কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক বার্তা প্রচার করাই এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

বিয়ের মোহর সম্পর্কে বিস্তারিত

প্রশ্ন: মোহর শব্দের অর্থ কি? মোহরের তাৎপর্য কি? মোহর কেমন হওয়া উচিত? ইসলামে মোহর নির্ধারণে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বলে কোন সীমারেখা আছে কি? ফাতেমী মোহর বলতে কি বুঝায়?মহর বাকি রাখার বিধান কি?
▬▬▬▬▬▬▬💠💠💠▬▬▬▬▬▬▬
ভূমিকা: মোহর (مـهـر) শব্দের অর্থ প্রতিদান। যেমন বলা হয় صـداق الـمـرأة ‘নারীর প্রাপ্য’। (আবুল হুসাইন আহমাদ ইবন ফারেস ইবন যাকারিয়া, মু‘জামু মাক্বাইসিল লুগাহ, ৩য় খণ্ড, পৃ. ৩৩৯)। এ মর্মে পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বলেন, وَاٰتُوا النِّسَآءَ صَدُقٰتِہِنَّ نِحۡلَۃً ‘আর তোমরা নারীদেরকে তাদের মোহর স্বতঃস্ফূর্ত হয়ে প্রদান কর।’ (সূরা আন-নিসা: ৪)। শারঈ দৃষ্টিতে মোহর হলো, বিবাহের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর যৌনাঙ্গ ভোগের অধিকার লাভের বিনিময়ে যে মাল প্রদান করা হয়। ড. ওয়াহবাতুয যুহাইলী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘কোন নারী তার সঙ্গে বিবাহবন্ধনের কারণে বা সহবাসের কারণে সে তার স্বামীর ওপর যে মালের হক্বদার হয়, তাই মোহর।’(ড. ওয়াহবাতুয যুহাইলী, আল-ফিক্বহুল ইসলামী ওয়া আদিল্লাতুহু, ৯ম খণ্ড, পৃ. ২৩৭)। ইবনু আবেদীন (মৃ. ১২৫২ হি.) বলেন, ‘মোহর বলতে এমন অর্থ-সম্পদকে বুঝায়, যা বিবাহের বন্ধনে স্ত্রীর উপর স্বামীত্বের অধিকার লাভের বিনিময়ে স্বামীকে আদায় করতে হয়, হয় বিবাহের সময় তা ধার্য করতে হবে, নয় বিবাহ সম্পন্ন হওয়ার কারণে তা আদায় করা স্বামীর উপর ওয়াজিব।’(মুহাম্মাদ আমীন ইবনু উমার ইবনু আবিদীন, রাদ্দুল মুখতার আলা দুরারিল মুখতার, ৯ম খণ্ড, পৃ. ৪৯৪)। মোটকথা বিবাহবন্ধন উপলক্ষে স্বামী বাধ্যতামূলকভাবে স্ত্রীকে নগদ অর্থ, সোনা-রুপা বা স্থাবর সম্পত্তির আকারে যে মাল প্রদান করে সেই মালকে মোহর বলে।

◾মোহরের তাৎপর্য কি?
_______________________
বিবাহতে মোহরানা ধার্য করা এবং তা যথারীতি আদায় করার জন্য ইসলামে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। স্বামীর পক্ষ থেকে স্ত্রীকে মোহরানা প্রদান করা ফরয। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, فَمَا اسۡتَمۡتَعۡتُمۡ بِہٖ مِنۡہُنَّ فَاٰتُوۡہُنَّ اُجُوۡرَہُنَّ فَرِیۡضَۃً ‘তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের নিকট যে যৌন স্বাদ গ্রহণ কর, তার বিনিময়ে তাদের মোহরানা ফরয মনে করে আদায় কর।’(সূরা আন-নিসা: ২৪)। অত্র আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, স্ত্রীর নিকট থেকে যৌন স্বাদ গ্রহণ করার একমাত্র বিনিময় হচ্ছে মোহর এবং তা প্রদান করা ফরয। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, فَانۡکِحُوۡہُنَّ بِاِذۡنِ اَہۡلِہِنَّ وَ اٰتُوۡہُنَّ اُجُوۡرَہُنَّ بِالۡمَعۡرُوۡفِ ‘অতঃপর নারীদের অভিভাবকের অনুমতি নিয়ে তাদের বিবাহ কর এবং তাদের মোহর যথাযথভাবে আদায় করে দাও।’(সূরা আন-নিসা: ২৫)। অত্র আয়াতে আল্লাহ অভিভাবকের অনুমতি নিয়ে বিবাহ করতে বলেন এবং পুরোপুরি মোহর আদায় করতে বলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, إِنَّ أَحَقَّ الشَّرْطِ أَنْ يُوَفَّى بِهِ مَا اسْتَحْلَلْتُمْ بِهِ الْفُرُوْجَ ‘অবশ্য পূরণীয় শর্ত হচ্ছে, যার বিনিময়ে তোমরা স্ত্রীর যৌনাঙ্গ নিজের জন্য হালাল মনে কর।’(সহীহ বুখারী, হা/২৫৭২) অন্য বর্ণনায় বলা হয়েছে, ‘কিছু না কিছু দিতেই হবে এমনকি লোহার আংটি হলেও।'(সহীহ বুখারী, হা/২২০৪; মিশকাত, হা/৩২০২)। মোহরের তাৎপর্য বর্ণনায় শাফেঈ মাযহাবের আলেমগণ বলেন, ‘বিবাহ হবে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিনিময়মূলক একটি বন্ধন। বিবাহের পর একজন অপরজনকে নিজের বিনিময়ে লাভ করে থাকে। প্রত্যেক অপরজনের থেকে যেটুকু ফায়দা লাভ করে, তাই হচ্ছে অপরজনের বিনিময় বদল। আর মোহর হচ্ছে এক অতিরিক্ত ব্যবস্থা। আল্লাহ তা‘আলা তা স্বামীর উপর অবশ্য দেয়া ফরয করে দিয়েছেন এজন্য যে, বিবাহের সাহায্যে সে স্ত্রীর উপর খানিকটা অধিকারসম্পন্ন মর্যাদা লাভ করতে পেরেছে।’(আবু বকর মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহ আল-মা‘রূফ ইবন আল-আরাবী, আহকামুল কুরআন, ১ম খণ্ড, পৃ. ৪১৪)

◾বিয়ের মোহরানা সম্পর্কে ইসলামের নীতি কি? রাসূল (ﷺ) এর মোহরানা কেমন ছিল?
_____________________________________
বিয়ের মোহরানা হল একজন নারীর সম্মানের বিষয়। স্বামী এটি তাকে উপহার দিয়ে সম্মানিত করে। তাই, এটি দিতে হয় খুশিমনে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘‘তোমরা নারীদেরকে তাদের মোহরানা দাও খুশিমনে, স্বপ্রবৃত্ত হয়ে।’’(সূরা নিসা, আয়াত: ০৪)। রাসূল (ﷺ) এর স্ত্রীদের মোহর সম্পর্কে আবু সালামা ইবনে আবদুর রহমান বলেন; আমি আয়িশা (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক মোহরানা কত ছিলো? তিনি বললেন, ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীদেরকে সাড়ে ১২ উকিয়া অর্থাৎ পাঁচশ’ দিরহাম মোহরানা দিয়েছেন।’ (ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ৩৩৮০)। তখনকার সময়ে কারও কাছে ৫ উকিয়া থাকলেই যাকাত ফরজ হতো। সুতরাং সাড়ে ১২ উকিয়া যথেষ্ট পরিমাণ মোহর এবং সম্মানজনক মাল ছিল। ৫০০ দিরহামের একটা হিসাব করা যাক। ১ দিরহাম = ২.৯৭ গ্রাম, সুতরাং ৫০০ দিরহাম = প্রায় ১৪৮৮ গ্রাম রৌপ্য। [এই হিসাবটি নেওয়া হয়েছে শায়খ মুহাম্মাদ সলিহ আল মুনাজ্জিদ (ফা. আ.) পরিচালিত islamqa(dot)info থেকে]। তবে, নবীজির এই পরিমাণটি আমাদের জন্য শারয়ী সুন্নাত নয়। কেউ চাইলে এটির উপর আমল করতে পারেন আবার নাও করতে পারেন। কারণ সালাফে সালেহীন হুবহু নবিজির নির্দিষ্ট মোহরানাকে স্ট্যান্ডার্ড ধরেননি। কেউ এর চেয়ে বেশি দিয়েছেন, কেউ কমও দিয়েছেন। একজন সাহাবী ১ লক্ষ দিরহামে বিয়ে করেছিলেন। (ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ২১১৭; হাদিসটি সহিহ)। আবার বউকে কুরআন শেখানোর পরিশ্রমের বিনিময় হিসেবেও একজন হতদরিদ্র সাহাবীকে বিয়ে দিয়েছেন রাসূল (ﷺ)। তাঁর কাছে এককথায় কিছুই ছিলো না। (ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৫০২৯)। এমনিতে সাহাবীগণের মাঝে ৪০০ দিরহামে মোহরানার মোটামুটি প্রচলন ছিলো। (ইমাম নাসায়ি, আস-সুনান: ৩৩৪৮; হাদিসটি সহিহ)। অর্থাৎ, এই বিষয়টি শরিয়তে অনেক প্রশস্ত।
.
◾মোহরানার সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন পরিমাণ:
______________________________________
মোহর মূলত একটি সম্মানী যা স্বামী তার স্ত্রীকে দিয়ে থাকে, যার মূল উদ্দেশ্যই হল নারীকে সম্মান ও মর্যাদা দেওয় মোহরের ক্ষেত্রে উত্তম পন্থা হল, স্ত্রীর বংশে তার সমমানের নারীদের বাস্তবসম্মত মোহর এবং স্বামীর আর্থিক সামর্থ্য এ দুটি বিষয়কে বিবেচনায় নিয়ে দুই পক্ষ আলোচনা করে বিবাহের পূর্ব মোহর নির্ধারণ করা এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব স্ত্রীকে তা পরিশোধ করে দেওয়া। দুই পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে মহর হিসেবে যা নির্ধারণ করা হবে সেটি পরিশোধ করা স্বামীর জন্য ফরজ।ইসলামে মোহরের সর্বনিম্ন বা সর্বোচ্চ কোন পরিমাণ নির্দিষ্ট করা হয় নি। বরং আর্থিক সক্ষমতা ও সামাজিক মর্যাদার দিকে লক্ষ রেখে তারা যে পরিমাণ দেনমোহর নির্ধারণে একমত হবে তাই শরীয়ত সম্মত বলে গণ্য হবে। সুতরাং, কেউ যদি ৫০ কোটি টাকাও মোহর নির্ধারণ করে, তবে সেটি নাজায়েয হবে না। তবে, সাধারণভাবে ইসলাম বিয়েকে সহজ করতে বলে এবং মোহরানাও সহজ করতে বলে। মোহরানাকে কঠিন বানিয়ে ফেলা উচিত নয়। উমর (রা.) বলেন, সাবধান! তোমরা নারীদের মোহরের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি কর না। কেননা তা যদি দুনিয়াতে সম্মানের এবং আখেরাতে আল্লাহর নিকট তাক্বওয়ার বিষয় হতো, তবে তোমাদের চেয়ে এ ব্যাপারে নবী করীম (ﷺ)-ই অধিক উপযুক্ত ছিলেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বার উকিয়ার বেশী দিয়ে তাঁর কোন স্ত্রীকে বিবাহ করেছেন অথবা তাঁর কোন কন্যাকে বিবাহ দিয়েছেন বলে আমার জানা নেই।(তিরমিযী হা/১১১৪, ইবনু মাজাহ হা/১৮৮৭, মিশকাত হা/৩২০৪ হাদিসটি হাসান সহিহ)। অপর বর্ণনায় নবী (ﷺ) বলেছেন, ‘‘সেই মোহরানা উত্তম,যেটি সহজতর।’’ (ইমাম বাইহাকি, সুনানুল কুবরা: ১৩৪৩১; শায়খ আলবানি, সহিহুল জামি’: ৩২৭৯; হাদিসটি সহিহ)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘নারীর সৌভাগ্যের/বরকতের অন্যতম বিষয় হলো: তার বিয়ে সহজ হওয়া, তার মোহরানা সহজ হওয়া এবং তার গর্ভধারণ সহজ হওয়া।’’ (ইমাম আহমাদ, আল-মুসনাদ: ২৪৪৭৮; শায়খ আলবানি, সহিহুল জামি’: ২২৩৫; হাদিসটি হাসান)। আর সর্বনিম্ন মোহরানা কত হবে, এটি নিয়ে আলিমদের মাঝে কিছু মতভিন্নতা আছে, যেমন: (১). ইমাম আবু হানীফাহ্ এবং তার অনুসারীরা বলেন, মোহরের ন্যূনতম পরিমাণ হতে হবে দশ দিরহাম। (২). ইমাম শাফি‘ঈ এবং জুমহূর উলামাদের মত হলো, পাত্র-পাত্রী উভয়ের সম্মতির ভিত্তিতে মোহর অতি সামান্য হওয়াও বৈধ, কেননা হাদীসে একটা লোহার আংটি অতীব নগণ্য মূল্যের বস্তু মোহর নির্ধারণ করা হয়েছে। (৩). ইমাম মালিক (রহঃ) বলেন, মোহরের ন্যূনতম পরিমাণ হতে হবে এক-চতুর্থাংশ দীনার যেটা চুরির নিসাব অর্থাৎ ন্যূনতম এক-চতুর্থাংশ দীনার চুরি করলেই কেবল চোরের হাত কাটা হয়। ইমাম নববী (রহঃ) বলেন, কুরআন শিক্ষা দেয়া যে মোহর হতে পারে তবে জমহুর ওলামাদের বিশুদ্ধ মত হলো,খুব সামান্য পরিমাণ মাল দিয়েও মোহরানা আদায় হয়ে যাবে। যেমন: একটি হাদিসে আমরা দেখি, একজন হতদরিদ্র সাহাবিকে মোহরানার জন্য সামান্য লোহার আংটি জোগাড় করতে বলেছেন। (ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৫০২৯, ফাতহুল বারী ৯ম খন্ড, হাঃ ৫১৩৫; শারহে মুসলিম ৯/১০ম খন্ড, হাঃ ১৪২৫; মিরকাতুল মাফাতীহ)
.
◾ফাতেমী মোহর বলতে আসলে কী বুঝায়?
_______________________________________
সহজ কথায় বললে, রাসূল (ﷺ)-এর কন্যা ফাতিমা (রা.) ও আলি (রা.)-এর বিয়েতে যে মোহরানা ছিলো, সেটিই ফাতেমী মোহর নামে পরিচিত। আলী (রাযিআল্লাহু আনহু) -এর সাথে ফাতিমা (রা.) এর বিবাহ হয়েছিলো আলী (রা.) এর একটি বর্মের বিনিময়ে। সেই বর্মটি বিক্রয় করা হয়েছিলো ৪০০ বা ৪৮০ বা ৫০০ দিরহাম (রৌপ্য মূদ্রা) মূল্যে। অর্থাৎ, রাসূল (ﷺ) তাঁর স্ত্রীদের যে পরিমাণ মোহরানা দিতেন, সেই পরিমাণ। (ইমাম ইবনু আবি শাইবাহ, আল-মুসান্নাফ: ১৬৬৩০; ইমাম ইবনু সা’দ, তবাকাতুল কুবরা: ৮/২২; ইমাম হাকিম, আল-মুসতাদরাক: ২৭৪২)। অন্য বর্ণনামতে, ৪৮০ দিরহাম। (ইমাম হাইসামি, মাজমাউয যাওয়াইদ: ৪/২৮৩)। আমরা ৫০০ দিরহামকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছি। বর্তমানে প্রাচীন ১২ গ্রামের তোলার পরিবর্তে ১০ গ্রাম তোলার হিসাবে বেচাকেনা হয়। সেই হিসাবে ১৫৪ তোলা রৌপ্য হল বর্তমানে ফাতেমী মোহরানা। বর্তমান বাজারে ১ তোলা রুপার মূল্য (২২ ক্যারেট) ১৫১৬ টাকা। সেই হিসেবে ১৫৪ তোলা রুপার মূল্য হয় ১৫৪*১৫১৬ = ২৩৩৪৬৪ (প্রায় ২ লাখ ৩৪ হাজার) টাকা। ১৮ ক্যারেটের রুপার হিসাবে হলে এই পরিমাণটা হয় ১৮৮৪৯৬ (প্রায় ১ লাখ ৮৯ হাজার) টাকা। উল্লেখ্য যে, এটি আলী ও ফাতিমা রা. এর বিবাহের মোহর ছিল বলে ইসলামে তা আবশ্যক নয়। বরং উভয় পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে সামর্থ অনুযায়ী মোহর কম ও বেশী করা জায়েয রয়েছে।
.
মোহর বাকি রাখা যাবে কি?
___________________________
মোহর নগদে পরিশোধ করা সুন্নাত। তবে বাধ্যগত অবস্থায় মোহর কিছু বাকী রেখে বিবাহ করা জায়েজ,তবে সেটা ঋণের অন্তর্ভুক্ত। তাই যত দ্রুত সম্ভব তা পরিশোধ করা কর্তব্য। মোহর বাকী থাকলে সন্তান অবৈধ হবে একথা ঠিক নয়। কেননা বিবাহ শুদ্ধ হওয়ার জন্য মোহর পরিশোধ করা শর্ত নয়। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একজন ব্যক্তিকে বললেন, অমুক মহিলার সাথে তোমাকে বিবাহ দিব তুমি কি রাযী? সে বলল, হ্যাঁ। নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, অমুক ব্যক্তির সাথে তোমাকে বিবাহ দিব তুমি কি রাযী? মহিলা বলল, হ্যাঁ। তিনি তাদের বিবাহ দিলেন। কিন্তু কোন মোহর নির্ধারণ করলেন না এবং মহিলাকে কিছু দিলেন না। ঐ ব্যক্তি হোদায়বিয়ার সাহাবী ছিলেন। পরে তিনি খায়বরের গণীমতের অংশ পান। এ সময় তাঁর মৃত্যু উপস্থিত হলে তিনি বলেন, স্ত্রীর জন্য আমার কোন মোহর নির্ধারিত ছিল না। এক্ষণে আমি আমার খায়বরের প্রাপ্ত অংশ তাকে মোহর হিসাবে দান করলাম। যার মূল্য ছিল এক লক্ষ দিরহাম।'(সুনানে আবু দাঊদ হা/২১১৭)। নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একদা মোহর বাকী রেখে এক ব্যক্তির বিবাহ দেন এবং কুরআন শিক্ষাদানের মাধ্যমে ধীরে ধীরে তা আদায় করতে বলেন। (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৩২০২)
.
পাশাপাশি বিবাহে দেনমোহর নির্ধারণ করে সেটা বাকি রেখে অন্তরে মোহর পরিশোধের নিয়ত ব্যতীত স্ত্রী সহবাস করলে ঐ ব্যক্তি ক্বিয়ামতের দিন ব্যভিচারী হিসাবে গণ্য হবে। কেননা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, যে ব্যক্তি মোহরের বিনিময়ে কোন মহিলাকে বিবাহ করল, অথচ মোহর পরিশোধ করবে না বলে নিয়ত করল, সে যেনাকারী।’(সুনানে বায়হাক্বী শু‘আবুল ঈমান হা/৫৫৪৯; বাযযার হা/৮৭২১; সহীহ আত-তারগীব হা/১৮০৬, সনদ সহীহ লিগায়রিহী)। তবে যথাসময়ে মোহর পরিশোধ না করে সমাজে মৃত্যুর সময় স্ত্রীর নিকট থেকে মোহর মাফ করিয়ে নেওয়ার যে প্রচলন রয়েছে, তা চরম অন্যায় ও প্রতারণাপূর্ণ। এ থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে এবং হাতে অর্থ এলেই সর্বাগ্রে স্ত্রীর মোহর পরিশোধ করতে হবে। মহান আল্লাহ সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন। আমীন। (আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী)।
____________________
উপস্থাপনায়:
জুয়েল মাহমুদ সালাফি।