের কাছে আজাবের) নিদর্শনসমূহ পাঠাই” [সূরা ইসরা/বনী ইসরাইল: ৫৯]

❂ তিনি আরও বলেন,
سَنُرِيهِمْ آيَاتِنَا فِي الْآفَاقِ وَفِي أَنفُسِهِمْ حَتَّىٰ يَتَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُ الْحَقُّ ۗ أَوَلَمْ يَكْفِ بِرَبِّكَ أَنَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدٌ

“অচিরেই আমি আমার (কুদরতের) নিদর্শনসমূহ দিগন্ত বলয়ে প্রদর্শন করবো এবং তাদের নিজেদের মধ্যেও (তা আমি দেখিয়ে দিবো), যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের উপর এটা পরিষ্কার হয়ে যায় যে, এই (কুরআনই মূলত) সত্য; একথা কি যথেষ্ট নয় যে, তোমার মালিক সবকিছু সম্পর্কে অবহিত?” [সূরা ফুসসিলাত/ সূরা হা-মীম আস সিজদা : ৫৩]

❂ কুরআনে আরও এসেছে,
وَمَا نُرِيهِم مِّنْ آيَةٍ إِلَّا هِيَ أَكْبَرُ مِنْ أُخْتِهَا ۖ وَأَخَذْنَاهُم بِالْعَذَابِ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ
“আমি তাদেরকে যে নিদর্শনই দেখাতাম, তাই হত পূর্ববর্তী নিদর্শন অপেক্ষা বৃহৎ এবং আমি তাদেরকে শাস্তি দ্বারা পাকড়াও করলাম, যাতে তারা ফিরে আসে।” [সূরা যুখরূফ: ৪৮]

❂ আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেন,
أَفَلَمْ يَرَوْا إِلَىٰ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُم مِّنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ ۚ إِن نَّشَأْ نَخْسِفْ بِهِمُ الْأَرْضَ أَوْ نُسْقِطْ عَلَيْهِمْ كِسَفًا مِّنَ السَّمَاءِ ۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَةً لِّكُلِّ عَبْدٍ مُّنِيبٍ ‎
“তারা কি তাদের সামনের ও পশ্চাতের আকাশ ও পৃথিবীর প্রতি লক্ষ্য করে না? আমি ইচ্ছা করলে তাদের সহ ভূমি ধসিয়ে দেব অথবা আকাশের কোন খণ্ড তাদের উপর পতিত করব। আল্লাহ অভিমুখী প্রত্যেক বান্দার জন্য এতে অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে।” [সূরা সাবা: ৯]

❂ তিনি আরও বলেন,
قُلْ هُوَ الْقَادِرُ عَلَىٰ أَن يَبْعَثَ عَلَيْكُمْ عَذَابًا مِّن فَوْقِكُمْ أَوْ مِن تَحْتِ أَرْجُلِكُمْ أَوْ يَلْبِسَكُمْ شِيَعًا وَيُذِيقَ بَعْضَكُم بَأْسَ بَعْضٍ ۗ انظُرْ كَيْفَ نُصَرِّفُ الْآيَاتِ لَعَلَّهُمْ يَفْقَهُونَ
“বল, আল্লাহ তাআলা তোমাদের উপর, তোমাদের উপর থেকে (আসমান থেকে) অথবা তোমাদের পায়ের নীচ থেকে আজাব পাঠাতে সক্ষম, অথবা তিনি তোমাদের দল-উপদলে বিভক্ত করে একদলকে আরেক দলের শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করাতেও সম্পূর্ণরূপে সক্ষম।” [সূরা আল আনআম: ৬৫]

❂ আল্লাহ তা’আলা আরও বলেন,
فَلَمَّاۤ أَخَذَتۡهُمُ ٱلرَّجۡفَةُ قَالَ رَبِّ لَوۡ شِئۡتَ أَهۡلَكۡتَهُم مِّن قَبۡلُ وَإِیَّـٰیَۖ أَتُهۡلِكُنَا بِمَا فَعَلَ ٱلسُّفَهَاۤءُ مِنَّاۤۖ إِنۡ هِیَ إِلَّا فِتۡنَتُكَ تُضِلُّ بِهَا مَن تَشَاۤءُ وَتَهۡدِی مَن تَشَاۤءُۖ أَنتَ وَلِیُّنَا فَٱغۡفِرۡ لَنَا وَٱرۡحَمۡنَاۖ وَأَنتَ خَیۡرُ ٱلۡغَـٰفِرِینَ
“যখন তারা একটি ভয়াবহ ভূমিকম্পে আক্রান্ত হলো তখন মূসা বলল, “রব আমার! তুমি চাইলে তো আগেই এদেরকে ও আমাকে ধ্বংস করে দিতে পারতে। আমাদের মধ্যকার নির্বোধেরা যা করেছে, তার জন্য কি তুমি আমাদেরকে ধ্বংস করে দেবে? এটি তো ছিল তোমার পক্ষ থেকে একটি পরীক্ষা। এর মাধ্যমে তুমি যাকে চাও পথভ্রষ্ট করো, আবার যাকে চাও হিদায়াত দান করো। তুমিই তো আমাদের অভিভাবক। কাজেই আমাদের মাফ করে দাও এবং আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করো। ক্ষমাশীলদের মধ্যে তুমিই শ্রেষ্ঠ।” [সূরা আরাফ: ১৫৫]

এভাবে একসময় মহান অধিপতি আল্লাহর নির্দেশক্রমে সমগ্র পৃথিবী এক ভয়াবহ ভূকম্পনে প্রকম্পিত হয়ে উঠবে। জগতময় সৃষ্টি হবে এক অকল্পনীয় ধ্বংসযজ্ঞ। ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবে শহর, নগর, বন্দর ও সকল জনপদ। চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে দরিদ্রের কুঁড়েঘর থেকে শুরু করে আকাশ ছোঁয়া অট্টালিকা, সুবিশাল টাওয়ার, সুরম্য রাজ প্রসাদ, কল-কারখানা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ইত্যাদি। স্তব্ধ হয়ে যাবে পৃথিবীর কোলাহল। সেটাই হবে পরিশ্রুত কিয়ামত দিবস।

আল্লাহ তাআলা ভূমিকম্প (যিলযাল) নামক সূরা নাজিলের মাধ্যমে মানুষকে সে বিষয়ে অগ্রিম সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন,
إِذَا زُلْزِلَتِ الْأَرْضُ زِلْزَالَهَا ‎﴿١﴾‏ وَأَخْرَجَتِ الْأَرْضُ أَثْقَالَهَا ‎﴿٢﴾‏ وَقَالَ الْإِنسَانُ مَا لَهَا ‎﴿٣﴾‏ يَوْمَئِذٍ تُحَدِّثُ أَخْبَارَهَا ‎﴿٤﴾‏ بِأَنَّ رَبَّكَ أَوْحَىٰ لَهَا
“যখন পৃথিবী তার কম্পনে প্রকম্পিত হবে, যখন সে তার বোঝা বের করে দেবে। এবং মানুষ বলবে, এর কি হল? সেদিন সে তার বৃত্তান্ত বর্ণনা করবে, কারণ, আপনার পালনকর্তা তাকে আদেশ করবেন।” [সূরা যিলযাল: ১-৫]

❑ ভূমিকম্প, জলোচ্ছ্বাস ও আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বিশ্বাস কি গায়েব বা অদৃশ্য বিষয়ে বিশ্বাস করার অন্তর্ভুক্ত?

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সাহায্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, প্রকৃতির আলামত ও অবস্থা পর্যবেক্ষণ, বাস্তব অভিজ্ঞতা ইত্যাদির উপর ভিত্তি করে আবহাওয়া, বৃষ্টি-বাদল, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, ভূমিকম্প ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্ভাবনাময় অগ্রিম খবর জানানো অথবা তাতে বিশ্বাস করায় কোনও দোষ নেই। কেননা মূলত: বিশেষজ্ঞগণ বিভিন্ন ডিভাইস, স্যাটেলাইট, যন্ত্র ও প্রযুক্তির সাহায্যে আবহাওয়ার আলামত এবং পৃথিবীর ভূত্বকের গতিবিধি নিরীক্ষণ এর মাধ্যমে এই পূর্বাভাস বলে থাকে। এটি আদৌ গায়েব বা অদৃশ্যের বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত নয়।

যেমন: আমরা খালি চোখে ধুয়া দেখে দূরে কোথাও আগুনের খবর বলতে পারি, নাড়ির স্পন্দন দেখে অভিজ্ঞজনরা গর্ভস্থ সন্তান সম্পর্কে কিছু তথ্য দিতে পারে। আবহাওয়ার অবস্থা দেখে বৃষ্টি বর্ষণের খবর দেয়া হয়, গ্রাম্য কৃষক কোনো বৈজ্ঞানিক সূত্র না জেনেই শুধু তার অভিজ্ঞতার আলোকে খরা, বন্যা, ঝড়-বৃষ্টি ইত্যাদি বিষয়ে অগ্রিম কথা বলতে পারে, ডাক্তার রোগীর শারীরিক অবস্থা দেখে অগ্রিম কিছু বিষয় আঁচ করতে পারে…ইত্যাদি। তবে এসব খবর ১০০% বাস্তবায়িত নাও হতে পারে। আর তা নিশ্চিতভাবে বলাও সম্ভব নয়। এ থেকে একটা সম্ভাবনাময় ধারণা পাওয়া যায় মাত্র। সর্বোচ্চ এসব ঘটার সম্ভাবনা আছে/এমনটা হতে পারে/এমন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে….এভাবে বলা যাবে।
ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের পূর্বাঞ্চলের উপ অধিকর্তা সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় মনে করেন, “এখনও পর্যন্ত এমন কোনও যন্ত্র বা বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি আবিষ্কার হয়নি, যা ভূমিকম্পের সঠিক পূর্বাভাস দিতে পারে।” [dailyo.in]

এ সবই মহান আল্লাহর ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল। তিনি চাইলে আবহাওয়া, পরিবেশ-পরিস্থিতি ও গর্ভের সন্তান ইত্যাদি সব কিছুর পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম।

মোটকথা, বিভিন্ন আধুনিক মেশিনারিজ, ডিভাইস, স্যাটেলাইট, টেকনোলোজি ইত্যাদি ব্যবহার করে এবং প্রকৃতির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ ও প্রকাশিত আলামতের উপর নির্ভর করে বৃষ্টি-বাদল, খরা-জলোচ্ছ্বাস, ভূমিকম্প ইত্যাদি সংঘটিত হওয়া সম্পর্কে আনুমানিক ও সম্ভাবনাময় পূর্বাভাস দেয়া বা তাতে তাতে বিশ্বাস করায় শরিয়তে কোন বাধা নেই। এটা ইলমে গায়েব বা অদৃশ্য জ্ঞান এর অন্তর্ভুক্ত নয়।

❑ আবহাওয়া অধিদপ্তর কিভাবে অগ্রিম ঝড়-বৃষ্টি, খরা, বন্যা-জলোচ্ছ্বাস, ভূমিকম্প ইত্যাদির খবর দেয়?

বিজ্ঞানীগণ বলেন, পৃথিবীর পৃষ্ঠদেশ থেকে কয়েক শ মাইল উপরে আবহাওয়া সংক্রান্ত স্যাটেলাইট নিজ কক্ষপথে পৃথিবীর চারদিকে পরিভ্রমণ করে। এগুলো বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা নির্ণয় করে এবং বায়ুর মধ্যে আর্দ্রতা বা ঈষৎ আর্দ্রতার পরিমাণ নির্ণয় করে। পৃথিবীর ওপর মেঘ ও ঝড়ের অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা সম্পর্কে টেলিভিশনে গৃহীত ছবি পৃথিবীতে প্রেরণ করে। এভাবে সংবাদ পাওয়ার ফলে বৈজ্ঞানিকরা অধিকতর নিশ্চয়তার সাথে নির্দিষ্ট এলাকার আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানতে পারেন এবং ঝড়ের সম্ভাবনা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে পারেন। [প্রথম আলো]

আর ভূমিকম্প পরিমাপ যন্ত্রের নাম হল, ভূকম্প মাপক (ইংরেজি: Seismometer) এটি ভূত্বকের কম্পন পরিমাপক যন্ত্র। এই যন্ত্রের সাহায্যে প্রধানত ভূমিকম্প, অগ্নুৎপাত বা অন্য যে কোনও কারণে সংঘটিত ভূত্বকীয় বা ভূগর্ভস্থ কম্পনের তীব্রতা মাপা হয়। এই কম্পন-তীব্রতার তথ্য-উপাত্ত ভূতত্ত্ববিদদেরকে ভূগর্ভের মানচিত্র বানাতে, ভূমিকম্পের উৎস এবং তীব্রতা বিশ্লেষণে সাহায্য করে।

পুরনো যুগে ব্যবহৃত ভূকম্প মাপক যন্ত্রকে সাধারণত ইংরেজিতে “সিজমোগ্রাফ” নামে ডাকা হত। অপরদিকে “সিজমোমিটার” দ্বারা বর্তমান যুগে ব্যবহৃত অত্যাধুনিক পরিমাপ এবং বিশ্লেষণের সুযোগ-সুবিধা সংবলিত ভূকম্প মাপককে বুঝায়। আর “সিজমোস্কোপ” বা ভূকম্প বীক্ষণ যন্ত্রের শুধুমাত্র ভূমিকম্পের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়।” [উইকিপিডিয়া]

❑ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের অগ্রিম সতর্কবার্তা পাওয়ার পরও পাপাচার পরিত্যাগ না করা বড়ই দুর্ভাগ্য জনক!

দুর্ভাগ্য যে, আমরা নানা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের অগ্রিম সতর্কবার্তা পাওয়া বা স্বল্প-বিস্তর বিপর্যয়ের সম্মুখীন হওয়ার পর আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়ার ব্যাপারে সতর্ক হই না এবং লজ্জিত অন্তরে তওবা করে পাপ-পঙ্কিলতা থেকে পরিশুদ্ধ হই না! এত কিছুর পরও সমাজে আল্লাহর নাফরমানি ও নানা হারাম কাজের জমজমাট আসর চলছে। মানুষ শিরক-বিদআতে লিপ্ত। অসংখ্য মুসলিম নামাজ-রোজা পরিত্যাগ, জাকাত না দেয়া, সুদ-ঘুষ অব্যাহত রাখা, ধূমপান, মদ ও নেশায় বুদ হয়ে থাকা, জিনা-ব্যভিচার, অশ্লীলতা, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা, বিভিন্ন কনসার্ট, মিউজিক, পর্ন, মানুষের অধিকার হরণ, অত্যাচার-নির্যাতন ইত্যাদি অসংখ্য অগণিত পাপাচারে হাবুডুবু খাচ্ছে!
যখন বিপদ এসে যায় তখন কিছু মানুষ “আল্লাহ বাঁচাও আল্লাহ বাঁচাও” বলে চিৎকার করে আর রেডিও-টেলিভিশনে কুরআন তিলাওয়াত চলে কিন্তু বিপদ কেটে গেলেই আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাই! অথচ আল্লাহ তাআলা অতীতে বহু পাপীষ্ঠ সভ্যতাকে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মাধ্য্যমে চূড়ান্তভাবে ধ্বংস করেছেন। এখনো ইতিহাসের পাতায় পাতায় সে সব ধ্বংসযজ্ঞের স্মৃতিচিহ্ন স্পষ্টভাবে খোদায় করা আছে। বতর্মান বিশ্বেও আধুনিক উন্নত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষতা, নিরাপত্তা ও সুরক্ষা ব্যবস্থার সকল দাম্ভিকতাকে চূর্ণ করে দিয়ে পৃথিবীর দিকে দিকে অসংখ্য ভয়াবহ ভূমিকম্প ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় সংঘটিত হয়েছে-যার ভিডিও ও নানা স্থিরচিত্র আমরা ইচ্ছা করলেই অন্তর্জালে দেখে নিতে পারি।

মহান আল্লাহ ভাষায় সত্যি মানুষ চরম অজ্ঞ, জালিম এবং তার রবের প্রতি অকৃতজ্ঞ।

আল্লাহ আমাদেরকে ক্ষমা করুন এবং সব ধরণের দুনিয়া ও পর কালীন বিপদ-বিপর্যয় থেকে রক্ষা করুন আর মহা ধ্বংসযজ্ঞের পূর্বেই যেন আমরা তওবা করে পরিশুদ্ধ হতে পারি-মহান রবের দরবারে সেই তাওফিক কামনা করছি। আল্লাহুম্মা আমিন।
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানি
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।।

Translate In English