কোরআন ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক বার্তা প্রচার করাই হল এই ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য।।

এক ব্যক্তি ৭০ বছর পর্যন্ত সনম সনম-ভগবান ভগবান বলে ডেকেছে

“এক ব্যক্তি ৭০ বছর পর্যন্ত সনম সনম-ভগবান ভগবান বলে ডেকেছে…”

নিম্নোক্ত গল্পটি বিভিন্ন গল্পবাজ বক্তাদের মুখে শোনা যায়, কিছু কথিত ধর্মীয় বইয়ে লেখা হয়েছে এবং সোশ্যাল মিডিয়াতেও চোখে পড়ে। কিন্তু তা ভিত্তিহীন ও বানোয়াট।

গল্পটি হল নিম্নরূপ:

এক ব্যক্তি ৭০ বছর পর্যন্ত সনম সনম- ভগবান ভগবান বলে ডেকেছে। একদিন ভুলে তার মুখ থেকে বেরিয়ে গেলো-ইয়া সামাদ। আর সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহ তাআলা এই বলে সাড়া দিলেন-লাব্বাইক..লাব্বাইক..লাব্বাইক। বান্দা ডেকেছ, আমি উপস্থিত।
ফেরেশতাগণ বলল, হে আল্লাহ, এ তো ভুল করে বলেছে। তিনি ইরশাদ করলেন, সত্তর বছর অপেক্ষায় ছিলাম, কখন আমাকে ডাকে কি না! আজ তো ডেকেছে। ভুল করেই হোক।

◯ এ গল্প সম্পর্ক কয়েকটি কথা:

◈ ১. এটি বিশুদ্ধ সূত্রে প্রমাণিত কোন হাদিস নয় বরং ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক গল্প। কোনো হাদিসের কিতাবে এর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না।
◈ ২. এটা ইসলামি আকিদা পরিপন্থী কথা। কারণ শিরক, কুফরি ও দেবদেবীর পূজায় লিপ্ত এক ব্যক্তি হঠাৎ মুখ ফসকে আল্লাহর নাম নিলো আর মহান আল্লাহ তাতে মহা খুশিতে লাব্বাইক, লাব্বাইক বলে সাড়া দিলেন! এ কথা যুক্তিহীন ও শরিয়া পরিপন্থী। কারণ এর উল্টাটা ঠিক। অর্থাৎ কেউ যদি আল্লাহকে মনে-প্রাণে বিশ্বাস করে কিন্তু হঠাৎ মুখ ফসকে কোনও দেবদেবীর নাম নেয় তবুও আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিবেন। কারণ তা অনিচ্ছাবশত: ঘটেছে। আর আল্লাহ বান্দার অনিচ্ছাবশত: গুনাহ ক্ষমা করার ঘোষণা করেছেন।
◈ ৩. সনম (صنم) শব্দের অর্থ: মূর্তি। জাহেলি যুগে মুশরিকরা তাদের দেবদেবিকে শুধু ’সনম’ বা মূর্তি বলে ডাকতো না। বরং সেগুলোর নাম ধরে ধরে আহ্বান করতো। যেমন: লাত, উজ্জা, মানাত, হোবল ইত্যাদি।
সুতরাং এটা যে ইসলামি আকিদা পরিপন্থী ও ভিত্তিহীন গল্প তাতে কোনও সন্দেহ নাই।
এটিকে ইসরাইলি বর্ণনা হিসেবে ধরে নিলেও ইসলামি শরিয়ার সাথে সাংঘর্ষিক হওয়ার কারণে তা বিশ্বাস করা জায়েজ নয়। আল্লাহু আলাম।
▬▬▬▬●◈●▬▬▬▬
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব।।

Translate In English